উত্তেজনার ভোট
আমার মনে আছে, আমার প্রথম ভোটাধিকার পাওয়ার সময় আমি কলেজে পড়ি। আমাদের তখন বয়স কত কম, রক্তও গরম! তখন আমি বামপন্থী। আমাদের সময়ে ভোটাধিকার পাওয়া যেত ২১ বছরে। তখন ইভিএম ইত্যাদির কোনও চিহ্নও ছিল না কোথাও। ভোট হত কাগজের টুকরোতে, যাকে বলা হত ব্যালট। সেই কাগজে স্ট্যাম্প দিয়ে আমরা বাক্সে ফেলতাম। ভোটার কার্ড ছিল না, গিয়ে নামটা বললেই হত। এর দরুন নকল ভোট দেওয়ার অবকাশও ছিল প্রচুর। যত দূর মনে পড়ে, আমি ভোট দিয়েছিলাম সংস্কৃত কলেজে। আরও একবার বিদ্যাসাগর বা সিটি কলেজেও ভোট দিয়েছি ওই বয়সে।
খুবই উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল আমাদের। সরাসরি পার্টি না করলেও, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম কিছুটা। তখন কংগ্রেস আমল। নকল ভোট তখন প্রভূত পরিমাণে পড়ত। আর ছাত্ররাই সেই ভুয়ো ভোট দেওয়ার বিষয়ে অগ্রণী ছিল, তাও মনে আছে।
আরও পড়ুন: ভোটরঙ্গে আজও রয়েছে দাদাঠাকুরের উত্তরাধিকার?
লিখছেন আবীর কর…
বৈদ্যনাথ ভৌমিক বলে একজন অনশন করেছিলেন পুরুলিয়াকে পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য। সেই ১৯৫৩ সালে। কিন্তু তার পর থেকেই এই প্রস্তাবটা আনা হয়, এটা প্রায় পাশ হয়ে যায়-যায় পরিস্থিতি তৈরি হয়। মেঘনাদ সাহারা এর বিরোধিতা করেছিলেন। আর বিরোধিতা করেছিল বামপন্থীরা। গোপাল বসুর নেতৃত্বে বামপন্থীদের তরফ থেকে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল।
মনে আছে, আমাদের সেই প্রথম নির্বাচনে বিধান রায় প্রায় হেরে যাচ্ছিলেন। সেবার গণনা হয়েছিল সম্ভবত ভারতীয় জাদুঘরে, যদি স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা না করে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে পুলিশে-পুলিশে ছয়লাপ। প্রায় মারদাঙ্গা লেগে যায় আর কী! কী ঘটেছিল আসলে, সেই সময় বিহার-বাংলা সংযুক্তিকরণের প্রস্তাব আনা হয়েছিল কংগ্রেসের তরফে। বৈদ্যনাথ ভৌমিক বলে একজন অনশন করেছিলেন পুরুলিয়াকে পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য। সেই ১৯৫৩ সালে। কিন্তু তার পর থেকেই এই প্রস্তাবটা আনা হয়, এটা প্রায় পাশ হয়ে যায়-যায় পরিস্থিতি তৈরি হয়। মেঘনাদ সাহারা এর বিরোধিতা করেছিলেন। আর বিরোধিতা করেছিল বামপন্থীরা। গোপাল বসুর নেতৃত্বে বামপন্থীদের তরফ থেকে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। ওঁরা বলেছিলেন, বাঙালি অস্মিতা চলে যাবে। সেই আন্দোলনে আমিও শামিল হয়েছিলাম। বিধান রায় সেই সংকল্প ত্যাগ করেছিলেন পরে। কারণ, সেই সময় তিনি ভারতরত্ন পাবেন। কাজেই এই ঝুঁকি তিনি নিতে চাননি। কিন্তু সেই নির্বাচনে মহম্মদ ইসমাইলের কাছে প্রায় পরাজিত হতে বসেছিলেন বিধান রায়। অবশেষে জেতেন, কিন্তু ৫০০-৬০০ ভোটে। সেই ভোটের সময় বিধান রায় জনপ্রিয়তা খুইয়েছিলেন রীতিমতো। আবার পরে বাংলার জন্য অনেক ভাল-ভাল কাজও করেছিলেন, সেকথাও মনে আছে।
প্রথম ভোটের সেই উত্তেজনা তাই কোনওদিনও ভুলব না।




