আগুনপাখি

Representative Image

‘ম্যায় কেয়া রেন্ডি হু? মেরে বারে মে গরমাগরম কহানি লিখেগা? যা শালা, ভাগ!’ প্রবল গরমে, প্রায় আটচল্লিশ ডিগ্রিতে মাথার ঘিলু পুড়ে কাঠ হয়ে গেছে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি কে কোথায় ছিটকে পড়ে গেছে, বুঝতে পারছি না। কাঁদার উপায় নেই, কারণ চোখে জল আসবে না। রোদের গরমে শুকিয়ে মরা নদী হয়ে গেছে। আমরা বজ্রাঘাতে পোড়া স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে। কেন থাকব না, বলুন? সামনে দণ্ডায়মান স্বয়ং ফুলন দেবী। একই বন্দুকে বাইশজনকে যে পর পর হত্যা করতে পারে, সেখানে আমি কে! কাত্তিক ঠাকুরের ইঁদুর হবার যোগ্যতাও আমার নেই। আমার এক পাশে সাংবাদিক দিব্যজ্যোতি বসু। সে আমার কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘তুই কাঁদার চেষ্টা করিস না। বহিনজি তোকে মারবে না। ইঁদুর-ছুঁচো মেরে রেকর্ড খারাপ করবে নাকি?’

তিরাশি সালের এক দগ্ধ দুপুর। আমাকে আর দিব্যকে ডেকে পাঠালেন ‘পরিবর্তন’ পত্রিকার সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর ঠান্ডা গলায়, আমাদের হাতে দিলে মৃত্যুদণ্ডের খসড়া। আমি ইংরেজিটা কম জানি বলে দিব্যই চিঠিটা পড়ল। এবং আমার কানে-কানে বলে উঠল, ‘তোর এলআইসি করা আছে?’ আমি বললাম, ‘না তো! এলআইসি থাকলে কী হত?’ ‘ইডিয়ট… আমি পরে বুঝিয়ে দেব।’ দিব্য কিছু বললে, আমি কিছু মনে করি না। ইকোনমিক্সে থার্ড হয়েছিল এমএ-তে। দিব্য বলল, ‘ঠিক আছে, এখন উঠি।’ ‘ফুলনের ব্যাকগ্রাউন্ডটা ভাল করে চেক করে নিয়ো।’ পার্থদা আদেশের সুরে বললেন।

‘তাহলে টিকিট কাটি?’

‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই! তুমি ক্যাশ থেকে টাকা তুলে নাও। আমি বলে দিচ্ছি।’

ততক্ষণে বুঝতে পারলাম, আমাদের তপ্ত উনুনে পোড়াবার চেষ্টা করছেন সম্পাদকমশাই। তবে ফুলনকে সামনে থেকে দেখব বলে মনের মধ্যে ঘড়ির টিকটিক শব্দ শুনতে পাচ্ছি। এটা হবে আমার দ্বিতীয় অভিযান। দেবী দর্শনের আগেও অবশ্য চম্বল ঘাঁটি আমি ঘুরে এসেছি। সেবার আমরা দুজন গিয়েছিলাম, কবি ও সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্ত আর আমি। হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা নেই।  

আরও পড়ুন: ফুলন দেবীকে নিয়ে সে-সময়ে তোলপাড় ছিল চম্বল! লিখছেন মৃদুল দাশগুপ্ত…

আমরা প্রথমে যাব ভূপাল। কিছু কাজ আছে। দেখা করতে হবে আইজি-র সঙ্গে, কারণ তিনি বাঙালি; এবং সম্পাদকের বন্ধু। সুতরাং ফুলনের সঙ্গে দেখা করা আমাদের কে আটকায়! এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, কিছুদিন আগেই চম্বল কি রানি ফুলন দেবী মধ্যপ্রদেশ পুলিশের কাছে আত্মসম্মান বজায় রেখে আত্মসমর্পণ করে। জানায়, মুঙ্গাওলির খোলা জেলে তাকে থাকতে দিতে হবে। গারদের ভিতরে সে থাকবে না। ওর দলের সদস্যদেরকেও একই জেলে রাখতে হবে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের পুলিশের কাছে বন্ধক আছে ফুলনের পরিবার। ফুলন মারাত্মক এক শর্ত দেয়, তার পরিবারকে মধ্যপ্রদেশে নিয়ে আসা হোক। ইউপি-র পুলিশমহল এক কথায় উড়িয়ে দেয় সে-শর্ত। কিন্তু ফুলনের গোঁ, যেভাবেই হোক তার পরিবারকে ইউপি পুলিশের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। তখন একটাই পথ, ফুলন-অপহরণ। সত্যি-সত্যিই তাই ঘটেছিল। ফুলনের পরিবারকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেখানে এমপি পুলিশের দক্ষ বাহিনী পাঠিয়ে হানা দিল। রীতিমতো গুলির লড়াই করে ফুলনকে গোয়ালিয়র জেলে রাখা হয়েছিল। অর্জুন সিং তখন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সারেন্ডার হল। ফুলন অস্ত্র সমর্পণ করল মুখ্যমন্ত্রীর চরণে। ‘অর্জুন সিং জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে মুখর হল গোয়ালিয়র।

বুন্দেলখণ্ডের রানি

সকালবেলা ঘরের ফোনটা ঝনঝন করে বেজে উঠল। এখানে আমাদের কে ফোন করবে? ফোনটা ঘুম-ঘুম চোখে ধরতে অপারেটরের গলা শুনলাম, ‘স্যার, আইজি-র অফিস থেকে ফোন এসেছিল স্যার। আপনাদের এখুনি আইজি-র অফিসে পৌঁছে যেতে বলেছে।’ কোনওরকমে দাঁত মেজেই আমরা রওনা হলাম আইজি-র অফিসে। বেয়ারা আমাদের বসতে বলে ভিতরে চলে গেল। আমার মনে ঝিলিক মেরে গেল একটা সম্ভাবনা। ফুলন হয়তো এখানেই আসছে আমাদের ইন্টারভিউ দিতে।

দিব্যর কানে-কানে এ-কথা বলতেই খেলাম এক ঝাপটা, ‘আশপাশে তাকিয়ে দেখ, প্যলিশের চোখমুখ কী সিরিয়াস!’ ঘরে ঢুকেই আইজি আমাদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‘ফুলনের সঙ্গে অ্যাপয়েনমেন্ট ক্যানসেল। ওর মেন্টর বাবা ঘনশ্যাম জেল ব্রেক করে পালিয়ে গেছে। তাই এই দেখা করার রাস্তা আপাতত বন্ধ। এখন কতদিন অপেক্ষা করতে হবে তার ঠিক নেই।’ আমরা আইজি-র পায়ে পড়ে বললাম, ‘খালি হাতে ফিরে গেলে আমাদের চাকরি চলে যাবে। বাবা ঘনশ্যামের খবরটা অন্তত আমাদের দিন না! আমরা একটু খোঁজখবর করি।’ আইজি সাহেব আমাদের করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু বলল, ‘তোমরা বুন্দেলখণ্ড জঙ্গলে খোঁজ নিতে পারো।’ আমরা বুন্দেলখণ্ড জঙ্গলের দিকে রওনা দিলাম।

কাহিনি আর দীর্ঘ করে লাভ নেই। দুর্গম বুন্দেলখণ্ড জঙ্গল-পাহাড় ছানবিন করেও করেও আমরা বাবা ঘনশ্যামের হদিশ পেলাম না। কিন্তু আমাদের হতাশ দিনগুলির মধ্যে ঝোড়ো বাতাসের মতো উড়ে এল একটা সুখবর। বাবা ঘনশ্যাম ধরা পড়ে গেছে। কী আনন্দ, কী আনন্দ! এবার আমরা নিশ্চয়ই ফুলনের দেখা পাব। গেলাম সেই বাঙালি আইজি-র অফিসে। তার পায়ে পড়ে গেলাম। আইজি বুঝলেন, তাঁকে তেল দেওয়ার প্রথম চেষ্টা। আমার অতিভক্তির কারণটা তিনি জানেন। না হেসে পারলেন না। আমার হাত ধরে তুলে বললেন, ‘থাক, আর তেল দিতে হবে না! কাল সকাল-সকাল তৈরি হয়ে গোয়ালিয়র জেলে যাবে। ওদের সব বলা আছে,  ফুলনকে বেশি বিরক্ত কোরো না। রেগে গেলে আমার কিচ্ছু করার নেই।’

পরদিন সকাল ন’টা। সারা গায়ে আগুন মেখে দাঁড়িয়ে আছি গোয়ালিয়র জেলগেটে। প্রবল অগ্নিপ্রপাতে প্রায় নগ্ন করে আমাদের ‘চেক’ করা হল। তারপর মিলল প্রবেশের অনুমতি। ঢুকে দেখি, একটা বিরাট অশ্বত্থ গাছের নীচে একটা বাঁধানো বেদির ওপর বসে আছে ফুলন। চিনতে পারা খুব সম্ভব নয়। কেননা সে পরে ছিল সাদা প্যান্ট ও দুই কাঁধে বকলস লাগানো সাদা সাফারি কোট। দিব্যর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভ্যাবলাকান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। রানি সাহেবা প্রায় পঞ্চাশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রোদ পোয়াচ্ছে। দিব্য আর আমি গুটিগুটি পায়ে রানিজির কাছে এগিয়ে গেলে ওই বাক্য, যা লেখার শুরুতেই বলেছি। কিন্তু পরমুহূর্তেই আমাদের দেখে সে করুণার চোখে তার লিভ-ইন পার্টনারের দিকে তাকিয়ে কী যেন বলল।

প্রেমিকের নাম মান সিং। সে আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল, ‘আপনারা বাঙালি?’ আমরা বিগলিত গলায় বললাম, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’ সে হেসে বলল, ‘বেঁচে গেছেন। ওই দিল্লি-বম্বেওয়ালারা ফুলনের নামে যাচ্ছেতাই লিখছে। কিন্তু কলকাত্তার কাগজে খারাপ কিছু বলেনি। আপনারা এতদূর থেকে এসেছেন!’

আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ, আমরা ফুলনের সব কথা শুনব।’

মান সিং বলে উঠল, ‘আমার কাছেই শুনতে হবে। ফুলনের দেহাতি হিন্দি তোমরা বুঝতে পারবে না।’

শুরু হল ফুলনচরিত। ফুলন বুন্দেলখণ্ডের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই জেদি ও স্বাধীনচেতা। কিন্তু পুরুষতন্ত্র তা নেবে কেন? ফুলনের বিয়ে হয়েছিল। বুন্দেলখণ্ডেই। স্বামী প্রচণ্ড রাগী ও নিষ্ঠুর, যা হয়তো বুন্দেলখন্ড বা চম্বলের রুক্ষ ভূমিরই দোষ। দিনের পর দিন অত্যাচারিত হতে-হতে একদিন রাতে ফুলন শ্বশুরবাড়ি থেকে পালায়। কিন্তু যাবে কোথায়? না, বরের বাড়িতে সে ফিরবে না। তাহলে কি বেহড়েই তাকে থাকতে হবে! কান্না কাকে বলে সে ভুলে গেছে। সেদিন ছিল চাঁদনি রাত। বেহড়ের পথ সে চিনতে পারছে। কিন্তু যাবে কোথায়! সে ঠিক করে, সেখানেই সে থেকে যাবে। যতদিন বাঁচে। ক্লান্ত দেহে ফুলন ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু আশ্চর্য সমাপতন! ঠিক সেই মুহূর্তে ডাকু বাবুরাম গুর্জরের দলের বাগীরা ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল। রাস্তার মধ্যে একটি মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখে তারা ঠিক করে, তাকে বেঁধে বাবুরামের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

পরের দৃশ্য, বাবুরামের সামনে একটা গাছে বাঁধা ফুলন। বাবুরাম তার কাছে এসে চোখের দিকে তাকায়। দেখে, আগুন জ্বলছে। বাবুরাম এ-চাহনি চেনে। বোঝে, এত তাড়াতাড়ি একে বশে আনা যাবে না। সময় লাগবে। খেলিয়ে তুলতে হবে ফুলনের নধর দেহটাকে। ফুলনও এই কথাটা জানত। ফলে, বাবুরামের কাছে আত্মসমর্পণ করল সে।

ফুলন বায়না ধরল সে বন্দুক চালানো শিখবে। বাবুরাম প্রথমে মেনে নিয়েছিল এই বায়না। কিন্তু দলের মধ্যে তখন বাবুরামের প্রতি তৈরি হচ্ছিল বিদ্বেষ। বাবুরামের দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বিক্রম সিং মাল্লাহ-কে গোপনে উসকাচ্ছিল বিক্রম। একদিন হঠাৎ বিক্রমের বন্দুক গর্জে উঠল। এক গুলিতেই শেষ বাবুরামের রাজত্ব। শুরু হল আরেক প্রেমপর্ব। ফুলন আর বিক্রম একসঙ্গে অপারেশনে যেত, এমনকী পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারেও ফুলন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল। বিক্রম ফুলনকে বন্দুক চালানো শিখিয়েছিল যত্ন করে।

কয়েক বছর ফুলনকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে তাঁর ধর্ষকদের থেকে

একদিন মধ্যরাতে গুর্জরদের আরেক ডাকাতদল হানা দিল বিক্রমের ডেরায়। গুলি করে মারল বিক্রমকে এবং ফুলনকে বেঁধে নিয়ে গেল তাদের গ্রামে। কুখ্যাত বেহমাইতে। ঘটতে থাকল সাতদিনের ধর্ষণকাণ্ড। ভেবে দেখুন, পর পর সাতদিন। বেহমাই গ্রামে এমন একজনও পুরুষ ছিল না, যে ফুলনকে ভোগ করেনি। কিন্তু ফুলন কি এভাবে পুরুষের ভোগের নৈবেদ্য হতে জন্মেছিল? না। সুতরাং, সে আবার পালাল। প্রায় সব দল থেকে তাড়া খেয়ে সে এসে দাঁড়াল সেই বাবা ঘনশ্যামের কাছে। ঘনশ্যাম ফুলনকে আশ্রয় দিল। এবং কথা দিল, এই প্রতিশোধ তারও। বেহমাই ছিল ঠাকুর অধ্যুষিত। উঁচু জাত। ঘনশ্যাম জাতে মাল্লহার। নীচু জাত। বিক্রমের জাতভাই। তার হত্যার শোধ নিতে তার কোনও আপত্তি নেই। যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হল। ঘনশ্যাম শুধু একটাই শর্ত দিয়েছিল যে, তার দলের কোনও বাগী সে ফুলনকে দিতে পারবে না, কেননা তার নিজের দল তখন দুর্বল হয়ে গেছে। তবু ফুলনকে অস্ত্র আর কিছু নতুন সদস্য দিল সৈনিক হিসেবে।

১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। পৃথিবীর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় বেহমাই গ্রামে ঝটিকার মতো হানা দিল ফুলন দেবী। সমস্ত পালাবার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল তার দল। ফুলন প্রত্যেক বাড়ি থেকে বন্দুকের ডগায় বার করে আনল প্রতিটি পুরুষকে। মোট ২২ জন ধর্ষণকারী। তারপর এক-একজনের বুকে এঁকে দিল বুলেট হোল।

প্রেমিকের নাম মান সিং। সে আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল, ‘আপনারা বাঙালি?’ আমরা বিগলিত গলায় বললাম, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’ সে হেসে বলল, ‘বেঁচে গেছেন। ওই দিল্লি-বম্বেওয়ালারা ফুলনের নামে যাচ্ছেতাই লিখছে। কিন্তু কলকাত্তার কাগজে খারাপ কিছু বলেনি। আপনারা এতদূর থেকে এসেছেন!’

যথারীতি পরের কয়েক বছর ফুলনকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে কুকুরের মতো। বেহড়ে-বেহড়ে। প্রচুর এনকাউন্টার হয়েছে পুলিশের সঙ্গে। তবে ধরা কিন্তু ফুলন পড়েনি। ফুলনের কাছেই দূত পাঠিয়ে-পাঠিয়ে সরকার তাকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব রাখে। ফুলনের একটি শর্ত ছিল, সে উত্তরপ্রদেশের পুলিশের কাছে সারেন্ডার করবে না। কারণ ইউপি-র পুলিশে সব চাইতে প্রভাবশালী লবি হচ্ছে ঠাকুর-সম্প্রদায়।। যেহেতু বেহমাই গ্রামে যাদের ফুলন হত্যা করেছে তারা প্রায় সকলেই ঠাকুর, ফুলন নিশ্চিত জানত এই ঠাকুররা তাকে বাঁচতে দেবে না। ফেক এনকাউন্টারে মারবেই। যাই হোক, পরে মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে সারেন্ডার করে সে।

কাহিনি এখানে শেষ নয়। উত্তরপ্রদেশে যখন সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় এল, তখন ফুলনের উপর থেকে সব অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, তাকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয় মির্জাপুর থেকে। বিরাট ব্যবধানে জয়লাভ করে ফুলন দেবী। ফুলনকে দেখে মনে হয়েছিল, ওর নাম ফিনিক্স পাখি দেওয়া উচিত। বার বার উড়তে-উড়তে ডানা থেকে আগুন বার করা। জন্ম দেওয়া আরও ফিনিক্স পাখির।

ফিনিক্স পাখির মৃত্যু নেই, জানি। ২০০১ সালের ২৫ জুলাই, দিল্লিতে তার সরকারি ভবনের সামনে কাক-ডাকা ভোরে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এখনও আসামি ধরা পড়েনি। ফুলনের সারাটা জীবন ভাল করে দেখলে বোঝা যায়, পৃথিবীটা আনপ্রেডিক্টেবল ছাড়া আর কিছুই নয়!