
সামথিং সামথিং: পর্ব ৮২
নেশা যুক্তি মানে না, এবং সৃষ্টির মত্ততা অন্য সবকিছুকেই প্রত্যাখ্যান করে। যে-লোকটা অ্যাটম বোমা আবিষ্কার করে, সে অলৌকিক স্ব-ক্ষমতায় এমন নার্সিসাস-বুঁদ, এর ফলে কী অকল্যাণ ঘটবে দিব্যি বুঝেও সে ভাবে, সেটা আমার দায় নয়।

নেশা যুক্তি মানে না, এবং সৃষ্টির মত্ততা অন্য সবকিছুকেই প্রত্যাখ্যান করে। যে-লোকটা অ্যাটম বোমা আবিষ্কার করে, সে অলৌকিক স্ব-ক্ষমতায় এমন নার্সিসাস-বুঁদ, এর ফলে কী অকল্যাণ ঘটবে দিব্যি বুঝেও সে ভাবে, সেটা আমার দায় নয়।

‘চুম্বনচিহ্নভর্তি গাড়ি নিয়ে এক পুরুষ বেশ গর্ব ও উল্লাস-সহ ঘুরে বেড়াচ্ছে, গাড়ির ভিডিয়ো প্রচুর ভিউ সংগ্রহ করছে। ফলে, এক যুগলের বেলাগাম আনন্দ, ফাজলামি, এবং ‘বেশ করেছি’ আস্ফালন স্পষ্ট। আপত্তিটা এইখানে। চুমু তুমি গোপনে খেতে পারো বটে, তা নিয়ে গোটা শহরের সামনে এমন জাঁক করার মানে কী?’

ছবিটা বেশ কেতায় তোলা, গতিশীল, চমক দিতে আগ্রহী, দেখতে ভাল। সমাজ, আইন ও ব্যক্তির (বিশেষত নারীর) বেপরোয়াপনার পারস্পরিক সম্পর্ক হলিউডি ছবির চেনা ছকেই চলে, কিন্তু ফ্র্যাংকেনস্টাইনের কাহিনিটাকে এখানে এনে ফেলার মধ্যে একটা বিস্ময় আছে।

‘এই জয় থেকে কী শিক্ষা সংগ্রহযোগ্য? এক, আজকের দিনকালে, সফল হতে গেলে আন্দোলনের লাগাতার প্রচারের জন্য মূলস্রোতের গণমাধ্যমকে পাশে পাওয়ার দরকারই নেই।’

খেলাটা চলতে চলতে যদি দেখা যায়, ছোট দল সমানে-সমানে লড়ছে, এমনকি কিছু সময় বেশি ভাল খেলছে, তারপর গোলও করে বসল, মনে হয়, আরিব্বাস, যোগ্য দল হিসেবেই আজ জিতবে। কিন্তু খেলা-শেষ-হয়-হয় অবস্থায় দড়াম করে গোল শোধ হয়ে গেল এবং শেষমেশ বড় দলটা জয়সূচক গোলও দিয়ে দিল, এ-কাণ্ড দেখলে মন একেবারে বসে যায়।

হোয়াইট হাউসে সরাসরি অভদ্রতার উদযাপন হচ্ছে। একই চেহারা কি পশ্চিমবঙ্গেও? ডিম ছোড়াছুড়ি থেকে পুলিশের দড়ি বেঁধে অপরাধীদের ঘোরানো; এই সবেতেই কি অভ্যস্ত হবে মানুষ? তাহলে কি অভদ্রতারই জয় সর্বত্র?

‘আমারটা বুঝব এবং অন্যেরটা দলেপিষে ছারখার করব— এই অমানবিক স্বার্থপরতাকে দেশের অবশ্যকর্তব্য বলে মাথায় তুলে নাচি। কোনও দলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রহার-প্রবৃত্তি লকলক না করলে আজ এই মারকুটে-পনার জয় দেখতে হত না।’

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে, কিন্তু সমাজমাধ্যমের স্বাধীনতায় কি শাসকের কিছু যায় আসে? প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে পিছিয়ে গিয়েছে ভারত, কিন্তু সমাজমাধ্যমে বাকস্বাধীনতা কি খর্ব হচ্ছে আদৌ? সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতার অভাব কি পুষিয়ে যাচ্ছে সমাজমাধ্যমে?

বাচ্চাদের মোবাইলের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে বাউন্সার নিয়োগ? তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরির সম্ভাবনা। ছোটরা যাতে মোবাইলে মজে না থাকে, তার জন্য প্রহরী নিয়োগ করা হচ্ছে, কিন্তু বাউন্সাররা যদি মোবাইলে মন দেয়, তাহলে?

ছড়া কি আমাদের ভুল শিক্ষা দেয়? মিথ্যে বলতে শেখায়? উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় তো হল, কিন্তু ছড়া নিয়ে ছুঁৎমার্গ সত্যিই শুরু হলে কী হবে? বাতিল হয়ে যাবে অজস্র জানা ছড়া? ইংরেজি কেবল নয়. বাংলা ছড়ার ওপরেও পড়তে পারে কোপ?

‘দক্ষিণ সুদানে কী ঘটছে বা নাইজিরিয়ায় কী নিগ্রহ চলছে, তা আমাদের খুব বিদ্ধ করে না। মানে, ভৌগোলিক অন্ধতাও আমাদের আছে। এমনিতে মূলস্রোতের খবরেই আমরা ভেসে বেড়াই, নিজের মতো বিশ্লেষণ করি বটে, কিন্তু খুব দলছুট ভাবে নয়।’

আক্রান্ত দেশের রাষ্ট্রপতি বলছেন আক্রমণকারী দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনও ঘৃণা নেই। এই হিংসাবিধ্বস্ত পৃথিবীতে এই বার্তা জরুরি। অজস্র আক্রমণ, অনেক চাপ সৃষ্টি হয়েছে ইরানের ওপর। তার পরেও ইরানের তরফে যখন সংযম বজায় রাখা হয়, তা প্রশংসনীয় বইকি।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.