
সামথিং সামথিং: পর্ব ৭৭
‘দক্ষিণ সুদানে কী ঘটছে বা নাইজিরিয়ায় কী নিগ্রহ চলছে, তা আমাদের খুব বিদ্ধ করে না। মানে, ভৌগোলিক অন্ধতাও আমাদের আছে। এমনিতে মূলস্রোতের খবরেই আমরা ভেসে বেড়াই, নিজের মতো বিশ্লেষণ করি বটে, কিন্তু খুব দলছুট ভাবে নয়।’

‘দক্ষিণ সুদানে কী ঘটছে বা নাইজিরিয়ায় কী নিগ্রহ চলছে, তা আমাদের খুব বিদ্ধ করে না। মানে, ভৌগোলিক অন্ধতাও আমাদের আছে। এমনিতে মূলস্রোতের খবরেই আমরা ভেসে বেড়াই, নিজের মতো বিশ্লেষণ করি বটে, কিন্তু খুব দলছুট ভাবে নয়।’

আক্রান্ত দেশের রাষ্ট্রপতি বলছেন আক্রমণকারী দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনও ঘৃণা নেই। এই হিংসাবিধ্বস্ত পৃথিবীতে এই বার্তা জরুরি। অজস্র আক্রমণ, অনেক চাপ সৃষ্টি হয়েছে ইরানের ওপর। তার পরেও ইরানের তরফে যখন সংযম বজায় রাখা হয়, তা প্রশংসনীয় বইকি।

‘কাজকে প্রায় কেউই জড়িয়েমড়িয়ে ভালবাসে না। উপায় থাকলে ক’টা লোক আর কাজ করত? সকলেই লেপ জড়িয়ে নেটফ্লিক্স দেখত। কিন্তু তাহলে অনেক দেশেই, ট্রেন লেট করে না কেন? কেন এয়ারপোর্টে ইতিউতি তাকালেই সাহায্য করার লোক পাওয়া যায়?’

এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল, ইজরায়েলি সৈন্যরা প্যালেস্তাইনের ১৪ বছর বয়সি এক ছেলেকে গুলি করে, ঘিরে দাঁড়িয়ে ৪৫ মিনিট ধরে তার মরে যাওয়া দেখছে, তার মা’কে বা অ্যাম্বুল্যান্সকে কাছে আসতে দিচ্ছে না। এই চূড়ান্ত অমানবিকতার ছবি আমাদের শিউরে তোলে।

আফগানিস্তানে তালিবান নতুন আইন আনছে— স্বামী স্ত্রীকে পেটাতে পারবে, যতক্ষণ না হাড় ভাঙছে বা খোলা ক্ষত দেখা যাচ্ছে। তার মানে, গার্হস্থ্য হিংসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হল। স্ত্রীকে স্বামীর সম্পত্তিই ঘোষণা করা হল। অন্য বড় দেশগুলো কিন্তু বিরাট তিরস্কার করছে না, বরং দিব্যি ব্যবসায়িক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে।

ভিক্টর ও নোরা একইরকম, দু-জনেই শিল্পটা ভাল পারে, মানুষের সঙ্গে সংযোগটা পারে না। ভিক্টর যখন আগনেসকে বলে, তোর ছেলেকে আমার সিনেমায় একটা পার্ট দেব, আগনেস বলে, তোমার ছবিতে আমি যখন অভিনয় করেছিলাম, আমি ছিলাম তোমার সবচেয়ে যত্ন ও আদরের পাত্রী, মনে হত আমিই আছি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে। যেই ছবি শেষ হয়ে গেল, আর আমি তোমাকে বহুকাল দেখতেই পেলাম না। পরের ছবির লোকেরা হয়ে গেল তোমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডেনমার্ক প্রস্তাব এনেছে, খাবারকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তার মানে চতুর্দশপদী আর চিংড়ির মালাইকারি রেষারেষি করবে পুরস্কারের জন্য, বা শিল্প-ফান্ডিং’এর জন্য। কবি ও রাঁধুনি থাকবেন একই পুরস্কারের দৌড়ে। এ ভাবনা কি একেবারে উদ্ভট, না কি এর কোনও সারবত্তা আছে?

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গ্র্যান্ড স্লাম বিজয়ীর মধ্যে আবেগের কোনও বাড়তি বহিঃপ্রকাশ নেই। এমনটা হওয়ায় অনুরাগীদের অনেকেই নাকি ক্ষুব্ধ। তার কারণ কী? এই সমাজমাধ্যমের যুগে কি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা না দেখলে খুশি হই না আমরা?

অন্যায় মেটাবে বড় মস্তান? ইরানে শাসকরা এই মুহূর্তে যে অন্যায় করে চলেছেন, তা থামাতে পারে শুধু আমেরিকার শাসকের হুমকি? যে আমেরিকার অন্যায় থামাতে পারছে না অন্য কেউ? শুভবুদ্ধিসম্পন্ন জোট নয়, মানবাধিকার সংগঠন নয়, বদ ছোট মাছকে সামলে রাখবে রাক্ষুসে বড় মাছ?

ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখালেন, ক্ষমতার চক্ষুলজ্জা থাকতে নেই। তিনি দেখিয়ে দিলেন, হত্যায় অভিযুক্তকেস সরাসরি হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো যায়। এ থেকে কি আমরা বুঝতে পারি যে, শাসক নিজের সুবিধার্থে যে-কোনও অপরাধীকেও তার আঙিনায় ঠাঁই দিতে পারে?

‘ছবিতে মেয়েটি প্রথমে প্রথাসিদ্ধ, পরে একটা আঘাত পেয়ে অকস্মাৎ একলা, তারপরে একটা সাধনার প্রতি অনুরক্ত এবং শেষে নিজশর্তে একটি প্রেম গ্রহণের বিন্দুতে স্থিত। তার এই বিবর্তনের মূলে আছে জীবনের কেন্দ্রে বস্তুগত অনাকাঙ্ক্ষাকে প্রতিষ্ঠা করা, বা ঈশ্বরের আসন পেতে দেওয়া।’

বাংলাদেশে জীবন্ত দগ্ধ করা হল দীপু দাসকে, ভারতে গণনিগ্রহে মৃত্যু হল আতাউর হুসেনের। সংখ্যাগুরুর আক্রমণের শিকার বারবার হবে সংখ্যালঘুরা, এটাই কি ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? গণিত কি এখন এটাই যে, সংখ্যাগুরুর নিয়মই হল কম ক্ষমতাবানকে আক্রমণ করা?
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.