নায়িকা সংবাদ
‘হোয়াই ডাজ দ্য সান গো অন শাইনিং?
হোয়াই ডাজ দ্য সি রাশ টু শোর?
ডোন্ট দে নো ইটস দি এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড?
কজ ইউ ডোন্ট লাভ মি এনিমোর…’
স্কিটার ডেভিসের এই গানটা সারা সকাল বাড়িতে বেজে যাচ্ছে। সুজানা (উইনোনা রাইডার) এতক্ষণ বাড়িতে ছিল না। সে রাস্তাঘাট, সমুদ্রতট ঘুরে বাড়িতে ফিরেছে যখন, দেখছে লিসা (অ্যাঞ্জেলিনা জোলি) খাবার টেবিলের সামনে বসে আছে, সানগ্লাস পরে বিরক্তিকর মুখে। লিসা চিৎকার করে এই গান সারাদিন কেন বাজছে, জানবার চেষ্টা করছে। তারা দু’জনেই উপরে তাকিয়ে আছে। আসলে উপরের ঘরে ডেইজি (ব্রিটানি মার্ফি) আছে। এটা তারই বাড়ি। গতরাতে সুজানা আর লিসা, ক্লেমুর মানসিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এখানে এসেছে। ক্লেমুরে ডেইজিও কিছু দিন আগে অবধি ছিল। গত রাতে লিসার সঙ্গে ডেইজির কথাকাটাকাটি হয়েছে। লিসা কটুকথায়, বিশেষত শিশুবেলায়— ডেইজির নিজের বাবার দ্বারা যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটাও তুলে ধরেছে। এখন ডেইজি কোনও সাড়া দিচ্ছে না।
সুজানা খুব সন্তর্পণে একটা-একটা করে সিঁড়ি চড়তে থাকল। সিঁড়ির শেষভাগে ডেইজির বেড়ালটা বসে আছে। ডেইজির ঘরে ঢুকে সুজানা লক্ষ করল— একটা লংপ্লেয়িং মেশিনে গানটা চলছে। একবার বন্ধ হচ্ছে, আবারও চলছে। কিন্তু ডেইজি কোথায়? সুজানা বিচলিত হল। সারা ঘর খুঁজে সে দেখল, বেড়ালটা বাথরুমের দরজার সামনে গিয়ে বসেছে। সেই দরজা খুলে সুজানা ভীষণ রকম ভয় পেল। সে চিৎকার করে উঠল। তার চোখের সামনে— ডেইজি গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। নিজের দুটো কবজিও কেটে ফেলেছে সে। সেখান থেকে রক্ত ঝরঝর করে পড়ে, এখন শুকিয়ে গেছে। ডেইজি কখন মারা গেছে, সুজানা বা লিসা কেউই জানে না; হয়তো বেড়ালটা জানত। ডেইজির মৃত্যু সুজানাকে যতটা ভেঙে দেয়, সে আরও ছিন্নভিন্ন হয় ঠিক এর পরে লিসার ব্যবহারে। লিসা, ডেইজির মৃত্যুতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে, ডেইজির জামার পকেট, তার ঘরবাড়ি সমস্ত তন্ন-তন্ন করে খুঁজতে থাকে, যদি কোথাও টাকা পাওয়া যায়। সুজানার উপলব্ধি হয় যে, সে লিসার মতো আর কোনওদিন হতে চাইবে না। এত হৃদয়হীন মানুষ তার পক্ষে হওয়া সম্ভব নয়। সে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে এবং ক্লেমুরে ফিরে যায় ডেইজির বেড়ালটাকে সঙ্গে নিয়ে।
কিন্তু লিসা এমন ব্যবহার করল কেন? আসলে, লিসা একজন সোশিওপ্যাথ। অসামাজিকতা তার মানসিক ব্যাধি। কোনও সামাজিক কাজকর্ম, আবহ তাকে বিচলিত করতে পারে না। সে সব সময়ে চায়, তথাকথিত সমাজের সমস্ত নিয়ম ভেঙে, অন্য কিছু করবে। সে সামাজিক প্রাণী হয়ে উঠতে চায় না। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, ‘গার্ল ইন্টারাপ্টেড’ ছবিতে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এই লিসা চরিত্রে অভিনয় করে, ২০০০ সালের অস্কারে শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।


তখনকার দিনের মিডিয়া, অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বহু বছর লিসা চরিত্র থেকে বেরতে দেয়নি। অ্যাঞ্জেলিনার নিজের জীবনের কিছু ঘটনা তুলে ধরে, তারা প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে, অ্যাঞ্জেলিনা নিজেও একজন অসামাজিক ব্যক্তিত্বের মানুষ। কারণ, এই অস্কার পুরস্কার নিতে গিয়ে, অ্যাঞ্জেলিনা তাঁর নিজের সহোদর ভাই জেমসকে ঠোঁটে চুমু খেয়েছিলেন! জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিজেকে আহত করেন মাঝে-মাঝে তার সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন ধরনের ছুরির মাধ্যমে। সারা শরীরে তিনি ট্যাটু করেন ব্যথা পাওয়ার জন্যে।

ততদিনে, তিনি অনেকগুলো বিয়ে করেছেন এবং কেরিয়ারের গোড়া থেকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন— তাঁর উভকামিতার কথা। অভিনেত্রী জেনি শিমিজুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তিনি কখনও আড়াল করেননি। শুধু তাই নয়, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— নারী এবং পুরুষ- দু’ধরনের ভক্তদের কাছেই এত জনপ্রিয় হতে তাঁর কেমন লাগে, তখন তিনি নির্দ্বিধায় জানিয়েছিলেন, ‘খুব ভাল। কারণ, নারী ও পুরুষ- দু’জনকেই আমি ভালবাসি।’ মনে করে দেখতে হবে, সেটা কিন্তু নয়ের দশকের শেষ দিক। সারা পৃথিবী জুড়ে যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের উপরে যথেষ্ট কড়াকড়ি আছে তখনও, এবং প্রত্যেককেই ধরে নেওয়া হত তথাকথিত অসামাজিক মানুষ হিসেবে। অ্যাঞ্জেলিনা সেই সমস্ত হিংসা-হেনস্থাকে ভয় তো করেনইনি, বরং নিশ্চুপ থেকে কেরিয়ার সুরক্ষিত করার পথেও হাঁটেননি। তিনি নিজে যা, সেটাই সবার কাছে প্রকাশ করেছিলেন। এই সাহস অ্যাঞ্জেলিনা পেয়েছিলেন কোথা থেকে?
মা, অভিনেত্রী মার্সেলিন বার্ট্রান্ড এবং বাবা বিখ্যাত অভিনেতা জন ভয়েটের বিচ্ছেদ হয়ে যায় যখন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বয়স দুই। আমেরিকার সামাজিক আবহে দেখলে, পিতামাতার বিচ্ছেদ তখন খুব বিরল কোনও ঘটনা ছিল না। অ্যাঞ্জেলিনা এবং তাঁর ভাই জেমস, মায়ের কাছেই থাকতেন। মা তাঁর অভিনয়-জীবন পরিত্যাগ করে, দুই ছেলেমেয়েকে বড় করতে মনোনিবেশ করেন। বাবা জন ভয়েটের সঙ্গে মায়ের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সম্পর্ক মধুর হয়নি। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর অভিনয়ে আসার ইচ্ছা বাবার অভিনয় দেখে তৈরি হয়নি। আমেরিকার ছোট শহরে তাঁদের দুই ভাই-বোনকে নিয়ে মা মাঝে-মাঝে এলাকার সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যেতেন। সেই থেকে তাঁর অভিনয়ের প্রতি ভালবাসা। অভিনয় করতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
ভুললে চলবে না, মার্সেলিন বার্ট্র্যান্ড নিজে একজন প্রশিক্ষিত অভিনেত্রী ছিলেন এবং লি স্ট্রেসবার্গ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেছিলেন। প্রথাগত স্কুলে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নিজেকে মানাতে পারেননি। তার কারণ, সেখানে বিভিন্ন উচ্চশ্রেণির বাচ্চারা অ্যাঞ্জেলিনাকে উত্যক্ত করত, তাঁর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাঁর রোগা চেহারার জন্যে। সেই স্কুলে অ্যাঞ্জেলিনা তাই বেশিদিন টিকতে পারেননি। অন্য স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছিল। সেখান থেকে অভিনয় শিক্ষার জন্যে লি স্ট্রেসবার্গ ইনস্টিটিউটে। কিন্তু সেই যে অসামাজিক ব্যবহার, সেই ব্যাধি তাঁকে ছাড়েনি। বাড়ি ছেড়ে, এক সম্পর্ক থেকে অন্য সম্পর্কে যেতে-যেতে, নিজেকে ক্রমাগত আহত করতে-করতে তিনি যখন কুড়ি বছরের দোরগোড়ায় এসে উপস্থিত হন, ততদিনে পৃথিবীতে এমন কোন ড্রাগ ছিল না, যা তাঁর সেবন করতে বাকি থেকে গেছে। তবে ব্যক্তিগত জীবন যতই ভাঙাচোরা হোক, ক্যামেরার সামনে যতবার তিনি দাঁড়াতেন, চরিত্রের মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করতেন যে, সেই চরিত্র ভীষণভাবে জীবন্ত হয়ে উঠত।
অস্কার পুরস্কার পাওয়ার পর, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এক নতুন অবতারে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন। যে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে স্কুলে পড়তে তাঁর রোগা, অ্যানারক্সিক চেহারার জন্য অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছিল, সেই অ্যাঞ্জেলিনা, অ্যাকশন হিরোইনের চরিত্রে ভীষণভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন। ‘লারা ক্রাফট টুম্ব রেইডার’ (২০০১), ‘ওয়ান্টেড’(২০০৮), ‘সল্ট’ (২০১০) কিংবা ‘কুংফু পান্ডা’ (২০০৮)-তে কণ্ঠনিয়োগ- প্রতিটা চরিত্রে বোঝা যায় যে, এই নারী বিদ্রোহী, এই নারী সংগ্রামী। শোনা যায়, বিভিন্ন স্টান্ট তিনি পুরুষ অভিনেতাদের মতনই ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে কারও সাহায্য ছাড়া একাকী করতেন। নিজেকে কী করে বদলে ফেলতে হয়, তা অ্যাঞ্জেলিনা দেখিয়েছিলেন। অ্যানারোক্সিয়া থেকে নিজেকে স্বাস্থ্যবতী অ্যাকশন হিরোইনে পরিণত করেছিলেন। ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ (২০০৫)-এও তাঁর অ্যাকশন দেখবার মতো। একাধারে বন্দুক চালাচ্ছেন, মার্শাল আর্টস করছেন আবার ছুরিও চালাচ্ছেন।



কিন্তু এই অ্যাকশন হিরোইন হয়ে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছলেও, অভিনয়ের যে সাজুয্য, তা তিনি ভুলে যাচ্ছেন তেমন একেবারেই নয়। ক্লিন্ট ইস্টউড পরিচালিত ‘চেঞ্জেলিং’ (২০০৮) ছবিতে, মাইকেল উইন্টারবটম পরিচালিত ‘মাইটি হার্ট’ (২০০৭)-এ, ‘অরিজিনাল সিন’ (২০০১), ‘অ্যালেক্সান্ডার’ (২০০৪) এবং আরও কিছু ছবিতে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির অভিনয়ের যে গভীরতা, সেটা খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ব্যক্তিগত জীবন এবং সিনেমা জীবন অনেক সময়ে এক হয়ে গিয়েছিল, তা ঠিক। জীবনের প্রথম দিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সূত্র ধরে যে-অসামাজিক চরিত্র চিত্রণ তাঁকে করতে দেওয়া হত, কেরিয়ারের পরের দিকে এসে তিনি একশো আশি ডিগ্রি বদলে, একটি বিশেষ সত্তার উন্মোচন করলেন তাঁর অভিনয়ে। সেটি হল— মাতৃত্ব। অ্যাঞ্জেলিনা ততদিনে পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, একজন নারী শারীরিক ভাবে যাঁর গর্ভবতী হবার অসুবিধা নেই, তিনি কীভাবে সন্তান দত্তকের মতন উজ্জ্বল উদ্যোগে শামিল হন। পৃথিবীর নানা প্রান্ত, বিশেষত বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে তিনি সন্তান দত্তক নিয়েছিলেন এবং ব্র্যাড পিটকে বিয়ে করবার পরে, তাঁদের একত্রের সন্তানও হয়েছিল। মাতৃচরিত্রের বিস্তার অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাঁর ‘ম্যালফিসেন্ট’ (২০১৪, ২০১৯) ঘরানার ছবিগুলোর মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করেছেন।



সেখানে আমরা দেখি, একজন তথাকথিত রাক্ষুসে পরী একটি মানব শিশুকন্যার প্রতি মাতৃত্ব অনুভব শুধু করে না, সারাজীবন তাকে আগলে রাখে। ক্যুইয়র মানুষদের মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব নিয়ে সমাজ বহু সময়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। ক্যুইয়র বলে যেন তাদের মাতা-পিতা হবার যোগ্যতা থাকতে নেই। কিন্তু মাতৃত্বের জন্য যে বিয়ে, নারীত্ব, যৌনতা, গর্ভ কিছুরই প্রয়োজন পড়ে না, কেবলমাত্র টান ও আবেগের দরকার, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাঁর জীবন এবং সিনেমা শিল্পের মধ্যে দিয়ে বিসমতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে তা বারবার প্রমাণ করেছেন। সমাজের নিয়ম-না-মানা সেই অসামাজিক মেয়েটা, মাতৃত্বের প্রেমে পড়ে, নিজের মতো করে এক পরিবার ও সমাজ গড়ে নিয়েছেন। তিনি আজ ছ’টি সন্তানের গর্বিত জননী।
কেরিয়ারের প্রথম দিন থেকে উভকামী সত্তার কথা, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কখনও লুকিয়ে রাখেননি। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, তাঁর সন্তানেরা যখন তাঁদের ভিন্নযৌনতার কথা প্রকাশ করেছেন, তিনি তাঁদেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন। যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের মধ্যে সবথেকে বেশি সংখ্যায় যাঁরা অথচ সবথেকে বেশি যে মানুষগুলোকে ভুল বোঝা হয়, তাঁরা উভকামী মানুষ। সকলে মনে করেন, উভকামী মানুষরা বোধহয় সুযোগ সন্ধানী। যেদিকে চান, সেদিকেই চলে যেতে পারেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাঁর খোলামেলা যৌনতা প্রকাশের মাধ্যমে, বিশেষত উভকামী মানুষ বিষয়ে সমাজে একটি সদর্থক ধারণা প্রচলিত করেছেন।
মাতৃত্বের জন্য যে বিয়ে, নারীত্ব, যৌনতা, গর্ভ কিছুরই প্রয়োজন পড়ে না, কেবলমাত্র টান ও আবেগের দরকার, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাঁর জীবন এবং সিনেমা শিল্পের মধ্যে দিয়ে বিসমতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে তা বারবার প্রমাণ করেছেন। সমাজের নিয়ম-না-মানা সেই অসামাজিক মেয়েটা, মাতৃত্বের প্রেমে পড়ে, নিজের মতো করে এক পরিবার ও সমাজ গড়ে নিয়েছেন।
হলিউডে সব থেকে বেশি বেতন নেওয়া অভিনেত্রীদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ছাড়া আরও অনেকে আছেন— জুলিয়া রবার্টস, সান্দ্রা বুলক, মার্গট রবি, ক্যামেরন ডিয়াজ। কিন্তু অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিশেষত্ব এখানেই যে, তিনি শুধুমাত্র পুরুষের সমান বেতনের দাবি করেননি, পাশাপাশি তাঁর অভিনীত চরিত্ররা বেশিরভাগ সময়ে পুরুষ চরিত্রদের হারিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাঁর পরেও নারীত্বের এক চরমশীর্ষ হিসেবে, তিনি মাতৃত্বের নতুন সংজ্ঞা নির্মাণ করেছেন।
জাতিসংঘের সঙ্গে তাঁর মতো এত ওতপ্রোতভাবে কাজ কোনও অভিনেত্রী করেননি। অভিনয়ের ছাড়াও তিনি এক সফল চিত্রপরিচালক, যে-শিল্পে আমেরিকাতেও মেয়েদের উপস্থিতিও হাতে-গোনা। জুন মাস ‘গর্বের মাস’। ১৯৬৯ সালে নিউইয়র্ক শহরে স্টোনওয়াল ইন পানশালায়, এলজিবিটিকিউআইএ++++ মানুষদের বেআইনি গ্রেপ্তারির পর, সেখানকার যৌনসংখ্যালঘু মানুষ প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন এবং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে, যৌনতা আসলে একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা; এর ভিত্তিতে কখনও কোনও সামাজিক অসাম্য থাকতে পারে না। আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজও সেই লড়াই লড়ছেন, এমনকী আমাদের স্বপ্নের নায়ক-নায়িকারাও। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তেমনই একজন।



