আগুনের ইতিকথা

মেক্সিকো উত্তাল। অগ্নিবর্ষী। ফিফা দুশ্চিন্তায়, এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে এখানে কি আদৌ বিশ্বকাপের আয়োজন করা যাবে? এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণ? মার্কিন-মেক্সিকো যৌথ অভিযানে নিহত মাদক-মাফিয়া এল মেঞ্চো। কিন্তু সত্যিই কি একজন আঁধার দুনিয়ার রাজার সঙ্গে এতটাই আত্মিক যোগ মেক্সিকোর মানুষের? না কি মেক্সিকোর মাদক-যুদ্ধের ইতিহাসেই লুকিয়ে এর উত্তর?

এর উত্তর খুঁজতে গেলে একটু পিছনে হাঁটতে হবে।

ধু-ধু প্রান্তর চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। আকাশ-দিগন্ত ছুঁয়ে রয়েছে মাঠের শেষ সীমা। দেখে বোঝা যায় না চট করে, ওই মাঠের অন্দরে কী লুকনো রয়েছে। ওপর দিয়ে পাক খেয়ে চলে যায় মেক্সিকান সেনাবাহিনীর কপ্টার, ছবি ওঠে স্যাটেলাইটে। ছবি চলে যায় ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ওরফে ডিইএ-র কাছে। তারা দেখে, ছবিতে ফাঁকা মাঠ মাইলের পর মাইল জুড়ে। কিন্তু সন্দেহ যায় না কিছুতেই।

আরও পড়ুন: ইমরান খানের পাশে দাঁড়ানোই অধিনায়কসুলভ কাজ!
লিখছেন রোদ্দুর মিত্র…

মার্কিন মদতে তৈরি হয়েছিল চিলে-র কুখ্যাত শাসক অগাস্তে পিনোশের গুপ্তচরবাহিনী, দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে যারা ছড়িয়ে ছিল। পোশাকি নাম ‘অপারেশন কন্ডোর’। আসল উদ্দেশ্য যার, মার্কিন মুলুকের দক্ষিণভাগকে কবজা করা। সেই অপারেশন কন্ডোরের অংশ হিসেবেই এবার মার্কিন স্যাটেলাইট দিয়ে শুরু হল গোপন নজরদারি। খবর রয়েছে, গুয়াদালাহারা কার্টেল, সেই মুহূর্তে মেক্সিকোতে গঞ্জিকা এবং কোকেনের ব্যবসায় যারা অবিসংবাদী, তাদেরই দখলে রয়েছে অতবড় একটি এলাকা। সেখানে ফাঁকা মরুভূমির মাঝে অতবড়প্রান্তর তারা স্রেফ ফেলে রেখে দিয়েছে?তা কি হতে পারে? না কি এর মধ্যে রয়েছে অন্য কোনও ‘গোপন ষড়যন্ত্র’-র আভাস, যা চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে?

মার্কিন এজেন্ট কিকি ক্যামেরানার ইন্ধনে চলল চূ়ড়ান্ত নজরদারি। দেখা গেল, বিরাট ওই খেতজুড়ে নির্বিঘ্নে চলছে গাঁজার চাষ। গুয়াদালাহারা কার্টেলের একচ্ছত্র নেতা মিগুয়েল ফেলিক্স গেলার্দোর বিশ্বস্ত সঙ্গী, সম্পর্কে ভাই, রাফায়েল কারো কিয়েন্তেরো নিজের গঞ্জিকা-সাম্রাজ্যর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে ওই প্রান্তর জুড়ে। অপারেশন কন্ডোরের পরের ধাপ, মেক্সিকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ওই বিশাল মাঠে চলল রেইড। চোখ কপালে উঠে গেল ডিইএ এজেন্টদের। ‘সিনসেমিলিয়া’ বা দানাহীন গাঁজার চাষ চলছিল ওই মাঠে। সাহায্য করছিল মার্কিন ‘ডেভেলপার’-রা। উত্তর আমেরিকার নেশাতুরদের কাছে এই বিশেষ ধরনের গাঁজার চাহিদা তুঙ্গে। মরুভূমির মাঝে রীতিমতো জলসেচ করে, বহু সাধ্যের ফসল ওই অতবড় গঞ্জিকাক্ষেত্র পুড়ে খাক হয়ে গেল একবেলায়।

এর পরিণতি মর্মান্তিক। মার্কিনদের সঙ্গে মেক্সিকোর সরকারের এই চাপানউতোরের শিকার হতে হল এই অপারেশনের পুরোভাগে থাকা কিকি ক্যামেরানাকেই। ফেলিক্স গেলার্দো, আর্নেস্তো ফনসেকা ক্যারিলো ও রাফায়েল কারো কিয়েন্তেরোর মদতে এবং মেক্সিকোর সরকারের কিছু নামজাদা মন্ত্রীসান্ত্রীর সরাসরি উদ্যোগে কিকিকে কিডন্যাপ করা হল। তাঁকে আটকে রেখে, অবর্ণনীয় অত্যাচার করে, শেষে তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ ফেলে আসা হল মিশোকানের লা অঙ্গোস্তুরার কাছে একটি গ্রাম্য অঞ্চলে।

কিকি ক্যামেরানা

১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই ঘটেছিল কিকি-র অপহরণ এবং হত্যার ঘটনা। মার্কিনদের সঙ্গে মেক্সিকোর ড্রাগযুদ্ধের সমীকরণ আজন্মের মতো বদলে দিয়েছিল এই একটি ঘটনা। শুরু হয় মার্কিনদের বিশেষ অভিযান, ‘অপারেশন লিয়েন্ডা’।

এই আটের দশক জুড়ে গুয়াদালাহারা কার্টেল অধীনে রেখেছিল সিনালোয়া, তিহুয়ানা-সহ অন্যান্য কার্টেলগুলিকে। কিকি-র হত্যার পর পর ধীরে-ধীরে মার্কিন অপারেশনের চাপ বাড়তে শুরু করল। আটক হল রাফা, ফনসেকা ক্যারিলো। ফেলিক্স তারপরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। কিন্তু এবার চিড় ধরতে শুরু করল কার্টেল সিন্ডিকেটের ঐক্যে। ফেলিক্সকে সরে যেতে হল নেতৃত্ব থেকে। তাঁর গ্রেফতারিও সময়ের অপেক্ষা হয়ে রইল। দীর্ঘদিন মেক্সিকোর জেলেই বন্দি ছিল ফেলিক্স। ৮০ বছর বয়সি ফেলিক্স অসুস্থ হওয়ার দরুন তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে বছরকয়েক হল। ট্রাম্প প্রশাসনের সক্রিয়তা বা অতি-সক্রিয়তায় রাফায়েল কারো কিয়েন্তেরোকে ‘এক্সট্রাডাইট’, অর্থাৎ মার্কিন মুলুকে বন্দি করা হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু কিকি ক্যামেরানাকে অত্যাচার এবং হত্যার নথি টেপবন্দি হয়ে রয়েছে আজও। অনেক বড় নাম, যাদের নেপথ্যে মার্কিনদেরও খানিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে, তাদের ঢাকার জন্যই সম্ভবত, সেইসব টেপ পুরোপুরি প্রকাশ্যে আনা হয়নি আজও।

মাথায় রাখতে হবে, মেক্সিকোর ড্রাগদুনিয়া যতই শক্তিশালী হোক-না কেন, সেই সাতের দশকের শেষ থেকে আটের দশক জুড়ে তামাম দুনিয়ার ড্রাগ লর্ড হিসেবে গণ্য করা হত একজনকেই। কলম্বিয়ার মেডিলিন কার্টেলের সম্রাট, ‘পাইসা রবিনহুড’ওরফে পাবলো এসকোবারকে। নানাভাবে মেক্সিকোর ড্রাগ লর্ডরা একটা সময়ের পর থেকে মার্কিনদের সমঝে চলেছে। বিশেষ করে, সরাসরি সিআইএ-র সঙ্গে যোগসাজশ রাখার অভিযোগও ছিল ফেলিক্স গেলার্দো থেকে শুরু করে কলম্বিয়ার কুখ্যাত ‘লস ক্যালেব্রোস অফ কালি’ অথবা ‘জেন্টলমেন অফ কালি’-র বিরুদ্ধে। কালি কার্টেলের দুই ভাই গিলবার্তো ও মিগুয়েল রডরিগেজ ওরুহেলা, হোসে সান্তাক্রুজ ওরফে ‘এল চেপে’(এর দায়িত্বে ছিল নিউ ইয়র্কের ড্রাগদুনিয়া সরাসরি চালানো)এবং শেষত, অথচ ভয়ংকর জরুরি একটি নাম, হেলমার হেরেরা ওরফে ‘পাচো’-দের  কোনওভাবেই ধরাছোঁয়া যেত না, সিআইএ-র অদৃশ্য হাত থাকার কারণেই, এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময় শোনা গিয়েছে। কিন্তু পাবলো বিন্দুমাত্র সমঝোতার ধার ধারেনি আমৃত্যু। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নে কলম্বিয়ার সংসদ অবধি একবার পৌঁছেও গিয়েছিল পাবলো। পাবলোর হত্যা (১৯৯৩) পর্যন্ত সে ত্রাস হয়ে থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র ওরফে স্যামচাচার কাছে।

পাবলো এসকোবার

পাবলোর হত্যা, মেক্সিকোতে কার্টেলদের নিজেদের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়া— এই দুই ঘটনাই খেলা ঘুরিয়ে দেয়। কার্টেলদের মধ্যে যে-যুদ্ধ শুরু হয় নব্বইয়ের গোড়ায়, তা আজ পর্যন্ত থামেনি।আমাদো কারিলো ফুয়েন্তেস, যাকে বলা হত ‘এল সেনর দে লস সিয়েলোস’, অথবা আকাশপথের বেতাজ বাদশা, সে তামাম ড্রাগদুনিয়ার সর্বোচ্চ সম্রাট হয়ে উঠল, যে-মুহূর্তে কালি কার্টেল ধরাশায়ী হল ডিইএ-র কাছে, তাদের যাবতীয় ‘পলিটিকাল ইমিউনিটি’বা রাজনৈতিক রক্ষাকবচ হারিয়ে। আমাদোর তথাকথিত মৃত্যু খুব সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। মেক্সিকোর মোরেলোস স্টেটে হঠাৎই একটি নীরব গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়ে যায় সেই স্টেটের গভর্নর হোর্হে ক্যারিলো ওলেয়া-র বিরুদ্ধে, ড্রাগদুনিয়া এবং সেই সংক্রান্ত হিংসায় মদত দেওয়ার জন্য। মার্কিন প্রশাসন ততদিনে খানিক ঢিলেমি দেওয়া শুরু করেছে ড্রাগযুদ্ধের বিষয়ে। ‘অপারেশন লিয়েন্ডা’-ও ততদিনে থিতু হওয়ার পথে। কিন্তু এই গণক্ষোভে তাদের নড়েচড়ে বসতেই হয়। আমাদোকে গ্রেফতারির চাপ বাড়তেই আমাদো শেষ চেষ্টা করে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেওয়ার। প্লাস্টিক সার্জারি করতে গিয়ে অ্যানাস্থেশিয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আমাদোর। তার হুয়ারেজ কার্টেল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তিহুয়ানা, সিনালোয়ার সংঘর্ষ চলছিলই। আমাদোর মৃত্যুর পরে পরেই হুয়ারেজের একটি রেস্তোরাঁয় দু’টি একে ফর্টি সেভেন-সহ আরও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে তিহুয়ানার হানাদার বাহিনী। প্রায় ১০০-র ওপর মৃত্যু ঘটে সেই রেস্তোরাঁতেই।

তখনও পর্যন্ত তিহুয়ানার জোর ছিল সবচেয়ে বেশি, কিন্তু তিহুয়ানার আরেয়ানো-ফেলিক্স ভাইদের ছোটজন, অর্থাৎ রামোনের হত্যার পর এবং বেঞ্জামিন আটক হওয়ার পর মেক্সিকোর এই অলীক কুনাট্যের অগ্রভাগে চলে আসে একটি নাম, চাপো গুজম্যান, বা এল চাপো। পাবলো এসকোবারের পর থেকে ড্রাগদুনিয়ায় এতটা শক্তিশালী আর কেউ-ই হতে পারেনি, যতটা হয়েছিল চাপো। চাপো আমেরিকার জেলে এক্সট্রাডিটেড হয়ে বন্দি হওয়ার পরে, সেখান থেকে সুড়ঙ্গ কেটে আবার মেক্সিকো পালিয়ে এসেছিল, যা আমেরিকার জেলের বজ্রআঁটুনিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। ছোটখাটো হয়েও গাল্ফ কার্টেলের মতো কিছু সংগঠনও রয়ে গিয়েছিল হয়তো। কিন্তু চাপোর নেতৃত্বে নতুন করে সিনালোয়া কার্টেল মেক্সিকোকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছিল।

এল চাপো

চাপো এখনও বন্দি, তবে সম্প্রতি মেক্সিকো উত্তাল হয়েছে নেমেসিও রুবেন হোসেগুয়েরা সেরভান্তেস, ওরফে এল মেঞ্চোর হত্যায়। এল মেঞ্চো ছিল হ্যালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের মাথায়। ছবির মতো সুন্দর শহর হ্যালিসকো, রংবেরঙের পোশাকে যেখানে কার্নিভাল চলছিল ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে, সেই কার্নিভালের থেকে কিছু দূরেই মেক্সিকোর সেনার গুলিতে নিহত হয়েছে এল মেঞ্চো। এখন তার কার্টেল সিজেএনজি-র নতুন নেতা হিসেবে উঠে আসছে হুয়ান কার্লোস ভ্যালেন্সিয়া গনজালেজের নাম। তার মাথার দাম ঘোষণা হয়েছে মোটা অঙ্কের ডলারে। সিনালোয়া কার্টেলের নতুন মাথা রেনে আর্জেতে গার্সিয়া ওরফে লা রানা-ও পলাতক।

ভেবে দেখলে, ড্রাগ লর্ডদের বেশিরভাগই দারিদ্রের শেষ সীমা থেকে উঠে গিয়েছে বৈভবের, ভোগবাদী যাপনের শীর্ষে। আমেরিকায় মাদকের বিপুল চাহিদা ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রতি চূড়ান্ত অর্থনৈতিক নিষ্পেষণের নীতি নিয়ে নীরব থাকার কোনও পরিস্থিতি এক্ষেত্রে আছে কি আদৌ? এই অসাম্যই কি খাপখোলা অপরাধের নেপথ্য মঞ্চ তৈরি করে দেয়নি?

মেক্সিকোর এই রক্তলেখা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা কখনও ‘নার্কোস’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে নানা মাত্রায় উঠে এসেছে বটে, কিন্তু অনেক কথাই তার মধ্যেও অনুচ্চারিত। যেমন, মেক্সিকোর কমিউনিস্ট পার্টি একটি বিবৃতিতে সরাসরি জানিয়েছে, ‘সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর সময় থেকে ড্রাগ ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি মদত দিয়েছে যারা, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডিইএ এবং সিআইএ দীর্ঘদিন ধরে, অস্ত্র থেকে লোকবল— সর্বতোভাবে সাহায্য করে গেছে ড্রাগ পাচারকারী গোষ্ঠীগুলিকে।’ এর সঙ্গে মেক্সিকোর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কথাও বলা হয়েছে সেই বিবৃতিতে। ‘জেটা’-র মতো মেক্সিকোর পত্রিকাগুলি এব্যাপারে সরব দীর্ঘদিন। জে. জেসাস ব্ল্যানকর্নেলিয়াস ছিলেন এই পত্রিকার সম্পাদক, যাঁকে তিহুয়ানা কার্টেলের ‘বুটলেগার’ ও ঘাতকদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হতে হয়। তাঁর সহকর্মী হেক্টর ফেলিক্সও নিহত হয়েছিলেন এই ড্রাগচক্রের সঙ্গে মেক্সিকোর তাবড় তাবড় নামের যোগাযোগ নিয়ে তদন্তমূলক প্রতিবেদন করতে গিয়ে। নিহত হয়েছিলেন সাংবাদিক ফ্রান্সিসকো অর্তিজ ফ্রাঙ্কোও। আর এই সমস্ত কিছুর নেপথ্যে রয়েছে হোর্হে হ্যাঙ্ক রনের মতো মেক্সিকোর তাবড় ব্যাবসায়ী তথা রাজনীতিবিদরা। এমনকী, সরাসরি ড্রাগযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলেও, মেক্সিকোতে যে গুপ্ত নারীহত্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তা এই পরিকল্পিত নৈরাজ্যেরই যে অংশ, সেকথা কে অস্বীকার করবে?

কলম্বিয়া থেকে নিকারাগুয়া— সর্বত্র কমিউনিস্ট নিধনের যে ম্যাকার্থিবাদী রাজনীতি চালিয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর, তাতে তাদের দোসর হয়েছে লস পেপেস-এর মতো উগ্র দক্ষিণপন্থী ঘাতক গোষ্ঠীরা। সিআইএ থেকে মার্কিন প্রশাসনের নানা স্তর থেকে এদের ইন্ধন এসেছে। এরা সুবিধেমতো ড্রাগদুনিয়ার কারবারিদের হাত ধরেছে এবং ছেড়েছে। মেক্সিকোতে একটি কথা আছে, ‘এল মিয়েদো এস্তা এন তোদাস পার্তেস’। অর্থাৎ, আতঙ্ক সর্বত্র। এল মেঞ্চোর হত্যার পর নির্বিচারেযানবাহন পোড়ানো চলছে সর্বত্র। একে কী বলা যাবে,গণক্ষোভ, না কি আতঙ্কের নীল নকশা? একের পর এক প্রজন্ম ডুবে গেছে মেক্সিকোর এই আতঙ্কের আঁধারে। এর শেষ কোথায়, সেই উত্তর মেলা কঠিন।