শিল্পকলা

সৌরভ রায়চৌধুরী

কাঁচা মাটির গন্ধ

‘আমরা তখন অ্যান্ড্রুজ পল্লীর বাড়িতে প্রথম এসেছি। কিঙ্করদা আমাদের ঠিকানা জানেন না, উনি একটা রিকশা চড়ে প্রতিটি বাড়ির সামনে হাঁক দিচ্ছেন: ‘শর্বরী, শর্বরী!’… আরও একবার ভরদুপুরে একটা এঁচোড় নিয়ে হাজির, সঙ্গে ছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়।’ স্মৃতিতে রামকিঙ্কর।

সুকন্যা দাশ (Sukanya Das)

এক জাদুঘরের টানা-পড়েন

এখানকার কর্মীরা মনে করেন শিল্পকর্ম ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে তাঁরা দেশের কাজই করছেন। মিউজিয়াম অধিকর্তা অশোক মেহতা স্পষ্ট বলেই দিলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল একটাই। সংরক্ষণ, সংরক্ষণ, সংরক্ষণ। এই হবে আমাদের মূলমন্ত্র।’ ক্যালিকো আর সংরক্ষণ।

ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ

‘আধুনিক ভারতের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ধারার যে মূলত পুরুষকেন্দ্রিক ইতিহাস, তার একটি সমান্তরাল ইতিহাসস্থাপন আমরা …এই বইতে পাই।’ ডক্টর অপর্ণা রায় বালিগার ‘ট্রান্সেন্ডিং দ্য গ্লাস কেস’-এর একটি সমালোচনা।

অর্ক দাশ (Arka Das)

সাক্ষাৎকার: নারায়ণ সিংহ

নিজের সম্পর্কে তিনি বলে থাকেন, ‘নেচার-টট’। অর্থাৎ কিনা প্রকৃতি দ্বারা শিক্ষিত। শিল্পী নারায়ণ সিংহ এই সাক্ষাৎকারে জানালেন তাঁর শিল্পভাষা গড়ে ওঠার কাহিনি থেকে শুরু করে ‘ফায়ারলাইট’ প্রদর্শনীর প্রস্তুতিপর্বের ইতিহাস। সঙ্গে জীবনের কথা, শিল্পদর্শন। কথোপকথনে অর্ক দাশ।

অর্ক দাশ (Arka Das)

‘হম দেখেঙ্গে’

‘এদেশে ‘প্রতিবাদ’ শব্দটার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে সামাজিক, ধর্মীয় প্রথা; এখনও নিরক্ষর জনজাতি-আদিবাসী-দলিত-নিম্নবর্গের মানুষের জীবনকাহিনির একমাত্র সম্ভার রয়েছে লোকগীতির মধ্যে।’ গণসঙ্গীতে প্রতিবাদ।

সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়

সাক্ষাৎকার: পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

‘মানুষ যখন ভেতরে ভেতরে ছটফট করে, তখন তার কাছে অনায়াসে যে-ব্যাপারটা আসে, তার ওপর ভর করেই সে প্রতিবাদের মাধ্যমটা বেছে নেয়। আমাদের মনে হয়েছিল গান সেই মাধ্যমটা হতে পারে। যা আমাদের এবং লোকের মনে সহজেই দাগ কাটতে পারে।’ প্রতিবাদের গান।

সাক্ষাৎকার: আর. শিবকুমার

‘মার্ক্সিস্ট হিসাবে ওঁর মনে হত, প্রদর্শশালার পদ্ধতি ওঁর আদর্শের বিরোধী, এবং এসব থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। একই সঙ্গে, এই সিদ্ধান্ত ওঁকে পেশাদার সমালোচক বা আর্ট মার্কেটের পরোয়া না করে সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠার স্বাধীনতা দিয়েছিল।’ সাক্ষাৎকারে শিল্পীর মূল্যায়ন।

ক্ষতের স্মৃতিরক্ষক

‘১৯৪৩-এ তিনি যখন মন্বন্তরের ছবি আঁকতে ব্যস্ত সে-সময়ে কলকাতায় সুভো ঠাকুরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ক্যালকাটা গ্রুপ’। শিল্পী-সদস্যরা একত্রিত ভাবে এক ছাদের তলায় আসার কথা ভেবেছিলেন এমন একটা সময়ে, যখন বাংলা অন্নাভাবে কাতর।’ শিল্পে সময়ের ছাপ।

চেয়েছিলেন শূন্যতার দাম

‘ছাপা ছবি দেখে সোমনাথদার মুখটা লাল হয়ে গেল। আমাকে বসতে বলে চা আনালেন। একটা কথাও বললেন না। তাঁর চোখে-মুখে ভয়ঙ্কর একটা অস্থিরতা। আমার একটা অস্বস্তি হচ্ছিল। এক সময় বললেন, আমি ইচ্ছে করেই ছবির মাথায় ফাঁকা জায়গাটা ছেড়েছিলাম।’ স্মৃতিচারণা।

অপেশাদারি স্বতঃস্ফূর্ততা

‘আমার রিয়েলাইজেশন হচ্ছে, যেহেতু সোমনাথদা স্কাল্পটার নন, ওঁর দুটো-তিনটে কাজ দেখলে জার্কিং মনে হয় ঠিকই, কিন্তু কুড়িটা কাজ একসঙ্গে দেখলে রিপিটেশন লাগে। আর উনি তো সাবজেক্টের বাইরেও যাননি। শুরু থেকে সেই জীবনের কথাই বলে গেছেন।’ ভাস্কর্যের মূল্যায়ন।

সাধারণ, অসাধারণ

‘ছাত্ররা সব সময়েই জানত সোমনাথদা পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ এচিং-এর হুইলটা টানতে পারছে না, উনি পিছন থেকে ধরে টেনে দিতেন। আমার মনে হয়, শিক্ষক হিসাবে সোমনাথদার মতো এত প্রভাব আর কেউ ফেলে যেতে পারেনি।’ আদর্শ শিক্ষকের কথা।

সোমনাথ হোর

শতবর্ষে সোমনাথ হোর

শতবর্ষে সোমনাথ হোর। এখানে রইল তাঁর মোট আঠারোটি ছবি। জীবনের নানান পর্বে তিনি যে-সমস্ত এচিং, লিথোগ্রাফ, উড কাট, জলরং-এর কাজ করেছেন, এই ছবিগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা তারই কিছু সুস্পষ্ট ধারণা পাই।