
সম্পাদকের রাজনীতি
বিস্মরণ ও মিথ্যা-স্মৃতি নির্মাণের কালে দাঁড়িয়ে তাঁর আড়ালে থেকে যাওয়া লেখাগুলিকে আরেকবার পড়া জরুরি নয় কি? যখন কিনা ইতিহাস নিছক জ্ঞানচর্চার একটা শাখা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, ইতিহাস-চর্চা নিজেই হয়ে উঠেছে বোমা তৈরির কারখানা।

বিস্মরণ ও মিথ্যা-স্মৃতি নির্মাণের কালে দাঁড়িয়ে তাঁর আড়ালে থেকে যাওয়া লেখাগুলিকে আরেকবার পড়া জরুরি নয় কি? যখন কিনা ইতিহাস নিছক জ্ঞানচর্চার একটা শাখা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, ইতিহাস-চর্চা নিজেই হয়ে উঠেছে বোমা তৈরির কারখানা।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ অধ্যাপকের কথা চমকে দিয়েছিল সবাইকে। সে ছিল আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগের কথা। সত্যেন্দ্রনাথ বসু তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। এই বিষয়ের নতুন প্রবন্ধগুলো তাঁর নজরে পড়ছিল। উঁচু ক্লাসে সেই বিষয়ে পড়ানোর সময় তাঁর মাথায় খেলে গিয়েছিল এক নতুন আইডিয়া।’

চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনীর জন্য, একসময়ে মানুষকেও খাঁচায় রাখা হয়েছিল। বেশি দূরের কথা নয়, আলিপুরেই এমনটা ঘটেছিল। আদৌ কি সুস্থজীবন পায় চিড়িয়াখানার প্রাণীরা? মানসিক হোক বা শারীরিক, অবলা বলে কি অধিকার থাকতে নেই?

‘হতদরিদ্র অসহায় কৃষ্ণ পালকে হুগলির জলে নিমজ্জন করা এক জিনিস, কিন্তু পরমাত্মাকে যেভাবে কেরি ডোবালেন, তাতে অনেকেই আঁতকে উঠেছিল। মনে রাখতে হবে যে, এই নিমজ্জনের মধ্যে দিয়ে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষার ব্যাপারটা ব্যাপ্টিস্টদের একটি জরুরি সাম্প্রদায়িক আচার হলেও, সবার কাছে নয়।’

‘জ্যোতিরিন্দ্রনাথের ড্রয়িংগুলির সহজ স্বাভাবিকতার সঙ্গে মেলাতে গেলে যেতে হবে ড্যুরার এবং হলবাইনের কাছে। ড্যুরার মানে আলব্রেখট ড্যুরার, রেনেসাঁ যুগের জার্মান শিল্পী। আর হলবাইন, হান্স হলবাইনও জার্মান, ড্যুরারেরই সমসাময়িক। ড্রয়িং-এ দুজনেরই ছিল আশ্চর্য দক্ষতা।’

‘বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার রয়েছে সকলের৷ এর জন্য উদ্যোগী হতে হবে সাধারণ মানুষকে। আন্দোলন, প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে তার কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে হতে হবে আরও বেশি সচেতন।’

‘ছবিতে মেয়েটি প্রথমে প্রথাসিদ্ধ, পরে একটা আঘাত পেয়ে অকস্মাৎ একলা, তারপরে একটা সাধনার প্রতি অনুরক্ত এবং শেষে নিজশর্তে একটি প্রেম গ্রহণের বিন্দুতে স্থিত। তার এই বিবর্তনের মূলে আছে জীবনের কেন্দ্রে বস্তুগত অনাকাঙ্ক্ষাকে প্রতিষ্ঠা করা, বা ঈশ্বরের আসন পেতে দেওয়া।’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে সুব্রত চক্রবর্তী, উদয়ন ঘোষ ও শম্ভু রক্ষিতের চিঠি।

“কলকাতা শহরে আগত তামিলরা শুধু ক্যাথলিক হননি, তাদের অনেকে প্রোটেস্ট্যান্ট বিশ্বাসে যিশুকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন, যেমনটি ধারণ করে আছে তাদের গির্জা “সেন্ট স্যাভিওর’স চার্চ” (১৮৪৯)। গির্জাটি তৈরি হয়েছিল ‘ইউনাইটেড সোসাইটি ফর দ্য প্রোপাগেশন অফ দ্য গসপেল’-এর সহায়তায়। তবে ১৯৩৮ সালের আগে অবধি এই গির্জার ভেতরে তারা প্রার্থনা করত না, ততদিন অবধি এই গির্জা বাঙালি মণ্ডলীর ছিল, তামিলরা প্রার্থনা করত গির্জার বাইরে প্যারিশ হলে।”

‘শেষ পর্যন্ত সবার পাত আলো করে পড়ে আছে ঐ বিচিত্র ডেলিকেসি। ভাগ্যিস আলো আঁধারিতে মালুম হচ্ছে না খাবার নষ্টের বহর! হোটেলে ফিরে চানাচুর খেতে-খেতে আমার বন্ধু বলেছিল, ’কী যে করে! এত দামী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল?’

‘এসব গেল পুরাণের কথা। আধুনিক ইতিহাসে, ছত্রপতি শিবাজি এসব অঞ্চলের ভেতর দিয়েই গুটিগুটি হামলা চালাতেন দিল্লি ও আশপাশের মোঘল সেনাশিবিরগুলিতে। ভারতে গেরিলা যুদ্ধের প্রবর্তক তিনি। শিবাজির বাহিনীর গেরিলারা সবাই কি মহারাষ্ট্রে ফিরেছিল? খেতিখামারিতে, প্যার-মোহব্বতে চম্বলের জনজীবনে মিশে যায়নি তো?’

“ঈষৎ তির্যকভাবে একটি কবিতার শেষ প্রান্তে সুলতান বাহু লেখেন, আমার কিছু পাপ যদি না-ই থাকে তাহলে হে প্রভু, তুমি ক্ষমা করবে কী? যেন মনে হবে, আল্লাহ বা ঈশ্বরের একটি বহু-চর্চিত গুণকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার জন্যই কিছু মানবিক পাপ প্রয়োজন।”
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.