‘অগমপারের দ্যুতি’

আকাশের গায়ে ভেসে যাওয়া সব আলোর বুটি, খসে যাওয়া তারা নয়। সব উল্কা, উল্কা না-ও হতে পারে। অন্ধকারে, অন্তরিক্ষের শিরায়, অদ্ভুত জ‍্যোতি মিছিল মানেই যে স্টারলিঙ্ক বা চিনের গোপন কোনও এক্সপেরিমেন্ট হবে, এমনটা ভেবে নেওয়াও একরকমের নাস্তিক মৌলবাদ।

ইউএফও বলে কিছু হয় না, এ-কথা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না কেউ। অন্তত পক্ষে একজন সৎ, অ্যাজেন্ডা-মুক্ত মানুষ এমন অর্বাচীন দাবি করেন না। কারণ, তিনি জানেন এই মহাবিশ্ব অনন্ত। সমগ্র মানবসভ‍্যতার ইতিহাস তাঁর সামনে একখানা নিউট্রিনোর মতো তুচ্ছ। সদ‍্যোজাত শিশুর মতোই অসহায়। স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, মহাবিশ্বে লিকুইড ফর্মে জল বহু জায়গায় আছে। পৃথিবীর বাইরে যে প্রাণের কোনও স্থান নেই, এ-ধারণা তাই আকাটদের তৈরি। উনি বিদেশি ছিলেন বলে, ‘stupidity’ শব্দটা ব‍্যবহার করেছিলেন, সেই জন‍্য গায়ে লাগেনি আমাদের। আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন অগারাম হতবুদ্ধিকেই। সত‍্যজিৎ রায়ের ‘আগন্তুক’ ছবির মাথামোটা ইন্টালেকচুয়াল, অ‍্যাডভোকেট পৃথ্বীশের মতো ফাঁপা ভাবনা-শক্তিকেই।

হকিং সাহেব অবশ‍্য সেখানেই থেমে থাকেন নি। উল্টে ছুড়ে দিয়েছিলেন তেতো প্রশ্ন:

ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত প্রাণকে বেঁচে থাকার জন‍্য যে অক্সিজেন দিতে হবে, এমন মাথার দিব‍্যি কে দিয়েছে? কোনও অজানা গ‍্যালাক্সিতে, কোনও গ্রহে, বেঁচে থাকার জন‍্য কোনও প্রাণের যে নাইট্রোজেন প্রয়োজন পড়ে না, এ-কথা মানুষ জানল কী করে? তাদের হাড় যে ক‍্যালসিয়ামের বদলে সিলিকন বা অন‍্য কোনও দ্রব‍্য দিয়ে তৈরি হতে পারে না, এটা কে আবিস্কার করল?

আরও পড়ুন: আফ্রিকান ফুটবল শুধুই ‘চমক’ নয় আর!
লিখছেন অরিত্র মজুমদার…

কেউ করেনি। তাও আঁশটে প্রোপাগান্ডার মতো একদল মানুষ উগরে দিয়েছে অশিক্ষা। যার দুর্গন্ধ অহংকারের মতো টক। একটু হাওয়া পেলেই ম-ম করে। দাবি করে, আমরাই আছি। আমরাই এ-বিশ্বের একমাত্র প্রাণীজ গ্রহ। তাই ওদের মতে, কার্ল সেগানরা  কল্পনাগ্রস্থ, যেন বিস্মৃত হয় মানে-মানে। দানিকেনরা বিপজ্জনক, ওঁদের ভিলেন বানিয়ে দাও চোখ বুজে।

‘প্রিভিলেজড’-দের বাননো বিজ্ঞান মঞ্চ বা সোসাইটিকে ঢাল করে একদল উদ্ধত অর্বাচীন এসব ছেলেমানুষি যখন করে বেড়াচ্ছেন, তখন ১৯৭৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন এলি‍য়েনরা যোগাযোগ করল আমাদের সঙ্গে। আমেরিকার ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির Big Ear রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়ল বেতার তরঙ্গ। সুদূর ধনুরাশি নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে ভেসে এল একটা রেডিও সিগন্যাল। যার ইংরেজি করলে দাঁড়ায় ‘WOW!’ ইতিহাসে এই সিগন‍্যালটি তাই WOW! signal বলে বিখ‍্যাত। কারা পাঠিয়েছিল? কেন পাঠিয়েছিল? WOW! বলতে কি বুঝিয়েছিল? WOW! কথাটা তারা জানল কী করে?

স্টিফেন হকিং

স্মৃতির রেখা লিখতে বসে বিভূতিভূষণ, বাঁশ ঝাড়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ‍ করেছিলেন ওরকমই একটা তারা, চেয়ে আছে মিট-মিট করে। সেটা দেখতে-দেখতেই সমাধিস্থ হয়ে গেলেন হঠাৎ। যেমন হতেন অহরহ। টেবিলের ফুলদানিতে রাখা ছিল চন্দ্রমল্লিকা। বিভূতিভূষণের মানসচক্ষু ভেদ করে গেল ফুলের বাহ‍্যিক রূপ। উনি প্রত‍্যক্ষ করলেন জগৎজননীকে। দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিশালাকায়, আলোঝলমল। নিজের অস্তিত্ব তখন বিলীন প্রায়। সকল বাসনা গলে যেতে চাইছে সহস্রার গলি বেয়ে। চেতনার আকাশে, মিটমিটে তারাটার মতো ফুটকি হয়ে জেগে থাকা ছাড়া উপায়ও নেই কোনও। বেশ খানিকক্ষণ পর হুঁশ যখন ফিরল, বিভূতিভূষণের চোখ আবার চলে গেল জানলার বাইরে, বাঁশঝাড়ের পেছনে। এবার আর মানসচক্ষে নয় চামড়ার চোখ দিয়ে দেখেলেন, একপলকে সেই তারাটা সরে গেল হুশ করে। বাঁশঝাড়ের আড়ালে। এতক্ষণ যেন অপেক্ষা করছিল, কখন ওর দিকে মুখ তুলে চাইবেন দেবযানের স্রষ্টা।

‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’-র অলংকরণ

এরকমই আর একটা বাঁশবাগানে সত‍্যজিৎ নামিয়েছিলেন ইউএফও। বঙ্কুবাবু পেয়েছিলেন তাঁর বন্ধু অ‍্যাংকে। এই বান্ধব-দর্শনটা একেবারেই প্রাচ‍্যের নিজের ধারণা। যে জন‍্য ঈশ্বরকেও দীনবন্ধু বলে ডেকেছে ভারতবর্ষ। কারণ সত‍্যজিতের আগে পর্যন্ত এলিয়েনদের মোটামুটি শত্রুপক্ষ বলেই চিহ্নিত করে এসেছে পশ্চিমি দুনিয়া। অজানাকে সন্দেহ করার প্রতি একটা ঝোঁক আছে সাহেবদের। মহামান‍্য হকিং সাহেবও, ‘If aliens visit us, the outcome would be much as when Columbus landed in America, which didn’t turn out well for the Native Americans.’ বলে আগাম সতর্ক করে রেখেছেন। কিন্তু শঙ্কুর স্রষ্টা তো উপনিষদের সন্তান! কৈলাসের সাম্বালা থেকে প্রেরণা নিয়ে যিনি সৃষ্টি করেন ডুলুং ডো। ইউনিকর্ন ভ‍্যানিশ হয়ে যায় যার বাইরে এলেই। সে মানুষটা একাকী, হেরে যাওয়া, মার খাওয়া বঙ্কুবাবুর জন‍্য এলিয়েন বন্ধু আনবে না তো কে আনবে? তবে সত‍্যজিতের এলিয়েন কিন্তু শুধুই বন্ধু নয়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বন্ধু। যে প্রাজ্ঞ। অন্ধকার দূর করে। মানুষকে আলো দেয় ভাল হওয়ার জন‍্য। এটাই সত‍্যজিতের মাস্টারস্ট্রোক, যা অ‍্যাংকে আলাদা করে দিয়েছিল বাকি সব এলিয়েনদের থেকে।

১৯৬৭-’৬৮ নাগাদ, মানে WOW! Signal-এরও দশ বছর আগে বিষয়টা যখন প্রথম শুনেছিল হলিউডের প্রযোজনা সংস্থা কলম্বিয়া পিকচারস্, একেবারে চমকে গিয়েছিল। লাফিয়ে পড়ে এগিয়ে এসেছিল হাত মেলাতে। সত‍্যজিৎও রাজি হন। অনেক মিটিং হয়। কাস্টিং ঠিক হয়ে যায়। মার্লন ব্রান্ডো রাজিও হন ছবিটা করতে। ছবির সম্পূর্ণ চিত্রনাট‍্য মিনিওগ্রাফ করে রাখা হয় সংরক্ষিত। যত দূর জানা যায়, সত‍্যজিৎ চেয়েছিলেন এলিয়েন নামবে ভারতের গ্রামে। লজিস্টিকাল কারণ দেখিয়ে ‘superior race’ রাজি হননি ‘নিগার’-দের দেশে স্পেসশিপ নামানোর জন‍্য অত টাকা ইনভেস্ট করতে। অগত‍্যা ছবিটা আর হয় না। মন ভাঙে পিকুর ডায়েরিকারের। ‘আমাদের কথা’-য় বিজয়া রায় জানিয়েছেন, সত‍্যজিৎ মন থেকে মেনে নিতে পারেননি গোরাদের বিশ্বাসঘাতকতা। একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। কথা বলতেন না কারও সঙ্গে। ছবিই আর করবেন কি না, কেউ জানত না।

কিন্তু ভদ্রলোকের নাম সত‍্যজিৎ রায়। ভারতের একমাত্র Golden Lion। তাঁকে থামানোর ক্ষমতা হলিউডের ছিল না। বেশ কয়েকদিন ঘরের মধ‍্যে নিজেকে বন্দি রাখার পর বেরিয়ে এলেন একটা সদ‍্য লেখা স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে। ‘গুপী গায়েন বাঘা বাইন’-এর স্ক্রিপ্ট। এর পরের ইতিহাস পৃথিবী জানে।

‘The Alien’-এর অলংকরণ: সত্যজিৎ রায়

এর দশ বছর পর ১৯৭৭-এ আসে স্টিভেন স্পিলবার্গের ছবি ‘Close Encounters of the Third Kind’ আর ’৮২-তে ‘E.T. the Extra-Terrestrial’ ছবিটি। নিজের ‘The Alien’-এর স্ক্রিপ্টের সঙ্গে মিল দেখে চোখ কপালে উঠে যায় সত‍্যজিতের। পৃথিবী জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। সত‍্যজিৎ রায়ের স্ক্রিপ্ট চুরি করেছে হলিউডের ব্লু আইড বয় স্পিলবার্গ, খবরের উত্তেজনা তখন সপ্তমে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে পাল্লা অনেকটাই ভারী থাকে স্পিলবার্গের দিকেই। তা অবশ‍্য থাকতেই হত, কারণ, ‘E.T’-র বাণিজ‍্যিক সাফল‍্যে চোনা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল নইলে। কিন্ত মজার কথা হল, এত বড় ঘটনায় ভারতের Golden Lion পাশে পেলেন না ওঁর ইউরোপীয় ফিল্ম-বান্ধবদেরও। কেন?

কেন কেউ সঠিক জানে না। যেমন কেউ জানে না কেন, ১৯৭৭-এর ছবিটায়, বিশ্ববরেণ্য ফরাসি পরিচালক ফ্রান্সিস ত্রুফোকে অভিনয় করার জন‍্য ডেকে নিয়েছিলেন স্পিলবার্গ? কেন ওই ছবিটায় অভিনয় করতে-করতে ত্রুফো স্পিলবার্গকে উদ্বুদ্ধ করেন তড়িঘড়ি E.T বানানোর জন‍্য? আর এসব ঘটার প্রায় বিশ বছর আগে কিন্তু ঘটে গিয়েছিল আরেকটা ঘটনা। কান ফেস্টিভ্যালে ‘পথের পাঁচালী’-র স্ক্রিনিং ছেড়ে উঠে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ত্রুফো। বেরিয়ে বলেছিলেন, ‘I don’t want to see a movie of peasants eating with their hands.’ ভারতের গরীব চাষি কেন চামচ দিয়ে ভাত খাচ্ছে না সভ‍্য ইউরোপীয়দের মতো? দুশো বছর ধরে কলোনি করে, চাবুক মেরে, মহিলাদের অসম্মতিতে ভোগ করে, কাঁড়ি-কাঁড়ি গির্জা বানিয়ে, ধানের বদলে নীলচাষ করিয়ে কী লাভ হল তাহলে? ফরাসি পরিচালক, গর্বিত সাহেব ফ্রান্সিস ত্রুফো সত‍্যজিতের প্রথম ছবিকে ঠিক এই কারণেই অত ঘৃণা ছুড়ে দিয়েছিলেন কি না, কেউ জানে না।

যদিও ওঁর বলা দিয়ে কিছু যায় আসেনি। ‘পথের পাঁচালী’-কে আটকানো যায়নি ওভাবে। ছবিটা সে-বছরই পুরস্কৃত হয় কান ফেস্টিভ্যালে। আর সেই সঙ্গে ‘নিগার’ দেশের একজন লম্বা পরিচালক তাঁর নাম লিখিয়ে নেন সাহেবদের পাশে। যিনি ভারতে থেকেই বাকি জীবন হাঁটলেন একই উচ্চতায়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কিন্ত পথের পাঁচালী দেখে ত্রুফো যেটা বলেছিলেন, সেই ধারণাটা খুব পশ্চিমি। এটা সেই ধারণা, যে ধারণা সাতহাজার বছরের পুরনো ভারতীয় সভ‍্যতাকে লুঠ করে, খলখলে করে দিয়ে, দাগিয়ে দেয় পিছিয়ে পড়া দেশ হিসেবে। আমাদের প্রগতিশীল করার তাগিদে, চা-পান আর তাস খেলার ক্লাবের বাইরে বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ‘Dogs and Indians are not allowed’ বলে। এত লম্বা যাদের ইতিহাস, তাদের কাছে একটা ভারতীয় সিনেমার স্ক্রিপ্ট লুঠ করা তো নস‍্যি।

মার্টিন স্করসিসি যদিও চুপ থাকতে পারেন নি। ‘E.T’ বেরনোর বেশ কিছুদিন পর মুখ খোলেন। বলেন, “I have no qualms in admitting that Spielberg’s E.T. was influenced by Ray’s Alien.” রিচার্ড অ‍্যাটেনবরো আরও একধাপ এগিয়ে প্রতিবাদ করে বলেন যে, “E.T. would not have been possible without drawing inspiration from ‘The Alien’.”

কিন্তু এত কিছুর পরও ১৯৬২-তে লেখা ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’-র মতো ভাল ‘Alien’ নিয়ে ‘E.T’ বানিয়ে স্পিলবার্গ আদতে যে আমাদের চমৎকার একটা ছবি উপহার দিয়েছেন, এ-বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ত্রুফোকে সঙ্গে পাওয়ার জন‍্য সুবিধাও পেয়েছেন একটু বাড়তি। ইউরোপীয় ফিলিম সমাজকে পাশে পেয়েছেন অপবাদের দিনে। সাহস পেয়েছেন বলার, ১৯৬৭-’৬৮-র ‘The Alien’ ছবির প্রি-প্রোডাকশনের সময় উনি নেহাতই স্টুডেন্ট ছিলেন। ওঁর পক্ষে সম্ভবই ছিল না কলম্বিয়া পিকচারস্-কে দেওয়া সত‍্যজিতের ছবির স্ক্রিপ্ট অবধি পৌঁছনো। এখানে সমস‍্যা হল, তড়িঘড়িতে স্পিলবার্গ হিসেবে একটু ভুল করে ফেলেছেন। কারণ, ১৯৬৮-তেই স্পিলবার্গ ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ-এর সঙ্গে বানাচ্ছেন শর্ট ফিল্ম ‘Amblin’ আর ঠিক একবছর পর অর্থাৎ ১৯৬৯-এ বানাচ্ছেন ‘Night Gallery’, ওঁর প্রথম টেলিভিশন ছবি।

তাই এলিয়েন নিয়ে ক্লেদ কেবল বিজ্ঞান-মহলেই শেষ হয় না। শিল্পের জগতেও ক্লেদের ছড়াছড়ি। এসব দেখেই এলিয়েনরা WOW! বলে মানুষদের টিটকিরি দিয়েছিল কি না কে জানে?

অলংকরণ: লেখক

আমি যেদিন থেকে সিনেমা বানাই, সেদিন থেকে ইচ্ছে ছিল এলিয়েনদের নিয়ে ছবি করব। ‘পক্ষীরাজের ডিম’ বানানোর মূল কারণ হল, সত‍্যজিতের ‘এলিয়েন’ না-হওয়ার যন্ত্রণা। তাই ছবিটা আমি উৎসর্গ করেছি সত‍্যজিৎকে। যেভাবে ছবির ক্লাইম‍্যাক্সে ইউএফও উড়ে আসার পর, তার আলোয় স্নান করে ঘোঁতন ফিরিয়ে দিতে চায় বহু বছর আগে হারানো পক্ষীরাজের ডিম? ঠিক সেভাবে আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে সত‍্যজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমার সকল প্রয়াস। সকল শিক্ষা আর অলৌকিক একটা টান। যেমন টান কর্ণের প্রতি অনুভব করত ছোট্ট অপু। ‘E.T’-র প্রতি করেছিল এলিয়ট।

ভুলে গেলে চলবে কেন? সত‍্যজিতের এলিয়েন শুধুই বন্ধু নয়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন একজন বন্ধু। যে প্রাজ্ঞ। অন্ধকার দূর করে। মানুষকে আলো দেয় ভাল হওয়ার জন‍্য। স্পিলবার্গ ঠিক যেই মন্ত্রটা ধার করে নিয়েছেন ছবির শেষে। পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে হলিউডের E.T তাই ভারতীয় অবতারের মতো ছুঁয়ে দিয়েছে ছোট্ট এলিয়টের আজ্ঞা চক্র (third eye) তার জাদু-আঙুল দিয়ে। মন্ত্রের মতো উচ্চারণ করে বলেছে, ‘Be Good!’