অস্ত্র, স্বাধীনতা, সমুদ্র
কোনও-কোনও মানুষের চোখে যেমন, তেমনই কোনও-কোনও শহরেও স্পষ্ট দেখা যায় দূরের হাতছানি। সামনে দাঁড়ালে দিশেহারা লাগে, উচাটন হয়। চট্টগ্রাম সেরকম একটা শহর। হতে পারে, বন্দর বলে এই উঁচু-উঁচু ভাবটা আছে বাতাসে। এখানে কর্ণফুলি নদী সমুদ্রে মেশার আগমুহূর্তে সমুদ্রের মতোই বিশাল। বাংলাদেশে শহরের বদলটা খুব বেশি নজরে পড়ে। সেই ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কতবার যে চট্টগ্রাম গেছি। একটা ঔপনিবেশিক মেজাজের ছিমছাম বন্দর-শহরকে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠতে দেখেছি। শেষবার তো চমক লেগে গেল কর্ণফুলির নিচ দিয়ে দীর্ঘ টানেল গাড়িতে পেরিয়ে। চিনের আর্থিক সাহায্যে ২০২৩-এ তৈরি হয়েছে এশিয়ার প্রথম আন্ডারওয়াটার রিভার টানেল বঙ্গবন্ধু টানেল। প্রায় দশ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে তিন কিলোমিটারের মতো জলের নিচে। ’৯৬ সালে প্রথম চট্টগামে পা রেখেছিলাম ঢাকার এক প্রবীণ সাংবাদিকের রেফারেন্স সঙ্গে নিয়ে। ফলে চট্টগামের সাংবাদিক মহলে বেজায় খাতির পেয়েছিলাম। আরও একটা কারণ ছিল অবশ্য, সে-আমলে বাংলাদেশে মহিলা সাংবাদিক খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু সেই আপ্যায়নের দৌলতে জঙ্গি তালিকায় নাম ওঠার উপক্রম হয়েছিল।
মনে আছে, কাজকর্মের শেষে সেই সন্ধেটা ফাঁকা। আগে থেকেই বলে রেখেছিল এক রিপোর্টার, তার দিদির বাড়ি চট্টগ্রাম শহরের কাছেই তৈলরদীপ গ্রামে নিয়ে যাবে আমাদের। সেখানে আজ রাতে মেজবান। চট্টগ্রামের মেজবান বিখ্যাত, মানে বিশাল ভোজসভা, আনন্দ অথবা দুঃখের ঘটনায় গোটা এলাকার কমপক্ষে হাজার লোককে ডেকে পাত পেড়ে খাওয়ানোর চল আছে। এই মেজবান কী উপলক্ষে ছিল, আজ আর মনে নেই। আমরা গিয়ে পৌঁছলাম সন্ধের পরে। বর্ধিষ্ণু গ্রাম, লক্ষ করে দেখলাম, অনেক পাকা বাড়ি, দোতলা-তিনতলা। আমরা যে বাড়িতে গেলাম, সেটাও বেশ সম্পন্ন, বোঝাই যায়। নয়তো সামিয়ানা খাটিয়ে হাজারদুয়েক লোককে মাংস-ভাত খাওয়ানো সম্ভব নয়। প্রথমে ফল-মিষ্টি খেলাম ঘরে বসেই। আমি বারবার বেসমেন্টের সিঁড়ির দিকে তাকাচ্ছি দেখে একজন মুরুব্বি বললেন, এই গ্রামে সব বাড়িতেই মাটির নিচে ঘর আছে, সেগুলো ধান বা অন্য জিনিসপত্র রাখার গুদাম। রাত যত বাড়ছে, তত দলে-দলে লোক আসছে মেজবানের আসরে। জিজ্ঞেস করে জানলাম, নিমন্ত্রণের তোয়াক্কা করে না কেউ। এই গ্রামের লোকের মুখ থেকে শুনে আশপাশের গ্রাম থেকেও আসতে পারে অচেনা মানুষ। যত লোক খাবে, তত দোয়া করবে, গৃহকর্তার পুণ্যের পারদ চড়বে। গুরদোয়ারার লঙ্গরের মতো, এক পঙক্তিতে বসে খেতে হবে। দেখে মনে হল, ঘণ্টাখানেকের আগে চান্স নেই। তখন রাত বারোটা। আমরা ঠিক করলাম, চাঁদনি রাতে শঙ্খ নদীর ধারে যাব। সত্যি, কী যে অসাধারণ সেই জ্যোৎস্নামাখা গ্রামের পথ, আর নদীর জলে তো হাজার ওয়াটের ঝিলিমিলি। গলা ছেড়ে গান ধরল কেউ, কথার থেকে অবশ্য নীরবতা ছিল বেশি, এত অপার্থিব সেই রাত।

বনলতা সেনের খোঁজে নাটোরে! পড়ুন আগের পর্ব…
ফিরে এসে লম্বা নড়বড়ে কাগজ পাতা টেবিলে গ্রামের লোকের সঙ্গে বসে খেলাম। আমার ভাত ও মাংসের পরিমাণ নিয়ে রীতিমতো রাগারাগি করলেন বন্ধুর দিদি। আশপাশে সবাই ওই একটা পদ দিয়েই অনেক ভাত খাচ্ছে দেখলাম, মেজবানের নিয়মই হল, যত চাইবে, তত দিতে হবে। খেতে খেতে রাত দুটো, আর ঘণ্টাতিনেক পর আমরা চট্টগামের বাস ধরব। গল্পে, গানে আর কিছুটা ঝিমুনিতে ভোরের আলো ফুটতে না-ফুটতেই চললাম হাইওয়ের দিকে। বাস এল, মোটামুটি ভর্তি লোকাল বাস যেমন হয়। বেশিরভাগ লোক চুলছে। আমরা ক’জন উঠে বসতেও পারিনি, পিছন থেকে একদল পুলিশ উঠে সিটের গায়ে লাঠির বাড়ি মারতে লাগল। পিছনে যে সেনারা আছে, তখনও দেখিনি। বলা বাহুল্য, আমিই একমাত্র বিদেশি। একজন অফিসার আমার পাসপোর্ট দেখতে চাইলেন। সঙ্গে প্রশ্ন, সারারাত কোথায় ছিলাম এবং কেন? তৈলরদ্বীপে মেজবান খাচ্ছিলাম শুনে রীতিমতো বকুনি দিলেন, ‘খবর রাখেন, এই জায়গাটা কী ঝামেলার? প্রায় এখানে জঙ্গি ধরা পড়ে।’ ততক্ষণে দেখি, পুলিশরা বাসের একদম শেষে টানা সিটে বসা জনাচারেক লোককে মারতে-মারতে নামাচ্ছে। সঙ্গে অকথ্য গালি। ব্যাপারটা কী? যা জানলাম অফিসারের থেকে, আমার চক্ষু চড়কগাছ। কাল রাতে নাকি বিশাল রেড হয়েছে তৈলরদ্বীপে, একটা বাড়ির বেসমেন্ট থেকে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তাদের তো গ্রেপ্তার করাই হয়েছে, এখন ধরা পড়ল রাতে পালিয়ে যাওয়া লোকাল এজেন্টরা। হাঁ করে দেখলাম, তাদের সিটের নিচ থেকে উদ্ধার হল চটের বস্তায় রাখা দেশি বন্দুক, পিস্তল।

চট্টগ্রাম শহরে এক ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার খুঁজতে গিয়ে কিন্তু আমার দম বেরিয়ে গেছিল। যে অস্ত্রাগারের সঙ্গে জড়িয়ে এক দুঃসাহসী বাঙালির নাম, মাস্টারদা সূর্য সেন। আসলে ভুলটা আমারই, ইতিহাস বোঝাতে যাওয়ার ভুল। মনে রাখা উচিত, দেশে-দেশে সময়ের সঙ্গে, ঘটনার অভিঘাতে বদলে যায় ইতিহাস। বাংলাদেশে তো আরও দ্রুত বদলায়! ‘আরে, স্বাধীনতা সংগামের অত বড় নায়কের নাম শোনেননি? চট্টগাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন পড়েননি?’ আমার বিস্ময়ের জবাবে মাথা চুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রটি বলল, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এমন কিছু তো পড়িনি।’
২০২৪ সালের আগস্টের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতার যুদ্ধ মানে ছিল মুক্তিযুদ্ধ। আর এখন তাঁরা বলেন, হাসিনা বিদায়ের দিন থেকে বাংলাদেশ প্রকৃত স্বাধীন হয়েছে। অতএব চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার খোঁজাটা আর একটু কঠিন হল। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার চট্টগাম গিয়ে দু-চারজনকে জিজ্ঞেস করে হদিশ না পেয়ে সময়ের অভাবে আর চেষ্টা করিনি। কিন্তু ২০০৭ সালে যখন গেলাম ট্রাভেল শোয়ের শুটিং-এ, তখন জানি খুঁজে বার করতেই হবে। চট্টগ্রাম দেখাব আর ইতিহাসের অস্ত্রাগার দেখাব না, বাঙালি দর্শক আমাকে ক্ষমা করবেন?
শেষ পর্যন্ত আমাকে অস্ত্রাগারের সন্ধান দিয়েছিলেন এক প্রৌঢ় বিহারি অটোচালক। চট্টগ্রামে এক-একটা এলাকায় প্রচুর বিহারি মুসলিম থাকেন কয়েক পুরুষ ধরে। ব্রিটিশ আমলে এঁদের পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন বন্দরে আর রেলে শ্রমিক হিসেবে। দেশভাগের সময় দাঙ্গার পর অনেকে চলে আসেন চট্টগামে ধর্মরক্ষার তাগিদে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় উর্দুভাষী এই বিহারীদের বড় অংশ পশ্চিম পাকিস্তানকে সমর্থন করায় স্বাধীনতার পর বিপদে পড়েন। তখন রেড ক্রস আর অন্য কয়েকটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এদের ত্রাণ শিবিরে রাখে। অনেক পরে ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ১৯৭১ সালের পর যাদের জন্ম, সবাই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবে। কিন্তু তারপরও এরা সমাজের মূল স্রোতে মিশে গেছেন, একথা ভাবাটা ভুল। এখনও আলাদাভাবে বিহারি পল্লিতেই থাকেন তাঁরা। অটোচালক দুঃখ করে বললেন, ‘আমাদের গালাগালি করে বাঙালিরা। কিন্তু আমরাও তো এখন বাঙালিই হয়ে গেছি।’ তিনি আমাকে খবর দিলেন, দামপাড়া পুলিশ লাইনে এখনও আছে ব্রিটিশের সেই অস্ত্রাগার, ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল গভীর রাতে যা প্রায় দখল করে ফেলেছিল মাস্টারদার ইন্ডিয়ান রিপাব্লিকান আর্মি। প্রায় বললাম এই কারণে যে, সম্ভবত বিপ্লবীরা জানতেন না যে, অস্ত্র আর গোলাবারুদ একজায়গায় থাকে না, আর সেজন্য তাঁরা আর্মস পেলেও অ্যামিউনিশন পাননি।


সেটা বড় কথা নয়, অস্ত্রাগারের সামনে দাঁড়িয়ে গায়ে কাঁটা দেবে না, এমন ভারতীয় বাঙালি খুজে পাবেন না। সে-রাতে এখানে দাঁড়িয়ে সূর্য সেনকে সামরিক কায়দায় স্যালুট জানিয়েছিল তাঁর দলের ৬৫ জন বিপ্লবী, মাস্টারদা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করেছিলেন। চারপাশ মুখরিত ছিল বন্দে মাতরম ধ্বনিতে।
মনে আছে, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সেবার অনুমতি জোগাড় করেছিলাম অস্ত্রাগারের ভেতরে শুটিং করার। কিন্তু কাগজ হাতে পাওয়ার পর পুলিশের বড়কর্তা এত সহযোগিতা করেছিলেন, বলার নয়। এরপর অনেক বছর ধরে নামী-অনামী বহু লোককে দেখাতে নিয়ে গেছি অস্ত্রাগার। শেষবার ২০২৪-এর জুলাইতে এক বন্ধুকে নিয়ে যখন গেলাম, একেবারে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট। গাড়ির আগে-আগে মোটরসাইকেলে এক তরুণ অফিসার, আগাগোড়া তিনি থাকলেন আমাদের সঙ্গে। একটা ব্যাপার ভারি অদ্ভুত, মাস্টারদাকে না চিনলেও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে কিন্তু চেনে চট্টগ্রাম। তাঁর মূর্তি রয়েছে পাহাড়তলির ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনের রাস্তায়। এই ক্লাব আক্রমণের সময় যখন বিপ্লবীরা ক্লাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, তাদের নেত্রী প্রীতিলতাকে ধরতে যায় ব্রিটিশ পুলিশ। ক্লাবের পাশের মাঠে দৌড়ে যেতে-যেতেই পটাশিয়াম সায়নাইড ক্যাপসুল মুখে দেন অগ্নিকন্যা। লুটিয়ে পড়েন মাঠে। শেষ বিকেলে সেখানে দাঁড়িয়ে যেন সিনেমার মতো চোখে ভেসে উঠল, মাস্টারদার ‘ডু অর ডাই’ মন্ত্রে দীক্ষিত এক ২১ বছরের তরুণী দৌড়চ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে নয়, মান বাঁচাতে। জীবন দেবে, তবু ধরা দেবে না ব্রিটিশের হাতে।
এই চট্টগামেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম বিনোদবিহারী চৌধুরীর। তাঁর ওপর একটি তথ্যচিত্র তৈরির জন্য। চট্টগাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের শেষ জীবিত সৈনিক। তখন তাঁর বয়স একশো ছুঁয়েছে, কিন্তু স্মৃতি সকালের রোদ্দুরের মতো ঝকঝকে। সেই রোমহর্ষক রাতের কথা বলতে গিয়ে এত যুগ বাদেও তাঁর কণ্ঠস্বরে তারুণ্যের দামামা, প্রতিটি উচ্চারণে বিপ্লবী প্রত্যয়। জালালাবাদ পাহাড়ে গলায় গুলি লেগেও যিনি লড়ে গেছিলেন, আত্মসমর্পণের কথা ভুলেও ভাবেননি, তিনি যে আমৃত্যু একইরকম দৃপ্ত থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আজও মনে হয়, এরকম আর-একটি মানুষ দেখলাম না।

সমুদ্রের এত কাছে এসে, নোনা বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়ে, নীলের কাছাকাছি একবার না গেলে চলে? পতেঙ্গা বিচ চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র চোদ্দ কিলোমিটার দূরে। এখানেই কর্ণফুলি নদী বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিয়েছে। সূর্যাস্ত যে দুর্ধর্ষ দেখায় সাগরের বুকে, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। পতেঙ্গায় যাবেন লবস্টার আর কাঁকড়ার টানে। সন্ধেবেলা স্টলে-স্টলে লালচে মশলামাখা জাম্বো সাইজ চিংড়ি, আর থালাভরা কাঁকড়া দেখে লোভ সামলানো মুশকিল। রুপোর পাতের মতো ঝকঝকে রূপচান্দা মাছ অবশ্য বললেই গরম-গরম ভেজে দেবে। ফুর্তি আর একটু বাড়বে রংবেরঙের ঘুড়ি ওড়ালে। ঘুড়ির সাইজ বিশাল, লম্বা ল্যাজ তার আর গায়ে কত যে রঙিন ছবি আঁকা। সমুদ্রের উতল হাওয়ার সঙ্গে ফিরে আসবে একমুঠো ছোটবেলা।
তবে আসল সমুদ্র দেখতে গেলে যেতে হবে কক্সবাজার। মানে কক্স সাহেবের বাজার। চট্টগ্রাম থেকে গাড়িতে ঘণ্টাচারেকের রাস্তা। পাহাড় আর সমুদ্র একসঙ্গে থাকলে সৈকতের সৌন্দর্য এমনিই বেড়ে যায়, আর যদি থাকে সবুজ অরণ্য, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। বিশ্বের দীর্ঘতম একটানা প্রাকৃতিক বালির সৈকত, প্রায় ১২০ কিলোমিটার লম্বা কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু এত যে সাহেব-মেম ঘুরে বেড়াতে দেখছেন, তাঁরা সবাই টুরিস্ট ভাবাটা ভুল। এখানে আছে বিশাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প, মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা উদ্দ্বাস্তুদের কলোনি, সেখানে রাষ্ট্রসংঘের, রেড ক্রসের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত আসেন। বাংলাদেশ বলেই হয়তো চিন, জাপান থেকে বৌদ্ধরা তত আসেন না এখানকার প্রাচীন মঠে। তবে চট্টগ্রামে প্রচুর বৌদ্ধ আছেন। তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো আগমেড়া খ্যাং মনাস্ট্রি দাঁড়িয়ে আছে আরাকান থেকে আনা শালকাঠের খুঁটির ওপরে। সেখানে যা প্রাচীন পুঁথির সংগহ, দেখলে অবাক হতে হয়। একে ঘিরে থাকা বিশাল গাছগুলোও এত প্রাচীন, দিনের বেলাতেও ছায়াঢাকা পাখির ডাক ছাড়া আর কিছু শব্দ নেই। এসবই ধরা আছে আমাদের ক্যামেরায়, ভেবে ভাল লাগে, কারণ গত কুড়ি বছরে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে।
কক্সবাজার যাওয়ার আগে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের নাম শুনে যদি উত্তেজিত হন, হতাশ হবেন। বছরের বেশিরভাগ সময় এই ফেরি বন্ধ থাকে ঝড়বৃষ্টি অথবা নিরাপত্তার কারণে। মায়ানমার সীমান্ত টেকনাফের কাছে বলে জঙ্গিহানার আশঙ্কা। তার বদলে সুন্দরবনের দিকে মহেশখালি দ্বীপে যেতে পারেন। চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা রাখাইনদের সঙ্গে আলাপ হবে, ওদের হাতে বোনা রঙিন চাদর কিনতে পারবেন। আমাকে অবশ্য এই সবকিছুর থেকে বেশি টানে কক্সবাজারের সমুদ্রে ভেসে থাকা সাম্পান, আধখানা চাঁদের মতো সেই অলৌকিক জলযান ‘আমি চান্দেরই সাম্পান যদি পাই। সাতসাগরে পাড়ি দিয়া তরে নিহয়া যাই।’ শ্যামল মিত্রর গান আর শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা, এই নিয়েই আমার কক্সবাজার। ‘বুদ্ধপূর্ণিমার চাঁদ কক্স বাজারের কনে-দেখা/ আলোয় বিভ্রান্ত আজ। অধিকন্তু ভরসন্ধেবেলা।’



