গণনা : পর্ব ১

এক্সিট পোল তুমি কার?

এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল দেখে মনে হচ্ছে, এ-ও একধরনের বহুত্ববাদ।‌ এক-একটি সংস্থা এক-একরকমের বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল জানাচ্ছে। কোনওটা সঠিক হতে পারে। কোনওটা বেঠিক হতে পারে। তবে মনে হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বয়স যখন ১৮ বছর হল, তখন আরেকটু সাবালকত্ব আশা করা যেত পারত। কিন্তু ‘আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিনু হায়!’ 

আসলে এক্সিট পোল নামক এই বিষয়টি নিয়েই আমার রয়েছে ঘোরতর আপত্তি।‌ এই আপত্তি আজকের নয়। এই আপত্তি আমার বহুদিনের। প্রায় চার দশকেরও অধিক সময়ের আগে সাংবাদিকতায় যখন ঢুকেছিলাম, তখনই, ভোট প্রচারের কভারেজ নিয়েও মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। তখনও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রসুলভ মানসিকতা বোধহয় খুব তীব্র ছিল। তাই মনে হত, যে বৃহৎ মিডিয়ার নির্বাচনী সমীক্ষা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।‌ 

কোনও একটা নির্বাচন কেন্দ্রে কোন‌ও একজন সাংবাদিক গেলেন। তিনি একটা দিন অতিবাহিত করলেন।‌ তিনি এর সঙ্গে কথা বললেন, ওর সঙ্গে কথা বললেন। তারপরে সেই সাংবাদিক লিখে দিলেন, অমুকের পাল্লা ভারী।‌ তমুকে এগিয়ে। তখনই মনে হত যে, এইভাবে নির্বাচনী পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা, আর কোন প্রার্থী হারবে আর কোন প্রার্থী জিতবে— তার ভবিষ্যৎবাণী করা কেন সাংবাদিকের কাজ হবে! কেননা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমাদের তো একটা বিশেষ পেপার ছিল, যার নাম ছিল ‘সার্ভে মেথডলজি’।‌ সেখানে একটা সমীক্ষা করা মানে, আমরা জেনেছিলাম, সেটা একটা সাংঘাতিক ব্যাপার।‌ যত বেশি স্যাম্পল নেওয়া হবে, তত বেশি রেফারেন্স ফ্রেমটি বিস্তৃত হবে। তাতে ফ্যালাসির সম্ভাবনা কমবে। বেশিসংখ্যক মানুষের মতামত জানা যাবে– এইরকম আর কী। পরবর্তীকালে অবশ্য সাংবাদিকতার ধারাও বদল হল।‌ ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-য় যখন কাজ করছিলাম, তখন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, আমরা কখনও, কে জিতছে বা কে হারবে— বলবই না। ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-ও যে ‘ডান্স অফ ডেমোক্রেসি’ নামক কলমটি চালু করে, সেখানেও কিন্তু এই ব্যাকরণটিই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
সেটা হচ্ছে, আমরা যখন নির্বাচন কেন্দ্রে যাব তখন আমরা কালার স্টোরি করব। অর্থাৎ ভোটরঙ্গ দেখব, ভোটের যে রূপ-রস-গন্ধ সেগুলো আমরা দেখব এবং পাঠকদের জানাব।  সেগুলোই পৌঁছে দেব, যেগুলো পাঠক জানতে চাইছে।‌ তারপরে প্রার্থীর যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য, সেগুলো নিয়ে আমরা লেখালিখি করব। নজরকাড়া ব্যক্তিত্ব, নজরকাড়া কেন্দ্র খুঁজব। তখন, কিছুটা বর্ণনামূলক স্টোরি, ‘মুড স্টোরি’ যাকে আমরা বলতাম, সেগুলো করতে শুরু করলাম। তাতে কিন্তু নির্বাচন কভারেজের ধারা অনেক বদলে গেল। মনে হয়, সেটা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য এবং উচিত কাজ হয়েছিল।

আরও পড়ুন : ‘ভোট নিয়ে ভাবি না, হাট্টিমাটিম নিয়ে ভাবি’! লিখছেন চন্দ্রিল ভট্টাচাৰ্য…

এ তো গেল আমাদের সাংবাদিক হিসেবে ভোটের কভারেজের কথা। 

তবে ‘এক্সিট পোল’ নামক বিষয়টা যখন শুরু হল, তখন থেকেই শোরগোল পড়ে গেল। এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষা আর নির্বাচনী সমীক্ষা আলাদা। অনেক সংস্থা আছে, যারা নির্বাচনী সমীক্ষা এবং এক্সিট পোল— দুটোই করে। আবার ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ সংস্থার প্রদীপ গুপ্ত বলছিলেন যে, তিনি কখনওই সাধারণভাবে ওপিনিয়ন পোল করেন না। তিনি এক্সিট পোল করেন।‌ এক্সিট পোল যেহেতু ভোট হয়ে যাওয়ার পর প্রচারিত হচ্ছে, ফলে তার বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করা বা রাজনৈতিক দলের কায়েমি স্বার্থ পূরণ করার অভিযোগ উঠতে পারে না।

মূল প্রশ্ন হল, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এক্সিট পোল তৈরি করা হচ্ছে। ভোটের প্রকৃত ফলাফল বেরনোর আগে মানুষকে এই এক্সিট পোলগুলো ডোপামিন, অ্যাড্রেনালিন সরবরাহ করছে।‌ বৃহৎ সংবাদমাধ্যম এইগুলো বন্ধ করে না। তার কারণ, এই এক্সিট পোলের একটা টিআরপি মূল্য আছে। ভিউয়ারশিপের মূল্য আছে। তার ফলে এই এক্সিট পোল একটা বৃহৎ ব্যবসারও অঙ্গ। আজকাল কোনও সংবাদমাধ্যমই নিজেরা সমীক্ষা করছে না। বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করাচ্ছে। ফলে, তাদের অর্থাৎ সংবাদপত্র গোষ্ঠীর নিজেদের কোনও দায়িত্ব থাকছে না। এক্সিট পোলওয়ালাদের কাঁধে দায়িত্ব চাপে। লাগলে তুক, না লাগলে তাক। 

আমার প্রতিপাদ্য বিষয় কিন্তু আলাদা। এটাকে রাজনৈতিকভাবে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এটাতে কীভাবে টাকার খেলা চলে, কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এক্সিট পোলের মাধ্যমে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং ভোটের প্রকৃত ফল বেরনোর কয়েকদিন আগে এটা করেই বা কী লাভ হয়? রাজনৈতিক দলের জন্য তো এক্সিট পোলের থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভোট চলার সময় যদি কোন‌ ওপিনিয়ন পোল তৈরি করা হয়। যেটা অনেক সংস্থা করে। অনেক ভুঁইফোড় সংস্থা আছে এবং অনেক রাজনৈতিক দল নিজস্ব পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধরনের সংস্থা তৈরি করে, সমীক্ষা করিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য। যেটাকে চমস্কি বলেছেন, ‘ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট’।‌ অর্থাৎ, মানুষের সম্মতিকে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে এইভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বলা যায়, পুঁজিবাদী সমাজের বা উদার অর্থনীতির এক চূড়ান্ত সংকটজনক অধ্যায় এটি, যখন গণতন্ত্রই একটা বিপন্নতার মুখে পড়েছে। 

অতএব, আমার প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, এক্সিট পোলই নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত।‌ এক্সিট পোল শুধু নয়, ওপিনিয়ন পোলও ভোটের সময় বন্ধ হওয়া উচিত। যেহেতু এটি জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং এটা নিয়ে অনেকরকম রাজনৈতিক খেলা চলে, তাই বন্ধ হওয়াই বাঞ্ছনীয় এই ধরনের নির্বাচনী সমীক্ষা বা এক্সিট পোল।‌ 

কেন এ-কথা বলছি?

তার কারণ হচ্ছে, যেকথা আমরা আগে বলছিলাম, আমরা ছাত্রজীবনে জেনেছিলাম যে, সার্ভে মেথডোলজি একটা মারাত্মক কঠিন কাজ।‌ এটার জন্য প্রয়োজন অনেকটা সময়, অনেক পরিশ্রম এবং খুব ইনটেনসিভ কাজ।‌ সেখানে ‘ফ্যালাসি’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।‌ এই ফ্যালাসিকে বলা যেতে পারে ‘ইম্পিরিক্যাল ফ্যালাসি’।  

‘ইম্পিরিক্যাল ফ্যালাসি’-র অর্থ কি? 

অর্থাৎ, আমি একটা বাগানে গিয়ে দেখলাম, সমস্ত গোলাপগুলো লাল।‌ সুতরাং ‘ক’-গোলাপ লাল, ‘খ’- গোলাপ লাল, ‘গ’- গোলাপ লাল, ‘ঘ’- গোলাপ লাল। অতএব, আমি এতদ্বারা সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম, পৃথিবীর সমস্ত গোলাপ লাল। কিন্তু আসলে হলুদ গোলাপ আছে, সাদা গোলাপ আছে, হতে পারে কালো গোলাপও আছে। আমার সেটা জ্ঞানের বাইরে।‌ আমি যেটা জানি না, সেটার অস্তিত্ব আমি স্বীকার করছি না এক্ষেত্রে। এটি একটা মস্ত বড় ফ্যালাসি। বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা একটি প্রবন্ধে পড়েছিলাম যে, অ্যারিস্টটল মনে করতেন যে, মেয়েদের দাঁতের সংখ্যা ছেলেদের থেকে বেশি।‌ রাসেল একটু উপহাসের ছলেই বলেছিলেন, ‘ফাদার অফ সায়েন্স’ দু-বার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর স্ত্রীয়ের দাঁতগুলো পরীক্ষা করে দেখেননি। দেখেননি, সত্যি-সত্যি ক’টা দাঁত আছে। আসলে ছেলে ও মেয়েদের দাঁতের সংখ্যা একই। রাসেলের এই মন্তব্য পাওয়া যায় তাঁর লেখা ‘ইমপ্যাক্ট অফ সায়েন্স ইন সোসাইটি’ গ্রন্থে।‌ তাহলে, খতিয়ে দেখা, যাচাই করে দেখা অর্থাৎ ফ্যাক্টকে জানতে হবে। আর যেহেতু এটা ভোটারের আচরণের ওপরে সমীক্ষা, সুতরাং সবসময়ে সেখানে একটা ভাবনিষ্ঠতা থাকে। এটা সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ হওয়া কঠিন। এটা ২+২= ৪-এর মতো বিজ্ঞান নয়। ভোটারের আচরণের মধ্যে ২+২=৫ হতে পারে। 

এবারে অভিনব ঘটনা যেটা ঘটল, কলকাতায় এক্সিট পোল করতে গিয়ে একজায়গায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ল প্রদীপ গুপ্ত এবং তাঁর অ্যাক্সিস গোষ্ঠী।‌ তিনি বললেন, মানুষ কোনও কথা বলছে না। যথেষ্ট স্যাম্পল তিনি সংগ্রহ করতে পারেননি। সুতরাং তিনি এখান থেকে সরে আসছেন। তিনি সমীক্ষা করবেন না।

প্রথম কথা হচ্ছে, রাজনৈতিক সচেতনতা নামক জিনিসটাও কিন্তু খুব ভাবনিষ্ঠ বিষয়। যেমন রাজনৈতিক উদাসীনতাও একটা চরম রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচায়ক হতে পারে। যে ভোট দিচ্ছে না, সে রাজনৈতিকভাবে সচেতন নয়, একথা বলা যায় না।

আবার কার্ল মার্ক্স যেরকম বলেছিলেন, শিল্পনগরীতে পুঁজিবাদের পতন এবং সমাজতন্ত্রের আগমনের সম্ভাবনা বেশি। কেননা সেখানেই বিপ্লব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শ্রমিকরা সেই বিপ্লব করবে। কিন্তু দেখা গেল, লন্ডনে বা ইউরোপে না হয়ে বলশেভিক বিপ্লব ১৯১৭ সালে হল সোভিয়েত ইউনিয়নে। যেখানে জারের নেতৃত্বে ক্ষয়িষ্ণু সামন্তবাদ ছিল। পুঁজিবাদ তখনও সেখানে আসেনি।

সুতরাং, ভবিষ্যৎবাণী করতে গেলে কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় সেটা কিঞ্চিৎ জ্যোতিষীর মতো ব্যাপার হয়ে যায়। আমরা রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই। পোলস্টাররাও রাজনৈতিক জ্যোতিষী নন। পোলস্টার একটা বিজ্ঞানকে রচনা করার চেষ্টা করছে। যেটাকে বলা যেতে পারে, একটা অসম্পূর্ণ বিজ্ঞান।‌ আবহাওয়া বিজ্ঞানের মতো। কাল বৃষ্টি হবে বলে ঘোষণা করা হল, তারপরে দেখা গেল বৃষ্টি হল না। যিনি টিভিতে ঘোষণা করছেন, তিনি গভীর রাতে বাড়িতে ফিরছেন। কেননা সন্ধ্যাবেলা ফিরলে পাড়ার রকের ছেলেগুলো ওকে ধরে প্রহারেণ ধনঞ্জয় করতে পারে। কেননা তুমি বলেছিলে, বৃষ্টি হবে। সারাদিন বৃষ্টি হল না, এত গুমট! এই ঘটনা তো আমরা জানি যে, আবহাওয়াবিদদের এই ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। 

তাহলে এই এক্সিট পোল কীসের ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক হবে? ক’জনের স্যাম্পেল নিয়ে এই সমীক্ষা করা হয়? সবসময় যে ভোটাররা সত্যি কথা বলছে, সেটাও তো ঠিক নয়। আমি ভোট দিলাম বিজেপিকে। বললাম, তৃণমূলকে ভোট দিলাম। অথবা উল্টোটা। এমনটা আকছার হতে পারে। এবারে অভিনব ঘটনা যেটা ঘটল, কলকাতায় এক্সিট পোল করতে গিয়ে একজায়গায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ল প্রদীপ গুপ্ত এবং তাঁর অ্যাক্সিস গোষ্ঠী।‌ তিনি বললেন, মানুষ কোনও কথা বলছে না। যথেষ্ট স্যাম্পল তিনি সংগ্রহ করতে পারেননি। সুতরাং তিনি এখান থেকে সরে আসছেন। তিনি সমীক্ষা করবেন না। প্রদীপ গুপ্তর টিমকে খুব হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলা হচ্ছে। তাঁদের টিমের প্রায় ২৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তার কারণ হচ্ছে, তাঁরা নাকি লোককে জোর করে বিজেপির পক্ষে কথা বলানোর চেষ্টা করেছেন। সুতরাং, এক্সিট পোলের কর্তাদের বিরুদ্ধেও কিন্তু রাজনৈতিক একদেশদর্শিতার অভিযোগ উঠছে। এটা ভাল যে, প্রদীপ গুপ্ত নিজেকে এই বিতর্ক থেকে দূরে সরিয়ে নিলেন। 

কিন্তু বিষয়টা প্রদীপ গুপ্ত বা অন্য কোনও এক্সিট পোলের কর্ণধারের বিষয় নয়।‌ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করা যায়, পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করা যায়। কিন্তু এক্সিট পোল রাজনৈতিক জ্যোতিষবাদের মতো হয়ে যায়, সেটা কখনওই কাম্য নয়। 

কাজেই আমার মনে হয়, এই বৃহৎ সংবাদমাধ্যম এবং এই পুঁজিবাদী বাণিজ্যের প্রবণতার নজির হিসেবে এক্সিট পোল নামক একটি অর্ধবিজ্ঞানের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। মানুষের নির্বাচন, মানুষের অভিমত— এগুলো আর যাই হোক রসিকতা করার বিষয় নয়। গণতন্ত্র হল মানুষের মতামত প্রকাশের উৎসব। বাকস্বাধীনতার উৎসব। সেখানে এই এক্সিট পোলকে একটা ‘সেরিব্রাল এন্টারটেইনমেন্ট’ হিসেবে দেখা ভাল। তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব না-দেওয়াই ভাল। এটা সমীক্ষা নয়।

ভোটের ফলাফল বেরনো পর্যন্ত মানুষের উৎকন্ঠা আছে, উদ্বেগ আছে। তারা কী হবে, জানতে চাইছে। সুতরাং তাদের কিছুটা কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা এই এক্সিট পোল। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে, এই ভোটের ফলাফল জানার আগ্রহকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে, অহেতুক ডোপামিন নিঃসরণ হচ্ছে এবং তার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কারও আশা, কারও হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসা-মারামারির উপক্রম হচ্ছে। 

সেখানে এই এক্সিট পোল থেকে বিরত থাকাটাই কি এই মুহূর্তে বৃহৎ মিডিয়ার জন্য উচিত কাজ হবে না?