Memories সম্বন্ধে খুঁজে পাওয়া লেখাগুলি

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন : পর্ব ২

‘বাড়িটার ছবিটা দেখি। ধূসর রং। মানে বহুদিন রং করা হয়নি। দোতলা বাড়ি। ছাদ থেকে পাইপ নেমে এসেছে কয়েকটা। বৃষ্টির জল নেমে আসে। একটাও নীচ পর্যন্ত নামেনি। আগেই ভেঙে গেছে। পাইপের তলার দেওয়ালের রঙ কখনও নীল, কখনও লাল, কখনও সবুজ। কারণ ছাদ থেকে রঙিন জল নেমে আসে বৃষ্টি পড়লে। কালির বড়ি তৈরির মণ্ড।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন : পর্ব ১

‘ছবির সঙ্গে গন্ধের স্মৃতিও পেতে থাকি। হজমিওলা। হজমি-মশলার গন্ধ। বিকেলের তেলেভাজার গন্ধ। গ্যালিফ স্ট্রিট ট্রাম ডিপোয় ট্রামের গন্ধ। ট্রামের থাকে। সবুজ গদির ফার্স্টক্লাস আর কাঠের বেঞ্চিরও কি আলাদা-আলাদা গন্ধ ছিল?’

পিনাকী ভট্টাচার্য

বাস্তুহারা কারা?

‘‘‘সুখনিবাস-যোগ্য স্থান’-ই বাস্তু। শুধু রাজনৈতিক কারণে বাস্তুহারা নয়, হাজারে-হাজারে, লাখে-লাখে যে-সব মানুষ নিজেদের শৈশবের/কৈশোরের/যৌবনের সুখের নিবাস থেকে ঠাঁই-নাড়া হয়েছে, তাদের সুখনিবাস থেকে বিতাড়িত হয়েছে, ছিটকে পড়েছে শহরের, দেশের, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরে— তারাও কি বাস্তুহারা নয়!’’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১

‘আমার কালীঘাট শুরু হত পটুয়াপাড়া থেকে। পটুয়াপাড়া, তারপর ট্রামলাইন পেরিয়ে ডানদিকে রেডলাইট এরিয়া, বাঁয়ে ভদ্রপাড়া। তবে মাঝে দুটো জায়গার দুটো বাড়ি আবার গৃহস্থ নয়। টানা হেঁটে চললে কালীঘাট হাইস্কুল, কালীঘাট বাজার, মন্দির, উলটোদিকে গঙ্গার ঘাট, পাথরপট্টি পেরিয়ে শ্মশান। শুধু শ্মশান নয়, মহাশ্মশান। যেন পটুয়ার হাতে জন্ম হয়ে এক জীবন পেরিয়ে মহাশ্মশানে বিসর্জন!’

Illustration by Suhomoy Mitra
শ্রীজাত

হিয়া টুপটাপ, জিয়া নস্টাল: পর্ব ৪৬

‘আমিও ঢাকের কাঠি থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছি অনেকদিন হল। মনে-মনে কত কী বিসর্জন দিতে হল এই ক’বছরে, আর কানে-কানে শুনতে পেলাম সেই ম্লান ঢাকের বাদ্যি, সে আর বলার না। বিষণ্ণতা আসলে এক শেষ-না-হতে-চাওয়া পূজা পর্যায়, আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ আসলে হেমন্তকালের ডাক।’

শ্রীজাত

হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল : পর্ব ৪৫

‘ভাল মাঞ্জার জন্য যা যা সরঞ্জাম দরকার সব ওরাই কিনে আনত দোকান থেকে, কিন্তু আসল মন্ত্র ছিল কাচের গুড়ো। ওইটি ঠিকঠাকভাবে সুতোর গায়ে মাখিয়ে রাখতে পারলেই কেল্লা ফতে। এ-বাড়ি ও-বাড়ি থেকে বাতিল বোতল চেয়ে এনে বস্তায় পুরে শিলনোড়া দিয়ে সেসব কাচ ভাঙার কাজ চলত।’

প্রচেত গুপ্ত

উল্টো পুজো

আমাদের একটু অন্যরকম ইচ্ছে ছিল। এখন ভাবলে হয়তো ছেলেমানুষিই মনে হয়। তখন ক্লাস টেন হবে, সে-বয়সে হয়তো এমন হয়। আমাদের ইচ্ছে ছিল, আমরা একটু উল্টোদিকে উৎসব কাটাব। এমন জায়গায় যাব, যেখানে পুজোর চিহ্নমাত্র নেই। সেটা কোথায়? গ্রাম? না, তা মোটেই নয়। গ্রামের পুজোও তো দ্রষ্টব্য। আমরা কলকাতার মধ্যেই এমন জায়গায় যাব, যেখানে পুজোর নামগন্ধ থাকবে না।

দেব রায়

ঘরে ফেরার গান

‘দেবীর কীসে আগমন আর কীসে গমন, তা মা পঞ্জিকা দেখে বলত। ফল শস্যপূর্ণবসুন্ধরা না ছত্রভঙ্গ। কিন্তু পুজো আসতে আসতেই ফিনিশ। এই কলাবউ স্নান-বোধন হল, সপ্তমীতে কুলকাঠের আগুন জ্বলল মণ্ডপের পাশে। তাই দিয়ে আমরা দেদার দোদমা আর চকলেট বোম ফাটিয়ে কোটা শেষ করে ফেললাম।’

Representative Image
তপশ্রী গুপ্ত

ডেটলাইন: পর্ব ৩১

‘…শুনলাম, কোন ম্যাজিকে বালির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এত উঁচু বাড়ি। অনেকটা নীচে কংক্রিট পাইল করে, ওপরের জমিতে পাথর আর কংক্রিট দিয়ে বেঁধে তবে দাঁড় করাতে হয়েছে স্থাপত্যের এই বিস্ময়কে। শুনে নতুন করে আর অবাক হলাম না যে, এই হোটেলে আছে আন্ডারওয়াটার রেস্তরা।’
‘ডেটলাইন’ পর্ব ৩১…

Representative Image
ডাকবাংলা.কম

সাক্ষাৎকার: স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়

‘আমার উপন্যাস বা গল্পগুলো আগেই পড়া হয়ে যেত। তখন অনেক সময়ে ওকে বলেছি, এই জায়গাটা আমার ভাল লাগছে না, এটা অন্যভাবে লিখতে পারতে। তবে আমার কথা শুনে যে বদলে দিত তা নয়। কখনও আবার মজা করে বলত, তুমি আমার কঠোর সমালোচক হয়ে যাচ্ছ দিনে-দিনে।’
সাক্ষাৎকার। স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়

Representative Image
সুশোভন অধিকারী

মশগুল : পর্ব ১৩

‘যে যাই বলুক, এই কালোর দোকান যেন শান্তিনিকেতনের কফি হাউস। কিংবা হয়তো তার কিছু বেশিই। কত যে বিশিষ্ট মানুষজন এখানে এসেছেন, এই আড্ডায় মজে চা-শিঙাড়া গ্রহণ করেননি, এমন মানুষের হদিশ পাওয়া মুশকিল। এমনকী, আশ্রমের উৎসব-অনুষ্ঠান উপলক্ষে খাবার তৈরিতে কালোর দোকানের নামই মনে আসত সকলের আগে।’

Representative Image
শিবপ্রসাদ রায়চৌধুরী

মেডিসিনারি : পর্ব ১৪

‘একবার কাটাছেঁড়া শুরু হলে আর অন্যদিকে মন থাকে না। তখন চোখ খুঁজে বেড়াচ্ছে মাসল, আর্টারি, নার্ভের রহস্য। হইহই করে কেটে গেল প্রথম কয়েকটা দিন। সত্যি বলতে কী, সবকিছুই এখন আর আগের মতো রহস্যময় লাগছে না।’