একুশের বিষাদ

Representative Image

ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ একটা জাদু-আয়নার মতো। হঠাৎ যেন আচমকা অদৃশ্য থেকে আবির্ভূত হয়ে আমাদের মুখের সামনে দাঁড়ায়। তারপর আবার ফুস্‌মন্তরে উধাও হয়ে যায়। ইদানিং সেই আয়নার দিকে তাকিয়ে একটু বিষণ্ণ হয়ে পড়ি। বাংলা ভাষার এই বাৎসরিক তর্পণ দেখে মনে হয়, আমরা ধরেই নিয়েছি ভাষাটি প্রয়াত। সারা বছর জুড়ে আমাদের নিঃসাড়, জড়দ্‌গব, আবেগশূন্য মাতৃভাষা-যাপন, তারপর একদিনের জন্য ঘুম ভেঙে সাত তাড়াতাড়ি ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ বলে ধুতি-শাড়ির লপেটা চাল, মঞ্চে-মঞ্চে গলা কাঁপানো, মোবাইলে রোমান হরফে লেখা দু-পিস রবীন্দ্রনাথ, চারপিস জীবনানন্দ, সামান্য অতুলপ্রসাদ, মাইকে-মাইকে ছয়লাপ ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ভূপেন হাজারিকার ‘বাংলা আমার মা’— তারপর নৃত্যগীত শেষে বাড়ি ফিরে ‘ইরেজ’ বাটনে চাপ দিয়ে ঘুম।

পরদিন থেকে বাংলা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বরং, ‘বাড়িতে বাড়িতে বাংলা ভোলানোর সহজ উপায়’ নিয়ে কর্তা-গিন্নিরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় মগ্ন। শিশুরা সেভাবেই বড় হচ্ছে চারদিকে! আমার বদভ্যাস হল, রাস্তার ধারের চায়ের দোকান থেকে মানুষজনকে লক্ষ করা। দেখি তেনারাই এই বিশেষ দিনে, পায়েস-পিঠে, শাঁখ-কুলো নিয়ে, বড়-বড় বর্ণমালার প্ল্যাকার্ড হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আয়ু মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা! তারপর আবার সেই বাংলাভাষায় দক্ষ ছেলেটি শেষ বেঞ্চিতে মুখ লুকোবে, কেননা ওই ভাষায় কোনও পেশাগত স্বীকৃতি নেই। কাজের ভাষা হল ইংরেজি আর কখনও-কখনও হিন্দি!

আরও পড়ুন: প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ফারসী আরবী ছেঁটে দিলে বাঙ্গলা ভাষা বলে কোন একটা ভাষাই থাকে না।’

এখন আবার পেল্লায় ইংরিজি স্কুলে নাকি ‘হু ইজ স্পিকিং ইন ভার্নাকুলার’ বলে শাস্তি না দিয়ে হুংকার দিচ্ছে, ‘হু ইজ স্পিকিং ইন বাংলাদেশি ল্যাঙ্গয়েজ?’ ধনে-প্রাণে মরে ভিটেমাটি খোয়াবেন নাকি? কদাচ না!


কোনও সন্দেহ নেই, বাংলাভাটা বেশ ঝামেলায় পড়েছে। ভাষা তো কোনও হাত-পা ওয়ালা মানুষ নয় যে, মাথায় পাগড়ি আর মণিমুক্তোর পোশাক পরে, ঝলমলে দৃপ্ততায় চোখ ধাঁধিয়ে দেবে— তার সম্মান আর গুরুত্ব নির্ধারিত হয় তার সন্তানদের হাতে, মাতৃভাষার প্রতি সেই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের গভীর প্রেমে আর প্রণামে। এখনকার বাঙালি অবশ্য এসব কথা কানেই তোলে না। লক্ষ করে দেখবেন, ফার্স্টক্লাস তো বটেই, টু এসি, থ্রি এসি আর ফ্লাইটে কেউ ভুলেও ‘বাংলা বই’ বা ম্যাগাজিন খোলে না। আমি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে, পোলিশ তো বটেই, এমনকী জাপানি বা আরবি ভাষার বই-পড়ুয়া দেখেছি। বাংলা কখনও দেখিনি। বাংলা ভাষা যেন এক লজ্জার বিষয়! পার্ক স্ট্রিট, সল্ট লেক বা বালিগঞ্জের অভিজাত রেস্তোরাঁয় খুব সম্ভব বাঙালি, নয়তো ঝাড়খণ্ডী বা নির্ঘাৎ ওড়িয়া কোনও কর্মচারীকে বলি— ‘টু প্লেটস অফ চাউমিন অ্যান্ড ওয়ান চিলি চিকেন…’। যেন বাংলায় বললে বোঝা যাবে, শিক্ষাদীক্ষা খুবই নিম্নমানের! ভাষা-সম্পর্কে কোনও গরিমাবোধই নেই, সব লুপ্ত!

ভাবতে কষ্ট হয়, এই ভাষার জন্য জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ঢাকার সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার(১৯৫২) কিংবা বরাক উপত্যকার একাদশ শহিদ, যার মধ্যে আছেন কমলা ভট্টাচার্য (১৯৬১)— আরও কতজন! প্রাণ দেওয়া দূরে থাক, আমরা একটু সম্মান দিতেও পারছি না। প্রতিদিন সংকোচে আর বিকৃতমুখে ‘আরশোলা’কে ‘কক্‌রোচ’ বলছি, ‘উল্কি’কে ‘ট্যাটু’ বলছি; ‘কেননা’-কে ‘কেন-কি’ বলছি, ‘বাজার’কে ‘মার্কেট’ বলছি—যা তে ‘সম্ভ্রান্ত’ দেখায়!

একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা বিভাগ আর বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির একদিবসীয় রমরমা দেখেও, বিষাদে নীরব হই। এখন তো ওই দিনটা হল ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। সব ভাষারই স্বীকৃতি এবং শিরোপা পাওয়ার দিন। নিজের ভাষাকে শ্রদ্ধা করার উলটো দিকেই থাকে, অন্যান্য ভাষার প্রতি মমত্ব। আমরা কতদূর তাকে আত্মস্থ করেছি? ক’জন মনে রেখেছি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার জন্য শহিদ হয়েছিলেন সুদেষ্ণা সিন্‌হা।

সালটা ছিল ১৯৯৬।

এঁদের সবার শ্বাসপ্রশ্বাস মিলেমিশে আছে ২১ ফেব্রুয়ারির অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। তার বদলে, কোনও ভয়ংকর বাঙালি ভাষা-জাতীয়তাবাদের শিকার হওয়ার তোড়জোড় করছি কি আমরা? লক্ষ করতে হবে, বাংলাভাষার সঙ্গে এই পশ্চিবঙ্গের অন্যান্য ছোটছোট ভাষাগোষ্ঠীর সম্পর্ক। সাঁওতালি বা লেপচা কিংবা কুরমালি ভাষার ওপর মাৎস্যন্যায়ের প্রক্রিয়ায় যদি আধিপত্য কায়েম করতে উদ্যত হয় বাংলাভাষা, তাকে তো আামদেরই ভাষা-গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রতিরোধ করতে হবে!


কথাটা এতক্ষণে পাওয়া গেল। ‘ভাষা-গণতন্ত্র’। বিশ্বজোড়া পাঠশালায় সে-জন্য প্রতিটি ভাষার সমানাধিকার। সে ছোট না বড়, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না কি দুর্বল, উপনিবেশ গড়েছে না গড়েনি, সংস্কৃতি চেনা না অচেনা, কামান-বন্দুক-গ্রেনেড আছে, না নেই— এইসব প্রশ্ন অবান্তর। সেই সূত্রেই মানবসমাজের মতো আছে বা থাকে, ‘ভাষিক সংখ্যালঘু’ এবং ‘ভাষিক সংখ্যাগুরু’। ঢুকে পড়ে নিয়ন্ত্রণ, অনুকরণ এবং কর্তৃত্বের প্রশ্ন। ভাষার পিঠে চাবুক, ভাষার শরীরে কাঁটা মারা জুতোর ক্ষত! ভাষার বশ্যতা স্বীকার এবং ভাষার অবলুপ্তি!

বিপন্ন ভাষাগোষ্ঠীর সংখ্যা এখন কত? পৃথিবীতে? ভারতবর্ষে? বাংলায়? আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সেই আশ্চর্য প্রবন্ধটির কথা মনে পড়ে। যার শিরোনাম ‘চাকমা উপন্যাস চাই’। ভাষার একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিসর, একটা পারস্পরিক বিকাশের অঙ্গীকার এতই কঠিন! পশুসমাজে সিংহ খেয়ে নিশ্চিহ্ন করে খরগোশ— কিন্তু মানুষ তো গালভরা কী একটা শব্দ দিয়ে নিজেদের গরিমামণ্ডিত করেছে— ‘সভ্যতা’!

অথচ, আজ জনযাপনে আমরা ধরেই নিয়েছি, ইংরেজি বা হিন্দিতে বললে ‘প্রোফাউন্ড’ আর বাংলায় বললে, ‘ফাউন্ড’!

ক্ষমতার এইসব দৈত্যাকার প্রকাশ ভাষার ক্ষেত্রে দিনে-দিনে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভাষাবিদ ডেভিড ক্রিস্টাল ২০০০ সালে প্রশশিত ‘ল্যাঙ্গয়েজ ডেথ’ প্রবন্ধগ্রন্থে এ বিষয়ে ভয়াবহ সব পরিস্থিতি আমাদের নজরে আনেন। প্রতিটি সপ্তাহে, দিনে, প্রহরে এই চাপ, এই আগ্রাসন আরও শ্বাসরোধী হচ্ছে। শেষ ভাষিক প্রতিনিধি খতম হলেই, গোটা একটা ভাষা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ২১ ফ্রেব্রুয়ারি সেইসব ঘোর দুশ্চিন্তার দিনলিপি হয়ে দেখা দেয়। বাংলা ভাষা নিয়ে একদিনের এইসব আবেগ-উচ্ছ্বাস-প্রত্যয়-হাহাকার মনে হয়, সারগর্ভহীন। আরও বড়, আরও গভীর, আরও প্রলয়ঙ্কর দুর্ভাবনা নিয়ে আমাদের কেঁপে ওঠার কথা ছিল।


ক্ষমতার প্রসঙ্গই যখন উঠল, তখন বাংলা ভাষা নিয়ে একটু অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন তোলা যাক। কোনও সন্দেহ নেই, সৃষ্টিশীল লেখকরা গড়ে তোলেন ভাষা আর বৈয়াকরণিক তার সূত্র-প্রস্থান-কানুন তৈরি করেন। বৈয়াকরণকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিলে, ভাষা সাহিত্যের গা থেকে অচিরেই ন্যাপথলিনের গন্ধ বেরতে শুরু করবে। সে না-হয় হল, কিন্তু ব্যাকরণকে তো কালানুযায়ী ‘নিবিড়’ না হোক, একটু ‘সংশোধন’ তো করতে হবে! ব্যাকরণের নানা ধারণা বা পরিভাষায় যদি ‘আপত্তিজনক’ কোনও প্রসঙ্গ থাকে, তাকে তো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। আজকে তাকে অটুট রেখে দেওয়া যথেষ্ট বিপজ্জনক এবং অন্যায়। যেমন ধরা যাক, বাংলা-গদ্যের নিজস্ব ‘গুরুচণ্ডালী’ দোষ। সাধু ভাষা আর চলিত ভাষা একই পঙ্‌ক্তিতে ব্যবহার করার ভ্রান্তি। সে তো ঠিক। ভ্রমই। কিন্তু তার নাম ‘গুরুচণ্ডালী’? গভীরে আসলে এ হল বর্ণবাদী এক ভয়ংকর শিক্ষা।  গুরু অর্থাৎ ব্রাহ্মণ আর চণ্ডাল একই এক পঙ্‌ক্তিতে পাশাপাশি বসবে না। শিশুমনে এইসব শব্দের প্রবেশ প্রকৃতপক্ষে, গভীরে এক নির্মম ব্যবস্থার স্বীকৃতি গড়ে তোলে।

খুব সহজেই পরিভাষা থেকে ‘মনুবাদ’-কে সরিয়ে দেওয়া যায়, যদি বলি, এ হল ‘মিশ্রণদোষ’। নীচু ক্লাস থেকে নামের এই সামান্য পরিবর্তন কি করা যায় না? বলছি বটে, তবে আমি নিশ্চিত, এ হল অরণ্যে রোদন। বাংলা ভাষার স্ব-ঘোষিত অভিভাবক বা প্রগতিশীল রক্ষাকর্তারা অবশ্য কান বহুদিন নিশ্ছিদ্রভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন।

ব্যাকরণ আর ভাষাতত্ত্বই জুড়ে দাপটে বলা হচ্ছে, ‘উপ’ভাষা। মহা মুশকিল। প্রান্তিক, ভাষিক সংখ্যালঘুদের এভাবে কোণঠাসা না করলেই নয়? ‘আঞ্চলিক’ ভাষা বলাও কি যুক্তি সংগত? কলকাতার ভাষাও কি বিশেষ ‘আঞ্চলিক’ নয়? শুধু তার অর্থনৈতিক, সামাজিক তথা আভিজাত্যের ‘ক্ষমতা’ আছে। ‘উপ’— এই শব্দের একটা অর্থ হল ‘অনুগতি’, ‘পশ্চাদ্ভাব’ বা ‘সামীপ্য’। (হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গীয় শব্দকোষ। প্রথম খণ্ড। পৃ ৪১৬)

ধরা যাক, বাংলা-গদ্যের নিজস্ব ‘গুরুচণ্ডালী’ দোষ। সাধু ভাষা আর চলিত ভাষা একই পঙ্‌ক্তিতে ব্যবহার করার ভ্রান্তি। সে তো ঠিক। ভ্রমই। কিন্তু তার নাম ‘গুরুচণ্ডালী’? গভীরে আসলে এ হল বর্ণবাদী এক ভয়ংকর শিক্ষা।  গুরু অর্থাৎ ব্রাহ্মণ আর চণ্ডাল একই এক পঙ্‌ক্তিতে পাশাপাশি বসবে না। শিশুমনে এইসব শব্দের প্রবেশ প্রকৃতপক্ষে, গভীরে এক নির্মম ব্যবস্থার স্বীকৃতি গড়ে তোলে।

অর্থাৎ ধরেই নেওয়া হচ্ছে, একটা ‘কেন্দ্রীয়’ চেহারা আছে, এসব ভাষা তারই ‘বিকৃত’ অথবা ‘অনুগামী’ আকার-প্রকার। মার্জিনাল। আবার সেই ক্ষমতার প্রসঙ্গ। গণতন্ত্র আবার প্রশ্নচিহ্ণের মুখে। ইংরেজি ‘ডায়ালেক্ট’-এর মধ্যেও এই বলশালীর কর্তৃত্ব আছে। একটা ‘সেন্ট্রাল’ আর-একটা ‘লোকালাইজড’। বাংলায় আজ প্রশ্ন উঠেছে ‘উপজাতি’ শব্দ নিয়ে। একইভাবে এখন গৃহীত হয়েছে ‘জনজাতি’। ব্যাকরণবিদদের কাছে অনুরোধ একটু ভাবনাচিন্তা করে ‘ভাষা বৈচিত্র্য’ বলা যায় কি? ‘রাঢ়ী’, ‘বঙ্গালী’, ‘বরেন্দ্রী’ সবই তো ভাষা বৈচিত্র্য। ‘উপ’, ‘অনু’, ‘প্র’, ‘বি’— এইসব খুব সতর্ক হয়ে যোগ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। ইংরেজি ভাষার সূত্রে বলা চলে, এ হল ‘লোডেড শব্দ’ বনাম ‘নিউট্রাল শব্দ’র দ্বন্দ্ব।


একদিনের এই একুশে জাগরণ, এপার বাংলায় হয়তো দীর্ঘশ্বাসকেই গাঢ় করে তোলে। মাতৃভাষা নিয়ে অনেক প্রযত্ন, অনেক চিন্তা, অনেক সংযোজন-বিয়োজনের পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠান, ভাষাবিদ বা সরকারের দোহাই দিয়ে নিজেদের নিষ্ক্রিয়তাকে কতদিন মহান বানাব আমরা? নাট্যগুরু গিরিশচন্দ্র ঘোষের নামাঙ্কিত মেট্রো স্টেশনে সর্বত্র কেন লেখা থাকবে ‘গিরীশ পার্ক’? দুটো শব্দর মানেই তো আলাদা। একজন মহাদেব আর অন্যজন (গিরীশ) হিমালয়। একজন শ্বশুর আর অন্যজন জামাতা। কামরায়-কামরায় দেখবেন, সব ভাষার বানান (ইংরেজি, হিন্দি) ঠিক আছে, শুধু ‘প্রবীণ’ আর ‘সংরক্ষণ’ বানান দুটো ভুল। সারাদিন কত সহস্র বাঙালি সেদিকে তাকাচ্ছেন এবং আবার মোবাইলে রিল দেখছেন। কোনও ভাবান্তর নেই। আমরা এমনই এক ভাষাপ্রেমের প্রতিনিধি। দেখছি প্লেন ওয়াটারের বাংলা ‘সাদা জল’। এ জাতির ভবিষ্যৎ সমুজ্জ্বল নিশ্চয়ই!

বহুযুগ আগে, কবি বিষ্ণু দে একটি কবিতায় আমাদের রবীন্দ্রপ্রীতি (নাকি আরাধনা?)-কে তুলোধোনা করেছিলেন। আমি তার কয়েকটি লাইন এখানে তুলে দিলাম। অনুগ্রহ করে বিশেষ-বিশেষ শব্দ বদলে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ বসিয়ে নিন। ১৯৫২ থেকে ২০২৬— ঢাকা থেকে কলকাতা গঙ্গা-পদ্মার অনেক জলপ্রবাহ, যাপনচর্যা, হাসি-কান্না মিশিয়ে নিতে ভুলবেন না!

তুমি কি কেবলই স্মৃতি, শুধু এক উপলক্ষ্য, কবি?
হরেক উৎসবে হৈ হৈ
মঞ্চে মঞ্চে কেবল-ই কি ছবি?
তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
আর বাইশে শ্রাবণ?
কালবৈশাখীর তীব্র অতৃপ্ত প্রতিভা,
বাদলের প্রবল প্লাবন
সবই শুধু বৎসরান্তে একদিনেই নির্গত নিঃশেষ?

(তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ)

পাঠক/পাঠিকা একুশে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে উনিশে মে যোগ করে নিতে পারেন। আপনাদের উদ্‌যাপনের দিনে একটু কর্কশবাক্য শোনালাম। বেয়াদপি মাফ্‌ করবেন।