পুজোসন্ধে ৬.০০-৭.৫০

ডিসটোপিয়া: ১

রাতুলের ইচ্ছে করছিল নিজেকে টেনে এক চড় মারে। বাবা বলছে ক্যালাস, মা বলছে গাধা, দিদি বলেছে ল্যাকাসিড। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কেউ যদি মাইন্ড-রিমোট ফেলে আসে, সে নির্ঘাত সব গালাগালই ডিজার্ভ করে। রাতুল গাড়িতে ওঠার সময় রিমোটটা হাতেই রেখেছিল, তারপর বোধহয় ফিরে লি-পড’টা খুঁজতে গিয়ে ফেলে এসেছে সোফায়। এখন পুরো বেড়ানোটাই মিসফিং। সবাই ঠাকুর দেখছে, রাতুল দেখছে ফাঁকা একটা প্যান্ডেল। রিমোট না থাকলে, কে দুর্গাকে ওখানে প্রোজেক্ট করবে?

রিমোটের সঙ্গে রাতুলের মন অ্যালাইন করা। ফলে যে প্রতিমাটা ওখানে তার দেখতে পাওয়ার কথা, সেটা হল রাতুলের নিজের পছন্দ আর পুজো-আয়োজকদের ইচ্ছের একটা মিশেল। তার অবশ্য ৪৩৭৬টা পার্মো-কম্বো করা যায় ক্লিক বদলে বদলে। এই মিক্সড চাট, মানে ভার্চুয়াল থ্রি-ডি মা-দুর্গা যে তৈরি করবে, সে-ই যদি বাড়িতে সোফায় শুয়ে থাকে, তাহলে রাতুলের কী করার আছে, দু-চারটে পনির-রোল প্যাঁদানো ছাড়া? অনেককাল আগে নাকি প্রতিটা প্যান্ডেলে এক-একটা প্রতিমা হত, মাটি না থার্মোকল না কীসব দিয়ে তৈরি, তোমার ভাল লাগুক না-লাগুক সেটাই দেখতে হবে। খুবই উদ্ভট, এবং স্ট্রেস-টুবাগো। ব্যক্তিস্বাধীনতার অ্যান্টি-ও বটে। আমার যদি ডাকের সাজ পছন্দ হয়, তবু অন্য সাজের প্রতিমা দেখতে হবে কেন? কিংবা যদি আর্টের ঠাকুর পছন্দ হয়, সবুজ অসুর আর ঘোড়ামুখো সিংহ দেখে হাতজোড় করতে হবে কেন? আমি যদি একচালাকে তিনচালা বা তেত্রিশ-চালায় কনভার্ট করতে না-ই পারব, তাহলে আমার কন্ট্রিবিউশনটা কী? জাস্ট যাও আর সাইলেন্ট দর্শক হয়ে ফিরে এসো? তাহলে বলো এবার গানের জলসায় গিয়ে, শুধু গায়ক যেটা গাইছে সেটুকুই শুনতে হবে? হেডফোনে লাইভ পিচ-কারেকশনও হবে না, কিংবা এই গানটার এইট্টিজ বা হিপ-হপ ভার্সনও শোনা যাবে না? উদ্ভট প্রি-হিস্টোরিক যুগ ছিল মাইরি।

আরও পড়ুন: ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকাকে যে-বাচ্চারা আদর্শ মনে করে, তাদের জন্য আমার খারাপ লাগে!’
কমিকসশিল্পী আপ্পুপেনের সাক্ষাৎকার…

তবে সেই সময়ে জন্মালে রাতুলকে আজকের বিপদটায় পড়তে হত না। দিদি তো বল্লভপাড়ার ঠাকুরটা নিয়ে গাশ করছে। বলছে, সেঞ্চুরির বেস্ট। মা ভুরু কুঁচকে কী ভাবছে কে জানে। হয়তো এমন কিছু প্রোজেক্টেড দেখেছে, যেটা সাব-মাইন্ডের কোনও ডিটেল। রাতুলের আরও কান্না পাচ্ছিল, বেসিক আলোর বাইরে কোনও ডিজাইন দেখতে পাচ্ছে না বলে। ভেবেছিল, এবারের ভেকেশন-থিসিসটা দেবী ও আলোকসজ্জার বেমিল নিয়ে করবে। একটা ক্রিটিসিজমও হল, আবার অনেকগুলো পিক এবং ভিড-ও অ্যাটাচ করা গেল, ঝলমলে অ্যাট্রাকটিভ। সেটা কাল বা পরশুও করা যাবে, কিন্তু এই সেক্টর-টু আলোর কেরদানির জন্যেই খ্যাত, সেটা হাত গলে বেরিয়ে গেল। ও মুখ ফিরিয়ে ডিজি-বোর্ডগুলোর দিকে তাকাল, অ্যাড দেখতে দারুণ লাগে। কিন্তু আজ তো বিজ্ঞাপনগুলোও শুধু ইউনিভার্সাল ক্যাটিগরির। ওর পার্সোনালাইজড অ্যাড, যা ফুটে উঠবে ও বিলবোর্ডের সামনে দিয়ে গেলেই, পুরো অফ, রাতুলের ইউনিক-রিমোট-চিপ রিড করবে কী করে? আঁতেল শুডি আর ত্রিফলা সেন যা-ই বলুক, বিশাল উজ্জ্বল চৌকো থেকে যখন নটরাজন বরুণ কিংবা আনালিয়া সাহা অথবা ক্রিকেট ব্যাট হাতে কৈকয় সিবলিং বলে ওঠে ‘হাই রাতুল, তুমি এই সানগ্লাসটায় ঝিংকো’, কিংবা ‘রাতুল, বুকের কাছটা যে অ্যালার্জি বেরিয়েছে, তা সারাতে এই ক্রিম, স্ট্যাট’, ওর নিজেকে খুব লিডার-ফ্লাশ লাগে। 

হঠাৎ চমকে রাতুল দেখল, একটা মেয়ের গলার হারে একটা ক্রস দুলছে। মানে? যদি মেয়েটা ক্রিশ্চান হয়, দুর্গাঠাকুর দেখতে এসেছে কেন? তাহলে তো ক্রাইম ২/সি/১। আর যদি হিন্দু হয়, কিন্তু শখ করে অন্য ধর্মের চিহ্ন ধারণ করে, আরও মারাত্মক, ক্রাইম ২৩/ ডি-২৩। রাতুল মোবাইলটা বার করে ছবি তুলবে, মেয়েটা হুট করে ভিড়ে মিশে গেল। এর মধ্যে বাবা আরেকটু হলে ডানদিকের মোড়ে ঢুকে যাচ্ছিল, মা হাত ধরে হ্যাঁচকা দিল। বাবা একটু ফাঁপলা হয়ে যায় মাঝেমাঝে, নইলে স্পষ্ট ছবি দিয়ে সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘জৈনাঞ্চল’, তুমি দেখতে পাবে না? অ্যাকচুয়ালি বাবার মধ্যে একটা ফ্ল্যাশব্যাকাস্টিক গোঁড়া আছে। আগে দুর্গাপুজোয় সব ধর্মের লোক হুল্লোড় করত, ঠাকুর দেখত, আবার ইদে হয়তো সব ধর্মের লোকই বিরিয়ানি খেল ফুর্তি করে। কিন্তু সে তো একটা শিথিলতা। নিজের ধর্মকে প্রপার ভালবাসলে কি অন্য ধর্মের উৎসবে স্পন্টো-ইউফো নিয়ে শামিল হওয়া যায়? প্রিমিও বলেন, ‘এতেও আছি ওতেও আছি’ ফ্লোটিং-চাঁদ যারা, তারা আসলে ডিসিপ্লিনকে ভয় পায়, নিয়মকে ঘেন্না করে। ধর্ম আমাদের দেশকে বেঁধে রেখেছে, সে-গিঁট আরও টাইট করতে হবে। সেইজন্যেই গত কয়েক বছরে আলাদা ধর্মের লোকেদের আলাদা এলাকা একেবারে গেট-বেড়া-কালার কোডিং করে, জিরো-স্পটিং শেষ। আগে ইচ্ছে করলে যে-কেউ যে-কোনও জায়গায় বাড়ি করতে পারত। এখন স্পাইরো-গ্রিড এঁকে ওসব ব্যান, তুমি অন্য রিলিজিয়নের এরিয়ায় ঢুকতে গেলে জি-ম্যাপ নিজে পুলিশে ইনফর্ম করবে, গাড়িরও স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাবে। প্রিমিও বলেন, কিছু পাবলিক হয়তো বিদেশের কাছে নম্বর বাড়াতে হিন্দু হয়ে হালিম খাচ্ছে, কিংবা শিখ হয়েও শনিমন্দিরে প্রণাম ঠুকে চলে গেল, তখন সিটিজেনরা যেন ছবি তুলে রিপোর্ট করে। রাতুল দু-একবার লোকজনকে ধরিয়ে দিয়ে প্রাইজও পেয়েছে। ওর তো ব্রো-মো-গ্রুপে একটা নামই আছে, ‘স্পাই-ডারম্যান’, কারণ ও খুব ভাল সিক্রেট রিল তোলে আর অফিশিয়াল কমপ্লেন করে। 

দোকানে-দোকানে ছানার জিলিপির এত ডিম্যান্ড যে, রাতুলদের টার্ন আসতে-আসতে সব জায়গাতেই শেষ হয়ে গেল। আর যারা টার্বো-বেলুন বা হেলিক্যাবে চড়ে ঠাকুর দেখছে, তাদের প্রেফারেন্স তো দোকানি দেবেই। এক-একটা এরিয়াল টিম বোধহয় একদানে ৫০টা করে ছানার জিলিপি আর বাঁধাকপির পকোড়া তুলছে। রাতুল ছোটকাকার দৌলতে একবারই হিউম্যান ড্রোন হয়ে ওপর থেকে শহরটা দেখেছিল। ফাইন লাগে। কিন্তু সেটা ছিল মোটে আধঘণ্টার স্লট। তার ওপর একটু ভয়ও করছিল, ড্রোনে তো আর চারপাশে অতটা কাচের দেওয়াল নেই। যারা গোটা দিন উইন্ড-সাফারি বুক করে, স্পেশালি পুজোর সময়, তাদের ট্যাঁকে বোধহয় ১৩টা কুবেরের এটিএম। ছোটকাকা আগে প্ল্যান করে পুজোয় আসত, অন্তত দু-বছর অন্তর। এখন ‘গ্রেট ব্যারিয়ার’ হয়ে গিয়ে আর সেসব সম্ভব নয়। ভিডিও কল করে, ওই পর্যন্তই। প্রিমিও অবশ্য স্পষ্ট বলেছেন, যারা ইন্ডিয়া থেকে বাইরে গিয়ে সেটল করে, তারা বেপট বেইমান। আর ইন্ডিয়ার লোকের যে বাইরে বেড়ানোটা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে, এটা আসলে ন্যানো-লোকসানও না, কারণ ভারতটা ঘুরে দেখলে কোনও সুস্থ লোকের বাইরে যাওয়ার লোভ জাগতে পারে না। রাতুল ছোটকাকাকে বেইমান ঠিক ভাবতে পারে না, কিন্তু দিদি বলেছে সেটা বয়স হলে কেটে যাবে, তখন আত্মীয়তার ন্যারোয়িং পেরিয়ে লজিকিং ঢুকবে।

রাতুল টেরিয়ে দেখে নিল, মা চুপিচুপি একটা ভিখিরিকে পয়সা দিচ্ছে। নিয়ম মানলে মা’কে এখুনি অ্যারেস্ট করিয়ে দিতে হয়। কারণ ভিক্ষে যেমন পুরোপুরি ব্লক-বুট, ভিক্ষে দেওয়াও তো তা-ই। ওর মেজাজটা আরও স্পিমিট করল। ভাগ্য ভাল, পাশের বড় পুজোটায় আশ্চর্য অ্যারেঞ্জমেন্ট, রিমোটের কো-অর্ড দিয়ে দিলেই ঠাকুরটার একটা ইমেজ ফোন-স্ক্রিনে দেখা যাবে। রাতুল পেট ভরে দেখতে লাগল, আজকের তো এটাই একমাত্র ঠাকুর। দুর্গার বাহনটা ফানি করেছে, একটা সেন্টিপিড আর হরিণের হাইব্রিড বোধহয়। আর গণেশকে লম্বা তো করতে হবেই, তা বলে এমন বেঢপ আশি-ফুটিয়া, সিমেট্রি-টা গেছে। বাবার মুখটা স্লাইট লাল। যখন নিয়ম করা হল, বাহন বদলাতে হবে, সেই ফ্লেক্সিবিলিটিতে সবাই হুররা-রিফিক হয়ে উঠলেও, বাবার মতো কিছু জ্যাঠা-পাবলিক রাগ করেছিল। আসলে এরা, কমেডি-কিং স্মাইলভাণ্ড-র ভাষায়, ‘অ্যান্টি-চেঞ্জি, লিমিটেড রেঞ্জি, ছেঁড়া গেঞ্জি’। এদিকে কার্তিকের আন্ডারে রেখে ন্যাশনাল বার্ডকে তুমি ইনসাল্ট করবে, প্লেগ-ছড়ানো একটা ঘৃণ্য জানোয়ারকে গণপতির মতো শ্রেষ্ঠ দেবতার সঙ্গে সেঁটে দেবে, তার বেলা কিছু না? কলেজ স্কোয়্যার প্রথম সিংহের বদলে মেগা-হার্বিভোর ম্যামথ আনল, সে তার শুঁড় দিয়ে অসুরকে আছাড় মারল, পা দিয়ে দলেপিষে পিন্ডি পাকাল, দাঁত দিয়ে ফুঁড়ে রক্তের ফোয়ারা আপিটি-আপ করল, সেই স্পেকট্যাকল সবাই দিনে ১৪-১৫ বার করে দেখে স্বীকার গেল, ভায়োলেন্সে এতটুক কমতি নেই, বিশাল প্রাইজ পেল ওরা, তবে আস্তে আস্তে লোকে শিল্প-স্কোপটা বুঝতে শিখল। 

রাতুল দেখেছে, পুজো এলেই ওর একটু হাঁপানি হয়, প্রেমটাও একটু বেশি জাগে। হয়তো এই ক’দিন মেয়েদের ড্রেসের ব্যাপারটায় একটু ছাড় দেওয়া হয় বলে ওর মেয়েদের দিকে তাকাতে খুব ইচ্ছে করে, মুখটুখগুলো স্পষ্ট দেখা যায়, হাতও বেশ কিছুটা। কিংবা ব্রো-গ্রুপের চ্যাটগুলো বেশি লেচ-শার্পিস্ট হয়ে ওঠে বলে ওর মধ্যেও কামনাটা স্পিলওভার করে। কিন্তু মা-বাবার সঙ্গে বেরিয়ে, বিশেষ করে দিদির চোখ এড়িয়ে আর কত মেয়ে দেখা যায়? ও তাই মন দিল লিমিও ব্লিপ-এ। সবাই হইচইয়ের ছবি পোস্ট করছে, কালকে রাতুলেরও স্লিপওভার আছে, খাওয়াদাওয়া। সিড আর ঐশান লুকিয়ে এক-আধটা বোতল জোগাড় করতেও পারে, নিশ্চয় ম্যাসিভ হুল্লাট হবে, তার আগে গোঁফটাও স্লাইট ছেঁটে নিতে হবে।

এখন যাওয়া হচ্ছে পিসির বাড়ি, এটা প্রতিবারের রিচুয়াল, এবং অসহ্য। পিসির বাড়িতে টিমটিমে আলো, এলডি-প্রোজেকশন নেই, পিসি লেসিং-টুনাক এন্টা-ইনফো’র কানেকশনই নেয়নি, বাড়িটায় ঢুকলেই একটা বুড়ো-বুড়ো গন্ধ, যেন স্বেচ্ছা-ডিমেনশিয়ার রাজ্য। বাবাকে দেখলেই নতুন নাইটি থেকে কাঠি-কাঠি হাত বের করে ঘ্যানঘ্যানে গল্প। আমরা পুজোয় টয়ট্রেন চড়তাম, আমরা পুজোর মেলায় হজমি কিনতাম, টকিং-ডল দেখতাম, তুই একবার ভিআইপি পাস পেয়েছিলি, সেই মনে আছে একবার গোবরের প্যান্ডেল হয়েছিল? আরে গোবরের প্যান্ডেল হলে তো সেটা লজ্জার ব্যাপার, ভাঁড়ের প্যান্ডেল তো ঐতিহ্যের অপমান, তা নিয়ে এমন লাবড়াজোবড়া হওয়ার কী আছে? কিন্তু বাবার মুখটা ন্যাকামিতে পমপম।

তবে পিসির আয়াটা কুচো-নিমকি বানায় একেবারে রক-স্পিট। রাতুল ঘুগনি আর নিমকির প্লেট-টা নিয়ে ডাইনিং স্পেসে বেরিয়ে এল, একটা ডিসটার্বিং ফিড বারবার আসছে। রেপ। দোষটা অফ কোর্স মেয়েটার, সে একসঙ্গে দু’জন বন্ধুর সঙ্গে অ্যাফেয়ার করছিল, পানিশমেন্ট হিসেবে বন্ধুর গ্রুপ গ্যাংরেপ করেছে। কিন্তু তারপর এভাবে ক্লিপিং সার্কুলেট করাটা উচিত হয়নি। রাতুলের মনে হল একটা কমেন্ট দেয়, কিন্তু চেপে গেল। মেজরিটির ওপিনিয়ন কোনদিকে গড়াবে, বুঝতে পারছে না। মাঝখান থেকে ও নেমফিস খেয়ে যাবে। মেয়েটার প্রোফাইল অদ্ভুত। বাইক দাবড়ে ঘুরে বেড়াত, রাস্তায় কেউ টোন কাটলে তাকে কলার চেপে ধরে চড় মারত, একবার কোন কুখ্যাত মস্তান ফট করে গায়ে হাত দিয়ে বাসে উঠে পড়ার পর সেই রানিং বাসে লাফিয়ে, হিড়হিড় করে টেনে নামিয়ে এমন পিটিয়েছিল যে নাকমুখ ফেটে একশা। ভিড় জমে গেছিল, একটা মেয়ে এরকম বেধড়ক মারতে পারে, কেউ ভাবেনি। মেয়েটা পাড়ার কুকুরদের খাওয়াত, ওরা হেভি ন্যাওটা ছিল, ওর সঙ্গে এসব ধোলাইয়ে হেল্পও করে দিত কামড়ে-টামড়ে। প্রতিবেশীরা সব্বাই মেয়েটার ওপর হিউজ খাপ্পা। গাঁকগাঁক করে কথা বলত, তেড়ে মদ খেত, বাড়ি থেকে প্রায়ই বয়ফ্রেন্ড বেরত, তাদের চোখ গাঁজা খেয়ে লাল। আবার এক-আধজন টিচার মেয়েটার বিরাট প্রশংসা করেছে, ফিলসফিতে ব্রাইট রেজাল্ট, অনাথাশ্রমে ভলান্টারি শ্রম দিত হপ্তায় তিনদিন, ব্রিলিয়ান্ট পড়াচ্ছিল একটা প্রাইভেট কলেজে। এখন পল-ফ্লো’তে একটা ভোট চলছে, দোষটা মেয়েটার না ছেলেগুলোর। অনেকে বলছে, সমাজের সব গণ্ডিই তুমি কাটিংহেল মারবে, এমনকী, সরকারের নারী-বিধির প্রত্যেকটা বুলেট-পয়েন্ট ডেলি প্যাঁক-চব্বা করবে, তা একদিন তো বাবা তার মিটার-প্রাইস চোকাতে হবে। আবার অনেকে মেয়েটার ফর-এ। অবশ্য অমন দুর্ধর্ষ দেখতে হলে সিমপ্যাথি টানবেই।

রাতুলের গ্রুপটা খুব ক্রেজি-ডুফলান হয়ে ফুটছে, ওরও মত চাইছে। ও অনেক ভেবে লিখল, ফিফটি-ফিফটি। তারপর ডিলিট করে দিল।