স্বদেশি ছবির কথা
স্বদেশি ভাবনার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন আমাদের সাহিত্যে-সংগীতে বারংবার প্রকাশ পেয়েছে। যেমন-তেমনভাবে নয়, সে প্রকাশ পেয়েছে অগ্নিগোলকের আগুনের তীব্রতায়। কিন্তু শিল্পকলায় সেই স্বদেশিয়ানার প্রকাশ কোন পথে? কী ভাবছিলেন শিল্পীরা, কীভাবে কল্পনা করেছেন পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত দেশমাতৃকার প্রতিমা? আজ থেকে ১২৫ বছর আগে, গত শতকের একেবারে গোড়ায় স্বদেশি আন্দোলনের যে বিপুল দাবানল জ্বলে উঠেছিল— তার কতটা প্রভাব পড়েছিল শিল্পীদের কাজে?
এ-প্রসঙ্গে দেশের নবীন ও প্রবীণ একঝাঁক শিল্পীর মনে পড়ে। সেই সময়ের তরুণ নন্দলালের কথাই ধরা যাক। লেখাপড়ায় তেমন আগ্রহ ছিল না তাঁর, পত্রপত্রিকায় অবনীন্দ্রনাথের ছবি দেখে তাঁকে মনে-মনে গুরু বলে গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘকাল স্বদেশি ভাবনা আর আদর্শে অবগাহিত, তাঁর মনে র্যাফেলের আঁকা ‘ম্যাডোনা’-র ছবিও তেমন আকর্ষণ করেনি। অবনীন্দ্রনাথ যখন কলকাতা আর্ট স্কুলের শিক্ষক, নন্দলাল তাঁর কাছে এলেন শিল্পের পাঠ নিতে।
আর্ট স্কুলে ভর্তির আগে অবনীন্দ্রনাথ তাঁর ভবিষ্যতের প্রিয়তম ছাত্রটির ছবি দেখতে চাইলেন। পরদিন কিছু ছবি নিয়ে নন্দলাল তাঁর কাছে উপস্থিত। সে ছবিতে ছিল স্বদেশীয়ানার প্রবল উত্তাপ। একটিতে ফাঁসির দড়িতে ঝুলন্ত এক স্বদেশির ছবি দেখে অবনীন্দ্রনাথ চমকে উঠলেন। প্রভাতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় জানা যায়— নন্দলালের ছবির গোছা দেখে অবনীন্দ্রনাথ বলেছিলেন— ‘সর্বনাশ করেছ কি? লুকিয়ে ফেল, আর কাউকে দেখিও না। মাথা ঠাণ্ডা করে যদি ছবি আঁকা শিখতে চাও তো এসো কাল থেকে।’
আরও পড়ুন : সেলুলয়েডে কেমন দেখতে স্বদেশের মুখ?
লিখছেন শান্তনু চক্রবর্তী…

সময়টা ১৯০৫, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে সারা দেশে তখন তোলপাড়। দলে-দলে মানুষ দেশের মানুষ সেই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। স্বয়ং অবনীন্দ্রনাথ আঁকছেন বঙ্গমাতা— যা পরে ভগিনী নিবেদিতার নামকরণে ‘ভারতমাতা’ হিসেবে যে-ছবি তীব্র আলোড়ন ফেলে দেবে। অথচ সেই ছবির দিকে তাকালে দেখি কী এক স্নিগ্ধ সমাহিত দেশজননীর প্রতিমা। ‘ভারতমাতা’ এমন এক মাতৃমূর্তি— যা হৃদয়ের গভীরে স্পর্শ করে। আপাত উন্মাদনার রেশ ছাড়িয়ে মনকে করে তোলে স্থির, দৃঢ়সংকল্প। অবনীন্দ্রনাথের ভাবনায় এক সন্ন্যাসিনীর প্রতিমায় চিত্রিত ‘ভারতমাতা’ আমাদের দেশজননীর আসন অধিকার করেছে। এখানে মনে পড়বে, শিল্পাচার্যের সেই তাৎপর্যময় বাক্য— ‘মাথা ঠাণ্ডা করে ছবি আঁকা’-র কথা। এ কি কেবল ছবির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? সৃজনের যে-কোনও পরিসরে এই বাক্য অমোঘ অক্ষরের মতো।
খতিয়ে দেখলে, অবনীন্দ্রনাথের ‘ভারতমাতা’ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এক বিপ্লবের ছবি। যদিও সে-ছবিতে বিপ্লবের ভাষা একেবারেই উচ্চকিত নয়, টেক্সটের আড়ালে সাবটেক্সটের মতো নীরব তার অবস্থান। অনুভূতিশীল মন দিয়ে তাকে বুঝে নিতে হয়। অন্যদিকে, ভারতীয় ছবির জগতেও এক নিঃশব্দ বিপ্লব গড়ে তুলেছে এই ছবি। কেমন সে বিপ্লব? বিলেতি ছবিতে বাস্তবের আলোছায়া-ঘেরা যে অ্যাকাডেমিক ঘরানার প্রকাশ, তার বিপরীতে প্রাচ্যশিল্পের জয়ধ্বজাকে তুলে ধরাই এ-ছবির অন্যতম বিদ্রোহ। আধুনিক আর্টের নিরিখে ‘ভারতমাতা’ সেই ছবি, যা প্রথাগত পশ্চিমি শিল্পকলার অর্গল ভেঙে গভীর প্রত্যয়ে ভারতশিল্পের পতাকা তুলে ধরেছে।
এই ছবি কীভাবে আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে, একবার নজর দেওয়া যাক।
‘প্রবাসী’ পত্রিকায় (আগস্ট ১৯০৬) ‘ভারতমাতা’-র প্রতিলিপি প্রকাশপর্বে ছবির বিষয়ে নিবেদিতার লেখার বাংলা অনুবাদ মুদ্রিত হয়। এই ছবিকে নিবেদিতা ভারতশিল্পের নবযুগের সুচনা বলে অভিহিত করেন— ‘অবনীন্দ্রনাথের ভারতমাতা দাঁড়িয়ে আছেন সবুজ জমিতে। পিছনে নীল আকাশ৷ ক্ষুদ্র সুন্দর চরণদুটির নীচে চারটি অস্পষ্ট শ্বেতপদ্ম। তাঁর চারি হস্ত— ভারতীয় ভাবনায় যা দৈবশক্তির দ্যোতক। নয়ন ও ললাটে পরম স্বচ্ছতা— পিছনে জ্যোতিচক্র— স্তব্ধ করে দেয় সম্ভ্রমে। শিক্ষা-দীক্ষা-অন্ন-বস্ত্র– সন্তানদের জন্য এই চারটি দান মাতার চতুর্ভুজে।’
আরও মনে হয়েছে, দেশমাতার পশ্চাৎপটে শুভ্র আলোকরেখা, পদপ্রান্তে প্রস্ফুটিত পদ্ম, খালি পা এবং সন্ন্যাসিনীর মতো পরিচ্ছদসহ শঙ্খের কঙ্কণে সজ্জিত এই ছবি ভারতবর্ষের হৃদয় উৎসারিত চিরন্তন নারীত্বের প্রতীক। ছবিটির প্রতিলিপি তিনি সমগ্র দেশ জুড়ে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। বলেছেন— ‘পারলে ভারতমাতা চিত্রটির লক্ষ লক্ষ পুনর্মুম্মুদ্রণ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতাম, যে-পর্যন্ত না কেদারনাথ থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত স্থানে প্রতিটি চাষার কুটিরে, কারুশিল্পীর ঘরে তা লম্বিত হয়।’


নিবেদিতা এখানে দু’টি জরুরি পয়েন্ট তুলেছেন, তা হল ভারতমাতা ছবির প্রতিলিপি কেবল অভিজাত শ্রেণির গৃহে নয়— তাকে তিনি ছড়িয়ে দিতে চান ‘চাষার কুটিরে, কারুশিল্পীর ঘরে’। অর্থাৎ স্বদেশি ভাবনায় আন্দোলিত দেশজননীর ছবিকে তিনি প্রান্তিক শ্রেণির মধ্যে পৌঁছে দিতে চান। যে-সময়ে স্বদেশি আন্দোলনের সমস্ত সভাসমিতি ছিল শিক্ষিত, এলিট ক্লাসের কুক্ষিগত। যেখানে স্বদেশি সভায় সমস্ত বক্তৃতা দেওয়া হত ইংরেজি ভাষায়— সেখানে নিবেদিতার এই ‘চাষা’ ও কারিগরদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ভাবনা চমকে দেওয়ার মতো। স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বরকে তিনি সমাজের একেবারে নিচুতলায় ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই ছবির মধ্য দিয়ে দেশের সমগ্র আবেগকে তিনি এক সুরে বাঁধতে চেয়েছিলেন। যদিও ছবিটির চিত্রগত বৈশিষ্ট অপেক্ষা ছবির আইডিইয়াকেই তিনি বড় করে দেখেছেন। অবনীন্দ্রনাথের ভাষায়—‘দেশের জন্য নিজস্ব কিছু দিতে হবে, সেই ভাবটিই ফুটে বের হল আমার ছবির জগতে’।
কেবল ছবিতে নয়, তখন সমস্ত কাজেই যেন দেশীয় ভাবকে জাগিয়ে তোলার প্রবল জোয়ার এসেছিল। এই কাজে ঠাকুরবাড়ির ভূমিকা ছিল সবার আগে, রবীন্দ্রনাথ এখানে ছিলেন অগ্রপথিক। তিনিই একবার প্রভিনসিয়াল কনফারেন্স উপলক্ষে প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলা ভাষায় আলাপ-আলোচনার জন্যে। প্রথমে রাজি না হলেও অবশেষে চাপে পরে হয়েছিলও তাই। অবনীন্দ্রনাথ সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন— ‘আমাদের তো জয়জয়কার। বাংলা ভাষার প্রচলন হল কনফারেন্সে। সেই প্রথম আমরা বাংলা ভাষার জন্য লড়লুম।’ সেদিনের সভায় বাংলা ভাষার পক্ষে সবচেয়ে বেশি সওয়াল করেছিলেন অবন ঠাকুরদের দল। সেও কি প্রকারান্তরে স্বদেশি আন্দোলনের লড়াই নয়?
দেখে নিই চিত্রকর স্বয়ং কী বলেছেন, তাঁর ‘ভারতমাতা’ ছবির বিষয়ে? ‘ঘরোয়া’-তে অবনীন্দ্রনাথ বলেছেন— ‘আমি আঁকলুম ভারতমাতার ছবি। হাতে অন্নবস্ত্র বরাভয় এক জাপানি আর্টিস্ট (টাইকান) সেটিকে বড় করে পতাকা বানিয়ে দিলে। কোথায় যে গেল পতাকাটা,— জানিনে। যাক— রবিকাকা গান তৈরি করলেন, দিনুর (দিনেন্দ্রনাথ) ওপর ভার পড়ল, সে দলবল নিয়ে গান গেয়ে গেয়ে চোরবাগান ঘুরে চাঁদা তুলে নিয়ে এল। তখন সব কাজ স্বদেশী ভাব ছাড়া আর কথা নেই। নিজেদের সাজসজ্জাও বদলে ফেললুম।’
সাজসজ্জার বদল বলতে, সেই সময় মার্কা দেওয়া ইঙ্গবঙ্গ সমাজের অফিসিয়াল পার্টিতে বাঙালির সাবেকি সাজ ধুতি-পাঞ্জাবি আর পায়ে শুঁড়তোলা পাঞ্জাবি চটিতে যাওয়া মস্তবড় ঔদ্ধত্য। তখনকার সমাজে যা কল্পনা করা যেত না। সাহেবি পোশাকের পরিবর্তে বাংলার সাবেক পরিচ্ছদ প্রথমে সকলে খাটো নজরে দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা সামাজিক বিপ্লব এনে দিয়েছিল। অন্যদিকে চিত্রকলায় স্বদেশিয়ানার বীজ শিল্প-শিক্ষার্থীদের কাজে কীভাবে অঙ্কুরিত হয়ে উঠবে, সে-বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ তাদের উদ্দেশে বলেছেন— ‘আর্ট স্কুলে ভর্তি হইয়াছি, কিন্তু আমাদের দেশে শিল্পকলার আদর্শ যে কী তাহা আমরা জানিই না। যদি শিক্ষার দ্বারা ইহার পরিচয় পাইতাম তবে যথার্থ একটা শক্তিলাভ করিবার সুবিধা হইত। কারণ, এ আদর্শ দেশের মধ্যেই আছে— একবার যদি আমাদের দৃষ্টি খুলিয়া যায় তবে ইহাকে আমাদের সমস্ত দেশের মধ্যে, থালায়, ঘটিতে, বাটিতে, ঝুড়িতে, চুপড়িতে, মন্দিরে, মঠে, বসনে, ভূষণে, পটে, গৃহভিত্তিতে, নানা- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিপূর্ণ একটি সমগ্র মূর্তিরূপে দেখিতে পাইতাম; ইহার প্রতি আমাদের সচেষ্ট চিত্তকে প্রয়োগ করিতে পারিতাম; পৈতৃক সম্পত্তি লাভ করিয়া তাহাকে খাটাইতে পারিতাম।’
এই লেখার সময়কাল বঙ্গভঙ্গ পর্বে। তাঁর বক্তব্য দেশের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা অজস্র উপাদান থেকেই শিল্পের প্রতিমা গড়ে তুলতে হবে। কবির এই আহ্বান ছাত্রদের কানে পৌঁছেছিল কি না, বলা কঠিন। তবে এই পর্বে কলকাতার আর্ট স্কুলে ছাত্র হিসেবে যোগ দিয়েছেন নন্দলাল বসু, সুরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলি, সমরেন্দ্রনাথ গুপ্ত, অসিতকুমার হালদার, ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদার, ভেঙ্কটাপ্পা প্রমুখ ছাত্র। গুরু অবনীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে এঁদের হাতেই নব্যবঙ্গীয় চিত্রকলার উত্থান–যা ইন্ডিয়ান পেইন্টিং নামে পরিচিত।

আজ থেকে ১২০ বছর আগে আমাদের শিল্পকলা বিলেতি শিক্ষার মলাট খসিয়ে ভারতীয় শিল্পের বীজ বপন করেছে। বর্তমানের তথাকথিত ‘আধুনিক’ শিল্পীরা বেঙ্গল স্কুলের প্রতি অবজ্ঞার নাসাকুঞ্চনে মত্ত হলেও মনে রাখতে হবে, শিল্পের মাধ্যমে বিদেশি শাসকের চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার বিরুদ্ধে তাঁরাই প্রথম প্রতিবাদী স্বর। পরবর্তী কালে বাংলা কলমের ছবির বিরুদ্ধে হয়তো অনেক অভিযোগ উঠেছে। হ্যাভেল-নিবেদিতা-কুমারস্বামীর ভাবনাশ্রিত এই ভারতীয় শিল্প সমালোচিত হয়েছে একদেশদর্শী বলে।

সেই সূত্রেই কি পরবর্তী প্রজন্মের চিত্তপ্রসাদের মতো শিল্পী ‘ভারতমাতা’ ছবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন? সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— ‘দেশমাতৃকার যে ছবি অবনীন্দ্রনাথ আঁকলেন তা কল্পনা হিসেবে অতুলনীয় সুন্দর, কারিগরিতে নিখুঁত জীবনের প্রতীক, কিন্তু যন্ত্রসভ্যতার ক্ষেত্রে জয়ী হবার জন্য তখনকার জনতা যে শক্তির প্রেরণা খুঁজছিল, অবনীন্দ্রনাথের সন্ন্যাসিনী থেকে সে শক্তি মেলে না।’
চিত্তপ্রসাদের এই কথা কি সর্বাংশে সত্য বলে গ্রহণ করতে হবে? বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে অবিভক্ত বাংলার জন্যে দেশমাতৃকার এই মূর্তি কি তাহলে ব্যর্থ প্রয়াস? তা মনে হয় না আমাদের। এ-বিষয়ে নন্দলাল কী বলছেন একবার শুনে নিই। তিনি বলেছেন—“আধুনিক ভারতশিল্পের রেনেসাঁ প্রথম আরম্ভ করলেন অবনীবাবু। আরম্ভ করলেন বঙ্গভঙ্গের সময়ে। তিনি বলতেন, আরম্ভের কারণটা অবশ্য বঙ্গভঙ্গ নয়।… অবনীবাবু বিদেশীপনাকে দেখতেন বিষনজরে। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়ে সকলের মন জাতীয় ভাবনায় ভরে আছে। সেই শুভক্ষণেই নবজন্ম হল ভারত কলালক্ষ্মীর।”
ঘটনা যাই হোক, ইতিহাসের নিরিখে আজ পিছনে তাকিয়ে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, স্বদেশি আন্দোলনের চালচিত্রে অবনীন্দ্রনাথের ‘ভারতমাতা’ আমাদের পরাধীন দেশের অন্তরে প্রভূত প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশের শৃঙ্খলমোচনে এই ছবির অবদান কোনওভাবেই লঘু করে দেখা যাবে না। একইভাবে স্বীকার করতে হবে এই ছবি ভারতীয় শিল্পকেও তার নিজস্ব ভাষা প্রদান করেছে, বিলেতের পর্দা সরিয়ে স্বাধীনভাবে চিত্রচর্চার পথটিকে উন্মুক্ত করেছে।




