
মাঝরাস্তার পথিক
‘বেকারত্ব, সংকটে ভরা সেই দশকের ইতিহাসে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আখ্যান অবলম্বনে, তপন সিংহর এই চলচ্চিত্র, এই যুবককুলের প্রতি সমব্যথী হয়েছিল, যার সম্পূর্ণ বিপরীতাভাস তাঁরই ছবিতে উঠে আসবে আর ঠিক এক দশক পরে।’

‘বেকারত্ব, সংকটে ভরা সেই দশকের ইতিহাসে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আখ্যান অবলম্বনে, তপন সিংহর এই চলচ্চিত্র, এই যুবককুলের প্রতি সমব্যথী হয়েছিল, যার সম্পূর্ণ বিপরীতাভাস তাঁরই ছবিতে উঠে আসবে আর ঠিক এক দশক পরে।’

‘তবে চলচ্চিত্র-নির্মাতার কাছেও দেখার দু’টি পথ খোলা থাকে। একটি আপেক্ষিক, যা দৃশ্যকে শুধু গল্পের প্রয়োজনে ব্যবহার করে; অন্যটি পরম, যা দৃশ্যকে তার নিজস্ব প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু দেয়। বেলা টারের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টি ঘটে।’

“‘দ্য বিগ লেবোউস্কি’ একটা ‘pastiche’. ‘Pastiche’ মানে যা পূর্বে ব্যবহৃত নানা শিল্পকর্ম বা ঘটনাকে উদ্ধৃত এবং তার ব্যবহার করে। ছবিতে এই ধরনের উদ্ধৃতি প্রচুর। বাসবি বার্কলের কোরিওগ্রাফি, রবার্ট অল্টম্যানের ‘দ্য লং গুডবাই’, পোলানস্কির ‘চায়না টাউন’, বব ডিলান ও ইগলস-এর গান, ছয়ের দশকের ফ্লাওয়ার পাওয়ার, ভিয়েতনামের যুদ্ধ— এমন কত কী!”

“নির্বাক থেকে ক্রমশ সবাক হয়ে উঠছে চলচ্চিত্র। নতুন শিক্ষাকে সাদরে গ্রহণ করলেন দেবকী। বুঝলেন, নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ শেষ। সিনেমা তৈরি করতে হলে শুধু আলো-ছবি নয়, তাকে সাজিয়ে দিতে শব্দ, সুর আর ছন্দের লাবণ্যে।”

“সলিল চৌধুরী তখন বাসু চ্যাটার্জিকে বলেছিলেন, ‘ছবিটা আমাকে দিন, আমি ১০,০০০ টাকায় করে দেব।’ এরপরেই চুক্তি পাকাপোক্ত হয়ে যায়। সলিল আগ্রায় গিয়ে লোকেশন দেখেন এবং ব্রজভাষার কয়েকটি লোকগান রেকর্ড করে আনেন, যা পরে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে ব্যবহৃত হয়।”

“অগুন্তি মানুষ সাহারার ওপাশ থেকে এসে, তিউনিশিয়ায় প্রবেশ করেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। তবে অনেকেই আর বের হতে পারেনি। নানা গোলকধাঁধায় সূক্ষ সুতোয় ঝুলে রয়েছে। এই সূক্ষ সুতোয় ঝুলে থাকা কয়েকজনের গল্প বলে এরিজে সেহিরির ‘প্রমিসড স্কাই’ (‘Promis le ciel’) ছবিটি।”

‘‘ঘটক তাঁর নিজের সৃষ্টিতে নিয়ে এলেন এক বিপ্রতীপ ঝোঁক। গৌতম বুদ্ধের দেশে বিশ্বচরাচরকে গতিময় পরিবর্তনশীল রূপে দেখাই সহজাত। বস্তুকে ‘as it is’-এর পরিবর্তে ‘in becoming’-এ দেখতে পাওয়াই প্রাচ্যের বাস্তব।’’

‘টিটোর যুগোস্লাভিয়ায় সমকামিতা খারাপ, ফলে এই চার সমকামী বন্ধু, কমিউনিস্টদের চোখে সমাজের রোগ, অতএব এদের উপড়ে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক, মোটামুটি এই হল ছবিটির মূল উপজীব্য।’

‘আপাতদৃষ্টিতে বিভ্রান্ত, অনিশ্চিত এবং পরস্পর-বিরোধিতায় জর্জরিত এই ছবির কেন্দ্র-চরিত্র নীলকণ্ঠ বেশ কিছু মূল্যবান প্রশ্ন তুলছে। যিনি এক অর্থে ব্রাত্য, আবার প্রতিবাদের প্রকৃষ্ট প্রমাণ।’

‘ধরা যাক, কোনও শটে ক্যামেরার ফোরগ্রাউন্ড-এ একটা মুখ আছে, কিন্তু সেটুকুই ফ্রেমটার বৈশিষ্ট্য নয়; দেখা যাবে, দূরে ব্যাকগ্রাউন্ড-এও কোনও একজন চরিত্র, কোনও কাজে লিপ্ত। একইসঙ্গে ফোরগ্রাউন্ড-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করে, ফ্রেমে গতিময়তা আনতেন ঋত্বিক।’

এটিও খেয়াল করার যে, পাঁচ ও ছয়ের দশকে রিফিউজি পরিবারগুলি ক্রমে কলকাতায় আসার প্রাবল্যে মহানগরের ভেঙে-পড়া ব্যবস্থায় সংসারের হাল ধরতে বাড়ির বউকে বা বোনকে চাকরি খুঁজতেই হয়। কিন্তু শরণার্থী প্রায় প্রতিটি পরিবারের যে-নীতা, সে তার থেকেও অন্যতর কিছু। সে-ই টুকরো করে দেওয়া বঙ্গভূমি, বিখণ্ডিত বঙ্গবালা। আর অন্যদিকে সে-ই বাপের আদরের মেয়ে। বাবা এখন সম্বলহীন।

‘ঋত্বিক এখানে পুনর্জন্মবাদকে স্বীকৃতি না দিলেও, জীবনের যে-প্রবহমান নীতি, তা একপ্রকার অবিকৃতই রেখেছেন। কারণ তার উৎপত্তি কোনও ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র পৃথক কণা থেকে নয়, এ এক পারমার্থিক সত্য, যা অদ্বৈত মতে নাম, রূপ, স্থান ও কালের অতীত।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.