
বাংলা কবিতার দুই সূর্য
‘তাঁর লেখার মধ্যে পাঠকেরা পেয়েছিলেন দার্শনিকের অন্তর্দৃষ্টি। লিও তলস্তয় বা ফিয়োদর দস্তভয়েস্কির লেখার পাশাপাশিই তাঁর লেখায় তাঁরা পেলেন নৈতিকতা, বিশ্বাস, আর মানুষের জীবনের অর্থের অনবরত সন্ধান।’

‘তাঁর লেখার মধ্যে পাঠকেরা পেয়েছিলেন দার্শনিকের অন্তর্দৃষ্টি। লিও তলস্তয় বা ফিয়োদর দস্তভয়েস্কির লেখার পাশাপাশিই তাঁর লেখায় তাঁরা পেলেন নৈতিকতা, বিশ্বাস, আর মানুষের জীবনের অর্থের অনবরত সন্ধান।’

‘‘মরিচঝাঁপির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে ‘পরিবর্তন’ পত্রিকায় যোগ দিযেছি। এর বছরদেড়েক বাদে ১৯৮০-র শেষে আমি যখন চম্বল যাই, তখন রায়পুরে নেমে মানা-র শরণার্থী শিবিরে যাই, আশপাশের অঞ্চলেও দিনতিনেক ঘুরি, মরিচঝাঁপি থেকে উৎখাত হওয়া উদ্বাস্তুদের হাল দেখতে। মানা-র উদ্বাস্তু পল্লিতে আমি দেখেছি নবজাতক শিশু কোলে মা-কে।’’

‘আমাদের ঘরে মাখন আসত না কখনও। কাকামণি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর চাকরি পেল, তখন রবিবার করে মাংস হত। ঠাকুর্মা কাকামণিকে দিয়ে মাখন আনিয়েছিল। আমাদের ঘরে মাখনের টিন এল। গরম ভাতে আলুসেদ্ধ আর মাখন। নিজেদের মাখন। কিন্তু কাকামণি তো পৃথিবীতেই রইল না।’

‘জীবনানন্দ দূরের কবি নন। অনুভব করি। কলকাতার ভাড়াবাড়িতে থাকি। দু’মুঠো ফুটিয়ে খাই। পথ হাঁটি। সময় পেলেই পথ হাঁটি। মানিব্যাগে ওষুধ রাখা থাকে। টলে গেলে দ্রুত খেয়ে নিতে হবে। ক্লান্ত হয়ে নিঃসঙ্গ ঘুমিয়ে পড়ি।’

‘তাঁর জীবন ও লেখালেখিতে বাঙালির রেনেসাঁস প্রদীপের আলো ও তার তলার অন্ধকার— দুটোই বড্ড স্পষ্ট। প্যারীচাঁদের চরিত্রের যে-স্ববিরোধ, তা নিয়ে হুতোম ব্যঙ্গ করলেও আমরা সেটিকে তাঁর স্বভাবের বৈচিত্র্য হিসেবে দেখব;’

‘মাটি মাখার কাজ যাঁরা করতেন, তাঁরা আবার আরেকটা কর্মে নিজেদের দক্ষ করে তুললেন। আশ্চর্য সেই কাজের নাম। ‘মরা ধরা’। না মরা মানুষ ধরা তার কাজ নয় তার কাজ হল ভেজা মাটি মরে গিয়ে কোন মাপে মূর্তিকে নিয়ে আসে, তা নিখুঁত ভাবে হিসেব করা। সে জানে, যদি কোনও বাড়িতে দুর্গা কুড়ি হাত বানাতে হয় তাহলে একুশ বা বাইশ হাত পর্যন্ত মাটি গড়তে হবে।’

“প্রীতিলতা মারা যাওয়ার পর ‘দ্য ইংলিশম্যান’ পত্রিকায় তাঁকে ‘সাহসী (courageous)’ এবং ‘নির্ভীক (bold)’ বলা হয়। অদ্ভুত বিষয় হল, বাংলা ভাষার নাম করা এক পত্রিকা, যার দ্যুতি প্রায় শতক পার করবে, সেখানে কিন্তু এই অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ থাকলেও কোনওরকম অভিমত প্রকাশ করা হয়নি প্রীতিলতার পক্ষে।”

‘রাজনৈতিক রণাঙ্গণে বহু রক্তপাত ঘটিয়ে, অনেক অশ্রুপাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে যাবতীয় বৈপ্লবিক প্রচেষ্টা। কিন্তু মেয়েরা বাংলার সমাজক্ষেত্রে একটি নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে বিগত তিন-চারটি দশকে।’
‘সংবাদ মূলত কাব্য’। পর্ব ১৯

‘ভাত খেয়ে থালা ধুচ্ছি গাছের গুঁড়ি বাঁধানো পুকুরজলে। আলো ঝমকম করছে। মনে পড়ল, অন্নদেবতা কবিতাটি। আমি দু-আঁজলায় জল নিয়ে জল-তর্পণ করলাম অন্নদেবতার উদ্দেশে। কবিতাটি সম্পূর্ণ হয়ে এল জীবনে।’
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ নিবন্ধ…

‘পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর কর্ণাটকের চিকমাগালুর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী জিতে সংসদে এসেছিলেন। ওই সময়ে কংগ্রেস দেওয়ালে লিখেছিল: রায়বেরিলি ভুল করেছে/ চিকমাগালুর করেনি/ সিপিএম জেনে রাখো/ ইন্দিরা গান্ধী মরেনি।’
সংবাদ মূলত কাব্য। পর্ব ১৬…

“‘অনঙ্গমোহন’ কাব্য দিয়ে তাঁর লেখালেখির শুরু। সংবাদ-প্রভাকর দফতরে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যে-দিন একটা ‘ইংলিশম্যান’ কাগজ থেকে খানিকটা তাঁকে অনুবাদ করতে বলেছিলেন, অক্ষয়কুমার সোজা বলে দিয়েছিলেন, ‘আমি কখনও গদ্য লিখিনি, আমি লিখতে পারব না’। পরে গদ্যই হয়ে ওঠে তাঁর লেখার প্রধান বাহন।”

‘অফুরন্ত থই-থই মানুষের ভিড়। রথে-রথে ছয়লাপ। জলের কীর্তন আকাশ ছুঁয়েছে। দশদিকে মেঘের শ্রীখোলে টান লেগেছে। চৈতন্যের পায়ের ছাপ একদা এই পথে, ভাবতেই শরীর রোমাঞ্চিত কদমফুল।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.