দ্বীপরাজ্যে দুর্বিপাক। জটায়ু হয়তো অস্ফুটে খানিক এহেন শব্দবন্ধই উচ্চারণ করতেন পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে। মানচিত্রে ক্ষুদ্র এক বিন্দুসম অবস্থান। দক্ষিণ-পূর্বে ভারত মহাসাগরে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা বেশ কিছু দ্বীপ। প্রায় হাজার বছর পূর্বের চোল সাম্রাজ্যের ইতিহাসেও যার দীর্ঘ উল্লেখ পাওয়া যায়। দূর দেশ থেকে বাণিজ্য করতে আসা নাবিক ও ব্যবসায়ীকুল এই অঞ্চলের আদিবাসীদের স্বল্প পোশাকের কারণে সম্বোধন করত ‘নগ্নদের দেশ’ বা তামিল শব্দ ‘নাক্কাভরম’ অভিধা-য়, যার ভ্রংশ ও অপভ্রংশ রূপ আজকের ‘নিকোবর’।
ভারত সরকার এই নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে পুঁজি করে গড়ে তুলতে চলেছে একটি ৯০,০০০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভৌগোলিক অবস্থানে ভারতের উপস্থিতি মজবুত করতে নাকি এই প্রকল্পের গুরুত্ব হতে চলেছে অপরিসীম। কিন্তু বিরোধী দলগুলি-সহ একাধিক পরিবেশবিদ দাবি করছেন, এটি আদতে উন্নয়নের চাদরে পরিবেশ ধ্বংসের ছদ্মপ্রয়াস মাত্র। দেশবাসীর থেকেও অধিকতর উপকৃত হবে কোনও এক নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। তাই যাবতীয় ‘কী ও কেন’-র উত্তর সন্ধানের সামান্য প্রয়াস করা যাক।
নিকোবর দ্বীপের দক্ষিণ অঞ্চল ঘিরে রয়েছে গভীর অরণ্য। যাকে অবলম্বন করে বাস কিছু সংরক্ষিত উপজাতির। এছাড়াও রয়েছে, বিরল ও দুর্লভ প্রজাতির বেশ কিছু বন্যপ্রাণ। গ্রেট নিকোবর প্রোজেক্টের উদ্দেশ্য এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি সুবিশাল অত্যাধুনিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর তৈরি করা। যেখানে পণ্য স্থানান্তরের পাশাপাশি গড়ে উঠবে প্রতিরক্ষা আউটপোস্টও। এই প্রকল্পটির আয়তন প্রায় ১৬৫ বর্গকিলোমিটার, যা গোটা দ্বীপের মোট জমির প্রায় ১৮ শতাংশ। সিঙ্গাপুরের মতো স্মার্ট সিটির স্বপ্নে বিভোর ভারতবাসী। দ্বৈত অভীষ্ট পূরণ হবে সরকারেরও। পণ্য স্থানান্তরের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পাশাপাশি এখানে তৈরি হবে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎ-চালিত পাওয়ার প্ল্যান্ট। এতটাই গভীর এখানকার জল, যে, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কন্টেনার জাহাজও ডকটিতে নোঙর করতে পারবে। যে জাহাজগুলি বৃহত্তর বন্দরের অভাবে কলম্বো, সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়া পাড়ি দেয়, তাদের নতুন ঠিকানা হবে ভারত। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিরও দু’টি অংশ থাকবে। একটি সাধারণের জন্য ও অন্যটি সেনাবাহিনীর জন্য। ভারত মহাসাগরের তীরে নিজেদের ঘাঁটি আরও শক্তিশালী করাই লক্ষ্য ভারত সরকারের। এছাড়াও আন্দামান-নিকোবর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্যস্ততম জলপথ মালাক্কা প্রণালীর অত্যন্ত নিকটবর্তী। ৪০% বিশ্ববাণিজ্য এই পথেই চলে। এছাড়াও চিনের আমদানিকৃত এনার্জির ৮০%-এর গন্তব্যপথ এটিই। ভারতের রপ্তানিপথও মালাক্কা হয়েই বিশ্বের দরবারে উন্মোচিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই নতুন বন্দরটি নির্মিত হলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান খানিক দৃঢ় হবে।
আরও পড়ুন: পানশালার নর্তকীরা এখন একাকিত্বের চিকিৎসক?
লিখছেন আদিত্য ঘোষ…
এত অবধি পড়ে কোথাও কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। দেশোন্নতিতে আপত্তি কীসের? কিন্তু গোটা বিষয়টিতে বেশ কিছু বিতর্ক, বা বিরোধীভাষ্যে ‘জুমলা’ রয়েছে। একটি ট্রান্সশিপমেন্ট হাব কখনওই এভাবে প্রত্যন্ত জায়গায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের, সেখানে এই বিপুল অর্থব্যয়ে বন্দর নির্মাণ আদৌ কতটা দূরদর্শিতার পরিচয়, তা প্রশ্নচিহ্ন রেখেই যায়। এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতা রয়েছে কলম্বোর মতো বহু প্রাচীন আন্তর্জাতিক বন্দরের সঙ্গে, যারা দীর্ঘ যুগ ধরে বিশ্ববাণিজ্যে নিজ-নিজ ভূমিকার পদাঙ্ক রেখে চলেছে। সরকারের যুক্তি, পোর্ট বানালে এমনিই লোকের অভাব হবে না। একটি প্রকৌশলী দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির চূড়ান্ত অভাব স্পষ্ট। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়নি। করা হয়নি কোনও গবেষণামূলক স্টাডি। এমনকী, নিকোবর-নিবাসী জনগণের সঙ্গেও কোনওরকম আলোচনা ছাড়া প্রোজেক্টটিকে সবুজ সিগন্যাল দেখানো হয়েছে। বিরোধী শিবিরও এ-বিষয়ে সরব হয়েছে বারে-বারে। আন্দামানের সাধারণ জনগণ অভিযোগ জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীর কাছে। প্রশাসনের তরফে নিকোবর-নিবাসী জনগণকে পুনর্বাসন দেওয়ার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আরও আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে জনসাধারণের। নিজের বাসভূমি হারানোর অনিশ্চয়তা থেকে গ্রাস করছে নিদারুণ ভয়। হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে বাস ‘সোম্পেন’ নামক একটি সংরক্ষিত উপজাতির। এই উপজাতির ৩০০-৪০০ মানুষের বহির্বিশ্বের সঙ্গে ন্যূনতম যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। সরকার যদিও বলছে, এই উপজাতির স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে, কিন্তু প্রশ্নটা হল, কীভাবে? এত নির্মাণকার্য, তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের বাইরে থেকে আগমন। কী করে নিরাপদ থাকবে এই আদিম জনজাতি?
আন্তর্জাতিক জনজাতি-বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্পটির ফলে সোম্পেন উপজাতি আদতে ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে বহু যুগ ধরে তেমন যোগাযোগ না থাকায়, এই উপজাতির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্তির পথে চলে যাবে গোটা একটা সংরক্ষিত ট্রাইব। উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে আমেরিকার একটি উপজাতির কথা, ইউরোপীয়রা সেখানে প্রবেশের পর রোগ-জ্বরায় আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় একটি গোটা জনজাতি। বিভিন্ন সংগঠনের তরফে সরকারের কাছে অনুরোধও জানানো হয়েছে প্রোজেক্টটি নিয়ে দ্বিতীয়বার বিবেচনা করতে।

অন্যদিকে, নিকোবরি উপজাতিকে ২০০৪ সুনামি-পরবর্তী সময়ে পশ্চিম উপকূল থেকে পূর্ব উপকূলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কথা দেওয়া হয়েছিল পরবর্তীতে তাদের পুরনো জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বর্তমানে তাদের পশ্চিম উপকূলের বাসভূমির ওপরই গড়ে উঠছে বিশালাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প। কাগজে-কলমে সরকার জানিয়েছে জমিটি ‘জনবসতিশূন্য’। শুধু মানুষই নয়, মূল্য চোকাতে হবে প্রকৃতিকেও। চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে কোরাল রিফগুলো। আসা বন্ধ হতে পারে বিরল প্রজাতির লেদারব্যাক কচ্ছপের। ধ্বংস হবে ম্যানগ্রোভ-সহ বহু দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষ। ১০ লক্ষ গাছ কাটা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রশ্নের মুখে সরকারের কিম্ভুত-কিমাকার সমাধান, হরিয়ানাতে ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি। এভাবে ভারসাম্য রক্ষা আদৌ সম্ভব উষ্ণতর হতে থাকা নীল গ্রহে?
ছাড়পত্রর জন্য একটি বাধ্যতামূলক ইআইএ-ও (এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) জমা পড়েছে। পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে সরকার-কর্তৃক। সরানো হয়েছে বহু বছর ধরে লাগু থাকা ইউনেস্কো-র সুরক্ষাকবচ। ২০২৩ সালে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি এই প্রকল্পটিকে ছাড়পত্র দেয়। ছাড়পত্রটি এসে পৌঁছয় একটি ‘মুখবন্ধ’ খামে। কোরাল রিফের কারণে বেশ কিছু জায়গা সবুজ তালিকা-ভুক্ত। যেখানে কোনওরকম নির্মাণকার্য চালানোই সম্ভব নয়। সিআরজেড ওয়ান-এ এগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দাবি করে। গালাথিয়া উপকূল খানিক এমনই তালিকার অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল। সেখানে বেআইনিভাবে এই নির্মাণ কার্য চলবে ‘দেশের উন্নয়নের স্বার্থে’।

জিওলজিক্যাল সার্ভে-র তথ্য বলছে, ২০,০০০-এরও বেশি কোরাল কলোনি রয়েছে ওই উপকূলবর্তী অঞ্চলে। রয়েছে দৈত্যাকার লেদারব্যাক প্রজাতির কচ্ছপের ডিমপাড়ার সংরক্ষিত অঞ্চল। কিন্তু এত কিছুর পরও ছাড়পত্র কী করে দেওয়া সম্ভব? আরটিআই মারফত জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক সংগঠনগুলোকে ন্যূনতম সময় দেওয়া হয়নি রিপোর্ট জমা করার জন্য। তাদের বলা হয়েছিল, প্রকল্পটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, অর্থাৎ অলিখিত আদেশ, দ্রুত ছাড়পত্র দিতে হবে। একটি মউ চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে স্পষ্টত বলা হয় এই তথ্য বাইরে আনা যাবে না।
এত কিছুর পর এই নিয়ে দীর্ঘ সমালোচনা হয়, যার বিপ্রতীপে সরকারের তরফ থেকে উঠে এসেছে চিন-প্রসঙ্গ। যেহেতু কৌশলগতভাবে চিনের দাপট কমাতেই এই প্রকল্প, তাই এই বয়ান। কটূক্তি ধেয়ে এসেছে রাহুল গান্ধীর দিকেও। কিন্তু বুঝতে হবে, হরমুজের মতো মালাক্কা বন্ধ হলেই সব সমস্যার সমাধান, এক্ষেত্রে এমনটা আদৌ নয়। এমনিতেই মালাক্কার নাব্যতা কম। বহু জাহাজ এমনিতেই এড়িয়ে চলে এই প্রণালী। মালাক্কা প্রণালী বন্ধ করার ক্ষমতা যদি কারও থেকে থাকে, তা হল মালাক্কা-সংলগ্ন দেশগুলির। যেগুলির মধ্যে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি অন্যতম। তারপরেও যদি ধরে নিলাম মালাক্কা আমরা বন্ধ করতে সফল হলাম, কিন্তু সেক্ষেত্রেও বিকল্প হিসাবে সুন্ডা এবং লম্বক প্রণালী উপলব্ধ থাকবে। এছাড়াও চিন বিভিন্ন দেশে বন্দর তৈরি করে নিজস্ব জলপথ নির্মাণ করেছে বহু আগেই। আর প্রতিরক্ষার কথাও যদি বলতে হয়, বহু আগে থেকেই নৌ-বহর ও বায়ুসেনার বেস নিকোবরে বিদ্যমান। এই বছর জানুয়ারিতে একটি নতুন অত্যাধুনিক রানওয়েরও উদ্বোধন হয়েছে। যেখানে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সুখোই-৩০, কিংবা ব্রাহ্মস মিসাইল বহনকারী জেটও অবতরণ ও উত্তরণ করতে পারে। আইএনএস বাজের মতো নৌ-বিমানঘাঁটিও নিকোবরে অবস্থান করছে বহু আগে থেকেই। কার্যত কোনওটাই নতুন নয়। তাই এই পরিস্থিতিতে এহেন পরিকল্পনার কারণ অধরাই। তবে মালাক্কা বন্ধ করলে বা বন্ধ করার পরিকল্পনা করলে বোধহয় কূটনৈতিকভাবে খানিক বিপদের মুখেই পড়তে হবে ভারতকে।
কেন্দ্র সরকার যতই বিরোধীদের চিনা এজেন্ট তকমা সেঁটে দিক, বাস্তবে চিন ছাড়া ভারতও খানিক অচল। নেপথ্যে রয়েছে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক স্বার্থ। বহির্বিশ্বে ভারতবর্ষের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার চিন। যার মধ্যে অধিকাংশটাই আমদানি হয়। মালাক্কা প্রণালীর বিকল্পও চিনের কাছে মজুত। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কখনও যদি মালাক্কা আমরা বন্ধও করতে সফল হই, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর ও গাদার পোর্ট রয়েছে বিকল্প হিসেবে। সোজা কথায় চিনকে টেক্কা দিতে গেলে নিকোবরে নির্মাণকার্য না চালিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নজর দেওয়া অধিকতর ফলপ্রসূ হবে।
অতঃপর মূল কারণে আসা যাক। বিপুল পরিবেশ ধ্বংস করে, আইন-কানুনে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ভাঙচুর চালিয়ে, বাস্তুতন্ত্রে যথেচ্ছ পরিবর্তন সাধনের মধ্য দিয়ে; অদ্ভুত কিন্তু প্রত্যাশিতভাবেই গোটা প্রোজেক্টটি রূপায়নের বরাত পেতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। আজ্ঞে হ্যাঁ, যে ১১টি সংস্থা এই প্রকল্পটি রূপায়ণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারমধ্যে অগ্রণী আদানি পোর্ট। সত্য কঠিন ও তিক্ত হলেও সরল সহজাত। দেখা যাচ্ছে ওড়িশার সিজিমালি পাহাড় হোক বা ছত্তিশগড়ের হসদেব অরণ্য; পরিবেশ ধ্বংস করে সরকারের বন্ধুবৎসল উদ্যোগপতিরা দিব্যি টেনে নিচ্ছে লাভের গুড়। জনগণের তেমন গা নেই। দায় নেই প্রকৃতির কাছেও। সাড়ে ছ’কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর বাসিন্দা এই লেদারব্যাকড কচ্ছপ প্রজাতি। গ্রহাণু এসে পৃথিবীর ৭৫% প্রাণীজগৎ ধ্বংস করে দেওয়ার পরও যার অস্তিত্ব সংকট হয়নি, তা এই বিরল প্রজাতির লেদারব্যাকড কচ্ছপ। তারপর তুষারযুগ এসেছে। মধ্যযুগ। মানুষ উন্নত হয়েছে। কিন্তু টিকে গেছে ওরা। ওদের সম্বন্ধে বলা হয়, ওরা জন্মের পর যেখানেই যাক না কেন, ডিম পারতে সেই একই স্থানে ফিরে আসে, যেখানে তাদের জন্ম হয়েছিল। কিভাবে চিনতে পারে, প্রকৃতির সে-রহস্য আজও অজ্ঞাত। ভারতের মাটিতে ওদের সবচেয়ে বড় প্রজনন স্থল গালাথিয়া সমুদ্রতট। আজ এক অদ্ভুত ধ্বংসলীলার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ওরা। মুখ ফেরাতেও অক্ষম। সামুদ্রিক কচ্ছপ নিজের খোলে আত্মগোপন করে না। অবাক বিস্ময়ে তারা সাক্ষী থাকবে নির্মম উন্নয়নের। বোকা, অবোধ দৃষ্টিতে দেখবে সবকিছু। ধ্বংসের আগে শেষ পরিহাসটুকু ছুড়ে দেবে পৃথিবীর সর্বোত্তম উন্নত ও শিক্ষিত প্রজাতির দিকে।


