
নাম লুঠ
‘দয়া করে আমাদের ট্রাইবুনাল দেখাবেন না, ওসব আমরা জানি। যেখানে যেতে বলেছে রাষ্ট্র এই গত ক-মাস, সেখানেই ভোর থেকে গিয়ে লাইন দিয়েছি— সব রকম কাগজপত্র নিয়েই গিয়েছি— সার্টিফিকেট, দলিল, পাসপোর্ট— যা যা আছে সব। তবু কেটে গেছে নাম।’

‘দয়া করে আমাদের ট্রাইবুনাল দেখাবেন না, ওসব আমরা জানি। যেখানে যেতে বলেছে রাষ্ট্র এই গত ক-মাস, সেখানেই ভোর থেকে গিয়ে লাইন দিয়েছি— সব রকম কাগজপত্র নিয়েই গিয়েছি— সার্টিফিকেট, দলিল, পাসপোর্ট— যা যা আছে সব। তবু কেটে গেছে নাম।’

সচলের কথায় ফলত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ আবার ভেবেছেন, এ আসলে কবির খামখেয়াল, উন্মাদনা। এই পথে সকলেই গেলে অনাসৃষ্টি কাণ্ড হতে পারে— এর গভীর ও সূক্ষ্ম তাৎপর্য সকলের পক্ষে আয়ত্ত করা অসম্ভব। তাই সচল তাঁর জীবনকালে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মপ্রধানদের কাছে ছিলেন বিপজ্জনক ব্যক্তি।

জনতার কাছে তাঁর গান আরামের মতো, আপ্যায়নের মতো, শুশ্রূষার মতো এসে পৌঁছয়। ধর্মীয় নেতাদের দেখানো ইসলামে তাঁর আস্থা নেই বোঝাই যায়, তিনি রুমির শিষ্য, মনসুর হাল্লাজের উত্তরপুরুষ, হাল্লাজের মতোই তিনি দৃঢ়ভাবে জানাতে পারেন, আমি-ই সব, আমরা-ই সমস্ত জুড়ে আছি, আমরা সবাই, সব আমি-ই আসলে তিনি।

“ঈষৎ তির্যকভাবে একটি কবিতার শেষ প্রান্তে সুলতান বাহু লেখেন, আমার কিছু পাপ যদি না-ই থাকে তাহলে হে প্রভু, তুমি ক্ষমা করবে কী? যেন মনে হবে, আল্লাহ বা ঈশ্বরের একটি বহু-চর্চিত গুণকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার জন্যই কিছু মানবিক পাপ প্রয়োজন।”

“আমরা আজ শাহ মাধো লাল হুসেইনকে নিয়ে কথা বলব— বিদ্যাপতির চেয়ে যিনি বয়সে বেশ কিছুটা ছোট— বিদ্যাপতির মৃত্যুর প্রায় একশো বছর পরে তাঁর জন্ম। পাঞ্জাবি ভাষার সুফি পরম্পরার কবি তিনি। কবিতা লিখেছেন প্রচলিত লোকায়ত সংরূপ ব্যবহার করে— পাঞ্জাবি সাহিত্যে সেগুলিকে ‘কাফি’ বলা হয়।”

বাবা ফরিদের শ্লোকে একদিকে যেমন চরম বৈরাগ্য, জীবনের সব আকর্ষণ তুচ্ছ করে সংযমের কথা আছে, বারবার আছে মৃত্যুর অনিবার্যতার কথা, তেমনই এসবের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করেছে পরম সত্তার সঙ্গে মোলাকাতের জন্য অস্থিরতা। ‘সিন্ধুপারের সুফি’ পর্ব ২-এ পড়ুন ‘বাবা ফরিদউদ্দিন মাসুদ শকর্গঞ্জ’ সংক্রান্ত লেখার দ্বিতীয় কিস্তি…

কত বিচিত্র পথে হেঁটেছেন ফরিদ। জন্মস্থান থেকে কাবুল গেছেন ধর্মতত্ত্ব পড়তে— তাঁর গুরু ফকির কুতবুদ্দিন বখতিয়ার কাকি প্রথমে তাঁকে শিষ্য হিসেবে মেনে নেননি, বলেছিলেন আরও লেখাপড়া শিখে এসো বাপু, তবে ছাত্র করে নেব তোমায়। ফরিদ তাই গিয়েছিলেন কাবুল। কিছুকাল পড়াশোনা করে ফিরে আসেন। শিষ্যত্ব মেলে। ফরিদ দিল্লি এসেছেন অনেকবার।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.