খ্রিস্ট-জন্মের প্রায় ৩০০ বছর আগে প্ৰখ্যাত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তাঁর বই ‘নিকোমাচিয়ান এথিক্স’-এ বন্ধুত্বের থিওরি নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনা করেছিলেন। বন্ধুত্বের মূলত তিন ধরনের প্রকারভেদের কথা তিনি উল্লেখ করেন । এক, কার্যকরী বন্ধুত্ব, অর্থাৎ যা আমরা প্রতিনিয়ত চলতে-ফিরতে, বাসে-ট্রামে, অফিসে-পাড়ায় বহাল রাখি বা ‘মেন্টেন’ করি। দ্বিতীয়, আনন্দদায়ক বন্ধুত্ব, যা হয়তো সিঙ্গল মল্ট সহযোগে বিশ্বকাপ দেখে বা উইকেন্ড গেট-টুগেদারে আমরা ‘উপভোগ’ করি। তৃতীয়, নিখাদ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধুত্ব, যা আমাদের বিপদে-আপদে, সুখে-বিরহে মনের কথার আশ্রয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অ্যারিস্টটল বোধকরি একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব-রাজনীতির যাবতীয় বন্ধুত্বের সমীকরণ সম্পর্কে পূর্বানুমান করতে অক্ষম ছিলেন। না-হলে, নিশ্চিতরূপেই একটি গোটা অধ্যায় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি র ‘সু-গভীর’ বন্ধুত্বের উদ্দেশে উৎসর্গ করতেন।
‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার’ কিংবা ‘হাওডি মোদী’— মধুচন্দ্রিমা কাটিয়ে গ্লোবাল-গার্হস্থ্য জীবনের শুরুটা যে সুখকর হয়েছিল, সেই বিষয়ে আহমেদাবাদের দেওয়ালের ওপারের প্রতিটা বস্তিবাসীই জ্ঞাত। কিন্তু দ্বিতীয় দফার শুরু থেকেই তাল কেটেছে। ভিসা নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত হোক কিংবা শুল্ক যুদ্ধ, হোয়াইট হাউস কখনওই স্বস্তি দেয়নি দিল্লি-কে। যদিও নিন্দুকেরা ‘হুমকি’ প্রসঙ্গে কোভিডকালীন হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের বাসি সরিষার অনুষঙ্গ টানছেন, তবে সাম্প্রতিক অভিঘাতে তা নিতান্তই তুচ্ছ। ৫০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা, ভাঁজ ফেলেছে মোদি তথা সমগ্র ভারতবাসীর কপালে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনাকে কারণ হিসেবে খাড়া করলেও, মার্কিন মুলুকের সঙ্গে রাশিয়ার নিজস্ব ব্যবসায়িক অর্থের পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দিচ্ছে, তা আদতে দুর্বল অজুহাত মাত্র।
আরও পড়ুন: পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দেশের ভাষা নিয়ে ট্রাম্পের উক্তি প্রমাণ করে, ইংরেজি নিয়ে সাদা শাসকদের নাক-উঁচু ভাব একটুও কমেনি! লিখছেন বিশ্বজিৎ রায়…
বুধবার ভারতীয় সময় ৯টা ৩১ মিনিট থেকে রপ্তানিকৃত সমস্ত পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক জরিমানা কার্যকর করা হয়েছে আমেরিকা সরকারের তরফে। পাল্টা ভারতের পদক্ষেপ? প্রধানমন্ত্রী বহু সভা থেকে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁর ব্যবহার্য গাড়ি, চশমা, কলম ইত্যাদির উৎপাদক সংস্থার নাম তাঁর ডিগ্রির মতোই অমিল। সমালোচকরা মনে করিয়েছেন, এই স্বদেশি পণ্যের গুরুত্ব আরোপে কোভিডের সময়েই, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। ২০২০ সালের ১২ মে, প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পে প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন। যদিও সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে ভারত কতটা ‘আত্মনির্ভর’ হয়েছে এবং কোন-কোন খাতে কত মূল্য বিনিয়োগ হয়েছে, তার তালিকা পাঁচ বছর অতিক্রম করেও দাখিল হয়নি। আমেরিকার শুল্কবৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী, পুস্কর সিংহ ধামী নেমে পড়েছেন স্থানীয় মুদিখানার দোকানগুলিতে (যেখানে স্থানীয় জিনিসই বেশি পাওয়া যায়) বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি গ্রহণের পোস্টার লাগাতে। কিন্তু ট্রাম্প বা কোনও আমেরিকান নাগরিকই যে, কালাপানি পেরিয়ে এই সামান্য মুদিখানাগুলোতে বাজার করতে আসেন না, সেই বিষয়ে ধামীবাবু হয়তো নিতান্তই অজ্ঞ!
অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, ট্রাম্প আমলের দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির যে স্তরে পৌঁছেছে, তা উন্নতির ব্যর্থ প্রয়াসে না গিয়ে বিকল্প পথের অনুসন্ধান করা উচিত। নতুবা, ভারতীয় অর্থনীতির শেষের শুরু অবশ্যম্ভাবী। তাই সমাপ্তির দ্বন্দ্বে না গিয়ে, শুরুর সমীপে আলোকপাত করা যাক।

প্রসঙ্গত, শুল্ক কী এবং তার প্রভাব কীভাবে ভারতীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে, সেটা বোঝা দরকার। সহজভাবে বললে একটি দেশ অন্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর যে কর বসায়, তাই হল শুল্ক। অনেক ক্ষেত্রে একে সীমানা-শুল্কও বলে। কোনও বিদেশি দ্রব্য, ঔষধি, পণ্য অন্য দেশে আমদানি করা হলে, সেই দেশের সরকার দ্রব্যটির মূল দামের ওপর নির্ধারিত হারে কর বসায়, যাকে বাণিজ্য শুল্ক বলে। এর ফলে পণ্যটির দাম বেড়ে যায় ও শুল্কবাবদ এই অতিরিক্ত অর্থ ক্রেতা কেনার সময় প্রদান করেন। সরকার-কর্তৃক নির্ধারিত শুল্ক বা ট্যারিফের মূল লক্ষ্য থাকে সেই দেশের নিজস্ব বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও নিরাপত্তা প্রদান। কিন্তু এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। অতিরিক্ত হারে বাণিজ্য শুল্ক, ট্রেডওয়ার বা বাণিজ্য যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়, বর্তমান বিশ্বে যা ক্রমবর্ধমান সমস্যা। এছাড়াও শুল্কে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, স্বাভাবিকভাবেই পরিব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলি লাগু করে, যার পরিণতি বিপুল কর্মীছাঁটাই। সর্বোপরি যে দেশ শুল্ক নিচ্ছে, সেই দেশের অর্থনীতিও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এই প্রসঙ্গে ভারত ও আমেরিকার অর্থনীতির বর্তমান অবস্থানও কিঞ্চিৎ পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমেরিকা ভারত থেকে মূলত টেক্সটাইল ছাড়াও ভারী যন্ত্রাংশ, ওষুধ, সামুদ্রিক পণ্য, দামি বহুমূল্য রত্ন আমদানি করে। অন্যদিকে ভারত এয়ারক্র্যাফট, উল্লেখযোগ্য আইটি প্রোডাক্ট (মোবাইল, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ প্রভৃতি), অটোমোবাইল পণ্য, চিকিৎসা দ্রব্য, কৃষি যন্ত্রাংশের উপর বিপুলভাবে নির্ভরশীল। আমেরিকার নামি কোম্পানি ‘আমাজন’, ‘গুগল’, ‘ওয়ালমার্ট’, ‘মাইক্রোসফ্ট’-এর মতো আইটি কোম্পানি এখানে ব্যবসা করলেও বিকল্প হিসেবে ‘উইপ্রো’, ‘ইনফোসিস’, ‘টাটা’-র মতো ব্র্যান্ড আমেরিকার বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও ভারতের সুবিশাল প্রশিক্ষিত ও দক্ষ লেবার ফোর্স আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত। কিন্তু বর্তমানে ৫০ শতাংশ হারে শুল্কের আঘাতে রফতানিকারীদের আশঙ্কা, প্রায় ৪,৭০০ থেকে ৪,৮০০ কোটি ডলার মূল্যের বিপুল ধাক্কা লাগতে চলেছে ভারতীয় অর্থনীতিতে। অদ্ভুতভাবে মোদী সরকারের তরফে এই বিষয়ে আশ্বাস ছাড়া বিশেষ কোনও সুরাহা মেলেনি। অর্থাৎ ভারতীয় অর্থনীতি ট্রাম্পের কূটনৈতিক চালে মাত। ভারত কোন দেশের থেকে তেল কিনবে, তা আমেরিকা ঠিক করে দেবে। যে সম্পর্ক হাসিমুখে ভোটপ্রচারে শুরু হয়েছিল, কালের ক্রোনোলজিক্রমে তার কী নির্মম পরিহাস! ভারতের প্রতিবেশী দেশ চিনের ক্ষেত্রে কিন্তু এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। হতে পারে তারা রাশিয়ার সঙ্গে সর্বাধিক আমদানি চুক্তিতে যুক্ত। হতে পারে, গোটা ইউরোপই ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক রক্ষা করছে রাশিয়ার সঙ্গে। হতে পারে, ট্রাম্প নিজেও ব্যবসায়িক খাতির বজায় রেখেছেন। কিন্তু বন্ধুত্বের কুনজরে পড়ে কপাল পুড়ছে শুধুমাত্র ভারতের। ভারতের অর্থই নাকি রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বকে তহবিল করছে।
যদিও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার গোটা পরিস্থিতিটাকেই ‘অপ্রত্যাশিত সুযোগ’ হিসেবে দেখছে। সম্প্রতি নীতি আয়োগের প্রাক্তন কর্ণধার অমিতাভ কান্ত একটি টুইটে, এই সংকটকে ‘প্রজন্মের সেরা সুযোগ’ আখ্যায় ভূষিত করেছেন। পাশাপাশি এই অচলাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থনৈতিক সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছেন। বাস্তবে মনুষ্য-স্মৃতির আয়ু বড়ই দুর্বল। ২০১৬-২০২২ পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদকালে অমিতাভবাবুই নীতি আয়োগের দায়িত্বে ছিলেন। কর্ণধার থাকাকালীন যে বিপুল সংস্কার সম্ভব হয়নি, তা হয়তো তিনি কোহলিচিত ভঙ্গিমায় সংকটের সম্মুখে বাস্তবায়িত করবেন! আদতে তিনি অপেক্ষারত ছিলেন, প্রেসার নিয়ে খেলতে খানিক ভালবাসেন কিনা!
তবে প্রশ্ন আসতে পারে শুধুমাত্র ভারতই কেন? যেখানে চিন, ইউরোপ-সহ গোটা বিশ্বের একাধিক দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত। এর উত্তর, আমেরিকার প্রেক্ষিতে জলবৎ তরলং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন, ভারতকে হুমকি দেওয়া যায়! বিশ্ববাজারে বিগত পাঁচ বছরে ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার দেশ আমেরিকা। অর্থাৎ, মোদি সরকারের আমলে মার্কিন মুলুকের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে ভারতের। আর মুখে যতই বয়কটের ধুয়ো তুলুক, যখন-তখন বিরোধী মতকে চিনপন্থী ঘোষণা করুক, আদতে বাণিজ্য অংশীদারীতে আমেরিকার ঠিক পরেই রয়েছে চিন। বাণিজ্যিক আমদানির পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, কোনও বিকল্প নেই ভারতের কাছে। অগত্যা শুল্ক বাড়িয়ে ট্রেড ওয়ারের সূচনা, কোণঠাসা ভারত। শুধুমাত্র এমএসএমই সেক্টরেই ১০-১৫ লক্ষ কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও বস্ত্র শিল্পে ১৫ কোটি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুড়ে রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। তাঁদের কর্মসংস্থানে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সুরাট, লুধিয়ানা, আগ্রার মতো শহর উদ্বেগের প্রহর গুনছে। আমদানির খরচ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, দেশের সামগ্রিক জিডিপির উপর ০.৫-১ শতাংশ হারে ধাক্কা লাগতে পারে। যদিও এখানে পাল্টা শুল্ক জারি করার কিংবা রপ্তানি বন্ধ করার পক্ষে অনেকে সওয়াল করছেন। যেমনটা এই শুল্ক যুদ্ধের শুরুতে চিন করে এবং আমেরিকা ১৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করতে বাধ্য হয়। অনেকে মনে করতেই পারেন, ভারতের হাতে যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ বন্ধ করার বিকল্প পথ রয়েছে। কিন্তু তাতেও রয়েছে বিপত্তি। ঘাটতি পূরণে খানিক অধিক মূল্যে হলেও সাপ্লাই চেনের বিপুল সরবরাহ সাজিয়ে অপেক্ষারত জার্মানি কিংবা আয়ারল্যান্ড। ইলেকট্রনিক্সের ডালি সাজিয়ে অপেক্ষায় ভিয়েতনাম, তাইওয়ানের মতো দেশ। অর্থাৎ ভারতের সামনে তথাকথিত কোনও মজবুত বিকল্পের বড়ই অভাব। আর অন্যদিকে শুল্ক বাড়ালে আইটি ইন্ডাস্ট্রির ওপরও পাল্টা আঘাত আসতে পারে ট্রাম্প সরকারের পক্ষ থেকে। কারণ, নির্ভরশীলতা একমুখী। বিকল্প বাজার হিসেবে নাম উঠে আসছে এশিয়ান দেশগুলির। কিন্তু এত সহজে বিকল্প বাজার তৈরি মোটেই সহজ নয়। সেখানেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। আর মার্কিন মুলুকের ফাঁকা বাজারে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মুখিয়ে আছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, এমনকি পড়শি বাংলাদেশও, যারা সারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেক্সটাইল রপ্তানিকারক তকমার অধিকারী। সম্প্রতি বিকল্প বাজারের তালিকায় নাম এসেছে টার্কির। সেই টার্কি, যাকে অপারেশন সিঁদুরের সময় বয়কটের ডাক উঠেছিল।
সব মিলিয়ে মোদি সরকার তথা জয়শঙ্করের জিলিপির প্যাঁচসদৃশ জটিল বিদেশনীতি কেসি নাগের অংককে টেক্কা দিচ্ছে। অদ্ভুতভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রজেক্ট। আমেরিকা প্রতিনিয়ত বিদ্রুপ ছুঁড়ে দিচ্ছে ভারতের দিকে। ‘শত্রুর শত্রু’ আদিম নীতিতে ট্রাম্পের বন্ধু পাকিস্তান। তেল নিয়ে অকৃপণ। শুল্ক হ্রাস হয়েছে। ট্রাম্পের দৈববাণী, একদিন পাকিস্তানও ভারতকে তেল বিক্রয় করবে। সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই বিদেশনীতি! নিরপেক্ষ থাকার প্রবল প্রয়াসে কোনো পক্ষই আজ পাশে নেই। হাত ছেড়েছে রাশিয়া, মুখ ঘুরিয়েছে ইরান। পহেলগাঁওয়ের মতো ঘৃণ্য ঘটনার পরেও পাকিস্তান বহাল তবিয়তে চিন ও আমেরিকা— দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। হোয়াইট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন আসিম মুনির। আমরা গভীর বিশ্বাসে আস্থা রেখেছি নতুন ভারতে, ডিজিটাল ইন্ডিয়ায়। আমরা বুঝিনি, ক্রমাগত শেষ হতে থাকা দেশে আদতে সবটুকু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ভারতীয় মিডিয়া ভরসা জুগিয়েছে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ন্যারেটিভে। চোখ কান বন্ধ রেখেছি। কর্মে মহান দেশে বেড়ে চলা বেকারত্ব অগ্রাহ্য করেছি। ধর্মে মহান দেশে বিলকিস বানোর ধর্ষকরা মুক্ত হলে, মালা পরানো হয়েছে, মুখ ঘুরিয়েছি নির্দ্বিধায়। তাই আজ খাদের কিনারায়, জগৎসভার শ্রেষ্ঠ আসনটা আমাদের বরাদ্দ!