কয়েকটি কবিতা
১
সঞ্চয়ের মুদ্রাগুলি একে-একে তুলে রাখি হাতে।
এ-বেসাতিনগরীতে কাজে লাগে কখন কোথায়,
এত যে প্রহর, সবই কেটে গেল সুযোগ জমাতে।
এখন সোনার চাকতি, ক্ষয়ে-ক্ষয়ে গোধূলির প্রায়।
২
ধুলোগতি এই যান, হাওয়াসম এই যাতায়াত
মাঝে যে-শহর পড়ে, তার নাম ‘অবাকনগরী’
কিছু আমি নেমে যাই, কিছু আমি ধরে রাখি হাত
কখনও সমগ্র যাই না, টুকরো হয়ে পর্যটন করি।
৩
গুণ ছিল গান গাওয়া। দোষ ছিল চুপ করে থাকা।
এখন এই মিছিলের মাঝে সে মূর্তির মতো স্থাণু।
তার পাথরের হাতে কারা ভরে দিয়েছে পতাকা…
শব্দহীনতার কাছে কোলাহল আজও নতজানু।
৪
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে পাখিগুলি বেঁচে ফিরে আসে।
বইয়ের দোকানগুলি ধূলিসাৎ, চূর্ণ লাইব্রেরি…
রুটির পুরনো গন্ধ লেগে আছে দেওয়ালে ও ঘাসে
কত ধ্বংস পার হয়ে এ-শহর ফের পাখিদেরই।
৫
‘নিলয়, নিলয়’ ডেকে যে-মেয়েটি ছুটে গেল দূরে,
তার সমুদ্রের টানে এখানে অনেকে আসে, শুনি।
বান্ধবহারা সে-প্রাণ, প্রবাদের ধুলো-ওড়া ক্ষুরে
চোখ থেকে খুলে আনে স্তব্ধ হওয়া, ঝলমলে চুনী!
৬
এত পরিষ্কার ভাষা, অথচ তা গাছেরা বোঝে না।
তাই ধৈর্যহারা হয়ে কুঠার বসিয়ে দিতে হয়।
বিকেলের হাট থেকে কমবেশি দরদামে কেনা
ঘরে-ঘরে শোভা পায়, গাছেদের বর্ণপরিচয়।
৭
এখানে পাহাড় আছে। গাইড চেনায় মৃত পাখি।
চূড়া থেকে নেমে এসে দেবতা বলেন, ‘খেতে দাও’।
স্মৃতিকণা যদি বলো, ফেরাপথে মুঠোয় জোনাকি।
মানচিত্রে নেই, তবু লোকে বলে ‘অবসাদগাঁও’।
৮
অন্ধের সময় থেকে দু’মুহূর্ত ঝ’রে জল হয়।
তাকে ধরে রাখে, হেন পাত্র নেই, অথচ সে স্থির।
আমি যে দেখি, সে বুঝি, কত ভিন্ন আমার সময়…
অতীতের দৃশ্য আছে, অন্ধকার শুধু আগামীর।




