ঈশ্বর, সমুদ্র, থিয়েটার

আমার নাট্যজীবনের একেবারে শুরুর দিকে, বিশেষ করে ম্যাক্সমুলার ভবন, আমেরিকান লাইব্রেরি বা তখন যা ইউএসআইএস, ব্রিটিশ কাউন্সিল— এইসব জায়গায় ভিএইচএস-এ বিভিন্ন নাট্য প্রযোজনা দেখা যেত। সেভাবে আমি বহু নাটক দেখেছি। সেটা কিন্তু কোনও অডিও-ভিস্যুয়াল অভিজ্ঞতার জন্য নয়, কীভাবে নাটক হয়, সেটা দেখার জন্যই। পরবর্তীকালে অবশ্যই, জার্মানিতে যখন থিয়েটার নিয়ে কাজ করতে গিয়েছি, তখন প্রাচ্য-পাশ্চাত্যর বিখ্যাত সব প্রোডাকশন প্রচুর দেখেছি। তারপরে তো লন্ডনে গিয়ে, আমেরিকায় গিয়েও বেশ কিছু থিয়েটার দেখেইছি। যেখানেই কাজের সূত্রে গিয়েছি, থিয়েটার দেখেছি, এখনও গেলে দেখি। এত শিখেছি সেসব থিয়েটার থেকে, আলাদা করে একটা কোনও প্রযোজনা বেছে নেওয়া, বা কী শিখেছি, কী জেনেছি, তা বেছে নিয়ে বলা খুব মুশকিল। আমি অভিজ্ঞতার কথাটুকুই বলতে পারি।

অনেক দেশে নাচের পারফরমেন্সও তো নাটক হয়ে ওঠে। অপেরাও প্রচুর দেখেছি, যেমন বালি-তে যেরকম গান করে নেচে একধরনের প্রযোজনা হয়, সমুদ্রের ধারে। ভাষা কিচ্ছু বুঝতে পারছি না, কিন্তু কে কোন চরিত্র, কে রাম, কে সীতা, কে রাবণ, কে হনুমান— সেটা বুঝতে পারছি। সব মিলিয়ে একটা থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা। সবসময়েই স্টেজে দেখছি, অফ স্টেজে দেখেছি, তাও নয়, নানাভাবে নাটক দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। বার্লিন অনসম্বলেও আমি থিয়েটার দেখেছি।

এক জন্মে অভিনেতা হলে, পরের জন্মে গ্রিনরুমের চেয়ার হয়ে জন্মানো খুবই স্বাভাবিক!
লিখছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য…

একটা অভিজ্ঞতার কথা আমার ভীষণ মনে আছে, যেটা অবিশ্বাস্য। আমি আর আমার স্ত্রী, একবার বেড়াতেই গিয়েছি লন্ডনে। আমার বন্ধু, তার স্ত্রী, আমি আর ছন্দা ঠিক করি লন্ডন থেকে একটু দূরে, সমুদ্রের ধারে, একটু নির্জন কোনও কটেজে, দু’দিন গিয়ে থাকব। যদি সেটা কোনও ক্লিফের ওপর হয়, পাহাড়ের ওপর হয়, আরও ভাল। তখন ল্যান্ড’স এন্ড নামে কর্নওয়ালের একটি জায়গা আমরা বেছে নিলাম। একটা টিলার ওপর বাড়ি, তার সংলগ্ন বাগান, তারপর একটা খাদ নেমে গিয়েছে সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত। সেই খাদ বেশ গভীর। নিচে নেমে গেলে একটি ছোট্ট গ্রাম্য শহর। সেখানে যাওয়ার পথে, একেবারে ইংলিশ মিডো, বা একটি মাঠের পাশ দিয়ে গাড়ি যখন যাচ্ছে, সেখানে দেখি একজায়গায় একটি সাইনবোর্ডে লেখা ‘মিন্যাক থিয়েটার’। সেটা পেরিয়ে আসা হল। বাড়িতে এসে আমরা রান্নাবান্না করছি, তখন আমাদের মনে হল, একটু খোঁজ নিয়ে দেখা যাক, মিন্যাক থিয়েটারটা ঠিক কী। মোবাইল থেকেই খোঁজ নিয়ে দেখা গেল ওখানে একটি বে আছে, পটকুর্নো বে। সেই বে বা সৈকতের ওপর, সমুদ্রের একদম গা ঘেঁষে, পাথর কেটে বানানো একটি মঞ্চ, তারপর পাথর কেটেই বানানো সিঁড়ি অর্ধচন্দ্রাকারে ওপরের দিকে উঠে আছে। একেবারে গ্রিক স্টেডিয়ামের মতো। এইজন্যই নাম মিন্যাক থিয়েটার, কর্নিশ ভাষায় ‘মিন্যাক’ মানে ‘পাথুরে’। সেখানেই বসতে হবে, পিছনে রয়েছে মিন্যাক থিয়েটারের মাঠ।

আমরা খুবই উৎসাহী হলাম। পরের দিনগুলো শনি-রবি ছিল। সেদিন আমরা খোঁজ নিতে গেলাম, কী থিয়েটার ওখানে হচ্ছে, তার টিকিট পাওয়া যায় কি না। গিয়ে দেখা গেল, ওখানে হচ্ছে অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের বিখ্যাত ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’। একটা ছোট দল, ‘বার্নস্টর্মার্স’ সেই মিউজিক্যালটা করছে। আমরা টিকিটের খোঁজ করলাম, ওরা আমাদের জানাল, টিকিট শেষ। সব সিট ভর্তি। তবে এসে অপেক্ষা করলে একটা কিছু ব্যবস্থা হয়তো হতে পারে, কারণ অনেকেই আসে না।

আমরা থিয়েটার দেখতে যাচ্ছি, কত আর সেজেগুজে যাব! তাছাড়া সেটা গরমকাল, হালকা ঠান্ডা। সামান্য জ্যাকেট, জিনস, টুকটাক চাপিয়ে, স্ট্র্যাপ দেওয়া স্যান্ডেলস পরেছি আমি, ছন্দা একটা কার্ডিগান, একটা চটি, আমার বন্ধু আর বন্ধুর স্ত্রীও তেমন ছিমছাম সাজগোজই করেছে। আমরা জানি, মাঠের মধ্যে, সমুদ্রের ধারে একটা নিরীক্ষামূলক নাটকই হবে। খুবই আলগোছে জামাকাপড় পরে আমরা গিয়েছি ওখানে, আর অন্য কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়া। গিয়ে দেখি, ট্রাক বা বড় বড় ভ্যান চালিয়ে সাহেবরা এসেছে, প্রায় সপরিবার সকলেই। কারও সঙ্গে ছেলেপুলে, কারও কোলে বাচ্চা। ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’ মানে ওদের কাছে প্রায় রামলীলার মতোই, ওটা ঠিক রক অপেরা নয়, ওদের গানগুলোও মুখস্থ। ওইজন্য বাচ্চা থেকে বুড়ো— সকলেই এসেছে। আমরা ওইরকম সাজগোজবিহীন হয়ে গিয়ে দেখি, ওরা গামবুট, কোট পরে, ছাতা, রেনকোট, হাবিজাবি, মদের বোতল, বিয়ার, খাবারদাবার বগলদাবা করে গিয়ে হাজির হয়েছে। আমরা তো বুঝতে পারছি না, কেসটা কী, একটু ঘাবড়েই আছি। আশ্চর্য, পিকনিক করতে এসেছে নাকি এরা! দল বেঁধে, ছাঁদা বেঁধে, ঢেকেঢুকে, বাচ্চাদেরও যথেষ্ট ঢেকেঢুকে এমনভাবে এসেছে দর্শকরা, মনে হচ্ছে যেন, নৌকোবিহারে বেরবে। আমরা চার ভারতীয় একটু বোকাই বনে গেলাম।

টিকিটের কী ব্যবস্থা হয় দেখতে গিয়ে জানা গেল, দু-জন আসেনি। সেই দু-জনের সিট ফাঁকা। ছন্দা আর আমার বন্ধুর স্ত্রী চলে গেল। ওরা আমাকে আর আমার বন্ধুকে বলল, একটা বার আছে, তার কোণে বসে দেখা যাবে। কিন্তু বারে ঢোকা মানেই কিছু না কিছু খেতে হবে, সেটা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। অগত্যা আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছি নিজেদের মতো। এমন সময়, ওরা বলল, তোমরাও চান্স নিয়ে নাও, হয়ে গেলেও যেতে পারে। তখন ওরা বলল, কী নেবে বলো, ছাতা না রেনকোট? আমরা আবারও অবাক! কেন এগুলো নিতে হবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে ওরা যা বলল, তাতে আমরা বুঝলাম, কেন এত আয়োজন করে লোকজন আসছে। আমরা তো তখনও ভেতরে ঢুকিনি, কাজেই জায়গাটা কেমন, তখনও বুঝতে পারছি না। ওরাই আমাদের জানাল, নাটক দেখতে হবে খোলা আকাশের নীচে বসে। কাজেই বৃষ্টি হতে পারে, তার জন্যই রেনকোট বা ছাতার প্রয়োজন হবে।

ছন্দা আর আমার বন্ধুর স্ত্রী নিয়েছে একটি করে প্লাস্টিকের রেনকোট, যা একবারই ব্যবহার করা যাবে। ওরা আমাদের ততক্ষণে জানিয়েছে, আরও একটা সিট ফাঁকা হয়েছে, অর্থাৎ, আমি আর আমার বন্ধু যদি যাই, তাহলে কিছুভাবে একটা বসার জায়গা হয়ে যাবে। এবার তো ছাতা বা রেনকোট কিছু নিতেই হবে। যথেষ্ট দামি সেগুলো। হয় কিনতে হবে, নইলে ভাড়া করা যাবে। তখন একটু মোটা একটা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের আবরণ নিলাম, আমার বন্ধু দেবাশিস একটা ছোট ছাতা ভাড়া নিল।

ঢুকেই চমকে গেলাম। ওই পাথর কাটা স্টেডিয়াম জুড়ে গাদাগুচ্ছের মানুষ বসে। নীচে মঞ্চ। তার পিছনেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে রয়েছে। আর আকাশটা আস্তে আস্তে কালো হয়ে আসছে ওই বিকেলবেলা। আমরা বুঝতে পারলাম, একটা বিপদ ঘনাচ্ছে।

যেখানটায় মিউজিশিয়ানরা বসে, সেখানটা ঢাকা। ওদের দেখা যাচ্ছে যদিও। মঞ্চটা কিন্তু ঢাকা নয়, সেটাও, দর্শকাসনের মতোই খোলা আকাশের নীচে। ওপরে বিভিন্ন দিক থেকে আলো এসে পড়ছে মঞ্চের ওপর। আলো জ্বলে উঠল, বেজে উঠল মিউজিক, পারফরমেন্স শুরু হল।

অবশ্যই আমার দেখা শ্রেষ্ঠ নাটক নয়। কিন্তু সকলে অসম্ভব সুরে গাইছে, নাচছে। কিছুটা পিরিয়ড, কিছুটা আধুনিক কস্টিউম। লেপেল মাইক দিয়ে অভিনয় করছে। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য অভিজ্ঞতা।

সাহেব দেখি একটা ‘জ্যাক ড্যানিয়েলস’ বের করে খাচ্ছে। আমাকে দেখে বোধহয় সাহেবের খানিক মায়া হল। আমার দিকে জ্যাক ড্যানিয়েলস এগিয়ে দিয়ে বলল, ইউ ওয়ান্ট সাম?
আমিও একটু লাজুক হেসে বললাম, আই ওন্ট মাইন্ড। ইটস রিয়েলি কোল্ড!
সাহেব খুবই অবাক হয়ে জানতে চাইল, তুমি এরকমভাবে এসেছই বা কেন?
আমি সাহেবকে বোঝাচ্ছি, আমি ভারত থেকে এসেছি, আমার এই থিয়েটারের ব্যাপারে কোনও ধারণাই ছিল না।

একটু পরেই এই গোটা নাটকের অভিজ্ঞতাটা বদলে গেল হঠাৎই। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। আকাশ ঘন কালো করে নামল বৃষ্টিটা। আর সঙ্গে তীক্ষ্ণ ঠান্ডা হাওয়া। নাটক কিন্তু থামল না। ওই বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে এসে বিঁধছে রীতিমতো, এতটাই ঠান্ডা। কোনওমতে সেই বৃষ্টি সামাল দিচ্ছি, ওদিকে ছন্দারা কোথায় বসেছে তাও জানি না। তখন বুঝলাম, ওই পিকনিক পার্টিগুলো একদম তৈরি! জ্যাকেট, হাতে গ্লাভস ইত্যাদি পরে এমনভাবে রয়েছে, মনে হচ্ছে, ট্রেকিংয়ে যাবে বুঝি। ওরা খুবই আরামদায়ক পরিস্থিতিতে রয়েছে। উল্টে বিয়ার খাচ্ছে, কফি খাচ্ছে। আমি এক সাহেবের পাশে বসে। পুরো বোকা বনে গিয়েছি।

সাহেব দেখি একটা ‘জ্যাক ড্যানিয়েলস’ বের করে খাচ্ছে। আমাকে দেখে বোধহয় সাহেবের খানিক মায়া হল। আমার দিকে জ্যাক ড্যানিয়েলস এগিয়ে দিয়ে বলল, ইউ ওয়ান্ট সাম?

আমিও একটু লাজুক হেসে বললাম, আই ওন্ট মাইন্ড। ইটস রিয়েলি কোল্ড!

সাহেব খুবই অবাক হয়ে জানতে চাইল, তুমি এরকমভাবে এসেছই বা কেন?

আমি সাহেবকে বোঝাচ্ছি, আমি ভারত থেকে এসেছি, আমার এই থিয়েটারের ব্যাপারে কোনও ধারণাই ছিল না।

সাহেব একটা প্লাস্টিকের গ্লাস বের করে কফির সঙ্গে হুইস্কি মিশিয়ে আমাকে দিতে থাকল, আমি সেটা পান করতে করতে দেখে যাচ্ছি নাটকটা। তারপর আশ্চর্যভাবে একটু একটু করে বৃষ্টি থামল, ইন্টারভাল হল। ততক্ষণে ছাতা, রেনকোটের দোকানও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গরম কফি ছাড়া কিচ্ছু পাওয়া যায় না ওখানে। সেখানেও লম্বা লাইন। ওদিকে ছন্দাও ঠান্ডায় কাঁপছে, আমিও। ওই বীভৎস ঠান্ডায় আমার ভরসা কিন্তু ওই বুড়ো সাহেবের দেওয়া জ্যাক ড্যানিয়েলস।

তখন বুঝেছিলাম, এখানে থিয়েটার দেখতে গেলে জানতে হবে, কোথায় যাচ্ছি, সেখানে বসার ব্যবস্থা কেমন, ছাদ আছে কি না, খাবারদাবারের ব্যবস্থা কেমন। যা হোক, বিরতি শেষ হল। আমরা আবার দেখতে চলে এলাম নাটক।

সমুদ্র তখন উদ্দাম। ঢেউ এসে পড়ছে মঞ্চের ওপর, সপাট। দেখার মতো, বৃষ্টির মধ্যেই অভিনেতারা নাচছে, লাফাচ্ছে, এর-ওর ঘাড়ে উঠছে, কেউ পিছল পাথরে পড়েও যাচ্ছে না। কারও খালি গা, কেউ কোনও বর্ষাতি পরে নেই। ওই ঠান্ডায়, ওই বৃষ্টির মধ্যে। তার মধ্যে অমন সুরে গান গেয়ে চলেছে ওরা টানা।

যিশু যখন ক্রুশবিদ্ধ হবেন, শেষ দৃশ্যে, তখন সূর্যাস্তের সময়। নাটক শুরু হয়েছিল বিকেলে, তখন কোথাও কোনও বৈদ্যুতিন আলো ছিল না। যখন সমুদ্রের ওপর সূর্যটা ডুবছে, যিশু সেই সময় ক্রুশবিদ্ধ হলেন, সূর্য ঝপ করে ডুবে গেল সমুদ্রের ভেতর। ওপরের আলোগুলো নিভে গেল। দপ করে জ্বলে উঠল স্টেডিয়ামের সমস্ত আলো। ওইভাবেই নাটকের সময়টা বাঁধা, ঠিক সূর্যাস্তের সময় ক্রুসিফিকশনটা ঘটবে।

ওই অভিজ্ঞতা ম্যাজিকের মতো। সিনেমা নয়, নাটক, জীবন্ত। চোখের সামনে দেখছি সমুদ্রের ঢেউ মঞ্চের ওপর আছড়ে পড়ছে। সূর্য ডুবে যাচ্ছে। বৃষ্টি পড়ছে। পাগলের মতো প্রকৃতি। তার মধ্যে যিশু ক্রুশবিদ্ধ হচ্ছে, আলো নিভে যাচ্ছে। অন্ধকারে যিশুর রেজারেকশন। পুনর্জন্ম। গান হয়। আলো জ্বলে।

কোনটা চোখের জল, কোনটা বৃষ্টির জল তখন আর বোঝা যাচ্ছে না। আমারও কেমন আধ্যাত্মিক অনুভব হল। ছন্দাও ভাবতে পারেনি, সূর্যাস্তের সময় যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়া দেখবে। কোনওদিন ভুলব না। জবজবে ভিজে আমরা। ওদের কাছে পৌরাণিক, যিশুর মৃত্যু, পুনর্জন্ম। ওরা কেঁদে-ককিয়ে বাড়ি ফিরছে। আমারও চোখের জল যেন বাঁধ মানছে না। মনে হচ্ছে, থিয়েটার ছাড়া এরম ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা আর হতে পারে না বোধহয়।

ফিরে এসে যে যার মতো ভদকা-হুইস্কি খোলা হল। কিন্তু সারা সন্ধে আমরা কথাই বলে গেলাম নাটকটা নিয়ে। সত্যিই তো, সিনেমা তো এই অভিজ্ঞতা দিতে পারত না, নাটক ছাড়া এমন অভিজ্ঞতা হওয়া সম্ভবই হত না। আমরা হাঁদা বনে গিয়েছিলাম সেদিন যেন, বিস্ময়ে, মুগ্ধতায়। ওরম অভিযাত্রীর মতো করে সাহবেরা থিয়েটার দেখতে এল, আমরা ওই রেনকোট, ছাতা সামলে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। একটা সরু রাস্তার মধ্যে একটা গেট, গেটের ভেতর একটা মাঠ, টিকিট কাউন্টার, তারপর স্টেডিয়াম, মঞ্চ, তারপর সমুদ্র। ওই আশ্চর্য জাদুটা কোনওদিন ভোলার মতোই নয়। খালি ভাবছিলাম, ওই মিন্যাক থিয়েটারে কী চমৎকার হতে পারে গ্রিক ট্র্যাজেডি, ধরা যাক ‘আন্তিগোনে’; কেমন হবে যদি ওখানে ‘দ্য টেম্পেস্ট’ হয়। এই ভাবতে ভাবতে, আলোচনা করতে করতে সেদিন রাতকাবার হয়ে গিয়েছিল।

সেদিন বুঝেছিলাম, থিয়েটার কতটা বিশাল মাপের হতে পারে!

কথোপকথনের ভিত্তিতে অনুলিখিত