আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত এখনও তীব্রভাবে চলছে। বাড়ছে তেলের দাম, বিশ্বজুড়ে নানা আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। যুদ্ধ কি সহজে শেষ হবে? দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামরিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে সাংবাদিকতা করে চলেছেন সুজন দত্ত। যুদ্ধের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে অর্ক ভাদুড়ী।
প্রথমেই জানতে চাইব, এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কী মনে হচ্ছে আপনার? যুদ্ধটা তো চলছে বেশ কিছুদিন হল। আরও কতদিন এই যুদ্ধটা চলতে পারে?
আমরা যখন কথা বলছি, তখন যুদ্ধের বারোদিন ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। গত বছরেও বারোদিন ধরেই যুদ্ধ (জুন ২০২৫-এ পারমাণবিক বোঝাপড়া নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত) চলেছিল । আমরা ইতিমধ্যেই যা বুঝতে পারছি, এবারের যুদ্ধ গতবারের চেয়ে দীর্ঘ হবে। যুদ্ধটা নির্ভর করছে আদতে মূলত একটা কারিগরি মিলিটারি ব্যবস্থার ওপর। অবশ্যই অর্থনীতি একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তেলের দাম এখন আলোচ্য হয়ে উঠছে। মার্কিন মুলুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কী রাজনৈতিক অবস্থান হবে, সেটাও জরুরি। কিন্তু মূল ব্যাপারটা কিন্তু সামরিক এবং টেকনিক্যাল। সেটা কী? আমেরিকা এবং ইজরায়েল মূলত নির্ভরশীল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ওপর। অর্থাৎ, ইরান থেকে যে মিসাইল ধেয়ে আসছে, তাকে প্রতিরোধ করার মিসাইল, বা যাকে বলা যায়, অ্যান্টি-মিসাইল মিসাইল। ইজরায়েলের সেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ফুরিয়ে যাবে, না কি কমে যাবে, না কি ইরানের যে আক্রমণাত্মক মিসাইলের ভান্ডার তা আগে ফুরবে— তার ওপরেই অনেকাংশে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, ইরানের কিন্তু সেরকমভাবে মিসাইল ডিফেন্স নেই, ইরানের শক্তি মূলত অ্যাটাকিং মিসাইল। যেহেতু প্রায় পঁচিশ বছর ধরে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছে, ফলত ওদের কাছে অস্ত্রভান্ডারও যথেষ্ট মজুত। ওদের কাছে আন্ডারগ্রাউন্ড লঞ্চার রয়েছে, মোবাইল লঞ্চার রয়েছে। ইরানের যে সামগ্রিক ভূগোল, উত্তরে আলবোর্জ পাহাড়, পশ্চিমে জাগরোজ পাহাড়— তাতে ওদের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সাইলো’, অর্থাৎ মিসাইল লঞ্চ করার ক্ষেত্রগুলি জোরদার। সেগুলো কিন্তু স্যাটেলাইট বা রেডারে সহজে ধরা পড়বে না।
ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের চার বা পাঁচরকমের স্তর হয়। সবচেয়ে কাছ থেকে যা প্রয়োগ করা যায়, যাকে বলে ‘সিডব্লিউএস’ বা ‘ক্লোজিং ওয়েপন সিস্টেম’— তার মূল কাজ হচ্ছে ‘শোল্ডার ফায়ার’। যেমন স্টিঙ্গার মিসাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা, বা ইগলা মিসাইল, যা ভারতে ব্যবহৃত হয়, তৈরি হয় রাশিয়ায় এইগুলি রয়েছে। এগুলোর কাজ মূলত কাঁধে রেখে নিক্ষেপ করা, যখন আক্রমণাত্মক মিসাইলটি নিকটবর্তী হয়ে উঠেছে, তখন। এরপর ইজরায়েলের রয়েছে আয়রন ডোম। আয়রন ডোমের ঠিক ওপরের স্তর হচ্ছে ডেভিড’স স্লিং। ডেভিড’স স্লিং-এর ওপরের স্তর হচ্ছে অ্যারো। আর সবচেয়ে ওপরের স্তরটি মার্কিন ব্যবস্থা। ইজরায়েলে সেটা প্রয়োগ করা হচ্ছে এখন। তার নাম হচ্ছে ‘থাড’ (THAAD), বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এয়ার ডিফেন্স। জাহাজ থেকে এবং মাটি থেকে তা প্রয়োগ করা যায়।
আরও পড়ুন: ইরান থেকে ইজরায়েল, ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান কীভাবে বদলাল?
লিখছেন অত্রি ভট্টাচার্য…
এখন, এই ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো বানানো খুব সহজ নয়, এবং বেশ কিছুটা সময় এবং ব্যয়সাপেক্ষ। ‘ম্যানপ্যাডস’ বা ‘ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’, অর্থাৎ এই স্টিঞ্জার বা ইগলা-জাতীয় মিসাইলগুলো ছাড়া বাদবাকি মিসাইল বানাতে সময় এবং বিপুল অর্থ লাগে। অনেক ধরনের প্রযুক্তিকে ‘ইন্টিগ্রেট’ করতে হয় এক্ষেত্রে। ইরান মূলত রাশিয়ান এসথ্রিহান্ড্রেড মিসাইল ডিফেন্সের ওপর নির্ভরশীল, ভারতের কাছে এসফোরহান্ড্রেড রয়েছে। এসথ্রিহান্ড্রেড-এর রেঞ্জ হচ্ছে তিনশো কিলোমিটার। এটা ছাড়াও ইরান ম্যানপ্যাডসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইরানের মূল নীতি, আক্রমণই শ্রেষ্ঠ প্রতিরোধ। ওদের মিসাইল তাই বেশি আক্রমণাত্মক। ওরা যেটা এখন ব্যবহার করা শুরু করেছে (১০ মার্চ থেকে), তা হল ‘খোরামশের-৪’। খোরামশের-৪ একধরনের ‘এমআইআরভি’, বা মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল। অর্থাৎ, একটি মিসাইলের ওয়ারহেডে অনেকগুলি মিসাইল। অর্থাৎ, ছোড়া হচ্ছে মহাশূন্যে, তা অ্যাটমোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে পৌঁছে যাচ্ছে স্ট্যাটোস্ফিয়ারে। সেখান থেকে প্রায় ইউ-টার্ন নিয়ে ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো পৃথিবীতে ফিরে আসছে। এবং ওই একটি ওয়ারহেড থেকে অনেকগুলো মিসাইল নির্গত হচ্ছে। এই ধরনের মিসাইল আটকানো কঠিন অনেকটা বেশি। ইজরায়েল সেখানেই ব্যর্থ হচ্ছে।


এখনও পর্যন্ত, দু’পক্ষের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে কে কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে, নিরপেক্ষভাবে দেখলে কী মনে হয়?
ইরানের ক্ষতি অনেকটাই ব্যাপক। আমি ২০১০-’১১ সালের ডিসেম্বরে, মহরমের মাসে, ইরানের একেবারে উত্তর থেকে দক্ষিণ অবধি গেছি। এত সুন্দর দেশ, এত সুন্দর সব শহর, ভাবাই যায় না। তেহরান, শিরাজের মতো জায়গাগুলি ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু এই ক্ষয়ক্ষতি বহন করার ক্ষমতাও ইরানের রয়েছে। প্রথমত, ইরান বিরাট ভূখণ্ড। ইজরায়েল অনেকটাই ছোট দেশ, কেরলমের চেয়েও ছোট, বা খণ্ডিত মণিপুরের মতো কিছুটা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ দেখলেই এটা স্পষ্ট হয়। সোভিয়েতের একেবারে ভেতর পর্যন্ত জার্মান সৈন্যকে আসতে দিয়েছিলেন স্তালিন। কারণ ক্ষতি বহন করার ক্ষমতা সোভিয়েতের ছিল, কিন্তু সোভিয়েতের ওই ঠান্ডায় জার্মান সৈন্যকে আটকে দিতেও তারা সক্ষম হয়েছিল। তারপর ১৯৪৪-’৪৫ থেকে সোভিয়েত প্রতিআক্রমণ শুরু করল।
ইরানের রাজনীতি, খোমেইনির শাসনব্যবস্থা এসব ছেড়ে দিন, তারপরেও আর অন্য কোনও দেশ— রাশিয়া. চিন বা লাতিন আমেরিকার কোনও দেশের সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধের ক্ষমতা তুলনীয় নয়। ইরানের সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের মধ্যে যেভাবে লড়ে যাচ্ছেন দেশের হয়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তেমন নজির আর দেখা যায়নি। কিছুটা দেখা গিয়েছে ভিয়েতনামে।
আর ইজরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি?
ওই যে বললাম, ইজরায়েল ছোট দেশ। ফলে ক্ষয়ক্ষতি তুলনায় কম হলেও, সেই ক্ষয়ক্ষতি বহন করার ক্ষমতা তাদের নেই। ইজরায়েলের জনসংখ্যাও কিন্তু কম। ইজরায়েলের মধ্যে প্যালেস্তাইনও আছে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, গাজা, লেবাননও আছে। এই যে আমরা দেখলাম, হেজবুল্লা, ইরান সরকারও নয়, হেজবুল্লার মিসাইলে লেবাননের ইজরায়েল স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টার উড়ে গেল।
তাহলে কি ইজরায়েলের সক্ষমতা কমে গেছে?
অনেকাংশেই। বিশেষ করে ওদের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম আর অপারেট করছে না। তৃতীয় রেডার ইরান উড়িয়ে দিয়েছে। কী ঘটছে একটু বুঝিয়ে বলি, ইরান থেকে যখন কোনও মিসাইল ছোড়া হচ্ছে, তখন আমেরিকা আর ইজরায়েলের রেডার সেটা ধরে ফেলছে। ইজরায়েলের মানুষের কাছে বার্তা যাচ্ছে, যে মিসাইল ধেয়ে আসছে। এখানে একটা বিষয় বলতে হবে। সুপারসোনিক মিসাইলের গতি শব্দের চেয়ে বেশি। তা হল ওয়ান ম্যাক। আর ইরানের দাবি, ওদের কাছে রয়েছে হাইপারসোনিক মিসাইল, যা ১৫ ম্যাক, অর্থাৎ শব্গের গতিবেগের ১৫ গুণ বেশি যার গতিবেগ। তেহরান থেকে তেল আভিভ ১৬০০ কিলোমিটার। আমরা যদি ধরে নিই, তেহরান থেকে তেল আভিভে একটা মিসাইল ছোড়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে আগে সেই মিসাইল পৌঁছতে লাগত ১২ মিনিট। এখন তা পৌঁছচ্ছে ছ’মিনিটে। যখন মিসাইল লঞ্চ হচ্ছে, তখন ইজরায়েলের রেডারে তা ধরা পড়ছে। মানুষের কাছে এসএমএস যাচ্ছে। আগে আত্মগোপন করার জন্য সেখানকার মানুষ ৬-৭ মিনিট সময় পেত। এসএমএস ছাড়াও সাইরেন বাজত। এখন সেই হুঁশিয়ারিও আর আসছে না, সরাসরি মানুষ সাইরেন শুনতে পাচ্ছে। ফলে বাঙ্কারে বা বম্ব শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার সময়টাও কম পাওয়া যাচ্ছে।
১০ তারিখ রাতে ইজরায়েল আর আমেরিকা ইরানের উদ্দেশ্যে প্রচুর মিসাইল ছুড়েছে। কিন্তু ইরানও প্রত্যুত্তরে অনেকগুলি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। ইজরায়েলের এক লেখক-ভদ্রলোক যেমন বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে সাইরেনের আগে মিসাইল ছোড়ার শব্দ তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছচ্ছে।
তাহলে নেতানিয়াহুর কাছে কি পারমাণবিক আক্রমণই এখন উপায় হয়ে উঠছে? এই আশঙ্কার কি আদৌ কোনও বাস্তবতা রয়েছে?
এটা আমাদের পক্ষে কল্পনা করাই মুশকিল। পারমাণবিক অস্ত্র বিশ্ব-ইতিহাসে মাত্র দু’বার ব্যবহৃত হয়েছে, হিরোশিমা আর নাগাসাকির ক্ষেত্রে, ব্যবহার করেছে আমেরিকা। যদিও এখন অনেকেই বলে, ‘ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন’ তৈরি হয়েছে, যার তীব্রতা হিরোশিমা-নাগাসাকির তুলনায় কম। কিন্তু আমি প্রায় ২৫-২৬ বছর ধরে মিলিটারি ও যুদ্ধ বিষয়ে সাংবাদিকতা করছি, তাই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষতির যে পরিমাপ, এবং সেই ক্ষতি এত দশক ধরে স্থায়ী হয়, যে তা কল্পনা করাই মুশকিল। যেহেতু আমরা ইতিহাস জানি, তাই আরওই ভেবে ওঠা যায় না এটা, মানুষ হিসেবেই ভেবে ওঠা যায় না।
এই প্রসঙ্গে যে প্রশ্নটা উঠে আসে, গাজায় ইজরায়েল যা করছে, তা কি প্রায় পারমাণবিক আক্রমণের শামিল নয়?
গাজার ক্ষেত্রে ইজরায়েল যা করছে, তাকে পোশাকি ভাষায় বলে ‘ডেসিমেশন’, অর্থাৎ ব্যাপক হারে গণহত্যা। এর আরেকটা নাম ‘দাইয়া ডকট্রিন’। দাইয়া বেইরুটের একটি শহরতলি এলাকা, সেই জায়গার নামেই এই ভাবধারাটির নামকরণ হয়েছে। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও জিমি কার্টারের আমলে তাই করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকেও তাই ঘটেছে। ইরান-ইরাকে যে কেমিক্যাল ওয়ারফেয়ার ঘটেছিল আটের দশকে, তা আটকে গিয়েছিল জাগরোজ পাহাড়ের জন্য। কেমিক্যাল ওয়ারফেয়ার, অর্থাৎ ঘরবাড়ির কাঠামো সব ঠিক রেখে মানুষকে নিশ্চিহ্ন করা। সেই ধরনের পরিকল্পনাও ইজরায়েলের এই মুহূর্তে আছে। কিন্তু সেটা একটু মুশকিল। কারণ ইজরায়েলিরা এখন আমেরিকা আর ভারত ছাড়া কোথাও বিশেষ যেতে পারছে না। নেতানিয়াহুর নামে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের শমন জারি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। যাই হোক, পারমাণবিক যুদ্ধের চিন্তা করাও আমাদের পক্ষে মুশকিল।
ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও তো পারমাণবিক অস্ত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল-জাজিরার এক সাংবাদিক বন্ধু বলছিলেন, তেহরানে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস আক্রান্ত হয়েছে। এতে কি অন্য কোনও মাত্রা যোগ হবে বলে মনে হয়? যেহেতু উত্তর কোরিয়ার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এই মুহূর্তে।
যেটা ভাবার, তা হল কোন পর্যায় বা কোন বিন্দুতে পৌঁছলে আমেরিকা বা ইজরায়েল পারমাণবিক আক্রমণের কথা ভাবতে পারে। ইরান এখনও পর্যন্ত দাবি করছে, ওদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই। আমার মতে, আমেরিকার কোনও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যদি ধ্বংস হয়, এই মুহূর্তে দু’টি এমন ক্যারিয়ার রয়েছে আমেরিকার— তাহলে আমেরিকা হয়তো পারমাণবিক আক্রমণের কথা ভাবতেও পারে। উত্তর আরব সাগরে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এতে প্রায় ৫,৩০০ ক্রিউ থাকতে পারে। এই ধরনের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে আমিও গেছি। এছাড়া রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এটি আরও বড়, এবং আরও আধুনিক। কিন্তু এখানে ক্রিউ-সংখ্যা কম, ৪,৩০০ মতো। এক-একটা ক্যারিয়ারের ওপরে প্রায় ৭৫-৯০টা করে প্লেন থাকে। সঙ্গে অন্যান্য আরও ছ’টি জাহাজ থাকে। তার মধ্যে মূলত রয়েছে আর্লি-বার্ক ডেস্ট্রয়ার, এছাড়া সাবমেরিন তো আছেই। সাবমেরিনগুলোরও নিউক্লিয়ার মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতা আছে। এমন একটা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ধ্বংস হলে, বিরাটভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে হয়তো বা আমেরিকা ভাবলেও ভাবতে পারে পারমাণবিক যুদ্ধের কথা।
কিন্তু একথাও ঠিক, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ধ্বংস করারও অনেক অন্য পদ্ধতি আছে। ইরানের হয়তো সেসব নিয়ে ভাবনাচিন্তাও আছে। গোটা জাহাজ ধ্বংস না করে, কেবল ফ্লাইটডেকটুকু হয়তো বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায়। এখনও সেই পর্যায়ে যদিও আমরা পৌঁছইনি।
ইরানের তেল শোধনাগার আক্রান্ত। অ্যাসিড বৃষ্টির একটা সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। এই দিকটা নিয়ে যদি কিছু বলেন।
এই অ্যাসিড বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মূলত উঠেছে এই কারণেই যে, অয়েল ডিপো ও অয়েল রিফাইনারি আক্রান্ত হয়েছে। তেহরানে বৃষ্টি পড়ছিল সেদিন। শীতকালীন বৃষ্টি মূলত, যেহেতু এটা শীতের শেষদিক। যেহেতু টার উড়ছিল আকাশে, সেজন্য টারসমেত জল মাটিতে পড়েছে। এটাকে ঠিক অ্যাসিড বৃষ্টি বলা যায় কি না বোঝা যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। ফুসফুসেরও কঠিন রোগ দেখা দিতে পারে এর ফলে।
এই ঘটনার অভিঘাত কেমন হতে পারে?
তেহরানের ওই তেল শোধনাগারে এই পরিমাণ আক্রমণের ফলে যেটা ঘটবে, তা হল কাঠামোগত আক্রমণের মাত্রা বাড়বে। ইরানের অনেকটাই তো মরুভূমি অঞ্চল। ইজরায়েল থেকে লেবানন, ইরান পর্যন্ত অনেকটাই পানীয় জলের জন্য ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। কেশেম, অর্থাৎ পার্সিয়ান গাল্ফের ভেতর অবস্থিত ইরানের একটি দ্বীপ, মার্কিন মিসাইল সেখানে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে আক্রমণ করেছে। ইরানও পাল্টা ইজরায়েলের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে আক্রমণ করেছে। এর ফল খুব পরিষ্কারভাবেই, বিভিন্ন ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এ আক্রমণ। এখনও পর্যন্ত এই ধরনের আক্রমণ মূলত হয়েছে বিমানবন্দরে। সেটাও টেকনিক্যাল এরিয়েলে, অর্থাৎ, বায়ুসেনার এলাকায়। নাগরিক এলাকার ওপর আক্রমণ এখনও কিন্তু সেভাবে আমরা দেখিনি, কিন্তু যে কোনও মুহূর্তে তা এসক্যালেট করতেই পারে। ইরান আবার হাইফা-র তৈল শোধনাগারে আক্রমণ করেছে।
এখনও যুদ্ধ চলছে। ফলে, তথ্য ও তথ্যভ্রান্তি, দাবি-পাল্টা দাবি দু’পক্ষের তরফেই চলছে। তবে একটা কথা বলা প্রয়োজন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর পর থেকে, আমেরিকা আর ইজরায়েলই কেবল প্রতি বছর নানা অজুহাতে যুদ্ধ করেছে, বোমাবাজি করেছে। আর কোনও দেশই এমনটা করেনি। কিন্তু ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান থেকে ইরাক— সব যুদ্ধই কমবেশি দু’দশক ধরে প্রায় চলেছে। এই প্রথম একটা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমাদের মনে হচ্ছে, কুড়ি দিনের মধ্যে একটা ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন বারো দিন পেরিয়েছে। এখানে এটাও বলে রাখা দরকার, ইরানের থেকে এই প্রতিক্রিয়া আমেরিকা বা ইজরায়েল আশা করেনি। আমাদের জীবদ্দশায় এই তীব্রতার একটি যুদ্ধ আমরা দেখব, তা আমরাও আশা করিনি।
আরব দুনিয়ায় মার্কিনদের বন্ধু যারা, তারা এই প্রথমবার ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের বেসগুলিতেও আক্রমণ হয়েছে। এর ফলে কি ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে? আপনি এটাকে কীভাবে দেখছেন?
আরব দুনিয়া নিয়ে একটা কথা না বলে পারছি না। এই শেখ, আমির, রাজা-উজিররা একধরনের ‘বখশিস’ সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। এরা চিরকালই প্যালেস্টাইন, গাজা-য় আক্রমণের প্রেক্ষিতে ইজরায়েলকে সমর্থন করে এসেছে। আমেরিকার থেকে বখশিস নিয়ে ইরান-ফিলিস্তিনের পিঠে এরা ছুরি মেরে এসেছে আজীবন। এদের কোনও ইন্টেগ্রিটি নেই। ইরান কেন ওদের আক্রমণ করছে? কারণ ইরানকে ঘিরে ২৬টা মার্কিন ঘাঁটি। এবং এই প্রতিটা ঘাঁটি আমিরদের দখলে। কাতার, বাহরিনে। এই বাহরিনে মার্কিন ফিফথ ফ্লিটের হেডকোয়ার্টার, যেখান থেকে আমি ইউএসএস কার্ল ভিনসেনে উঠেছিলাম। এই ফিফথ ফ্লিটের হেডকোয়ার্টারের কুকহাউসে যে নাগরিকরা কাজ করেন, তার মধ্যে অনেক ভারতীয় আছেন। বাংলাদেশি, নেপালি, শ্রীলঙ্কার মানুষ আছেন। এঁরা ওখানে ছাপোষা চাকরি করেন। সবাই দুবাইয়ে গিয়ে শাহরুখ খান ও জুহি চাওলার মতো থাকে না। এঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সাংঘাতিক ক্ষতি হচ্ছে আমাদের মানুষের।
এই পঞ্চম নৌবহরে তো আক্রমণ করেছে ইরান। এই মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হওয়ার অভিঘাত কীরকম?
ইরান আক্রমণ করেছে ফিফথ ফ্লিটের নেভাল হেডকোয়ার্টারে। মার্কিন ঘাঁটির মধ্যে অন্যতম প্রধান হল কাতার। কাতারে ফিল্ডে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের হেডকোয়ার্টার। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল হেডকোয়ার্টার টাম্পা, ফ্লোরিডা-য়। ফিল্ড হেডকোয়ার্টার দোহায় ও কাতারে। এর লাগোয়া মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি আল উদায়েদ। দোহা, আল উদায়েদে ইরান আক্রমণ করেছে। ওরা কিন্তু বলেইছিল, ওদের আক্রমণ করলে ওরাও মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ করবে, কারণ যুদ্ধটা তো অসম! এছাড়াও এলসিসি বা ল্যান্ড কম্পোনেন্ট কম্যান্ড রয়েছে কুয়েতে। আল জুবেরে আক্রমণ করেছে। আমেরিকার বিমানবাহিনীর তো এদেরই ইন্ধন লাগে। সেখানে ওরাও আক্রমণ করছে সেইজন্য।
ইজরায়েল-আমেরিকা একদিকে, আরেকদিকে ইরান, এরা পরস্পরের জাহাজকে যুদ্ধের সময় আক্রমণ করবে, তা প্রত্যাশিত। কিন্তু যা প্রত্যাশিত নয়, তা হল, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ৬০০০ কিলোমিটার দূরে, ভারতের এত কাছে এই আক্রমণটা ঘটবে, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাই নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকবেন, পাঁচদিন-ছ’দিন ধরে। এটা লজ্জাজনক! মধ্যপ্রাচ্যের কোনও সংঘাতের সময় ভারতের এই ভূমিকা কিন্তু দেখা যায়নি। ঠান্ডা যুদ্ধের সময়, নেহরু থেকে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ভারতই ছিল জোটনিরপেক্ষতার শীর্ষে। আমরা বিশ্বাস করতাম, শুধু পুজোপ্রার্থনা করে শান্তি আসে না। শান্তি আনার জন্য লড়াই করতে হয়। ভারত শান্তির জন্য লড়াই করতে ভুলে গেছে।
এর ফলে কি মার্কিন আধিপত্য এখানে কমছে?
ইতিমধ্যেই কমেছে। একটা বিষয় অনেকেই জানতে পারে না, এসব অঞ্চলে কিন্তু মিশ্র জনগোষ্ঠী। এমনিতেই কাতার, বাহরিন, কুয়েত, দুবাইয়ে অভিবাসী জনসংখ্যা রয়েছেই, কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও তারও বেশি। তাছাড়াও, এই শেখ, আমিররা সুন্নি, আবার জনগণ কিন্তু মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের। আয়াতোল্লা খামেইনি কিন্তু কেবল ইরানের নয়, পৃথিবীব্যাপী শিয়াদের ধর্মীয় নেতা ছিলেন। তাই ছবিতে দেখাও যাচ্ছে যে, ফিফথ ফ্লিটের হেডকোয়ার্টারে, বাহরিনে যখন মিসাইল পড়ছে, মানুষ হাততালি দিচ্ছে, উল্লাস করছে। এই শেখ, আমির, সৌদি আরবের মহম্মদ বিন সুলতানদের এখন কিন্তু ভয়ে ভয়েই থাকা উচিত।
ভারতের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আমরা দেখেছি, ইরান থেকে জাহাজ আমাদেরই আমন্ত্রণে এসে ফেরার পথে আক্রান্ত হল। এই গোটা ঘটনাবলিতে ভারতের অবস্থান কীরকম বলে মনে হয়?
ইজরায়েল-আমেরিকা একদিকে, আরেকদিকে ইরান, এরা পরস্পরের জাহাজকে যুদ্ধের সময় আক্রমণ করবে, তা প্রত্যাশিত। কিন্তু যা প্রত্যাশিত নয়, তা হল, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ৬০০০ কিলোমিটার দূরে, ভারতের এত কাছে এই আক্রমণটা ঘটবে, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাই নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকবেন, পাঁচদিন-ছ’দিন ধরে। এটা লজ্জাজনক! মধ্যপ্রাচ্যের কোনও সংঘাতের সময় ভারতের এই ভূমিকা কিন্তু দেখা যায়নি। ঠান্ডা যুদ্ধের সময়, নেহরু থেকে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ভারতই ছিল জোটনিরপেক্ষতার শীর্ষে। আমরা বিশ্বাস করতাম, শুধু পুজোপ্রার্থনা করে শান্তি আসে না। শান্তি আনার জন্য লড়াই করতে হয়। ভারত শান্তির জন্য লড়াই করতে ভুলে গেছে। আমরা এখানকার মানুষকে যাই-ই বোঝাই না কেন, বিদেশে সবাই জানে, ভারত. আমেরিকা আর ইজরায়েল একসঙ্গে একটি অক্ষে ঢুকেছে, যা কিনা ‘অ্যাক্সিস অফ ইভিল’।
আপনি ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করে ইরানের গণপ্রতিরোধের কথা বলছিলেন। আমরা দেখেছিলাম, ১৯৭৯ সালে ইরানে যে অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তা ইসলামিক ছিল না। কিন্তু তারপর ইরানে একধরনের মৌলবাদ আসে, গণতন্ত্র ও বিরুদ্ধমত খর্ব করা হয়। নারীর ওপর অত্যাচার, নিপীড়নও বেড়েছে। আপনি তো ইরানে গিয়েছেন। ইরানের এই জনপ্রতিরোধের মাত্রাটা যদি একটু বুঝিয়ে বলেন।
এই যুদ্ধটার কারণে ইরানের সামাজিক বিভাজনগুলো অনেকাংশেই মুছে গিয়েছে। একত্রিত হয়েছে মানুষ। কিন্তু ইরানে এই মৌলবাদী মোল্লাতন্ত্র কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? একটু ইতিহাসটা জানতে হবে। ইরানের শেষ শাহ রেজা পাহলাভির পুলিশবাহিনী ছিল সাভাক। তারা যেভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, সমাজতন্ত্রী তুদে পার্টি-সহ অন্য অনেক গোষ্ঠীর ওপর তারা যেভাবে নিপীড়ন নামিয়ে এনেছিল, তা ভয়াবহ। এই আক্রমণ যখন শুরু হয়, তখন অনেকেই নিজেদের লুকোতে অনেক মসজিদ আর মাদ্রাসায় আত্মগোপন করে, এই ভেবে যে, শাহ আর সাভাক আর যাই হোক, মসজিদে আক্রমণ করবে না। সেই সুযোগ নিয়েছিল মোল্লাদের একটা অংশ। মসজিদগুলোতেও তারপর যখন আক্রমণ শুরু হল, তখন আর কোনও উপায় ছিল না শাহ-র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া। সেই মোল্লাতন্ত্রর শুরু।
খোমেইনির ছেলে মোজতবা খোমেইনি যখন সুপ্রিম লিডার হচ্ছেন, তেহরানে ওই বোমাবর্ষণের মধ্যেও হাজার-হাজার মানুষ। এইটা কীভাবে ঘটছে?
দুটো বিষয় আছে এখানে। প্রথমত, ইরান এত বড় দেশ, এবং প্রায় ন-দশ কোটি জনসংখ্যা। এর কিছু সুবিধা যেমন আছে, তেমন অসুবিধাও আছে। সেখানে অত মানুষকে বম্ব শেল্টারে রাখা সম্ভব নয়, যেমনটা তেল আভিভে সম্ভব। দ্বিতীয়ত. ওরা এটা বুঝেছে, মানুষকে রাস্তায় রাখলে স্বচ্ছতা বাড়বে, তত অসুবিধেজনক হবে ইরানকে আক্রমণ করা। তৃতীয়ত, আমি ইরানে থেকেছি, বিবিধ বিশ্ববিদ্যালয়ে, জিমনেসিয়ামে রাতের পর রাত কাটিয়েছি। একটা গণক্ষোভ ইজরায়েল এবং পশ্চিমি বিশ্বের বিরুদ্ধে কিন্তু তখনও ছিল, এখন যা বেড়েছে। এত বছর ধরে এত রকমের আক্রমণ চলেছে এখানে, ওরা ভয়কে উত্তীর্ণ করে ফেলেছে। এবং ইরান বলে নয়, দায়িত্ব নিয়েই বলছি, ইজরায়েল কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে আর সেভাবে ত্রাস নয় এখন।
শেষ প্রশ্ন, যুদ্ধ চলছে, হরমুজ বন্ধ, তেলের দাম বাড়ছে। আপনি বলছেন কুড়ি দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দিকে এগোবে। একথা কেন মনে হচ্ছে, যদি একটু বলেন। আর ফলাফল কী হতে পারে।
মিসাইলের যে তারতম্যর কথা প্রথমে বলছিলাম, তার ওপর তো অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। দ্বিতীয়ত, আমেরিকার কথার মধ্যে আতঙ্ক, সংশয় দেখা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতি আধঘণ্টা অন্তর কথা বদলাচ্ছেন। সেক্রেটারি পিট হেগসেথ, ট্রাম্প— এঁদের মধ্যে দোষারোপ শুরু হয়ে গিয়েছে। ট্রাম্প সকালে বললেন, হরমুজ পুনরুদ্ধার করেছে আমেরিকা। তেলের দাম কমল, স্টক মার্কেটে প্রভাব পড়ল। বিকেলে ওঁরই মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বললেন, না হরমুজ পুনরুদ্ধার হয়নি। আবার তেলের দাম বাড়ল। স্টক মার্কেটে ধ্বস নামল। আর কতদিন আমেরিকা এভাবে চালাতে পারবে? আর কতদিনই বা আমেরিকা তাদের আক্রাম্তর সংখ্যা লুকিয়ে রাখতে পারবে? ইতিমধ্যেই খবর আসতে শুরু করেছে, জার্মানির রামস্টেইনে মার্কিন ঘাঁটির হাসপাতালে সৈন্যদের নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। সেখানে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমেরিকায় তেলের দাম এখন সাড়ে তিন ডলার, পাঁচ ডলার হয়ে গেলেই আমেরিকাকে পিছু হঠতে হতে পারে। বোঝা যাচ্ছে, দূর থেকে এই যুদ্ধ আমেরিকার পক্ষে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ভিয়েতনামে, বা আফগানিস্তানের উত্তরে তাও আমেরিকা কিছুটা ভূখণ্ড দখল করতে পেরেছিল। ইরানের মাটিতে তো ওরা নামতেও পারেনি। ইরানের ভূগোলের জন্যও সেটা অসম্ভব। কাজেই, আর একটু অপেক্ষা, তারপরেই আমরা বুঝতে পারব, এই যুদ্ধ কোথায় কীভাবে শেষ হচ্ছে।



