
স্থাপত্যের অন্দরে
‘১৯৪৯-৫০ সালে চলচ্চিত্রে ধারণ করা বাংলার কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও বর্তমান সময়ে সেগুলির চিহ্নিতকরণ— চলচ্চিত্র-নির্মাণের প্রেক্ষিতে তো বটেই, আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানের পট-পরিবর্তন বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।’

‘১৯৪৯-৫০ সালে চলচ্চিত্রে ধারণ করা বাংলার কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও বর্তমান সময়ে সেগুলির চিহ্নিতকরণ— চলচ্চিত্র-নির্মাণের প্রেক্ষিতে তো বটেই, আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানের পট-পরিবর্তন বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।’

‘যাঁরা তাঁর বিরোধী, যাঁরা তাঁর স্বপক্ষে— সকলেই জানেন যে, গোদার প্রতিভা না চালাকি এই প্রশ্ন আজ অবান্তর। পৌত্তলিক ও নাস্তিক, উভয় পক্ষই মেনে নিয়েছেন গোদার আর নেহাত চলচ্চিত্র-স্রষ্টা নন, বরং বিশ শতকের ইতিহাসে একটি সাংস্কৃতিক গ্রাফিত্তি।’
গোদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ নিবন্ধ…

আরও অজস্র সম্ভারের মধ্যে উত্তমকুমারের জন্মকুণ্ডলী যেমন আছে, তেমনই গৌরীদেবীকে লেখা (কোন সময়ের, তা স্পষ্ট নয়) একরাশ চিঠিতে ক্ষমাপ্রার্থনা ও প্রেমের সে আশ্চর্য এক মিশেল! কোনও চিঠি আবার প্রোডাকশন হাউজের লেটারহেডে লেখা। ‘নায়ক’-এর পর সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে বার্লিনে গিয়ে বলছেন, ‘আর ভালো লাগছে না। সারাদিন খালি ছবি দেখা, পার্টীতে যাওয়া, মদ খাওয়া। আর ভালো লাগছে না! সত্যিই!’

‘কী হত যদি ‘শোলে’ নির্মিত হত আজকের দিনে? আজকের দর্শকও তো ভিন্ন। এ-দর্শক অনেকটা গঠিত ‘জেনারেশন জেড’দের নিয়ে। এদের মানসিকতা, চাহিদা, প্রযুক্তি-নির্ভরতা, রসবোধ, দুনিয়া সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টতই আলাদা।’
শোলে-র ৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ নিবন্ধ…

‘নতুন সহস্রাব্দে এসে শহুরে ভারতের চেহারা পাল্টে গেল। প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প, মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতি এবং বিশ্বায়িত অর্থনীতি নিয়ে এল নতুন প্রজন্মের গল্প, যেখানে প্রেম আর কেবল মিলনের গল্প নয়, বরং ভাঙন, প্রশ্ন, আত্মঅন্বেষণ ও ব্যক্তিগত সুখের সন্ধানের কাহিনি।’

‘এ-ছবিতে কুকুর মানে হতে পারে বকলশ ছিঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, সমাজ-সংসারের এবং নিজের ভাবমূর্তির তোয়াক্কা না করে স্বাদু খরগোশের ঘাড় মটকাবার সাহস, হতে পারে নিজের প্রকৃত কাজের (এখানে শিল্পসৃষ্টির) তাগিদের ডাক, হতে পারে সব ক’টাই।’

‘সমাজ মাধ্যমের তীব্র ক্ষমতার যুগে, একটা ‘কান্নাকাটি’র ভিডিও ভাইরাল করে দিতে পারলেই যারা পরে সিনেমাটা দেখতে যাবে, তারাও একই আবেগের মধ্যে দিয়ে যাবে। মানুষের যুক্তিবুদ্ধি কাজ করবে না।’

‘সত্যি অর্থে আয়নায় মুখ দেখলে বাঙালির জাতিসত্তায় যা উঠে আসে, তা হল বুদ্ধিমত্তার আত্মাভিমান। সত্যির অহংকার যদি সত্যির থেকে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আসল সত্যি ভস্মীভূত হয়।’

‘সিনেমা ও উপন্যাস মিলিয়ে আমরা দু’রকমের কারণে ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ আসা দেখতে পাব; আপাতভাবে দুটো আলাদা হলেও, শেষপর্যন্ত দুই-ই গিয়ে দাঁড়ায় ছেড়ে আসার যন্ত্রনায়, যার মূলে রয়েছে ভয়, আতঙ্ক।’

‘বাংলা সিনেমার ইতিহাসে না-হওয়া ছবি, ইন্ডাস্ট্রির মনের ছবি দেখায়। একেকজন পরিচালকের ভাবনার ইতিহাসটা দেখিয়ে দেয়। উত্তমকুমারকে নানা কাহিনির নানা চরিত্রে অভিনয় করানোর এই ভাবনাগুলো মহানায়কের অভিনয়-ইতিহাসে নানা সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছিল।’

‘ছবির শেষে জানা যাবে, এই মূল্যায়নের আগে থেকেই রাষ্ট্র ঠিক করে দিয়েছে, কেউই পাশ করবে না (গত ছ’বছর ধরে কাউকে পাশ করানো হয়নি), কারণ নতুন মানুষ এলে তাকে লালন করার ক্ষমতা এই সমাজের এই মুহূর্তে নেই। শুধু নাগরিকেরা যাতে খুব হতাশ না হয়, তাই অভিনয় করতে হয়।’

‘‘এমারজেন্সি তুলে নেওয়ার পর কারাঞ্জিয়া নিজেই ‘ফিল্মফেয়ার’-এ লেখেন যে, চলচ্চিত্র বাণিজ্যের এতটাই ক্ষতি হয়ে গিয়েছে যে, তার মেরামত প্রায় অসম্ভব। এই সময়েই বলিউডে ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর আবির্ভাব, যা অনেকটাই ‘জরুরি অবস্থা’-র ফসল।’’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.