সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৪৭

‘আমার ডাকাডাকিতে মাধবীদের বারান্দায় আলো জ্বলে উঠল, শিবনাথ বাগানের ভেতর দিয়ে গেটের কাছে চলে এল, এবং ওইরকম দিন বলেই হয়তো মাধবীর বাবা ও মা বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। আমি অবশ‍্য জানালাগুলির দিকে তাকিয়ে মাধবীর উঁক ঝুঁকি ঠাহর করে আশ্বস্ত হয়েছি।’

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৪৬

‘সারা রাস্তায় লরিট্রাকবাস-ভাঙা ছোট-বড়-মাঝারি কাচের টুকরো। এদিকে-সেদিকে গুচ্ছ-গুচ্ছ সেনা পুলিশ। ডানলপে গুরদোয়ারার দিক থেকে ধোঁয়া উঠছিল পাক খেয়ে। দমকলের ঘণ্টা শুনলাম। থমথমে ওই আলো-অন্ধকারে আমি ও ভাস্করদা মাধবীকে খুঁজতে লাগলাম।’

সংবাদ মূলত কাব্য: পর্ব ৪৫

আট দশকের গোড়া থেকেই পাঞ্জাবে পৃথক খালিস্তান রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিরা তৎপরতা শুরু করে। আমি তখন ‘যুগান্তর’-এ। কাঠমান্ডু থেকে দিল্লিগামী বিমান ছিনতাই করে লাহোরে নিয়ে গিয়েছিল খালিস্তানি জঙ্গিরা, সে-কথা আগে বলেছি।

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৪৪

‘এক পুলিশ অফিসার দেখলেন, বন্ধ একটি দোকানঘরের সিঁড়িতে এক বৃদ্ধ বসে আছেন। ময়লা পোশাক-আশাকে উদাস দৃষ্টিতে যানবাহন চলাচল দেখছেন। বৃদ্ধের মুখটি দেখে ওই পুলিশ অফিসার গাড়ি থামিয়ে দিলেন। ঠিক চিনেছেন পুলিশ অফিসারটি। ওই বৃদ্ধ অজয় মুখোপাধ‍্যায়, পশ্চিমবঙ্গের চতুর্থ মুখ‍্যমন্ত্রী।’

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৪৩

‘ফ্ল‍্যাটের ঘরটিতে ঢুকেই চমকে উঠলাম। কঙ্কালসার প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন একটি খাটে শুয়ে আছেন। অপরিষ্কার বিছানা, ময়লা চাদর। প্রফুল্ল সেনের পরনে ময়লা একটি ফতুয়া, ময়লা ধুতি লুঙ্গির মতো করে পরা। সারা ঘরে মুড়ি ছড়িয়ে আছে।’

সংবাদ মূলত কাব্য: পর্ব ৪২

‘পিকনিক হয়েছিল একবার। বোধ করি, ওই সাংবাদিক ইউনিয়নটির আয়োজনে। জলযানে, স্টিমারে কলকাতা থেকে ডায়মন্ডহারবার পর্যন্ত যাওয়ার ওই স্টিমারে কলকাতার সব ক’টি সংবাদপত্রের সাংবাদিকরা যোগ দিয়েছিলেন।’

Representative Image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৪১

‘‘‘যুগান্তর’-এ শিক্ষানবিশ সাব এডিটরের কাজ করার ফাঁকে-ফাঁকে আমি ‘ছোটদের পাততাড়ি’তে ছড়া লিখতাম। গৌরাঙ্গ ভৌমিক সম্পাদনা করতেন ‘ছোটদের পাততাড়ি’। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার বের হত। গৌরাঙ্গদা চাইলেই আমি ছড়া দিয়ে দিতাম। অমিতদা চাইলে ‘রোজনামতা’য় ছড়া দিতাম।’’

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৪০

একরাতে এপি-র খবর এল, পিকিংয়ে( বেজিং) তিয়েন আন মেন স্কোয়ারে বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের জমায়েতে চিনা পুলিশ গুলি চালিয়ে দিয়েছে। বহু হতাহত। স্টপ প্রেসের বদলে রানিং চেঞ্জের বার্তা পাঠালেন নন্দদা ছাপাখানায়।

Representative image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৩৯

‘সেই কবে ১৯৭৪ সালে তমলুকে শ্যামলকান্তিদের কবিসম্মেলনে, তুষারকান্তি ঘোষকে সে-কথা বলেছিলাম, আর এটা ১৯৮৩ সাল! হতবাক হয়ে গেলাম আমি। এমন মানুষই তো পারেন, চার্চিলের ঠোঁট থেকে চুরুট টেনে নিতে!’

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩৮

“তখন দুপুর দেড়টা, চান করিনি, খাইনি। সত‍্যদা বললেন, ছাড়ো তো..। বাগবাজারে ‘যুগান্তর’ অফিসে যেতে হবে, অমিতাভ চৌধুরী তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন। সুনীলদা বললেন, আমি তোমার বাড়িতে বলে দেব।”

Representative Image

সংবাদ মূলত কাব‍্য: পর্ব ৩৭

‘বাইরের জগৎ তখন বদলাতে শুরু করে দিয়েছিল, জনসমাজের লাল টুকটুকে স্বপ্নটি যেন মিলিয়ে যেতে শুরু করে দিয়েছিল; পরিস্থিতির কাছে মানুষ যেন ধীরে-ধীরে আত্মসমর্পণকে মেনে নিচ্ছিল— মনে হয়েছিল আমার।’

সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩৬

‘চিঠি এসেছিল একটা। চন্দননগর থেকে ওই পত্রলেখক কী করে যেন জেনেছিলেন আমি কাছেই শ্রীরামপুরে থাকি। গিয়েছিলাম। বৃদ্ধ পত্রলেখক, তাঁর স্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাধো সিংয়ের গুরুদেব সন্ন‍্যাসীর সঙ্গে তাঁদের নিখোঁজ পর্বতারোহী ছেলের মুখের বড় মিল।’