সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩৫

‘‘মরিচঝাঁপির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে ‘পরিবর্তন’ পত্রিকায় যোগ দিযেছি। এর বছরদেড়েক বাদে ১৯৮০-র শেষে আমি যখন চম্বল যাই, তখন রায়পুরে নেমে মানা-র শরণার্থী শিবিরে যাই, আশপাশের অঞ্চলেও দিনতিনেক ঘুরি, মরিচঝাঁপি থেকে উৎখাত হওয়া উদ্বাস্তুদের হাল দেখতে। মানা-র উদ্বাস্তু পল্লিতে আমি দেখেছি নবজাতক শিশু কোলে মা-কে।’’

Representative Image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৩৪

‘প্রতিহিংসার আগুনে তখন দপ-দপ করছিলেন ফুলন। বাবা মুস্তাকিনের সহযোগিতায় এরপর ফুলন গড়ে ফেলেছিলেন মস্ত দল। চম্বলে শুরু হয়ে গিয়েছিল ঠাকুর বনাম পিছড়ি বর্গের মহা টক্কর।’

Representative image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৩৩

‘আমি টুকটাক কথা চালাতে লাগলাম। কী নাম, কোথায় বাড়ি। দেখলাম, নাম পরিচয় দিতে কারও-কারও অস্বস্তি রয়েছে। কথা না বাড়িয়ে কলকাতা সম্পর্কে ওদের কৌতূহলের জবাব দিতে লাগলাম। তখনই জানলাম, মালখান সিংকে ওরা দদ্দা বলে ডাকেন। দদ্দা মানে বড়ভাই।’

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩২

১৯৮০-র ডিসেম্বরে আমরা যখন চম্বলে পৌঁছেছিলাম, তখন ঠাকুরদের গ্রামে গণধর্ষিতা ফুলন প্রতিহিংসার আগুনে দপদপ জ্বলছেন, বদলা নেওয়ার ছক কষছেন। আর অগুনতি খুনখারাপি সেরে মালখান সিংয়ের ক্রোধ নির্বাপিত হয়েছে, সারেন্ডারের উপায় খুঁজছেন।

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩১

“৫০টি খুনের মামলা ছিল প্রাক্তন বাগিসর্দার অধুনা জাদুকর চম্বল সরকারের বিরুদ্ধে। অপহরণের মামলা শতাধিক। ‘এত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক অত‍্যাধুনিক মারণাস্ত্র কোথা থেকে পান আপনারা?’ প্রশ্ন করলাম। হেসে, অকপটে মাধো বললেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমাদের দোস্তরা আছেন।… ”

Representative Image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৩০

‘পুতলির আসল নাম গোহরবানু। মায়ের কাছে নাচ শিখেছিল গোহরবানু আর তাঁর বোন তারাবানু। কিশোরী বয়সে গোহরবানু যখন নর্তকী হিসেবে গ্রামশহরে প্রশংসিত হল, পুতুলের মতো দেখতে বলে গ্রামবাসীরা তাঁর নাম দিল ‘পুতলি’।’

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ২৯

‘পায়ে পুলিশের গুলি, আহত অবস্থায় ধরা পড়ার পর তহশিলদার সিং নিজের পরিচয় গোপন করেছিলেন। সাজা কমানোর জন‍্য তিনি যে মান সিংয়ের ছেলে, পুলিশকে তা জানাননি, পুলিশের কাছে তাঁর কোনও ছবিও ছিল না। দলের লোকেরাও বিষয়টি গোপন রেখেছিল। তহশিলদারের পরিচিতি নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়িয়েছিল।’

সংবাদ মূলত কাব‍্য : পর্ব ২৮

“কুয়োর ওপাশে ব্রাহ্মণ পরিবারটির অনেকে কৌতূহলী উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলেন আমাদের দেখে। বিশেষত বালক, কিশোররা। সম্ভবত, এরা তলফিরামের নাতিপুতি। ‘আইয়ে আইয়ে’ বলে মুন্নারাই ডেকে এনে বসাল ওদের। ছয়ের দশকে বিনোবা ভাবে এসে রাজপুত ঠাকুর আর ব্রাহ্মণ পরিবারটির মিটমাট ঘটিয়ে দিয়েছেন। এদিনও আমার সামনেই মুন্না সিং রাঠোর আর দৌলতরাম করমর্দন করল।”

Representative Image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ২৭

‘‘অট্টালিকার মাথায় ময়ূর, ঝূপড়ি ঘরের চালে ময়ূর। নীল-বেগনি ময়ূরের ইতিউতি সংখ‍্যায় অল্প গাঢ় খয়েরি, যেন হতশ্রী ময়ূরও দেখেছি। তবে ওই নীল বেগনির বর্ণময় ময়ূর, আহা কী সুন্দর! ‘ময়ূর, বুঝি-বা কোনও সূ্র্যাস্তে জন্মেছো।’’’

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ২৬

‘এসব গেল পুরাণের কথা। আধুনিক ইতিহাসে, ছত্রপতি শিবাজি এসব অঞ্চলের ভেতর দিয়েই গুটিগুটি হামলা চালাতেন দিল্লি ও আশপাশের মোঘল সেনাশিবিরগুলিতে। ভারতে গেরিলা যুদ্ধের প্রবর্তক তিনি। শিবাজির বাহিনীর গেরিলারা সবাই কি মহারাষ্ট্রে ফিরেছিল? খেতিখামারিতে, প‍্যার-মোহব্বতে চম্বলের জনজীবনে মিশে যায়নি তো?’

মাও-এর মুখ

‘একবার যখন দশম শ্রেণিতে পড়া ক্লাস ইলেভেনের মানিক এসে বলল, যাদের যাদের এক্স রে প্লেট আছে, আমাকে দিবি তোরা। তখনই জানলাম, কাঠগোলার ভজাদা বাটালি দিয়ে ওই এক্সরে প্লেট খুদে খুদে মাওয়ের মুখটি তৈরি করে দেবেন।’

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ২৫

‘দেখলাম, আমাদের বয়সি তরুণ কয়েজনের কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। হাসাহাসি করছে তারা, ফুর্তিতে গড়িয়ে পড়ছে। আর বাসের ভেতরে সিটগুলির মাথায় হিন্দিতে লেখা রয়েছে, ‘ভরা বন্দুক লেকড় ন বৈঠ’। অর্থাৎ (গুলি) ভরা বন্দুক নিয়ে (বাসে) বসো না।’