
দেখা-না দেখার জগৎ
‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে, গণেশ পাইন একজন অবিস্মরণীয় শিল্পী। ছয়ের দশক পরবর্তী চিত্রকলায়, তাঁর প্রধান অবদান এই যে— ছবিতে তিনি ঐতিহ্য অন্বিত একদেশীয় আত্মপরিচয় সন্ধান করেছিলেন।’

‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে, গণেশ পাইন একজন অবিস্মরণীয় শিল্পী। ছয়ের দশক পরবর্তী চিত্রকলায়, তাঁর প্রধান অবদান এই যে— ছবিতে তিনি ঐতিহ্য অন্বিত একদেশীয় আত্মপরিচয় সন্ধান করেছিলেন।’

ভাঙন-প্রবণতা ও প্রতিবাদী চেতনাই হয়ে উঠেছে তাঁর সৃজনের উৎস। সেই উদ্দামতা থেকেই তিনি বারবার ভেঙেছেন। বিংশ শতকের প্রথম তিনটি দশকে আধুনিক ও আধুনিকতাবাদী পাশ্চাত্য শিল্পের আঙ্গিকগত বিপ্লবে পিকাসোর যে অবদান, এর সমান্তরাল কোনও কিছু ইউরোপে বা সারা বিশ্বে ঘটেছে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

‘‘কাজের ক্ষেত্রে স্বপ্নাদি ছিলেন অত্যন্ত একনিষ্ঠ, যাকে বলে ‘সিরিয়াস’। মাঝে-মাঝেই চলে যেতেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বা বাংলাদেশে। কোনও একটি ঘটনা সামগ্রিকভাবে নিরীক্ষণ করে ফিরে এসে লিখতেন বিশ্লেষণাত্মক লেখা। সে-লেখার ধার ও ভার দুই-ই ছিল অবিস্মরণীয়।’’

‘ক্ষুধার আর একটি রেখাচিত্র তিনি এঁকেছিলেন ৬.৪.১৯৪৬ তারিখে। মাঝখানে শীর্ণ নদী। ওপাশে বনে পিকনিক করছে ধনী ও সম্ভ্রান্ত ছেলেমেয়েরা। এপারে কয়েকটি ক্ষুধার্ত শিশু করুণ শরীরে তাকিয়ে আছে সেদিকে। এই হলেন নন্দলাল, যিনি আদর্শ ও বাস্তবকে মিলিয়েছিলেন তাঁর শিল্পযাত্রায়।’

‘একদিন তিনি মেডিক্যাল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে, ট্রাকবোঝাই মৃতদেহ নামানো হচ্ছে, চোখে পড়ে যায় অপূর্ব সুন্দরী মধ্যবয়সি এক মহিলার নগ্ন মৃতদেহ ভূমিতে শোয়ানো। বুকের ওপর অস্ত্রের আঘাতে রক্তের দাগ তখনও জ্বলজ্বল করছে। গণেশ পাইন পরে বলেছিলেন, এ-নৃশংস বাস্তবতা ছবিতে আঁকা যায় না।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.