আমার পাড়া, ওদের গলি
এক-একদিন ভোরবেলা ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয়, কল-কল জলের শব্দ পাচ্ছি। ওই, ওই জোয়ার এসেছে গঙ্গায়, কিংবা ভাটার টানে সব ধুয়ে-মুছে টেনে নিয়ে চলেছে। যেমন ভোর হয়ে রাতের অন্ধকার ধুয়ে দেয়, তেমনই জোয়ার-ভাটায় জমে থাকা জলের সব কালো ধুয়ে-মুছে চলে গেল। আহা, এমন যদি সত্যি-সত্যি হত!
আমার মা মারা গিয়েছে অনেক-অনেকদিন আগে। তবু মনে হয়, গঙ্গা যদি এমন স্রোতস্বিনী হয়ে উছলে উঠত, তাহলে আমার মৃতা মা এসে তার বাপের বাড়ির জন্য এক হরলিক্স-শিশি, জল তুলে নিয়ে যেত নির্ঘাত। যেমন নিয়ে যেত আগে-আগে। আমার মায়ের বিয়ের পর কলকাতায় পা দিয়ে অবাক হয়ে দেখেছিল— কল টিপলে জল আর দেল (দেওয়াল) টিপলে আলো। সেই অবাক শহরে বড় চেনা আর আপন মনে হয়েছিল গঙ্গাকে। আমার মা নদীপাড়ের মেয়ে। জলের সঙ্গে তার সখ্য। প্রতিবার বাপের বাড়ি যাওয়ার সময়ে, শহুরে অনেক জিনিসের সঙ্গে তাই এক শিশি গঙ্গার জল নিয়ে যেত বাপের বাড়িতে। গঙ্গার জলের বড় চাহিদা সেখানে। শুভ কাজে, পুজোয় লাগে। আর কালীঘাটের কালীগঙ্গার জল ছিল পবিত্র, শুদ্ধ।
ছোট থেকে বড় হতে-হতে আমিও দেখেছি সেই কালীগঙ্গাকে। গঙ্গার জল তখন এত কালো ছিল না, শহরের ভার নিয়ে, দায় নিয়ে দুর্গন্ধে বয়ে যেত না। খুবই স্বাভাবিক এক তিরতিরে বয়ে যাওয়া জলধারায় দেখেছি তাকে। রীতিমতো জোয়ার-ভাটার খেলা ছিল সেখানে। আর ছিল বান। বান এলে বাজার টপকে জল ঢুকত হু-হু করে। কারও-কারও একতলার মেঝেয় জল— সংসার চড়ত চৌকিতে। তিথি-নক্ষত্রের জোয়ারে তাই বেশ সামলে চলো ভাব। ষাঁড়াষাঁড়ির বানে কালীঘাট রোডে আর এক গঙ্গা! পরে গঙ্গামাটির পলি ধোয়ার পালা।
তখন জোয়ারের সঙ্গী হয়ে নৌকা আসত কালীগঙ্গার ঘাটে-ঘাটে। খড়ের নৌকা, তুষের নৌকা, টালির নৌকা, বাঁশের নৌকা। নৌকা ভিড়ত চেতলা-কালীঘাটের আশেপাশেই। বাঁশ বয়ে আনা নৌকাগুলো ছিল দেখার মতো, একটুখানি নৌকা তার লেজ ছিল লম্বা। কিছু-কিছু সময়ে তারা গঙ্গার জলের টানে-টানে বাঁশ টেনেও নিয়ে আসত। টালি-বাঁশ খালাস হয়ে যেত গোলায়। তখন এদিকে বেশ অনেকগুলো টালি-বাঁশের গোলা ছিল। খড়-তুষ পটুয়াপাড়ায়। মাটির নৌকাও আসত, এঁটেল মাটি নিয়ে। তাল-তাল মাটি নামত পটুয়াপাড়ায়।
আরও পড়ুন : ‘নেটিভ’-দের জন্য তৈরি গির্জায় এসেছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ! লিখছেন রামিজ আহমেদ…
কালীঘাটের কালী মন্দিরের উলটোদিকের পথ ধরে গঙ্গা। গঙ্গাঘাটের দু’পাশে হরেক দোকান। নিত্যদিন সেখানে যেন মেলা বসত। অমাবস্যা-পূর্ণিমায়, শনি-মঙ্গলবারে, তিথি-নক্ষত্রে, পালা-পার্বণে জমজমাট। মন্দিরে এলে আগে বা পরে গঙ্গার ধরে আসবেই আসবে পুণ্যার্থীরা। গঙ্গার জল মাথায় না ছিটোলে হয়। ও গো মা গঙ্গা, মা গো গঙ্গা! তখন গঙ্গা এত ছ্যা ছ্যা হয়নি, কালীগঙ্গা তখন রুগ্ন কিন্তু জীবন্ত। মা কালীর মতোই পূজ্য। কালীর ঘাটই তো কালীঘাট!
কালীঘাট থেকে ওপারে চেতলার ঘাটে রীতিমতো ফেরি চলত। নৌকায় মানুষ উঠলে নৌকার দড়ি খুলে লগি ঠেলে জল কেটে চলত ওপারে। এপারে কালীঘাট, ওপারে চেতলা। দু’পারে দুটো গুমটি ঘর। ফেরি পারাপারের ভাড়া দু’নয়া পয়সা। চেতলার হাটবারে সকালবেলায় উপচে পড়ত ভিড়ে। পরে নৌকার সঙ্গে নৌকা বেঁধে চলাচলের পথ হত।

নিত্যদিন ভোর না হতে-হতে গঙ্গার ঘাট জমজমাট। ভোর থেকেই সেজেগুজে বসে পড়তেন পুরোহিত বামুনরা। ব্রাহ্মণ আর যজমানের ভিড়। ঘাটের চারদিকে আদ্যশ্রাদ্ধ থেকে হরেক কিসিমের ক্রিয়াকর্ম লেগেই থাকত। পালা-পার্বণে অনেক বেশি। গঙ্গার ঘাটে অনেকেই আদ্যশ্রাদ্ধের কাজ করতেন। ঘাটে যাওয়ার পথেই আছে পান্ডাদের ধর্মশালা। যাঁরা শ্রাদ্ধের কাজ করতে আসতেন, তাঁরা সাময়িক ঠাঁই নিতেন এখানে। রাতে ওই ঘরে বিয়ের বাসরও বসত। ঘাটে গেলেই দেখা মিলত অনেকরকম মজার মানুষের। বেশ কয়েকজন ছিলেন, যাঁরা সকালে থেকেই চন্দন বাটতেন। তাঁরা লোকজনের কপালে কাঠের ছাঁচে এঁকে দিতেন দেবতার পদচিহ্ন। কপালে গাঁদা ফুলের চন্দন-ছোপ দিতেন। তার মাঝে একটা লাল সিঁদুরফোঁটা। কালো মানুষের কপালে চন্দনের ফুল-ছোপ দেখলে মনে হবে ক্যারাম বোর্ডের ঘুঁটি ছড়ানো। চামড়ার রং কালো, চন্দনের ফোঁটা সাদা ঘুঁটি, সিঁদুরের লাল ফোঁটা যেন রেড। কপালে ফুল ছাপ দিয়েই তাঁরা হাত পাতত। পয়সা দাও।
এই ঘাটেই বিকেল গড়ালেই ক্যারামের বোর্ড বসত, ঘাটের ধাপে দাবা, ঘাটের চাতালে ষোলো ঘুঁটি, বাঘ-বন্দিরও চিরস্থায়ী ছক কাটা। তাস ছিল। তাসের আসরে খুচরো পয়সার জুয়া ছিল। বসে পড়লেই খেলা শুরু। শুনেছি, এই জুয়া খেলে কয়েকজনের সংসার চলত। আমার বন্ধু হেবুর বাবার কাজকর্ম-সংসার উচ্ছন্নে দিয়েছিল এই জুয়া । হেবুর ঠাকুমা বিড়বিড় করতেন— তাস-পাশা, সর্বনাশা!

এখন ঝাঁ-চকচকে রাস্তায় এলইডি আলো চমকে থাকে। তখন লাল লাল বালবের আলো সন্ধে পার হলেই ঘাটের রাস্তা চেনা পাড়া হয়ে যেত।
তখন কালীঘাট পাড়ার মতো। এত ব্যবসায়ী, এত দেখনদার হয়ে ওঠেনি। তখন ঘাটের পরেই আড়াল, সেদিকে তাকালেই দেখা যেত সারাদিনের পরে সাদা কালো মাথাগুলো গোল হয়ে বসে, তাদের মাথার ওপর ধোঁয়ার মেঘ ভেসে। খক খক কাশির সাউন্ডবক্স বাজত অবধারিত। সবগুলো গেঁজুড়ে। ছোটবেলায় জ্ঞানবৃক্ষর ফল খেয়ে খেয়ে জানতাম, গেঁজুড়েরা ভাল হয়, গাঁজা-টানা পর্ব শেষ হলে হারানমাঝির দোকানে যায়। ভাঁড়ে করে দুধ খায়। ছেলেপুলের জন্য কড়াপাকের সন্দেশ কিনে ‘মায়ের পায়ে জবা হয়ে…’ রামপ্রসাদী গাইতে-গাইতে বাড়ি ফেরে। কোনওদিন শুনিনি যে, কোনও গেঁজুড়ে গঞ্জিকা সেবন করে গিয়ে বউকে মারধর করে। এটা মাতালদের একচেটিয়া।
সন্ধেবেলা কালীঘাট মন্দির যখন জমজমাট, তখন গঙ্গার ঘাটের দিকে, দুধওয়ালা পার্কে নেশাতুর মানুষজনের আনাগোনা। ওদিকেই কালীমাসির চোলাইয়ের ঠেক ছিল। ওদিক থেকে চোলাই গিলে-গিলে শেষ হয়ে আসা মানুষগুলোকে মাকড়শার মতো দেখতে হত। ঢোল পেট, আর সরু-সরু হাত-পাওয়ালা মানুষগুলো আসলে শ্মশানমুখো! শিগগির ঘাটে যাবে। এ-ঘাট সে-ঘাট নয়।
কালীঘাটের গঙ্গাধার বরাবর ঘুপেঘাপে নানান নেশার আয়োজন। আবার শ্মশানের দিকে চলে গেলে ‘নেশা উইথ তন্ত্রসাধনা’র তান্ত্রিক মিলত। কালীঘাটের কালীর ভৈরব হলেন নকুলেশ্বর। গেঁজুড়েরা সোমবার নকুলেশ্বরে রাতবিরেতে হাজির হয়ে— ‘বাবা’ বলে একবার হাঁক দিত। হাতে কলকে, আকন্দ ফুলের মালা, কেউ-কেউ রজনীগন্ধাও আনত। তারাই আবার শনি-মঙ্গলবারে একান্ত আপন কালী মা-কে জবার মালা দিয়ে আসত। আমরা কালীঘাটের মানুষজন জানতাম, কোন দেবতা কোন ফুলে খুশি!
শনি-মঙ্গলবার, অমাবস্যা-পূর্ণিমায় মন্দিরে লোক হত দেদার। পুরী বা গয়ার পান্ডাদের মতো কালীঘাটের পান্ডারা কোনওকালেই খুব একটা বিপজ্জনক ছিল না। তারা ভক্ত ধরতে চলে যেত এদিকে পটুয়াপাড়ার ট্রামলাইন থেকে ওদিকে কালীঘাট পার্কের দিকে ট্রামলাইনের কাছে। তাদের প্রথম কথাটি পুজো সংক্রান্ত হলেও, মন্দিরের কাছাকাছি এসে একটা কথা খুব আলগোছে বলত— ‘এখানে খুব জুতো চুরি হয়। জুতো সাবধান! আমাদের দোকানে আগে জুতো রেখে, তারপর মা-কে দর্শন করতে যান।’
আমার কালীঘাট শুরু হত পটুয়াপাড়া থেকে। পটুয়াপাড়া, তারপর ট্রামলাইন পেরিয়ে ডানদিকে রেডলাইট এরিয়া, বাঁয়ে ভদ্রপাড়া। তবে মাঝে দুটো জায়গার দুটো বাড়ি আবার গৃহস্থ নয়। টানা হেঁটে চললে কালীঘাট হাইস্কুল, কালীঘাট বাজার, মন্দির, উলটোদিকে গঙ্গার ঘাট, পাথরপট্টি পেরিয়ে শ্মশান। শুধু শ্মশান নয়, মহাশ্মশান। যেন পটুয়ার হাতে জন্ম হয়ে এক জীবন পেরিয়ে মহাশ্মশানে বিসর্জন!
পান্ডাদের দোকানে জুতো রাখলেই, লোহার লম্বা হাতায় গঙ্গাজল তুলে আপনার হাতে দেবে। হাত ধুয়ে নিন, তারপর মা-কে দর্শন করতে যাবেন। হাত ধুলেই হাতে ডালা ধরিয়ে দেবে। লোক বুঝে ডালা। সে-সময়ে আট আনা, পাঁচ সিকের ডালার খুব চল ছিল। শালপাতার চাঙারি। তাতে খান পাঁচেক পেঁড়া, একটু ফুল, জবা মাস্ট। একটু শালপাতার টুকরোতে, গোলা সিঁদুর, লাল সুতো, ছোট শাঁখা। পাঁচ সিকের ওপরে উঠলে ছোট্ট পাতায় গোলা সিঁদুর থাকবে, সঙ্গে একটা সিঁদুরের প্যাকেট; আলতা, শাঁখা, লাল সুতো, পেঁড়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। মোটামুটি সব দোকানেই পেঁড়ার কোয়ালিটি একই। তবে সাইজে বড়-ছোট আছে। পান্ডাদের একটাই পোশাক ছিল উঁচু করে পরা ধুতি, ফতুয়া বা হাফ পাঞ্জাবি। এখনও তাই চলছে। ডালা এবং ভক্ত-ধরার বিষয়গুলো একইরকম। আগে খালি পায়ে আসা মানুষজনকে জুতো চুরির ভয় দেখানো যেত না। তবে সঠিকভাবে বুঝতে হত, এই দলগুলোর আসল মাথা কে? আসল মাথাটিকে ধরলে সবাই এসে এক জায়গায় জুটবে। পান্ডাদের কায়দা অদ্ভুত। অবাঙালি দেখলেই গলায় একটা লাল সুতো পরিয়ে দেয়। যেন ওই সুতো সঙ্গে বেঁধে ফেলা। আবার বিহারি দেহাতিদের মূল মন্দিরে ঢোকার আগেই একটা ফাটা বাঁশ দিয়ে চটাস-চটাস শব্দ করে মারে। ওদের হাত পাকা, কখনও আমাদের মারেনি।
আমার কালীঘাট শুরু হত পটুয়াপাড়া থেকে। পটুয়াপাড়া, তারপর ট্রামলাইন পেরিয়ে ডানদিকে রেডলাইট এরিয়া, বাঁয়ে ভদ্রপাড়া। তবে মাঝে দুটো জায়গার দুটো বাড়ি আবার গৃহস্থ নয়। টানা হেঁটে চললে কালীঘাট হাইস্কুল, কালীঘাট বাজার, মন্দির, উলটোদিকে গঙ্গার ঘাট, পাথরপট্টি পেরিয়ে শ্মশান। শুধু শ্মশান নয়, মহাশ্মশান। যেন পটুয়ার হাতে জন্ম হয়ে এক জীবন পেরিয়ে মহাশ্মশানে বিসর্জন!
এখন কালীঘাট বলতে অন্য কিছু বোঝায়, দেবতা পালটে গেছেন। তাঁর পুজো ও নৈবেদ্যও ভিন্ন। কিন্তু তখন এক এবং অদ্বিতীয়ম মা কালী। তাঁর জন্যই আমরা কালীঘাটের লোকজনের বাংলা ক্যালেন্ডারের দিন পালা-পার্বণ সহজেই মনে রাখি। কাউকে আলাদা করে বলতে হয় না, সকালে উঠে লাল সুতো-দুব্বোর তাগায় বুঝি বিপত্তারিণী। সরাভরা গাছেই জেনে যাই ইতু-লক্ষ্মী। রাস্তার ধারে মুলোর বান্ডিল মানে পৌষের শেষ। অমাবস্যা-পূর্ণিমা সব রাস্তার গন্ধে-গন্ধে চিনি। আমার মা আমাদের ওপর রাগ করে বেরিয়ে অন্য কোথাও যায় না, কালীবাড়ি যায়। যেন বাপের বাড়ি। স্বামী-পরিত্যক্তা তনয়াদিদি ফি সন্ধেবেলা নাটমন্দিরে গিয়ে গান শোনে। মন জুড়ায়। মন্দিরচাতালে রাতে অনেক আলো, ওখানে রাতেও ফুটবল খেলা যায়। কুণ্ডপুকুরে লাল-নীল মাছের মেলা, ফি বছর একজন-না-একজন ডুবে মরে। কুণ্ডপুকুরের জল নাকি ভরদুপুরে আয়-আয় করে ছোট ছেলেদের ডাকে। আমাদের পাড়ার ছেলে বাবলুও একদিন ভেসে উঠেছিল ওই পুকুরে। অথচ কালীগঙ্গায় কাউকে কোনওদিন মরতে দেখিনি। কোনওদিন কোনও লাশ ভেসে এসেছে, এমন শুনিনি। তবে একবার যিনি ভেসে এলেন, তাঁকে দেখে সারা কালীঘাটের শহুরে মানুষজন তিমি-তিমি করে সোরগোল ফেলে দিয়েছিল। আমরা যখন তিমি-তিমি করে লাফাচ্ছি— মা বলেছিল— শুশুক। মামার বাড়ির নদীতে অনেক দেখা যায়, নৌকার আগে আগে চলে, মাঝিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়।
শুশুকের মতো আমিও একবার পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম আমার মাসতুতো বউদির ভাইকে। সে আমাদের বাড়ি এসেছিল। তারপর যথারীতি গঙ্গার জল নেবে এক শিশি, তাই আমি গাইড হয়ে তাকে নিয়ে চললাম। কালীঘাট রোড পার হয়ে ঢুকে গেলাম বেশ্যাপাড়ায়, যাকে কালীঘাটের লোকজন ‘গলি’ বলে, সেই গলির ভেতর দিয়ে সটান গঙ্গার পারে। জল নিয়ে ফিরে এলাম। মা সন্দেহ করল— এত তাড়াতাড়ি কী করে গেলাম আর এলাম? দাদাটি মাথা চুলকে বলল— ‘ওই তো, এ-পাড়া থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে সোজা— অনেক মেয়ে-বউ দাঁড়িয়ে, সেখান দিয়ে।’ মা আমার কান মুলে আবার জল আনতে পাঠাল।
একই গঙ্গা। একই জল। অথচ ওটা নাকি আঘাট।
তেমন আমার অনেক বন্ধু ঠিক আমাদের মতো না, তারা গলির ছেলে, গলির মেয়ে। আমরা পাড়ার। ওরা গলির। ঘাট আর আঘাট!




