কয়েকটি কবিতা
১
স্মৃতি তো সহজ নয়, লেগে আছে সাবানের মতো।
শরীরে সুগন্ধ তারই, সে-কথা তুমিও কিছু জানো।
অথচ মুঠোয় নিলে পিছলে যায়, খুলে যায় ক্ষত…
সময় আঘাত যদি হতে পারে, জীবন তো স্নানও।
২
তোমার আগ্রহরাশি বেলুনের সঙ্গে আজও বাঁধা
উড়ে যেতে পেলে যেন বাঁচে, তবু বন্দি সে মুঠোয়।
ভাসমান অবস্থায় এ-শহর স্বপ্নের ইরাদা
মৃত্যুর পরের দিন ঘুমেরা নিজের হাত ধোয়…
৩
নুন কিছু বেশিক্ষণ রোদে ফেলে রেখেছিলে তুমি।
এখন চোখের জল হয়ে আছে, ফিরে নাও তাকে।
কত-না বছর ধরে বৃষ্টিহীন এই মরুভূমি—
তার পাশে ব’সে দ্যাখো, এই কান্না মানায় তোমাকে।
৪
পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে
শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি
সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…
প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।
৫
না-মারলে সকলেই চাবুককে তুলি বলে ভাবে।
মারার পরের লাল রক্তরং শরীরে ছড়ায়…
মানুষ শাসন করে শিল্পে নয়, নেহাত স্বভাবে
পিকাসো ফুটে ওঠেন প্রতিদিন, ঘোড়াটির গায়ে।
৬
তুমি এসো, ধাক্কা দাও, এই হিংসা চরিতার্থ করো
আমিও গড়িয়ে পড়ি পাহাড়ের চূড়া থেকে খাদে…
কিছু পাখি বাকি থাকে এরকম ঘটনার পরও
পরবর্তী গ্রীষ্মে তারা নীরবতা নিয়ে গান বাঁধে।
৭
সাহসে কুলোয় বলে তাকিয়েছি ফুলেদের দিকে।
সুন্দর অসহ্য হয়, বেশিক্ষণ পেলে কাছাকাছি।
বাজারে বসেছে মেলা, কারা নিয়ে চলেছে বন্দিকে…
ইদানীং ফুল দেখলে মনে হয়, কবরেই আছি।
৮
তর্কের খাতিরে আমি মেনে নিই, তুমিই নির্ভুল।
খাতিরের তর্কে তুমি ডেকে আনো আমাকে আবার…
বাতাস ছড়ায় অগ্নি, হাওয়া এসে ভেঙে দেয় চুল
এতবার জেতো, তবু, শান্তি দেখি হয় না তোমার।




