

দূরপাল্লা : পর্ব ৯
কোনও কোনও গন্তব্যে পৌঁছনো একই সঙ্গে আনন্দ-বিষাদ-একাকীত্ব-গুমড়ে কান্না, সবই হাজির করে। সিলভিয়া প্লাথ-এর প্রিমরোজ হিল-এর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমার তাই মনে হয়েছিল। আর বুঝেছিলাম, আমি আর সিলভিয়া সময়ের কোনও একটা ফাঁদে একসঙ্গে রয়েছি।
কোনও কোনও গন্তব্যে পৌঁছনো একই সঙ্গে আনন্দ-বিষাদ-একাকীত্ব-গুমড়ে কান্না, সবই হাজির করে। সিলভিয়া প্লাথ-এর প্রিমরোজ হিল-এর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমার তাই মনে হয়েছিল। আর বুঝেছিলাম, আমি আর সিলভিয়া সময়ের কোনও একটা ফাঁদে একসঙ্গে রয়েছি।
আর্দ্রতা এবং দার্ঢ্য যিনি একইসঙ্গে মিলিয়ে দিতে পেরেছিলেন তাঁর কবিতার মধ্যে, তিনি গীতা চট্টোপাধ্যায়। একদিকে চিরন্তন বাংলার নানা অনুষঙ্গ, অন্যদিকে সংলাপধর্মী স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গি তাঁর কবিতাকে অনন্য করে তুলেছে।
‘আমি তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ, তারপর হাত রাখলাম অসংখ্য ছিদ্রে ভরা সেই সাদা পাতার উপর। এই তাহলে আমার কবিতা? কত-কত মানুষের কাছে আমার লেখার চেহারা তাহলে এই? অথচ তার শরীর স্পর্শ করেও তাকে আমি চিনতে পারছি না, বুঝতে পারছি না।’ কবিতার রহস্য।
ভিনসেন্ট ভ্যানগখ এক মধুর বিষাদ। তাঁর জীবন যেমন বেদনা জাগায়, তেমনি কাজ পূর্ণ করে জীবনপাত্র। ভিনসেন্ট জীবনের শেষ দেড় মাস যে গ্রামে কাটিয়েছিলেন, অভে-সু-ওয়াজ, যা একশো বছর পরেও নিটোল, সেই পীঠস্থানে পুণ্য অর্জনের আখ্যান।
‘সীমা এই অধিকার। তাকে পার করা হল দোষ।/ কতটুকু যাব আর কতটুকু থেমে থাকব জেনে/ ভেসে আছি এ বাতাসে। যেরকম দ্বিধা ও সাহস/ আমাকে দু’ভাগ করে। মেলা থেকে অভিমান কেনে…’ নতুন কবিতা।
বাংলা কবিতার জগতে ভাস্কর চক্রবর্তী এক বহতা নদী। যে নদীতে ডুব দেওয়া যায়, আঁজলা করে ছিটিয়ে আত্মা ভেজানো যায়, আবার আনমনে বসে থাকা যায় পাড়ে, কিন্তু সে নদী নিচু স্বরে অথচ তীব্র অভিঘাত নিয়ে বয়ে চলে ঋদ্ধ করে তোলে দুই কিনারা।
ভরা বসন্তে চলত আমাদের দেদার রিহার্সাল। আর সেই রিহার্সালের আনন্দ, মজা বা রোমাঞ্চ খোদ অনুষ্ঠানের চেয়ে ছিল ঢের বেশি। ছোটদের নাটক যে প্রতিবার হতো, এমনটা নয়। কিন্তু এক কি দু’খানা সমবেত সংগীত থাকতই। সেও কি কম আনন্দ? বসন্তের অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের সুবাদে ২০১৮ সালে সৌভাগ্য হয়েছিল লিভারপুল যাওয়ার। আর লিভারপুলের বিট্লস মিউজিয়ামে গিয়ে আশ্চর্য এক আত্মীয়তা অনুভব করেছিলাম। বাড়ির বিভিন্ন ছোট ছোট ঘরে আটপৌরে ভাবে সাজানো রয়েছে বিট্লস-এর বিট্লস হয়ে ওঠার আখ্যান।
‘হাওয়া ঢুকে আসে বন্ধুর মতো। আসলে শত্রু/বয়ে আনে কার মনখারাপের না-মেলা অঙ্ক/
পাটিগণিতের হাত খোয়া গেছে, হে মধুসূদন/বাঁচাতে পারেনি সুভাষ, সুনীল, শক্তি, শঙ্খ।’ কয়েকটি কবিতা
দেবারতি মিত্রর মতো শক্তিশালী কবি বাংলা সাহিত্যে খুব কমই আছেন। তাঁর কবিতার আশ্চর্য চলন তাক লাগিয়ে দেয় পাঠককে। তাঁর কবিতা নিয়মমাফিক অন্তের দিকে যায় না। অপূর্ণ থেকে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সেই অপূর্ণতার প্রাপ্তি অশেষ। আর তাঁর উপমাগুলি তারঁই মতো অনুপমা।
‘আলোবদলের খেলা/ বিকেল শেখার নিচু ক্লাস/ গ্রামীণ বিষাদ বিক্রি, এইসব ধুলোহাট নিয়ে/ এসেছি তোমার কাছে, গরিবের প্রজাপতিমাস ‘– কয়েকটি নতুন কবিতা
লস এঞ্জেলস-এ কাটানো একটি রাত সারা জীবন আমায় জাগিয়ে রাখবে। যে বাড়িতে ছিলাম, সেটাকে আর্ট মিউজিয়াম বললে ক্ষতি হবে না। বাড়িটি একজন বাঙালির। সেখানে একই সঙ্গে বিরাজ করছে রবীন্দ্রনাথ আর ক্ল্যঁদ মনে-র অরিজিনাল ছবি। রঁদ্যার ভাস্কর্য আর রামকিঙ্করের জলরং।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2025 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.