এক শালিক : পর্ব ৫৩
কখনও কখনও বিপরীত মেরুর জীবনও একই মন্ত্র জপে। প্রকৃত সাধু আর সফল অসাধুর মধ্যে ফারাক বিস্তর— তবে দু’পক্ষই ডিসিপ্লিনপন্থী; এবং হৃদয়দৌর্বল্যকে উপেক্ষা করতে সর্বদা উৎসাহী!
কখনও কখনও বিপরীত মেরুর জীবনও একই মন্ত্র জপে। প্রকৃত সাধু আর সফল অসাধুর মধ্যে ফারাক বিস্তর— তবে দু’পক্ষই ডিসিপ্লিনপন্থী; এবং হৃদয়দৌর্বল্যকে উপেক্ষা করতে সর্বদা উৎসাহী!
‘যে অফিস যাওয়াটাকে, যে কাজ করাটাকে আমরা জীবনের একটা আবশ্যিক ও প্রার্থিত অঙ্গ বলে মনে করি, এই ছবি বলে, ধুর, সেটা থেকে না বেরোলে মানুষ আবার বাঁচতে পারে না কি?’
ক্যামেরা এক অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার— অতীতে বন্দি প্রজাতির কাছে সে হয়তো সময়-এর নাগপাশ বাইপাস করে সুখের স্মৃতিগুলো আজীবন বাঁচিয়ে রাখার জাদুযন্ত্র। আবার অন্য অর্থে সে কি বর্তমান-কে সেই মুহূর্তেই উপভোগ করার পরিপন্থী?
‘সত্যি, এ সমাজে বাঁচতে গেলে চেনা ডাক্তার, চেনা উকিল, চেনা পুলিশ, চেনা ট্যাক্সি ড্রাইভার এবং চেনা চিড়িয়াখানার দারোয়ান প্রয়োজন। তা যখন নেই, একজন এ কম্পার্টমেন্টের আপার বার্থ, অন্যজন পাশের কম্পার্টমেন্টের মিডল বার্থ।’
মানুষ স্বাধীন না বৃহত্তর ক্ষমতার অধীন তা যুগে-যুগে তাত্ত্বিকদের ভাবিয়েছে। আজকের দুনিয়াতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি হয়তো অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে সাহায্য করছে, কিন্তু একই সঙ্গে আমার-আপনার স্বাভাবিক, স্বাধীন আচরণকে কি দমন করছে না?
‘পাকিস্তানে দাঁড়িয়ে এমন ছবি করা হচ্ছে যেখানে ছেলে ছেলেকে চুমু খাচ্ছে, রূপান্তরকামীর অধিকারকে সমর্থন জানানো হচ্ছে, এমনকী বাড়ির বউয়ের যৌনতেষ্টার কথাও বলা হচ্ছে— শুধু এই সাহসের জন্য নয়, ছবিটা বিশিষ্ট কারণ এতে আছে দরদ।’
সিনেমার এক্সট্রা থেকে ব্রিজের শ্রমিক, সকলে জানেন তাঁদের নাম কেউ জানবে না, কাজের বড় স্বীকৃতি তাঁরা পাবেন না, তবু তাঁরা নিজেদের কাজ নিষ্ঠাভরে করে যান। কখনও বড় কবি নিজের ভাবনা মহাভারতে প্রবিষ্ট করে নিরভিমানে সরে যান, ব্যাসদেবের কীর্তি প্রচারিত হয়।
‘এখন পাশ্চাত্যে থ্যাংকসগিভিং চলছে, গোড়ায় নাকি তা শস্যফলনের জন্য ধন্যবাদ-প্রদান অনুষ্ঠান ছিল, ইদানীং নির্দিষ্ট গণ্ডি নেই, সামগ্রিক ধন্যবাদের পরব। টার্কি খাও, আত্মীয়দের সঙ্গে হল্লা মচাও, এবং ঈশ্বর ও পৃথিবীকে কৃতজ্ঞতা জানাও।’
দলে ভিড়লে বহুক্ষেত্রেই মানুষের মানবিকতা ও নীতিবোধ লোপ পায়— এই কঠিন সত্যের সাক্ষী পুরাণের পাতা থেকে সভ্যতার ইতিহাসে বিভিন্ন যুদ্ধের নৃশংস সব কাহিনি। আজকের সভ্য-সমাজেও রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত তা আবারও মনে করাচ্ছে।
‘শেষ দৃশ্যে বু’র বিচার হয়, সেখানে মা’র উকিল তার দৈনন্দিন জীবন থেকে ঘটনা তুলে তুলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে থাকে, বু’র উকিল প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে উঁচু থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। ফের কাফকা। বিচার, শাস্তি, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ না থাকা।’
আজকের পৃথিবীতে মাল্টি-টাস্কিং এক বাধ্যতামূলক চারিত্রিক উপকরণ। যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে— এই মন্ত্র খেলার মাঠকেও ছাড়েনি। ব্যক্তি বনাম সমষ্টি-র এই ইঁদুরদৌড় কি খেলার মাঠের অনায়াস, অনাবিল আনন্দকে শিকলবন্দি করে তুলছে?
‘নিজের মা-বাবার প্রতি পক্ষপাত স্বাভাবিক, নিজের জাতি বা দেশের প্রতি পক্ষপাত স্বাভাবিক, কিন্তু স্বাভাবিক বলেই তা কাম্য হতে হবে কেন? এগুলোকে একবার বেদিতে তুলে পুজো শুরু করলে, সাম্প্রদায়িকতাকেও স্বাভাবিক, সুতরাং পূজ্য মনে হবে।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2025 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.