‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি টিভি থেকে মোবাইল, সকালের খবরের কাগজ হয়ে সমাজমাধ্যমে পর্যন্ত প্রকট হয়ে উঠছে মাঝেমধ্যেই। বিশেষত, নির্বাচনী আবহে এই শব্দটি ঘিরে নানা চর্চা চলছেই। ‘ভুতুড়ে ভোটার’ নামে একটি শব্দবন্ধও উঠে আসছে গণতান্ত্রিক পরিসরে। এই শব্দবন্ধের সঙ্গে আদতে জড়িয়ে রয়েছে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিতর্ক। কিন্তু এই দেশের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কোথাও কি লুকিয়ে রয়েছে এই বিতর্কের পূর্বসূত্র? দেশভাগ-পরবর্তী সীমানা-বিভাজনের ইতিহাস নয়, এই বিতর্কের আদিতে পৌঁছতে গেলে আমাদের একেবারে শুরুর শুরুতে যেতে হবে। ঘেঁটে দেখতে হবে, এই দেশ, ভারত, তার নির্মাণের কোন পর্যায় থেকে বহিরাগত– যারা আজকের ভাষায় ‘ঘুসপেটিয়া’, বা ‘অনুপ্রবেশকারী’– তাদের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে।
‘অনুপ্রবেশ’ শব্দটির আদি ইতিহাস মূলত সমাজ, রাজনীতি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং মানুষের নিরাপত্তার এক জটিল এবং অনেকাংশে নিরুপায় প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। এই শব্দটি বিভিন্ন যুগে, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে, ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ও গুরুত্বে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। একাংশের মতে, আমাদের দেশে ‘অনুপ্রবেশ’ ধারণাটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের তৈরি। অনুপ্রবেশের পরিবর্তে, আধুনিক গবেষকরা অনেকেই ‘Migration’ বা ‘অভিবাসন’ শব্দটি ব্যবহার করেন। শব্দ, শব্দের ব্যঞ্জনার প্রেক্ষিত ছেড়ে বরং একটু ইতিহাসের দিকে নজর দেওয়া যাক।
মূল শিকড়ে পৌঁছলে হয়তো দেখা যাবে, ভারতে আগত সম্ভাব্য প্রথম জনজাতি নেগ্রিটো, পায়ে-পায়ে চলে আসে সেই সুদূর আফ্রিকা থেকে। খুঁজলে এখনও এদের টুকটাক চিহ্ন পাওয়া যায় ভারতে। এরপর সিন্ধু উপত্যকায় আসে অস্ট্রিক বা প্রোটো-অস্ট্রোলয়েডরা, অর্থাৎ, কোল, ভিল, সাঁওতাল, শবররা। এরপর দ্রাবিড়রা আসে সুদূর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে। দ্রাবিড় উৎস থেকে দক্ষিণ ভারতের এক বিরাট অংশের জনজাতির জন্ম হয়েছে। এই দ্রাবিড় এবং প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড মিলেমিশে তৈরি করে মহেঞ্জোদারো-হরপ্পা সভ্যতা। এবার মধ্য এবং পূর্ব এশিয়া থেকে আসেন মঙ্গোলয়েডরা, অর্থাৎ কিনা, রাভা, মেচ, মূলত পাহাড়ি জাতিরা।
আরও পড়ুন: ক্যামেরার পেছনে মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে কি চিরকালই সংশয়? লিখছেন সোহিনী দাশগুপ্ত…
নেগ্রিটো থেকে অস্ট্রিক বা প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড হয়ে মঙ্গোলিয়ান মানুষের এই দেশান্তরী হয়ে যাওয়ার প্রথম ও প্রধান কারণ খাদ্যাভাব। প্রাক-প্রযুক্তি যুগে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চাহিদা ছিল খাদ্য এবং বাসস্থান। কিন্তু খাদ্যাভাব ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে যে-অঞ্চলে মানুষের বসবাস ছিল, ক্রমে সেখানে নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা বা চাষের জমি নষ্ট হওয়ার কারণও স্থানান্তরী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে।
‘যাযাবর’ শব্দটিকে ঘিরে যদি ভাবনাসূত্র আরেকটু অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে জ্যাক কেরুয়্যাক, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, রবীন্দ্রনাথ হয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়— সাহিত্যে ভবঘুরেপনা তো আমরা নানাভাবে পেয়েছি। কিন্তু ইতিহাসের ছাই ঘেঁটে দেখলে, যাযাবরের এক্কেবারে প্রাচীনতম সাহিত্যিক রূপ পাওয়া যায় কাইন-এর গল্পে। নিজের ভাইকে হত্যার অপরাধে কাইনকে চিরভ্রমণের শাস্তি দেওয়া হয়। অর্থাৎ কোথাও এই নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ মানে এক অস্থির, অস্থায়িত্বের রূপক হিসেবে দেখতে পাই। এখানে যাযাবর জীবন মানে একপ্রকার শাস্তি কিংবা নির্বাসন এবং সমসাময়িক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা।
প্রাচীন জনজাতি ও এবং মরুভূমির জাতিগোষ্ঠীকেও সাহিত্যে এবং ইতিহাসেও প্রায়শই অপর হিসেবে দেখা হয়েছে। স্থায়ী সভ্যতার চোখে তারা অস্থির, বিপজ্জনক, এবং আধুনিকতম ভাষায় সীমান্তবর্তী। ফলে যাযাবর চরিত্র প্রথমদিক থেকেই ভয় ও বহিষ্কারের প্রতীক।
এবার আসা যাক আর্যদের ভারত প্রবেশ প্রসঙ্গে। ভারতে প্রথম আসে আলপেনীয় আর্য জাতি। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ নাগাদ। এই ‘আর্য’ শব্দটির অর্থ ‘উচ্চজাত’, ‘ভদ্র’ এবং ‘শ্রেষ্ঠ’। এটি আর্যদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ছিল, জাতিগত নয়। অর্থাৎ, আর্য কোনও নির্দিষ্ট একপ্রকার, একধরনের জাতি নয়। মনে রাখা প্রয়োজন, আর্যরা ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠী, যারা সংস্কৃত ভাষার এক প্রাচীন ধারায় নিজেদের মধ্যে কথা বলত। এদের সৃষ্ট শিল্প এবং সাহিত্যকর্মও ছিল সেই ভাষায়।
আলপেনীয় আর্যরাই কিন্তু প্রথম গুটিগুটি পায়ে চলে আসেন বাংলা পর্যন্ত। এই বাংলার আদি মানুষ মূলত আলপেনীয় আর্য, দ্রাবিড় এবং প্রোটো-অস্টলয়েড— এই তিনের সংমিশ্রণ। এরপর ভারতে আসে নর্ডিক আর্যরা। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষায় ‘বেদ’ এদেরই সৃষ্টি। এদের আধিপত্য মূলত তৈরি হয় উত্তর ভারতে।
একভাবে দেখতে গেলে ইতিহাসে ‘অনুপ্রবেশকারী’ কারা, এই প্রশ্নের উত্তর খুব একমাত্রিক নয়, তা এই সহজ ইতিহাস থেকেই অনুধাবন করা যায়। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, আর্যরা ভারতে এসে প্রথমেই প্রাচীনতম দ্রাবিড় এবং প্রোটো-অস্ট্রোলয়েডদের তৈরি সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতার ওপর নিজেদের প্রভাব কায়েম করে। এরপর তারা ধীরে ধীরে গঙ্গা নদীর বিস্তীর্ণ উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তার ঘটায়। প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে আদি হরপ্পার পতনের পরেই এক নতুন সংস্কৃতির উত্থান হয়। এই তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশ’, অভিবাসন, ধাপে ধাপে ও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে, যার মধ্যে সংঘাত যেমন ছিল, তেমনই সহাবস্থানের চেতনাও ছিল।
এরপর আসে পারসিকরা, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ শতক নাগাদ। আচেমেনীয় পারস্য সম্রাট দারিয়ুস সদলবলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিরাট অংশ দখল করেন। দারিয়ুস ছিলেন মূলত জরাথুষ্ট্র ধর্মের অনুসারী। স্বভাবতই সেসময় এই ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে অধুনা গো-বলয়ের আনাচকানাচে। দারিয়ুসের সাম্রাজ্যে প্রাপ্ত শিলালিপিতে ‘হিন্দুশ’ নামে এক প্রদেশের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা সিন্ধু উপত্যকার অংশ। দারিয়ুসের সময়ই ভারতীয় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল, অর্থাৎ অধুনা আফগানিস্তান পর্যন্ত ভারত এক আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যের প্রদেশে পরিণত হয় এবং প্রশাসনিক, শিল্প ও লিপিগত বিনিময়ের বিরাট ক্ষেত্র তৈরি হয়। পূর্ব ও পশ্চিম সভ্যতার মধ্যে এক অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। অর্থাৎ এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ দারিয়ুস ও ভারতীয় প্রাচীন সভ্যতার সম্পর্ক ছিল কেবল বিজয় বা শাসনের নয় বরং এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংযোগের অধ্যায়।
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণ আর অনুপ্রবেশ যদিও গুলিয়ে ফেললে চলবে না। আক্রমণকারীরা কিন্তু ভয়ে-ভয়ে খাদ্য বাসস্থানের খোঁজে আসেনি, এসেছে রাজ্য দখল আর মূলত সম্পদের লোভে। যা হোক, ম্যাসিডোনিয়ার রাজা গ্রেট আলেকজান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য জয় করার পর সিন্ধু নদ অতিক্রম করে আবার সেই উত্তর-পশ্চিম ভারতেই প্রবেশ করেন। তারপর সেই পুরু এবং আলেকজান্ডারের যুদ্ধ, পুরুর বন্দি এবং তাকে ‘বীর’ আখ্যা দিয়ে ঐতিহাসিক-অনৈতিহাসিক জয়-পরাজয়ের পালান্তরে আলেকজান্ডার ফিরে যান।
ইতিহাসের এক পর্যায়ে বলা হয়, সৈন্যদের ক্লান্তি ও বিদ্রোহের কারণে আলেকজান্ডার গঙ্গা অববাহিকা পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারেননি। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে আসে ইন্দো, গ্রিক শাসকরা। গান্ধার শিল্প ভারতে বিকশিত হতে থাকে। এরপর সময়রেখা ধরে আসে শক ও পার্থিয়ানরা, খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতক। সেই মধ্য এশিয়া থেকে আগত শকরা আবার উত্তর-পশ্চিম ভারতে রাজত্ব স্থাপন করে। অর্থাৎ, ভারতে অনুপ্রবেশ বা আক্রমণের মূল পথই, যা দেখা যাচ্ছে, উত্তর-পশ্চিম ভারত!
একভাবে দেখতে গেলে ইতিহাসে ‘অনুপ্রবেশকারী’ কারা, এই প্রশ্নের উত্তর খুব একমাত্রিক নয়, তা এই সহজ ইতিহাস থেকেই অনুধাবন করা যায়। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, আর্যরা ভারতে এসে প্রথমেই প্রাচীনতম দ্রাবিড় এবং প্রোটো-অস্ট্রোলয়েডদের তৈরি সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতার ওপর নিজেদের প্রভাব কায়েম করে। এরপর তারা ধীরে ধীরে গঙ্গা নদীর বিস্তীর্ণ উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তার ঘটায়। প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে আদি হরপ্পার পতনের পরেই এক নতুন সংস্কৃতির উত্থান হয়। এই তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশ’, অভিবাসন, ধাপে ধাপে ও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে, যার মধ্যে সংঘাত যেমন ছিল, তেমনই সহাবস্থানের চেতনাও ছিল।
প্রথম থেকে তৃতীয় শতকে ভারতে শুরু হয় কুষাণ সাম্রাজ্য। এই কুষাণ সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়া থেকে আগত ইউয়েজি জাতির একটি শাখার অনুপ্রবেশের পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। খ্রিস্টীয় প্রথম থেকে তৃতীয় শতক পর্যন্ত তারা উত্তর ভারত, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করে। এই কুষাণদের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক ছিলেন কণিষ্ক। তাঁর আমলে সাম্রাজ্য সর্বোচ্চ বিস্তার লাভ করে এবং বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখার বিরাট প্রসার ঘটে। এই কুষাণরাই সিল্ক রোড বাণিজ্যের মাধ্যমে সুদূর রোম থেকে চিন ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপন করে। গান্ধার ও মথুরা শিল্পশৈলীতে গ্রিক-ভারতীয় মিশ্রণ তাদের সময়ই অনেকটা বিকশিত হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে ভারতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, কালিদাস, অজন্তার যুগ। এই পর্যায় চলে পঞ্চম শতকের মাঝামাঝি। পঞ্চম শতকে মধ্য এশিয়া থেকে আগত হুনরা দুর্বল গুপ্ত সাম্রাজ্যের সুযোগ নিয়ে উত্তর ভারতে আক্রমণ চালায়। এই হুনদের প্রধান শাসক ছিলেন মিহিরকুল। তাঁর আক্রমণের জেরে গুপ্ত সাম্রাজ্যের এবং পূর্ববর্তী সময়ে স্থাপিত বহু নগর ও বৌদ্ধবিহার ধ্বংস হয়। হুনদের এই আঘাতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত হয় এবং উত্তর ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। তবে পরবর্তীতে নরসিংহ গুপ্ত বলাদিত্যর চেষ্টায় এবং প্রতিরোধে বিশাল হুন শাসনের অবসান ঘটে।
ভারত বিখ্যাত তুর্কি আক্রমণ ঘটে মূলত একাদশ ও দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি। মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আগত তুর্কি শাসকরা উত্তর-পশ্চিম ভারত আক্রমণ করে ধীরে ধীরে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এই তুর্কির গজনীর মাহমুদকে ইতিহাসে প্রথম সুলতান হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি ভারতে সতেরোটি আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যও বেশ পরিচিত, এবং এই আক্রমণ এবং অবাধ লুঠতরাজ পরবর্তীকালে মুঘলদের ইসলামী শাসনের পথ প্রশস্ত করেছিল বলে মনে করেন একাংশ। এরপর এসেছে মুঘলরা, পাঠানরা। বাংলায় এসেছে বর্গী অর্থাৎ মারাঠারা। ইংরেজ, ফরাসি, পর্তুগিজদের উপনিবেশ স্থাপন পর্যন্ত যে ইতিহাস, তা কিন্তু তথাকথিত বহিরাগতদের ইতিহাস, অনুপ্রবেশকারীর ইতিহাস।
কিন্তু, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় যারা সীমান্ত পার হলেন, তারা কি এই বহিরাগত ইতিহাসের উত্তরসূরি আদৌ? বিপন্ন হয়ে মানুষের ভিটে ছাড়ার যে ইতিহাস সেই শুরু হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার এই অংশে, তার পরিণতি দিনে দিনে এসে ঠেকেছে আজকের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে বিতর্কে। একবিংশ শতাব্দীর দিকে তাকালে বোঝা যায়, এই শতাব্দীর ইতিহাসের অনেকাংশ জুড়েই থাকবেন শরণার্থীরা। সিরিয়া থেকে গাজা স্ট্রিপ— যুদ্ধ ও সংঘর্ষ এই শতাব্দীতে মানুষকে বারবার ঘরছাড়া করেছে ও করে চলেছে। অসংগঠিত শ্রমিকদের পরিযায়ী হওয়া থেকে আর্থসামাজিক কারণে দেশ ছেড়ে আসা, নানাভাবেই তো নিজের মাটি ছেড়ে যেতে হচ্ছে মানুষকে।
যে লব্জটি এই নির্বাচনের আগে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, তা নিতান্তই রাজনৈতিক— ভুতুড়ে ভোটার। অভিবাসিত মানুষকে ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে তাদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগেই একদল এদের ‘ভুতুড়ে ভোটার’ আখ্যা দিয়ে তার পরিসংখ্যানও তৈরি করছে। আজ ভোটের অঙ্কে যাদের মাপা হচ্ছে, ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের সেই অনুপ্রবেশকারী বা আক্রমণকারীদের থেকে তারা ঠিক কতটা দুর্বল, কতটা অসহায়— তা কি আদৌ বলার অপেক্ষা রাখে?




