সম্প্রতি ‘সতলুজ’ -এর মুক্তি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। এই ছবির পরিচালক হানি ত্রেহান দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে। বিশাল ভরদ্বাজ থেকে ইরফান খান— বিভিন্ন যোগসূত্র তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর নির্দেশনা থেকে তাঁর প্রযোজনা, বিবিধ বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে উদয়ন ঘোষচৌধুরি, ডাকবাংলা.কম-এর জন্য এক্সক্লুসিভ…

বেদব্রতদা’র (পাইন) ‘চিটাগং’-এ একঝাঁক নতুন দুরন্ত অভিনেতাকে দেখে, কাস্টিং বিষয়টা সম্বন্ধে আমার প্রথম কৌতূহল হয়েছিল; তখন আপনার কাজের ব্যাপারে জানতে পারি…
‘চিটাগং’-এ আমি অ্যাসোসিয়েট প্রোডিউসার ছিলাম। বিজয় বর্মা, জয়দীপ অহলাবত, রাজকুমার (তখন ‘যাদব’ লিখতেন, পরে ‘রাও’ ব্যবহার করতে শুরু করেন)— এঁরা ছিলেন এফটিআইআই-এর ব্যাচমেট। নওয়াজউদ্দিন এঁদের থেকে সিনিয়র, এনএসডি থেকে এসেছিলেন।
কাস্টিংয়ের কাজটা কী, যদি একটু বুঝিয়ে বলেন…
লেখক যখন কোনও কাহিনি বা চরিত্র লেখে, তখন সেই কাহিনির মধ্যে কোথাও না কোথাও বাস্তব দুনিয়ার যোগ থাকে, বা সেই চরিত্রের মধ্যে কোনও প্রাণবন্ত জগতের ছোঁয়া থাকে। এবার, যদি সেই বাস্তবতা বা প্রাণবন্ত ব্যাপারটাকে অগ্রাহ্য করে বারবার মার্কামারা কয়েকজনকেই দেখতে থাকি— যেমন আগেকার সিনেমায় ঘুরেফিরে গুলশন গ্রোভার, শক্তি কাপুর, রঞ্জিত— বা, ভিলেন দরকার হলে চার-পাঁচ জন বিখ্যাত ভিলেনের মধ্যে একজন— কিন্তু, তার ফলে যে দুনিয়াটা পর্দায় তৈরি হয়, সেটা আমার কাছে খুব একটা জ্যান্ত মনে হয় না।
‘ব্যান্ডিট কুইন’ আর ‘সত্যা’— এই দুটো সিনেমা আমার চিন্তা-ভাবনা বদলে দিয়েছিল। দুটোই অতি চমৎকার ফিল্ম; বানিয়েছেন দু’জন বড়মাপের ডিরেক্টর; কিন্তু, দুটোর কাস্টিংয়ের কথাটা চিন্তা করুন! দুটোই দাঁড়িয়ে আছে ওই বিষয়টার ওপর! সেই সময়ের কোনও দর্শক বুক ঠুকে বলতে পারবে না যে, সে জানত কে মনোজ বাজপেয়ী, কে সীমা বিশ্বাস, কে নির্মল পাণ্ডে! কিন্তু, এঁদের উপস্থিতির জন্য অডিয়েন্স সেই কাহিনির বা চরিত্রের বাস্তবতার মধ্যে বা তার কাছাকাছি ঢুকতে পেরেছে।
ফিল্মমেকিংয়ের একটা প্রধান ডিপার্টমেন্ট হল কাস্টিং। এই জার্নিটা, কাহিনির বাস্তবতা বুঝে চরিত্রগুলোতে প্রাণবন্ত অভিনেতা নির্বাচন করার কাজটা আমার খুব মজাদার লাগে।

আপনার শুরুর দিনগুলো, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি কেমন ছিল?
যদিও আমার জন্ম মধ্যপ্রদেশের সাগরে, তবে বড় হয়েছি পাঞ্জাবের তরন তারনে— যেখান থেকে ‘সতলুজ’-এর কাহিনিটা পেয়েছি। মাঝে কয়েক বছর এলাহাবাদে কাটিয়ে দিল্লিতে থেকেছি। ব্যারি জনের সঙ্গে থিয়েটার করেছি। তখন নাটকের কনিষ্ঠতম পরিচালক হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছিলাম। তারপর বম্বেতে এসে বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করলাম, তখন আমার কুড়ি-একুশ বছর বয়স।
বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে পরিচয় কি দিল্লিতেই হয়েছিল?
না, পনেরো দিনের জন্য একটা কাজে বম্বে এসেছিলাম। তার আগে আমি আর পীযূষভাই (মিশ্র) একটা নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। সেই সময়ে বিশালজি তাঁর প্রথম সিনেমাটা তৈরি করার কথা ভাবছিলেন। নাম ছিল, ‘বর্ফ’; যদিও শেষমেশ সেটা বানানোই হয়নি। তো, উনি তখন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট খুঁজছিলেন, যার থিয়েটারের অভিজ্ঞতা আছে। পীযূষভাইয়ের কাছে উনি আমার কথা শুনেছিলেন। বম্বেতেই একদিন গিয়ে দেখা করলাম। আলাপ-আলোচনার পর আমাকে ওঁর টিমে নিয়ে নিলেন। সেই থেকে টানা পনেরো-ষোলো বছর ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি।
বিশালজি-ই প্রথম আমাকে প্রোডিউসার হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। ওঁর প্রোডাকশনে, মেঘনা গুলজারের ডিরেকশনে ‘তলওয়ার’-এ আমার ক্রেডিট ছিল ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার হিসেবে।
‘সপ্না দিদি’ প্রোডিউস করার কথা ছিল বিশালজি-র…
হ্যাঁ, ওটা পরিচালনা করার কথা ছিল আমার। মুখ্য ভূমিকায় ইরফানসাব (খান) আর দীপিকা-র (পাডুকোনে) নাম ভাবা হয়েছিল। কিন্তু, পরে বিশালজি আর আমার মধ্যে কিছু মতের অমিল হয়, যেটাকে বলে ‘ক্রিয়েটিভ ডিফারেন্স’। সিনেমাটা উনি যেভাবে ভাবছিলেন, আমি সেভাবে বানাতে চাইছিলাম না। তাই আমি সরে আসি। পরে উনি ওই কাহিনি নিয়ে বানালেন “ও’রোমিও”। আমি আসলে ওই আউটপুটটা চাইনি।

ইরফান খানের নাম উঠলই যখন, ওঁর সম্বন্ধে কিছু বলুন।
উফ, কী বলব, ভাই! ওঁর সম্বন্ধে যত-যা বলা হোক, সবই কম পড়ে যাবে! আমি ওঁর সঙ্গে সাতটা সিনেমায় কাজ করেছি। একটাই মোদ্দা কথা বলতে পারি, আজও যদি আমি লিখতে বসি আর কোনও চরিত্রের কোনও জায়গায় গিয়ে আটকে যাই, তাহলে কোনও শান্ত নিরালা জায়গায় গিয়ে ভাবতে চেষ্টা করি, ওখানে ইরফান থাকলে কীভাবে সামলাতেন! সত্যি কথা বলতে, যখনই কোনও চরিত্র সম্বন্ধে ভাবি বা লিখি, সঙ্গে-সঙ্গে মাথার মধ্যে চলতে থাকে, এখানে ইরফান থাকলে কী করতেন! মানুষটা শুধুমাত্র ভাল অভিনেতা ছিলেন না, আমি তো বলব, আমার প্রজন্মের অধিকাংশ ফিল্মমেকারের চিন্তা-ভাবনার একটা উৎস ছিলেন ইরফান।
আবার, ডিরেক্টর হিসেবে কোনও সিকোয়েন্সে কোথাও আটকে গেলে তখন মাথায় আসে বিশালজি-র কথা, এই সিকোয়েন্সটা বিশালজি কীভাবে সামলাতেন! এত বছর ধরে যে ট্রেনিং তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি, তখন সেটাই যেন আমাকে নিঃশব্দে পথ দেখায়।
অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আমার সম্পূর্ণ কেরিয়ারে, ইরফান খান আর বিশাল ভরদ্বাজ— এই দু’জনের কাছ থেকে যা-যা পেয়েছি বা শিখেছি, সেই ঋণ কখনও শোধ করতে পারব না। সিনেমা পরিচালনার কাজে ইরফান-ই প্রথম আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

মানে, এই দু’জন আপনার গুরু?
উঁহু, গুরু একজনই — বিশালজি।
‘সতলুজ’ বানানোর চিন্তা প্রথম কীভাবে এসেছিল?
ছোটবেলা থেকেই পাঞ্জাবের ওইসব ঘটনা শুনে বড় হয়েছি। ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে, আমাদের সময়কালে যশবন্ত সিং খালড়াসাবের আত্মবলিদান একটা বড় ঘটনা। আমার কাছে উনি শহিদ ভগৎ সিংয়ের সমতুল্য। যদি ভগৎ সিংকে নিয়ে এতগুলো ফিল্ম হতে পারে, তাহলে যশবন্ত সিংকে নিয়ে কেন হবে না? আমার বরাবরের চিন্তা-ভাবনা ছিল ওঁর কাহিনি সর্বসমক্ষে তুলে ধরার।
এটা বানাব বলে স্থির করার পর প্রথমে দিলজিৎ (দোশাঞ্জ) আর প্রোডিউসার রনিকে (স্ক্রুওয়ালা) শোনাই। দু’জনেই সঙ্গে-সঙ্গে রাজি হয়ে যান। সিনেমাটা বানিয়ে আমরা সকলেই খুশি হয়েছি; ফিল্মের সমঝদাররা পছন্দ করেছে; কিন্তু, এ-দেশের রাজনৈতিক মহল জিনিসটা ভাল চোখে দেখল না। কারণ, এটা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে বাধা দিয়েছে। তবে শেষমেশ এমন দাঁড়িয়েছে যে, সিনেমাহলে বা ওটিটি-তে রিলিজ করলে যত লোক দেখত, এখন তার থেকে অনেক-অনেক বেশি লোক দেখেছে। ব্যান করার ফলে সরকার আসলে এটাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে। সেজন্য আমি সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি তো বলব, ‘সতলুজ’-এর নিজস্ব ওটিটি তৈরি হয়ে গেছে, প্রায় সকলের মোবাইলে সিনেমাটা আছে…

হ্যাঁ, ব্যক্তিগতভাবেই জানি, লোকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে লিংক শেয়ার করছে…
রামুস্যার (রাম গোপাল বর্মা) ফিল্মটা দেখে টুইট করেছিলেন, সেখানে আমি রিপ্লাই করেছিলাম, উনি সঙ্গে-সঙ্গে রিপ্লাই ব্যাক করেছিলেন। ওঁর সঙ্গে আমার কখনও দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি, কোনও পরিচয় ছিল না। কিন্তু, দু’-একদিন পরেই উনি কোথাও থেকে আমার নম্বর জোগাড় করে ফোন করলেন। তারপর প্রায় আধাঘণ্টা ধরে বলতে থাকলেন, এই সিনেমাটা দেখে ওঁর কী-কী মনে হয়েছে, এইধরনের কাহিনি আর ফিল্মমেকিং উনি কতটা পছন্দ করেন ইত্যাদি। আমার সঙ্গে আগে যোগাযোগ ছিল না, ফিল্ম-জগতের এমন বহু প্রবাদপ্রতিম মানুষ, সইদ আখতার মির্জার মতো লোকজন হয় মেসেজ করেছেন, না-হয় ফোন করেছেন।
পাঞ্জাবের লোকজন তো বটেই, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা পাঞ্জাবের মানুষ, এমনকী, যাদের সঙ্গে পাঞ্জাবের কোনও সম্পর্ক কোনও লেনাদেনা নেই, তারাও সিনেমাটা দেখে আপ্লুত হয়েছে। সিনেমাটা সাধারণ মানুষকে ছুঁয়েছে। একজন ফিল্মমেকার হিসেবে এটাই আমার কাছে বিরাট প্রাপ্তি।
যদিও একটা আফসোস থেকে গেছে আমার। যশবন্ত সিংকে বেআইনিভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাই আমি আপ্রাণ চেয়েছিলাম যে, অন্তত তাঁর ওপরে ভিত্তি করে তৈরি করা সিনেমাটা মানুষের কাছে আইনসম্মত পথে পৌঁছক। কিন্তু আমাদের সরকার বোধহয় এটাই চাইল যে, যেহেতু তাঁকে বেআইনিভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেহেতু সিনেমাটাও বেআইনিভাবে থাকুক।
সিবিএফসি-র সার্টিফিকেট ছাড়া কোনও সিনেমা ওটিটি-তে রিলিজ করতে পারে?
হ্যাঁ, এখনও পর্যন্ত পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখনও পর্যন্ত সিবিএফসি-র সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
আমাদের দেশে এই ‘ব্যান কালচার’ বহু পুরনো…
কোনও আদর্শ গণতন্ত্রে এই কালচার থাকা উচিত নয়। এটা এ-দেশে আছে, কারণ ক্ষমতাধর পক্ষ তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বা কোনও শিল্পকর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার মানেই হল এ-দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্বন্ধে সংশয় সৃষ্টি করা।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষ হিসেবে আপনার কী মনে হয় এই কালচার বেড়েছে, কমেছে, বা একই আছে?
সত্যি কথা বলতে, ২০১৪ সালের পর থেকে অনেক বেড়ে গেছে। যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘সতলুজ’ রিলিজ হয়েছিল আর সেটাকে সেখান থেকে সরিয়েও দেওয়া হল— সেটাই একমাত্র প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি ক্ষমতাধর পক্ষের সব ‘প্রোপাগ্যান্ডা ফিল্মস’ পাবেন। যেসব কাহিনিতে হিন্দু-মুসলমানের ঝামেলা দেখানো হয়েছে, মুসলমান খুব অত্যাচারী, বা ভিলেনের চরিত্রটা মুসলমান— মানে, যতভাবে তাদের ‘খারাপ’ প্রতিপন্ন করা যায় আর কী— সেইসব সিনেমাকে এখন ‘জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেগুলোকে ট্যাক্স-ফ্রি করে দেওয়া হয়; সংসদের স্ক্রিনিংয়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়া হয়; লম্বা-চওড়া ভাষণ দেওয়া হয়।
তো, সেগুলোকে দেখানোর জন্য ওই প্ল্যাটফর্ম ক্ষমতাধর পক্ষের কাছে প্রথম সারির সুশীল। সুতরাং, সেই একই জায়গায় ‘সতলুজ’ রাখলে প্ল্যাটফর্মের ওপরে চাপ সৃষ্টি হবেই। যদিও সেটা আইনি পথে করা যায় না। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতাধারী লোকজন অন্য উপায়ে কাজটা করে।
এই সিনেমাটা ব্যান করার কারণ কী হতে পারে?
সিবিএফসি গত সাড়ে তিন বছর যাবৎ এটাকে আটকে রেখেছিল। বলা হয়েছিল, ‘সতলুজ’ রিলিজ হলে পাঞ্জাবের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় গণ্ডগোল শুরু হবে। মজার ব্যাপার হল, সিনেমাটা এখন গোটা পাঞ্জাবকে একজায়গায় জড়ো করেছে। হাজার-হাজার মানুষ গুরুদ্বারে জমায়েত হয়ে ফিল্মটা দেখেছে, এখনও দেখছে। কেউ কারও ধর্ম জানতে চাইছে না, জাতি জানতে চাইছে না, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থান জানতে চাইছে না।
আমার এটাই মনে হয়, এখনকার ক্ষমতাধর পক্ষের রাজনীতির ভিত্তিই হল মানুষে-মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা। তাছাড়া সামনেই ভোট আছে; নেতারা ভাষণে বলছে ‘পাঞ্জাব কে হিন্দুয়োঁ, কব জাগোগে তুম?’… অর্থাৎ, এরা খোলাখুলি শিখদের সঙ্গে হিন্দুদের ঝামেলা তৈরি করতে চাইছে। এই একই কাজ এরা দেশের বাকি জায়গায় করে; সেখানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের উস্কানি দেয়। তাহলে প্রশ্ন হল, সাধারণ মানুষ বা এই সিনেমাটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় গণ্ডগোল তৈরি করছে, না নেতারা বা মন্ত্রীরা সেই গণ্ডগোল তৈরি করার চেষ্টা করছে? এদের চিরকালের লক্ষ্য হল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করা— তা সে মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান যা-ই হোক!
যেহেতু ‘সতলুজ’ সবাইকে একই ছাদের নিচে আনতে পেরেছে, সেহেতু ক্ষমতাধর পক্ষ ভয় পেয়েছে। এই সিনেমাটা ক্ষমতাধর পক্ষের হয়ে কথা বলছে না; তাদের হয়ে কোনও ইন্ধন জোগাড় করছে না। ফলে, তারা তো চাইবেই এটা নিষিদ্ধ হোক! আর, সেটাই আমাদের গণতন্ত্রকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে।
এই নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটা বারবার হয়ে চলেছে…
আরও হবে! কারণ, দোষটা ওদের নয়। দোষটা আমাদের। আমরাই ওদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছি। এটাই সবথেকে বড় সমস্যা। আমাদের দেশের অসচেতন জনগণ বারবার ওদের ভোট দিয়ে চলেছে। মানুষের সচেতনতা তৈরি হয় ঠিকঠাক শিক্ষা থেকে। কিন্তু ক্ষমতাধর পক্ষ চায় না যে, সাধারণ মানুষ শিক্ষিত হোক, সচেতন হোক। কারণ, তাহলে তখন মানুষ প্রশ্ন করতে শিখবে। তখন তাদের বা যুবসমাজের মগজ-ধোলাই করা মুশকিল হবে।
এই মুহূর্তে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল খুব খারাপ! গত দশ-বারো বছরে প্রায় তলানিতে ঠেকেছে! একটা সহজ বিষয় দেখুন, প্রত্যেকবার ভোটের আগে প্রচার করতে এসে বলা হয়, ক্ষমতায় এলে সব মহিলাকে মাসে এত হাজার টাকা করে দেব! মানুষ যদি বুঝত, তাহলে নিশ্চয়ই ভাবত যে, এটা আদৌ জরুরি নয়! জরুরি হল শিক্ষার ব্যবস্থা করা, কর্মসংস্থান করা— যেখান থেকে সকলে নিজে উপার্জন করতে পারবে। ক্ষমতাধর পক্ষ আদতে চায় জনগণের মস্তিষ্ক বা প্রতিভা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাক! তারা চায় মানুষ পঙ্গু হয়ে বাঁচুক! তারা চায় মানুষ তাদের দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকুক!
আমি সত্যিই মনে করি, আমাদের আরও চিন্তাশীল হওয়া দরকার। ভাবা দরকার, নেতৃত্বের স্থানে কাকে দেখতে চাইছি। আর, এখন এই সময়টাই সবথেকে মোক্ষম সময়। দিস ইজ দ্য হাই টাইম! আমাদের জেগে ওঠা প্রয়োজন।
উইকিপিডিয়া-তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাবে সবথেকে বেশি ফিল্ম ব্যান করা হয়েছে…
হ্যাঁ, তবে পাঞ্জাবে যেসব ফিল্ম ব্যান করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশ বাকি দেশে বা আন্তর্জাতিকভাবে রিলিজ হয়েছে। কিন্তু ‘সতলুজ’-এর ক্ষেত্রে বাকি দেশ শুধু নয়, আন্তর্জাতিক রিলিজ আটকানোর জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছে। এটাও আইনি পথে করা যায় না। কারণ, পৃথিবীর সব দেশে ভারতের আইন লাগু হয় না। এই বেআইনিভাবে চাপ দেওয়াটাই ক্ষমতার অপব্যবহার।
আচ্ছা, আমার প্রশ্নটা ছিল, রাজনৈতিক বা চর্চাগত দিক থেকে ভারতের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাঞ্জাব কি বেশি সংবেদনশীল?
হ্যাঁ, চিরকালই তা-ই। পাঞ্জাবকে সবসময় উপেক্ষা করা হয়েছে। তাছাড়া, জায়গাটা সীমান্তবর্তী। সুতরাং, যে কোনও কারণে জাতীয় সুরক্ষা ঝুঁকির সম্মুখীন হবে, এরকম বলে দেওয়ার যথেষ্ট অজুহাত আছে। কিন্তু, একটা মামুলি কথা কারও মাথায় ঢোকে না যে, একটা সামান্য সিনেমা এত বড় এত শক্তিশালী রাষ্ট্রের সুরক্ষা নষ্ট করতে পারে না। একটা ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আমরা বহু লড়াইয়ে জিতেছি। তবুও যদি বলেন একটা শিল্পকর্ম এই দেশকে অসুরক্ষিত করছে, তার মানেই হল কোথাও না কোথাও নিজেদের মিলিটারি বা ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের দক্ষতা সম্বন্ধে সংশয় প্রকাশ করছেন। অর্থাৎ, এই যুক্তি দেওয়াটাই বোকামি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের আরও ভেবেচিন্তে কথা বলা দরকার; তারা অন্যান্য বিভাগকে খাটো করতে পারে না।
আপনাকে কোনও ব্যক্তিগত হুমকি ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে?
না, আমি সিনেমাটা শুধুমাত্র লিখেছি আর পরিচালনা করেছি। এটার স্বত্ব আমার কাছে নেই। তবে, যখন বিষয়টা কোর্টে ছিল, তখন প্রোডিউসারের কাছে একটা ফোন এসেছিল। সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই না করে বিষয়টা মিটিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। মানে, প্রোডিউসারকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কারণ, সিনেমাটা রিলিজ করার ক্ষমতা ওঁর হাতেই ছিল।
ফোনটা অজ্ঞাতনামা বা অজ্ঞাতপরিচয় ছিল?
প্রোডিউসার সেটা আমাকে বলেননি। তবে আন্দাজ করতে পারি, ফোনটা নিশ্চয়ই কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রক বা সিবিএফসি-র তরফ থেকেই ছিল।
একটা কথা বলি, এসবের পিছনে মূল কারণ হল এখন আমরা কেউ নিজের কাজ করছি না। নিজের দায়িত্ব পালন করছি না। প্রায় সকলেই ক্ষমতাধর পক্ষের ক্রীতদাস হয়ে গেছে। ভারতে সিবিএফসি তৈরি করার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বাক-স্বাধীনতা রক্ষা করা। সেটা ছিল একটা স্বতন্ত্র কাঠামো। ওদের কাজ ছিল গদির রং বদলানোর হিসেবে কাজ না করা। কিন্তু, এখন সিবিএফসি কাজ করে সরকারের নির্দেশে। আর, সরকার নিজের পছন্দের ধারাবিবরণীকে কবজা করার জন্য ওটাকে কাজে লাগায়। এখন সিবিএফসি হয়ে গেছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সরকারের ‘ব্যাক-ডোর এন্ট্রি’। আপনার ফিল্ম সরকারের ‘প্রোপাগ্যান্ডা’-র বিরোধী হলে বা সেটাতে ইন্ধন না দিলে সবরকমভাবে চেষ্টা করা হবে যাতে সেটা কোনও দিন আলোর মুখ না দেখে।
কোনও ফিল্ম বানানোর আগে একজন ডিরেক্টর হিসেবে আপনার চিন্তা-ভাবনায় কী থাকে?
যতটা সম্ভব সৎভাবে কাহিনিটা বলতে চাই। ডিরেক্টর হিসেবে আমার ফিল্মের মাধ্যমে অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছতে চাই। দর্শককে আমার বিশ্বাস, প্রত্যয়, বা দর্শনগুলো বলতে চাই। আমার কাছে ফিল্মমেকিং হল দর্শক আর আমার মধ্যে একটা সেতু। সেই সেতুটা পেরিয়ে অডিয়েন্সের কাছে গিয়ে আমার কথাগুলো বলতে চাই। যদি আমার কাছে কিছুই বলার না থাকে, তাহলে ওই সেতুটা তৈরি করার কোনও কারণও থাকবে না। সুতরাং, প্রাথমিকভাবে চিন্তা করি এই নির্দিষ্ট ফিল্মটা কী বলতে চাইছে, বিষয়বস্তু কতটা প্রাসঙ্গিক, আর সেটা বলা কেন জরুরি।
সবকিছুর তুলনায় স্ক্রিপ্ট জিনিসটা আমার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আমি স্ক্রিপ্টের কথা শুনি। আমার মনে হয় স্ক্রিপ্ট একটা জলজ্যান্ত মানুষ। এক-একটা ভালো স্ক্রিপ্ট শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। সে আপনার সঙ্গে একটা সম্পর্কে পৌঁছতে চায়, যে সম্পর্কটা তৈরি হবে শুধুমাত্র তার শর্তে, তার আস্থায়। আর, সেই আস্থা অর্জনের একমাত্র রাস্তা হল বারবার তাকে পড়া। আপনি যতবার পড়বেন, যত বেশি পড়বেন— আপনার প্রতি স্ক্রিপ্টের আস্থা তত বাড়বে, সে তত তার গোপন গলিঘুঁজি আপনার কাছে উন্মুক্ত করবে। এটাই হল সম্পর্কের বন্ধন, সম্পর্কের সততা।
প্রোডিউসার হিসেবে আপনার চিন্তা-ভাবনায় কী থাকে?
স্টোরি আর স্ক্রিপ্ট। আমার ভূমিকা ডিরেক্টরের হোক বা প্রোডিউসারের— স্ক্রিপ্ট-ই আমার কাছে প্রথম ও শেষ কথা। একটা মালায়ালম ফিল্ম (‘Ullozhukku’) প্রোডিউস করেছিলাম, যেটার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলাম, ওটার কাহিনিটাই আমার চমৎকার লেগেছিল। কঙ্কনা-র (সেন শর্মা) ‘এ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ’ প্রোডিউস করেছিলাম, ওখানের দুনিয়াটা ছিল অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, সেই দুনিয়াটা সম্বন্ধে আমার কোনও ধারণা নেই, কিন্তু কাহিনিটা আমার মন জয় করেছিল।
অন্য অনেকের মতো আমিও মালায়ালম সিনেমার অনুরাগী। ভবিষ্যতে আর কোনও মালায়ালম ফিল্ম বানাতে চলেছেন?
এখনই বলতে পারছি না। এখনও জানি না। হয়তো এখন কোনও তেলুগু স্ক্রিপ্ট ভাল লাগবে, মনে হবে এই কাহিনিটা বলা দরকার। দুনিয়ার যে-কোনও প্রান্তের কোনও কাহিনি, কোনও স্ক্রিপ্ট পড়ে যদি মনে হয় এটা বানানো প্রয়োজন, তাহলে হয় প্রোডিউস করব, নইলে ডিরেকশন দেব। আমার নিজের ভূমিকা কী হবে, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রধান বিষয়টা হল সেই স্ক্রিপ্ট থেকে ফিল্ম বানানো প্রয়োজন কি না।
আমি আসলে সিনেমাটা ভালবাসি। প্রযোজনা, পরিচালনা, অভিনয়— এসব নিয়ে আলাদা করে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। কাহিনির আত্মাকে আমি ছুঁতে পারলে, আমার যথাসাধ্য দিয়ে চেষ্টা করি আর করব যেন সেটা পর্দা পর্যন্ত পৌঁছয়।

আপনার অভিজ্ঞতায় মালায়ালম সিনেমা আর হিন্দি সিনেমার মধ্যে কোনও তফাত মনে হয়েছে?
না, তেমন কিছু মনে হয়নি। দেখুন, এটা মনে হয় ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে হয়েছে, সারা বিশ্বে আমরা সবাই একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছি। তাছাড়া, ফিল্মের নিজস্ব একটা ভাষা আছে, যেটা বিশ্বজনীন। সংলাপের ভাষাটা হিন্দি হোক, বাংলা হোক, পাঞ্জাবি হোক— সেটা বড় কথা নয়। ফিল্মের ভাষার পাশাপাশি এখন প্রায় সব সিনেমাতেই সাবটাইটেল রয়েছে। সুতরাং, আলাদা করে কোনও ভাষার ওপর কোনও ফিল্মের নির্ভরশীল থাকার কথা নয়, যদি সেই কাহিনি বা স্ক্রিপ্ট আপনাকে টেনে রাখতে পারে।
আমার কাছে ‘রাত আকেলি হ্যায়’ বা ‘সতলুজ’ বা ‘এ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ’— এই সবগুলোই সমানভাবে ইন্টারেস্টিং! কারণ, এগুলোর কাহিনি আমাকে টেনেছে। অভিষেক চৌবে-র পরিচালনায় ‘সোনচিড়িয়া’-তে আমি সুপারভাইজিং প্রোডিউসার ছিলাম। ওখানে ছিল ছত্তিসগড়ি-বুন্দেলখণ্ডি ভাষা, যেটার কিছুই আমি বুঝি না।
‘সতলুজ’-এর পর নিজের পরিচালনায় কী বানাবেন ভাবছেন?
কয়েকটা বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। এই মুহূর্তে পাঞ্জাবের একজন প্রবাদপ্রতিম কবি, শিবকুমার বাটালভি-কে নিয়ে একটা বায়োপিক লিখছি। মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে তিনি মারা গেছিলেন। ওঁর জীবন তো একটা ইতিহাস বটেই, তাছাড়াও সাংঘাতিক প্রেম আছে, বিষাদ আছে! অনেকেই তাঁর কবিতা পড়েছে বা নাম শুনেছে, কিন্তু সেই ব্যক্তি-মানুষটাকে জানে না। আমি সেই কবির কাহিনিকে সকলের সামনে নিয়ে আসতে চেষ্টা করছি। এটা এখন আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি রয়েছে।
শিবকুমার বাটালভি-র চরিত্রে কে অভিনয় করবে, কিছু ভেবেছেন?
না, সত্যিই ভাবিনি। আমার মোবাইলের স্ক্রিনে ওঁর একটা ফোটোগ্রাফ আছে। আপাতত শুধুমাত্র ওটুকুই আমার লেখার প্রেরণা। পুরোটা লেখা হয়ে গেলে, আমি জানি, স্ক্রিপ্ট-ই সিদ্ধান্ত নেবে যে, কে তাঁর চরিত্রে কাজ করবে। লেখার আগেই যদি ভাবতে বসি কে কোন চরিত্র করবে, তাহলে লেখায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যাবে। আমি সেটা করতে চাই না।

পাঞ্জাবের এক বন্ধু আমাকে বলেছিল সম্প্রতি জনপ্রিয় ‘ম্যায়নুঁ বিদা করো…’ গানের কিছু অংশ আসলে শিবকুমারের লেখা থেকে নেওয়া…
হ্যাঁ, ওখানে ওঁর কবিতার লাইন ব্যবহার করা হয়েছে। ‘ম্যায়নুঁ বিদা করো’ নামে ওঁর একটা আস্ত বই আছে, কবিতার বই। ‘ইক কুড়ি, জিদা নাম মহব্বত, গুম হ্যায়…’ গানটা ওঁর লেখা। ‘আজ দিন চড়েয়া তেরে রং ওয়ার্গা…’ গানটাতেও ওঁর লেখা নেওয়া হয়েছে। সমস্যাটা হল অনেক নামীদামি লিরিসিস্ট ওঁকে ওঁর প্রাপ্য ক্রেডিট দেন না, লেখাগুলো চুরি করে নেন। ঠিক এই কারণেই আমি বলে দিয়েছি যে, শিবকুমার বাটালভি-র সব স্বত্ব এখন থেকে আমার কাছে আছে। এবার কারও হিম্মত হবে না ওঁর লেখা চুরি করার বা ভুলভাল ব্যবহার করার।
আমার কাছে স্বত্ব থাকা সত্ত্বেও, ‘সতলুজ’-এর জন্য ওঁর লেখা ব্যবহার করতে গিয়ে ওঁর পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। তাঁরা সানন্দে অনুমতি দিয়েছেন। ক্রেডিটে ওঁর নাম দিয়েছি। আরে ভাই, কেন শুধুমুধু কারও লেখা নিজের বলে চালাব? কেন ক্রেডিট দেব না? যখন বড়-বড় নামজাদা লেখক এরকম কাজ করে, তখন সত্যিই খারাপ লাগে!
‘সতলুজ’-এর সঙ্গে যা-যা হল, সেসব নিয়ে কোনও মনখারাপ আছে?
উঁহু, সেসব আমি কাটিয়ে ফেলেছি। এখন পরবর্তী কাজকর্মে সৎভাবে মন বসাতে চাই। আমাদের সরকার, আমাদের সিবিএফসি-কে অনেক ধন্যবাদ, তাদের কাজ সফল হয়েছে; সিনেমাটা সবজায়গায় সকলের কাছে পৌঁছে গেছে। আমি খুশি এই কাজটা মানুষ দেখেছে। একটাই আফসোস, প্রোডিউসারের টাকাটা ডুবে গেছে। তবে, ‘সতলুজ’-এর প্রোডিউসার রনি এতটাই বড় মনের মানুষ, যে, তিনি নিজেই আমাকে বলেছেন, ‘হানি, আমাদের লোকসান নিয়ে চিন্তা কোরো না! তুমি সিনেমাটা ভাল বানিয়েছ, আবার পরের সিনেমায় হাত দাও!’ আমি এত বছরে যত প্রোডিউসারের সঙ্গে কাজ করেছি, আমার মতে, তাদের মধ্যে অন্যতম চমৎকার হলেন রনি স্ক্রুওয়ালা আর রিতেশ সিধওয়ানি। আমি ওঁদের সঙ্গে আবার, বারবার কাজ করতে চাই।




