
সামথিং সামথিং: পর্ব ৮০
‘এই জয় থেকে কী শিক্ষা সংগ্রহযোগ্য? এক, আজকের দিনকালে, সফল হতে গেলে আন্দোলনের লাগাতার প্রচারের জন্য মূলস্রোতের গণমাধ্যমকে পাশে পাওয়ার দরকারই নেই।’

‘এই জয় থেকে কী শিক্ষা সংগ্রহযোগ্য? এক, আজকের দিনকালে, সফল হতে গেলে আন্দোলনের লাগাতার প্রচারের জন্য মূলস্রোতের গণমাধ্যমকে পাশে পাওয়ার দরকারই নেই।’

খেলাটা চলতে চলতে যদি দেখা যায়, ছোট দল সমানে-সমানে লড়ছে, এমনকি কিছু সময় বেশি ভাল খেলছে, তারপর গোলও করে বসল, মনে হয়, আরিব্বাস, যোগ্য দল হিসেবেই আজ জিতবে। কিন্তু খেলা-শেষ-হয়-হয় অবস্থায় দড়াম করে গোল শোধ হয়ে গেল এবং শেষমেশ বড় দলটা জয়সূচক গোলও দিয়ে দিল, এ-কাণ্ড দেখলে মন একেবারে বসে যায়।

হোয়াইট হাউসে সরাসরি অভদ্রতার উদযাপন হচ্ছে। একই চেহারা কি পশ্চিমবঙ্গেও? ডিম ছোড়াছুড়ি থেকে পুলিশের দড়ি বেঁধে অপরাধীদের ঘোরানো; এই সবেতেই কি অভ্যস্ত হবে মানুষ? তাহলে কি অভদ্রতারই জয় সর্বত্র?

‘আমারটা বুঝব এবং অন্যেরটা দলেপিষে ছারখার করব— এই অমানবিক স্বার্থপরতাকে দেশের অবশ্যকর্তব্য বলে মাথায় তুলে নাচি। কোনও দলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রহার-প্রবৃত্তি লকলক না করলে আজ এই মারকুটে-পনার জয় দেখতে হত না।’

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে, কিন্তু সমাজমাধ্যমের স্বাধীনতায় কি শাসকের কিছু যায় আসে? প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে পিছিয়ে গিয়েছে ভারত, কিন্তু সমাজমাধ্যমে বাকস্বাধীনতা কি খর্ব হচ্ছে আদৌ? সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতার অভাব কি পুষিয়ে যাচ্ছে সমাজমাধ্যমে?

বাচ্চাদের মোবাইলের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে বাউন্সার নিয়োগ? তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরির সম্ভাবনা। ছোটরা যাতে মোবাইলে মজে না থাকে, তার জন্য প্রহরী নিয়োগ করা হচ্ছে, কিন্তু বাউন্সাররা যদি মোবাইলে মন দেয়, তাহলে?

ছড়া কি আমাদের ভুল শিক্ষা দেয়? মিথ্যে বলতে শেখায়? উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় তো হল, কিন্তু ছড়া নিয়ে ছুঁৎমার্গ সত্যিই শুরু হলে কী হবে? বাতিল হয়ে যাবে অজস্র জানা ছড়া? ইংরেজি কেবল নয়. বাংলা ছড়ার ওপরেও পড়তে পারে কোপ?

‘দক্ষিণ সুদানে কী ঘটছে বা নাইজিরিয়ায় কী নিগ্রহ চলছে, তা আমাদের খুব বিদ্ধ করে না। মানে, ভৌগোলিক অন্ধতাও আমাদের আছে। এমনিতে মূলস্রোতের খবরেই আমরা ভেসে বেড়াই, নিজের মতো বিশ্লেষণ করি বটে, কিন্তু খুব দলছুট ভাবে নয়।’

আক্রান্ত দেশের রাষ্ট্রপতি বলছেন আক্রমণকারী দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনও ঘৃণা নেই। এই হিংসাবিধ্বস্ত পৃথিবীতে এই বার্তা জরুরি। অজস্র আক্রমণ, অনেক চাপ সৃষ্টি হয়েছে ইরানের ওপর। তার পরেও ইরানের তরফে যখন সংযম বজায় রাখা হয়, তা প্রশংসনীয় বইকি।

‘কাজকে প্রায় কেউই জড়িয়েমড়িয়ে ভালবাসে না। উপায় থাকলে ক’টা লোক আর কাজ করত? সকলেই লেপ জড়িয়ে নেটফ্লিক্স দেখত। কিন্তু তাহলে অনেক দেশেই, ট্রেন লেট করে না কেন? কেন এয়ারপোর্টে ইতিউতি তাকালেই সাহায্য করার লোক পাওয়া যায়?’

এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল, ইজরায়েলি সৈন্যরা প্যালেস্তাইনের ১৪ বছর বয়সি এক ছেলেকে গুলি করে, ঘিরে দাঁড়িয়ে ৪৫ মিনিট ধরে তার মরে যাওয়া দেখছে, তার মা’কে বা অ্যাম্বুল্যান্সকে কাছে আসতে দিচ্ছে না। এই চূড়ান্ত অমানবিকতার ছবি আমাদের শিউরে তোলে।

আফগানিস্তানে তালিবান নতুন আইন আনছে— স্বামী স্ত্রীকে পেটাতে পারবে, যতক্ষণ না হাড় ভাঙছে বা খোলা ক্ষত দেখা যাচ্ছে। তার মানে, গার্হস্থ্য হিংসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হল। স্ত্রীকে স্বামীর সম্পত্তিই ঘোষণা করা হল। অন্য বড় দেশগুলো কিন্তু বিরাট তিরস্কার করছে না, বরং দিব্যি ব্যবসায়িক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.