কয়েকটি কবিতা
দৃশ্য
সহসা কী উড়াল দিচ্ছে দুর্বিনীত ভাবনা
অথচ সে ভাবছিল, মন সাহসী কিতাব না।
এক পাতা ওলটালেই বুঝি থমকে যাবে দৃশ্য…
যদিও তার আকাশগামী ইচ্ছে ও অনিচ্ছে
স্কুলের পোশাকের মতোই চিরকালীন বিচ্ছেদ।
কলহ তার বলছে কানে, ‘আচ্ছা ক’রে নিস শোধ!’
সহসা কী ডুব লাগাচ্ছে অহংকারী স্বপ্ন
যতই ঘোরাও, আমি তো তার হাতের মালার জপ নই,
স্পর্শ পেলে ঘূর্ণি যাবে উজানে প্রবৃত্তি।
অসম্ভবী ঝগড়া পায়ে ঝামরে থাকা দিনকাল
প্রজাপতি সবুজ পেলে ভাঙে তিনকা তিনকা
সে জানে না কার গলায় রবীন্দ্রসংগীত ঠিক।
অযথা এই দেবব্রত-কণিকা বিতর্কে
উপকুলের সতর্কতা জানান দিচ্ছ ঝড়কে
মন তাহলে নিজের মতো চোখের ওপর নিক শোধ?
সহসা কী উড়াল দিচ্ছে দুর্বিনীত ভাবনা
অথচ সে ভাবছিল, মন সাহসী কিতাব না।
এক পাতা ওলটালেই বুঝি থমকে যাবে দৃশ্য…
রাখাল
জরির কাজে কোন অজানা আঙুল ছিল লিপ্ত
কাদের বাতাস কপাল থেকে উড়িয়ে নিল টিপ তোর…
এসব রহস্য জানে ভিনদেশি রাখালটি।
উনিশখানা বছর তার গেছিল ভুল নিদ্রায়
যে-স্বপ্ন খনন করেন ইতিহাসবিদরা
তারই মধ্যে উলটে ছিল চক্ষুভরা বালতি।
দেখত সে সহস্র সূর্য একটি মাঠে ভাঙছে
রোদের অমন অতীন্দ্রিয় তেজ কীরকম পানসে
যখন তাকে ঘাসের নীচে গুম করে সায়াহ্ন
এই ক’রে জীবন গেল সাতসমুদ্র পার তার
গ্রামীণ জটলায় ছড়ায় বিরহী এক বার্তা,
ভিতর থেকে কান্না বলে, ‘এবার একটু গান হোক’।
সেই প্রবাদে আজও ওড়ে ফুলকি ও হেমন্ত
আর কিছুদিন আগেও কত রঙিন ছিল মন তোর—
রোজ একখানা মোমবাতি তোর হাতের পাতায় জ্বালতিস।
জরির কাজে কোন অজানা আঙুল ছিল লিপ্ত
কাদের বাতাস কপাল থেকে উড়িয়ে নিল টিপ তোর…
এসব রহস্য জানে ভিনদেশি রাখালটি।
বিকেল
বিকেল যাকে দিয়েছে একমুকুট অপ্রাপ্তি
আর বিজনে ঠান্ডা হওয়া মৃত চায়ের কাপটি—
চিলেকোঠা গরিব হলেও নীরবতার স্বর্গ।
হঠাৎ বাড়ি ফেরার পরে কেউ নেই কেউ আসবে
এই দ্বিধার বাতাস যখন মিলিয়ে যায় বাষ্পে—
নরম ক’রে জড়িয়ে ধরে স্মৃতি। অতীত। খরগোশ।
রিক্সা ভাসে, এক অজানা ফেরিওলা শূন্যে
দু’খানি কিশোরী, যাদের ক্যালেন্ডারে জুন নেই
তৎসহ এক অন্ধ বৈরাগীর গলা, তৈরি।
পাঁচিল থেকে হাত বাড়াচ্ছে নিরীহ গাছ, জংলা
পরের পুজোয় যে-নাটকটা নামবে, তার সংলাপ…
যে-দিক তারা চেনাবে, তার নাম রেখেছে নৈঋত।
এক ঝড় কেবলই আসে, ওলটপালট ঝঞ্ঝা
তার খোলা চুলও কি কিছু জটিলতায় কম যায়?
বিনুনি ঝাপটে সে বলে, ‘কী বিচ্ছিরি ঘর গো!’
বিকেল যাকে দিয়েছে একমুকুট অপ্রাপ্তি
আর বিজনে ঠান্ডা হওয়া মৃত চায়ের কাপটি—
চিলেকোঠা গরিব হলেও নীরবতার স্বর্গ।



