কাগেয়াপটিতে কিছুক্ষণ
“আমরা হিসাবী ও বেহিসাবী খুচরা ও পাইকারী সকলপ্রকার গণনার কার্য বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করিয়া থাকি। মূল্য এক ইঞ্চি ১৷৴৹। CHILDREN HALF PRICE অর্থাৎ শিশুদের অর্ধমূল্য। আপনার জুতার মাপ, গায়ের রঙ, কান কট্কট্ করে কি না, জীবিত কি মৃত, ইত্যাদি আবশ্যকীয় বিবরণ পাঠাইলেই ফেরত ডাকে ক্যাটালগ পাঠাইয়া থাকি। সাবধান! সাবধান!! সাবধান!!! আমরা সনাতন বায়সবংশীয় দাঁড়িকুলীন, অর্থাৎ দাঁড়কাক। আজকাল নানাশ্রেণীর পাতিকাক, হেঁড়েকাক, রামকাক প্রভৃতি নীচশ্রেণীর কাকেরাও অর্থলোভে নানারূপ ব্যবসা চালাইতেছে। সাবধান! তাহদের বিজ্ঞাপনের চটক দেখিয়া প্রতারিত হইবেন না।
হযবরল। সুকুমার রায়
—কাক্কেশ্বর স্যর, নমস্কার। আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই।
—বলে ফেলো চটপট। সময়ের অনেক দাম। ওই যে, ফস করে বলে দিয়েছিলে, সাত দুগুনে চোদ্দো অথচ তখনও পুরো চোদ্দো হয়নি। তখন ছিল, তেরো টাকা চোদ্দো আনা তিন পাই। আমি যদি ঠিক সময় বুঝে ধাঁ করে ১৪ লিখে না ফেলতাম, তা হলে এতক্ষণে হয়ে যেত চোদ্দো টাকা এক আনা নয় পাই। হিসেব বড় জটিল বস্তু।

আরও পড়ুন : কেন নিষিদ্ধ হওয়া উচিত এক্সিট পোল? লিখছেন জয়ন্ত ঘোষাল…
—আপনার আমি বেশি সময় নেব না। বলছি, ইয়ে, আপনি স্যর সেই থেকে আজকের দিনেও একভাবে ক্রিয়াশীল। আপনি আপাতত গত কিছু মাস ধরে শুধু হিসেব করে গেছেন, ক’জন ভোট দিতে পারবে। তারপর তো ব্যাপারটা আইনে গড়াল।
—‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বলছ?
—আজ্ঞে হ্যাঁ। শেষে বুঝিনি, কী হল, পর্বতের মূষিক প্রসব হল, না আলিবাবার গুহার পাসওয়ার্ড পালটে গেল? দিনশেষে তিরানব্বই লক্ষ বাদ নামের মধ্যে সাতাশ লাখের ওপর জীবিত মানুষ, বেঁচে থেকেও নেই হয়ে গেলেন। ওদিকে আইনের হাতে চৌত্রিশ লক্ষ কেসের মধ্যে হাজার দুইয়ের নিচে কেস নিষ্পত্তি করা গেল। তাই তো?
কাক্কেশ্বর চোখ পাকিয়ে বললেন, ‘টপিক পাল্টাও হে। ও বিষয়ে আর প্রশ্ন নেওয়া হচ্ছে না।’

—আচ্ছা, তাহলে আদমশুমারি বিষয়ে প্রশ্ন করি?
—কী ধরনের প্রশ্ন? প্রথমে দেখতে হবে, প্রশ্নটা ২০২৩ সালের সেই প্রণব সেনের স্ট্যান্ডিং কমিটির মতো করছ কি না! তাহলে কিন্তু আগেই বাতিল।
—ইয়ে মানে , আদমশুমারি বা জনগণনা, যাতে নথিবদ্ধ হয় জনসংখ্যা বাদেও, জনগণের আর্থিক, সামাজিক তথ্য, নথিভুক্ত হয় তাদের পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও। এইসব গোনাগুনির শুরু বোধ হয় রোমান আমলে, বা আরও প্রাচীন যুগের কোনও সভ্যতায়। ইনকারা দড়িতে গিঁট বেঁধে মানুষের শুমারি নেওয়া শুরু করেছিলেন। ইংরেজরাও সম্পত্তির মালিকানা ইত্যাদি জরুরি তথ্য নিতেই শুরু করেছিলেন সেনসাস।
—হালে এসো হে। একবার ঘড়ির দিকে, আরেকবার হাতের স্লেটের দিকে আড়চোখে দেখলেন কাক্কেশ্বর।
—আচ্ছা জাম্প করে আসছি। ভারতে, প্রতি দশ বছরে জনগণনা চালু হয়েছিল ১৮৭২ সালে মেয়োসায়েবের জমানায় , তবে ঠিকঠাকভাবে ’৮১ সালে। প্লাউডন সাহেবের সেই দশকওয়ারি জনগণনার ধারা একটানা চলেছিল ২০১১ পর্যন্ত।তথ্যের মান, বা কী ধরনের তথ্য সংগৃহীত হবে, তা নিশ্চিতভাবেই পাল্টেছে এতগুলি বছরে। কিন্তু নানা ধরনের আগ্রহোদ্দীপক তথ্যও এতে সামনে এসেছে বইকি। যেমন, ১৯২১ সালের জনগণনায় নাকি ১৯১৮-র ইনফ্লুয়েঞ্জা অতিমারীর কারণে জনসংখ্যার ঘাটতি দেখা গিয়েছিল শূন্য দশমিক তিন এক শতাংশ। জানতাম না। জানলাম, ২০২৭ সালের হবু জনগণনার বিষয়ে জানতে গিয়ে। সেই জনগণনা, যা হওয়ার কথা ছিল, ২০২১ সালেই।
—হুঁ, কাক্কেশ্বর মাথা নেড়ে বললেন। ‘হতে যে পারেনি, সেজন্য তো আবার ২০১৯ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা দায়ী!’
—কিন্তু সেজন্য কোভিড চলে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর, জনগণনা না-হওয়াটা আরও বিচিত্র। এদিকে ২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ১২১ কোটিতে পৌঁছেছে।
—তাতে কী হল?
—ইতিমধ্যে নানারকম পারিবারিক সমীক্ষা হয়েছে বইকি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে সেসব বিচ্ছিন্ন তথ্য দিয়ে কোনও কাজ হওয়ার না, যদি এই সম্পূর্ণ জনগণনাটা বাদ থাকে। মজার তথ্য অবশ্য আমরা পেয়েছি, ২০২১-এর জাতীয় পারিবারিক সমীক্ষা থেকেও, যেমন তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গ সেই তালিকার শীর্ষে, যেখানে মেয়েরা মনে করেন খারাপ রান্না করলে স্বামীর পিটুনি খাওয়া খুবই যুক্তিযুক্ত ও যথাযথ বিষয়।
—ওটা আবার নতুন কথা কী হল? আগে বাঢ়ো।
—২০২৩ সালে, গঠিত হয়েছিল প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও অতীতে দেশের মুখ্য সংখ্যাতত্ত্ববিদ প্রণব সেনের নেতৃত্বে চোদ্দো সদস্যের স্থায়ী কমিটি মত দিয়েছিলেন, প্রতি দশ বছরে যে সেনসাস বা জনগণনা চলে আসছে ভারতে, তা না করা আর সরকারি সংখ্যাতত্ত্বের নিজের পায়ে কুড়ুল মারা ব্যাপার একই। কেননা, মধ্যের সময়টায় কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকার যতরকমের উন্নয়নমুখী প্রকল্পের পরিকল্পনা করছেন, তার জন্য যাবতীয় তথ্য নিতে হচ্ছে তামাদিপ্রায়, প্রাচীন একগোছা তথ্যপুঁজি থেকে। ২০০১ ও ২০১১-র জনগণনার তথ্যপুঁজি থেকে। এই যে তথ্য-ফাঁক বা ডেটা গ্যাপ তৈরি হল, এই ফাঁক কোনওমতেই পূরণ হবার নয়।
—ঘুরেফিরে সেই! কোনও প্রশ্ন নয়। আগে বাড়ো।
—বাড়ছি। সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে প্রণব সেন-কে সরিয়ে দেওয়া তো হলই, স্থায়ী কমিটিকেই নীরবে এক কলমের খোঁচায় খারিজ করে দেওয়া হল। সর্বশেষ সেনসাস-এর, অর্থাৎ, ২০১১-র তথ্যের পর, দেশের জনসংখ্যা অন্তত আঠাশ থেকে ঊনত্রিশ কোটি বেড়েছে, দশ বছরে আরও অনেক পুরুষ-নারী প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। ভারতীয়দের গড় বয়স এখন ত্রিশ। অর্থাৎ, একটা বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক ইতিমধ্যে কাজ খুঁজছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের হিসেব, এই সব সংখ্যা নির্দেশ করছে। ২০২৬-এর সম্ভাব্য জনসংখ্যাকে ১৪৮ কোটি ধরে এই হিসেব।
—তোমরা তো ভারি ইয়ে, হে! এদ্দিনে আমরা ২০২৭ সালে জনগণনা করবই ঠিক করে ফেলেছি যখন, এসব আবোল-তাবোল, হযবরল কথা বলার মানেটা কী? জনগণনা করলেই যখন দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাবে, তখন আন্দাজে ঢিল ছুড়ছ কেন?
—মানে এই যে ধরুন, এই এতগুলো বছর আমরা জানতে পারলাম না ক্ষুধার সূচকে জাতিসংঘ যে-কথাটা বলেছে সেটা সত্যি না মিথ্যে।
—জাতিসংঘ কী বলেছে? জানি, যা বলেছে সেটা মিথ্যেই বলেছে, তাও বলো তো শুনি।
—বলেছে, গোটা পৃথিবীতে ২৫,০০০ শিশু অপুষ্টির কারণে মারা যায় প্রতিদিন। তার মধ্যে ভারতেই নাকি চার হাজার শিশু মারা যায়। কিন্তু মিলিয়ে নিতে পারছি না, কারণ, ক্ষুধার কোনও পরিসংখ্যানের মানদণ্ড নেই আর আমাদের হাতে। যাবতীয় পরিসংখ্যান ও তথ্য, যা রেশন ব্যবস্থা বা খাদ্যশস্য বিলিবন্দোবস্তর জন্য, পাব্লিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজন— তা সবই ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতে। খাতায়-কলমে দেশের ৬৭% জনসংখ্যা রেশনের আওতায়। পুরনো পরিসংখ্যানই বলেছে দশ কোটি আশি লক্ষ মানুষ আজও রেশনের আওতাভুক্ত নন। নতুনটা…
—ওহে তোমাকে এত পড়াশুনো করতে কে বলে ছিল? দিচ্ছ আমার হিসেব গুলিয়ে। ক’দিন খেটেখুটে অনেক বুদ্ধি করে খানিকটে হিসেব জমিয়েছিলাম, তাও তোমার সঙ্গে তর্ক করতে অর্ধেক খরচ হয়ে গেল। আপাতত অপেক্ষা করো ২০২৭-এর জনগণনার।
—কিন্তু স্যর কাক্কেশ্বর, ইতিমধ্যে গঙ্গা-যমুনা, কৃষ্ণা-কাবেরী, নর্মদা দিয়ে এত জল গড়িয়ে গিয়েছে, যে এই জনগণনা নিয়ে রাজনীতির পুরো হদিশ রাখাই মুশকিল। বিরোধী দলেরা লাগাতার চেয়েছে, আম্বেদকর সাহেবের ধারায়, যে, শুধু তফশিলি জাতি-উপজাতি আর ওবিসি নয়, সমস্ত মানুষের জাতপাতভিত্তিক শুমারি হোক। এ-থেকে যে-তথ্য পাওয়া যাবে, তা পরবর্তীতে চাকরিতে আসন সংরক্ষণ থেকে শুরু করে নানা পিছড়ে বর্গ-এর খোঁজতালাশে সহযোগিতা করবে। কেননা ভারতে ১৯৩১-এর পর, তফশিলি জাতি ও উপজাতি বাদে বাকিদের জাতপাতের তথ্য নথিভুক্ত নয়। তো, ২০২১ সাল অবধি মহামান্য কেন্দ্র বলেছিলেন, জনগণনায় ওসব গোনাগুনতি করবেন না। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে একটা ইউ টার্ন নিয়ে, সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২৭ সালে যে জনগণনা হতে চলেছে, তাতে জাত বা কাস্ট-এর তথ্যও নথিভুক্ত হবে। তাই তো?
—ইউ টার্নের কিছু নেই। টাইমিং দেখতে হবে তো। বিহার সরকার নিজেই জাতভিত্তিক সেনসাস শুরু করে দিল, আর নীতীশবাবুর সঙ্গে কেন্দ্রের ভাব হয়ে গেল। সেজন্যে। হ্যাঁ বিহারের নির্বাচনটাও সামনে ছিল, তাছাড়া ওবিসি-দের খুশি করাও হল। তা, এদ্দিন রাহুল গান্ধীরা যে চেঁচামেচি কচ্চিলেন, ওঁরা করেননি কেন কাস্ট সেনসাস, বাপু হে? আধাখ্যাঁচড়া ২০১১-র কাস্ট সার্ভে কেন হল? এবার যেটা হবে, সেইটে কিন্তু পাক্কা কাজ হবে। সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গ্রহণ করা হবে। রাজনীতি করার উদ্দেশ্যে তো নয়, কাজটা হচ্ছে দেশের,দশের উন্নতির কাজে।
—ওহ, এখানে আর আইডেন্টিটি পলিটিক্স-এর ভূত থাকবে না বলছেন?
—না না এক্কেবারে না। যারা আইডেন্টিটি পলিটিক্স করে, তাদের মাথায় পড়ুক বাজ। আমরা সবার মাথা ছেঁটে সমান করে দেব। এই যে ফিতে। কোমর ছাব্বিশ, ঘাড় ছাব্বিশ, হাতের বেড় ছাব্বিশ।
—ফিতেটাতে ছাব্বিশ ছাড়া আর কিছু পড়া যাবে না। তাই তো? আর তথ্যে জল ঢালাটা?
—ওটা বাপু তোমরা বেশি করো। জাতপাতের সমীক্ষাতেও দেখবে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশ্ন করলে, কেউ নিজেকে তুলতে জাত উঁচু করে বলবে, যেটা মিথ্যা, আবার চাকরির কোটা পাওয়ার আশায় কেউ নিচু করে বলবে, সেটাও জলঢালা।
—আর মেয়েদের ব্যাপারটা স্যর? ওখানে জল… ইয়ে… থাকে?

—উফফ বারবার মেয়েদের কথায় চলে আসা তোমাদের আজকালকার একটা বাজে অভ্যাস বাপু। বলো কী হয়েছে মেয়েদের।
—কত মেয়েদের কথা, জনগণনার সামাজিক ও অন্যান্য তথ্যের ক্ষেত্রে অনুক্ত থেকে যায়। সেনসাস কর্মীরা তো বাইরের ঘরে গৃহস্বামীর সঙ্গে কথা বলেই কাজ শেষ করে চলে যান। মেয়েজন্মের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতায় জানি, বাইরের ঘরে বসে বাড়ির বউটির ডিগ্রি কমিয়ে-কমিয়ে বলা হচ্ছে। শিক্ষাখাতের যে তথ্যপুঁজি, তা কীভাবে বিকৃত হয়ে পেশ হচ্ছে তা জানার পর, কত জল তথ্যপুঁজিতে ঢালা হয়, তা বুঝতে বাকি থাকে না।
স্যর কাক্কেশ্বর, ইতিমধ্যে গঙ্গা-যমুনা, কৃষ্ণা-কাবেরী, নর্মদা দিয়ে এত জল গড়িয়ে গিয়েছে, যে এই জনগণনা নিয়ে রাজনীতির পুরো হদিশ রাখাই মুশকিল। বিরোধী দলেরা লাগাতার চেয়েছে, আম্বেদকর সাহেবের ধারায়, যে, শুধু তফশিলি জাতি-উপজাতি আর ওবিসি নয়, সমস্ত মানুষের জাতপাতভিত্তিক শুমারি হোক। এ-থেকে যে-তথ্য পাওয়া যাবে, তা পরবর্তীতে চাকরিতে আসন সংরক্ষণ থেকে শুরু করে নানা পিছড়ে বর্গ-এর খোঁজতালাশে সহযোগিতা করবে। কেননা ভারতে ১৯৩১-এর পর, তফশিলি জাতি ও উপজাতি বাদে বাকিদের জাতপাতের তথ্য নথিভুক্ত নয়। তো, ২০২১ সাল অবধি মহামান্য কেন্দ্র বলেছিলেন, জনগণনায় ওসব গোনাগুনতি করবেন না। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে একটা ইউ টার্ন নিয়ে, সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২৭ সালে যে জনগণনা হতে চলেছে, তাতে জাত বা কাস্ট-এর তথ্যও নথিভুক্ত হবে। তাই তো?
—জল ঢালার হলে, তোমরাও ঢালবে। আর এদিকে, জল প্রয়োজন হলে আমাকেও ঢালতে হবে। আপাতত ফ্যাঁচফ্যাঁচ নাকিকান্না কেঁদে দিলে আমার হিসেবের বারোটা বাজিয়ে। স্লেটের ওপর এই যে একফোঁটা চোখের জল পড়ল! আমার একটা-দুটো শূন্য হারিয়ে গেল। আবার নতুন করে শুরু করি।
—সরি স্যর। আর সময় নেব না।
—চলো আগে বাড়ো, ২০২৭ সালেই দেখতে পাবে চমক, চমকের পর চমক। জনগণনা কি মুখের কথা? কত কিছু বেরোবে। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে…
—মানে?
—হ্যাঁ তাই, জনগণনায় যে অজস্র নতুন-নতুন তথ্য সামনে আসতে চলেছে খুকি! যেমন ঐ স্প্রিং দিয়ে আঁটা একটা পাঞ্জা, শক্তপোক্ত বক্সিং গ্লাভস পরা আটকে রাখা জ্যাক ইন দ্য বক্স! এক ঘুঁষি বাক্স খুলতেই। ব্যস! নাকমুখ রক্তাক্ত!
—সব শেষে কী পাব? হাতে রইল পেনসিল?
—হুঁ হুঁ বাবা, সঞ্চিত তথ্য থেকে ছাঁটাই আছে, বাছাই আছে! যোগ আছে, বিয়োগ আছে। কাজের কি আর কমতি আছে? অনেক কিছু তো বানের জলে ভাসিয়েও দিতে হবে। দেশের-দশের স্বার্থেই দেব বইকি !
—আচ্ছা স্যর, আদমশুমারি শব্দটা জনগণনার পাশাপাশি খুব শুনতাম এককালে। ওটা কি আজকাল আর চলছে না?
—ওটা বাংলা নয়। উর্দু। ওটা বিদেশি শব্দ, বিদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এনেছে। সোনার বাংলাকে ধুয়েমুছে পোষ্কার করে রিসেট বাটন টিপে ১৫০০ সালে ফেলে দিতে হবে। দেখলে না, ইশতেহার পাল্টে আমরা সংকল্প-পত্র করে দিলুম! লাগ্ লাগ্ লাগ্ পরিবর্তন। সব পাল্টাবে আস্তে-আস্তে। দেখে নিও ’খনে!



