
ভাঙন ও উত্তম
এই ছবি এমন একটা সময়ে মুক্তি পাচ্ছে, যখন বাঙালি দর্শকের কাছে উত্তম কেবল ম্যাটিনি আইডলই নয়, আদ্যোপান্ত রোম্যান্টিক হিরো-র আদর্শ ছাঁচও বটে। সেইখানে দাঁড়িয়ে তাঁর শতদল চরিত্রটি একেবারেই আলাদা।

এই ছবি এমন একটা সময়ে মুক্তি পাচ্ছে, যখন বাঙালি দর্শকের কাছে উত্তম কেবল ম্যাটিনি আইডলই নয়, আদ্যোপান্ত রোম্যান্টিক হিরো-র আদর্শ ছাঁচও বটে। সেইখানে দাঁড়িয়ে তাঁর শতদল চরিত্রটি একেবারেই আলাদা।

সিবুলস্কি ও মাস্ত্রোইয়ান্নির থেকে তাঁর অভিনয়ে প্রত্যক্ষভাবে উত্তমকুমার কিছু গ্রহণ করেছিলেন কি না (যেমন মন্টেগোমারি ক্লিফটের থেকে, যা নিজেই ঘোষণা করেন) তা জানা যায় না। কিন্তু এঁদের অভিনয়ের প্রতি তাঁর আপাত, প্রচ্ছন্ন ভাল লাগা ধরে হাঁটলে তাঁর অভিনয়ের বিবর্তনের এক সম্ভাব্য হেতু অবশ্যই চোখে পড়ে।

‘শুন বরনারী’ হয়ে ওঠে এক আশ্চর্য প্রেমের উপাখ্যান। উত্তমকুমার এখানে এমন এক রোম্যান্স অবতার, যিনি রোম্যান্সকে ছোঁয়াচে রোগের মতোই বিপজ্জনক মনে করেন ও তার থেকে পালিয়ে বেড়ান। কিন্তু কেন হিমু এমন করে, তার পিছনে পুরনো ব্যর্থ প্রেমের কী করুণ স্মৃতি আছে, সেসব আমরা ক্লাইম্যাক্সে জানতে পারছি।

১৯৬৬ সালে ‘নায়ক’ যখন উৎসবে যায়, তখন জুরিরা সত্যজিৎ রায়ের চেনা ধ্রুপদী ঘরানার বাইরে কোনো নতুন এবং প্রথাবিরোধী সিনেমাটিক ভাষাকে পুরস্কৃত করার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছিলেন।

আমাদের আগের প্রজন্মও উত্তমকুমারে মজে ছিলেন, যাঁরা বাংলা সিনেমার সেই স্বর্ণযুগে সত্যিই ছিলেন, আমরাও তাঁকে ভুলতে পারি না। ছোটবেলা থেকে যেটুকু অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি, তা উত্তমকুমারের জন্যই।

স্তম্ভিত, স্তব্ধ হয়ে গেলাম খবরটা শুনে। যাঁকে নিয়ে এমন একটা চরিত্র ভাবলাম, এমন একটা ছবির সম্ভাবনা যাঁকে ঘিরে তৈরি হল, সেই উত্তমকুমারই চলে গেলেন। আমার প্রথম বাংলা ছবির নায়ক হতেন যিনি, সেই উত্তমকুমার!

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে সত্যজিৎ রায়, নির্মাল্য আচার্য ও তুষার চৌধুরী।

‘১৯৪৮-এ কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি ঘোষিত হলে সুব্রতবাবু যখন গ্রেপ্তার হয়ে নাসিক জেলে বন্দি হলেন, তখন সংসারের হাল ধরতে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন করুণা দেবী। শর্টহ্যান্ড শিখছেন, সঙ্গে নাটকের কাজও চলছে পুরোদমে। কিন্তু এ-নাটক তো যে সে নাটক নয়, নিষিদ্ধ নাট্যগোষ্ঠীর নাটক চালাতে হত গেরিলা কায়দায়।’

রবি ঘোষের মতো মহান অভিনেতার প্রতিভা মহান পরিচালকদের হাতেই যেন পূর্ণতা পেত। সত্যজিৎ রায়ের বাঘা এবং একের পর এক আইকনিক চরিত্র, তপন সিংহর কালজয়ী ধনঞ্জয় তার উদাহরণ। ধনঞ্জয়ের চরিত্রের এমন সিরিয়াস কমেডি অভিনয়, যেন এক নতুন অভিনয় স্কুলিং-এর সূচনা করল।

‘প্রথমদিনের কাজে যখন আলাপ হল, আমার কাজ দেখে খুব আপন করে নিলেন। আমাকে ডাকতেন ‘ম্যাজিশিয়ান’ বলে। সব সময়ে লক্ষ করতাম কাজের সময়ে কী আশ্চর্য তাঁর মনোযোগ। অন্য সময়ে বেহিসেবি জীবন, মদ্যপান এইসমস্ত দিক থাকলেও, কাজের সময়ে সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ! কিন্তু কাজে যদি একবার মন বিগড়ে যায়, তখন আবার অন্য রূপ।’

এই ছবির মূল কাহিনি ঋত্বিকের নয়, চিত্রনাট্য তাঁর। চিত্রনাট্য রেসিপি হতে পারে, কিন্তু রান্না, অর্থাৎ ছবির ট্রিটমেন্টের ওপরেই সবটা নির্ভরশীল। সেই ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে ক্যামেরার অবস্থান ও চলন অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। এই ছবিতে ক্ষেত্রবিশেষে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ক্লোজ আপ, আশ্চর্য সব ক্লোজ আপ শট।

‘প্রদীপ্ত বার বার তাঁর ছবিতে, সিরিজে গ্রামীণ অর্থনীতি, রাজনীতির যে-পচনের কথা বলেন, মানুষের যে-আদিম হিংস্রতা আর অসহায়তার কথা বলেন, প্রান্তিক জীবনের যে-স্ট্রাগলের কথা বলেন, ‘নধরের ভেলা’ সেই দিক থেকেও এখনও পর্যন্ত সম্ভবত প্রদীপ্তর শ্রেষ্ঠ অর্জন।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.