শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫১

Image for poetry

কয়েকটি কবিতা


ছায়া লেগে কেটে যায় তোমাদের আলোচনাগুলি।
পাড়ার বকেয়া সন্ধে মিটিয়ে দিয়েছে স্বাতীলেখা—
যে-ধারণা আবছায়া, তুমি তাকে ডেকেছ গোধূলি।
এই ছোট ভালবাসা তোমারই ভ্রান্তির কাছে শেখা।


রোদ্দুরের ঘষা লেগে ছাদের মহিষজন্ম হয়।
কাঁধের পাঁচিলশ্রম ঝেড়ে ফেলে সে ডোবায় দিন…
উড়ন্ত দেখেছে যারা তাকে তারা ডেকে আনে ভয়
একা তার চিলেকোঠা তখন কপালমধ্যে শিং…


দরিয়াপারের কথা শোনাও হে বন্ধু, মাঝিগণ
সেখানে ফসল বুঝি বাতাসে স্পর্শের মতো ভাসে
ছুটি অনুযায়ী রোদ বদলে নিতে পারে দিনক্ষণ…
অথচ কেবলই মেঘ ধরা পড়ে আমাদের আকাশে।


সহজিয়া তরিবত তোমার মনের অনুগামী
ট্রেনের হকারন্যায় সে বিক্কিরি করে অবসাদও।
শেষ ট্রেনে সেই কবে ঘরবাড়ি ছেড়ে গেছি আমি…
তুমিও কি আনমনে হাতখোঁপা ক’রে চুল বাঁধো?


এত যে সুরের ধ্বনি, গ্রামে ঘোরে দরবেশরাশি।
ভিক্ষা কী মধুর, তুমি দিতে পেরে তবেই তা জানো।
শ্রমহীন দুঃখ, তাকে লোকে বলে বিষাদবিলাসী…
কণ্ঠের সমস্ত ব্যথা মণিহারি গানেই সাজানো।


তরঙ্গের মন চেনে যে-জাহাজ, ভরাডুবি তারই।
বাণিজ্যে সে চলেছিল দূরদেশে, দ্রুত সব ভুলে
ভেঙে পড়ে ভারহীনতায়, যেন মহাকাশচারী…
নিশান, অন্তম চিঠি, লেগে থাকে নিহত মাস্তুলে।


কখনও দুর্গম হলে সে-খবর পাঠিয়ো, পাহাড়
আমি পর্যটক, যত দুরূহ পথের অভিগামী
মৃত্যুটি গন্তব্য হলে পথে পাব সুদৃশ্যের ছাড়…
জেনো যা সুন্দর, তা অন্তিমের চেয়ে বহু দামি।


স্মরণের ঘুম বাজে গ্রামের নরম পায়ে-পায়ে
জাতিস্মর বালিকারা খেলাধুলো সেরে ফেরে ঘর
আয়নারা কেঁদে ওঠে ভাষাহীন অন্ধের বিদায়ে
যে-সন্ধে সহজে নামে, চুপিচুপি সেও জাতিস্মর।