
উল্টো দূরবিন : পর্ব ৫
‘রাত্তিরে কোথায় খেতেন বলতে পারব না। জিজ্ঞাসা করার মতো কেউ বেঁচে নেই। অনেক পরে জেনেছিলাম, এই বড়দা ছিলেন কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত। তখন ধারণা ছিল কুষ্ঠ ব্যাধি ছোঁয়াচে। বড়দার নাকি বালক বয়সেই এই অসুখ হয়েছিল।’

‘রাত্তিরে কোথায় খেতেন বলতে পারব না। জিজ্ঞাসা করার মতো কেউ বেঁচে নেই। অনেক পরে জেনেছিলাম, এই বড়দা ছিলেন কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত। তখন ধারণা ছিল কুষ্ঠ ব্যাধি ছোঁয়াচে। বড়দার নাকি বালক বয়সেই এই অসুখ হয়েছিল।’

‘এখন যেমন প্রচুর স্বপন। শ্মশান স্বপন, নাটা স্বপন, লম্বু স্বপন, ট্যারা স্বপন, হাতকাটা স্বপন ইত্যাদি। আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড় একজন স্বপন ছিলেন। অধ্যাপক স্বপন মজুমদার।’

‘কালো বারান্দায় একটা লোহার তার ছিল, তাতে শাড়ি ঝুলত শুকোবার জন্য। মা-ঠাকুরমা-পিসিদের, অন্য ভাড়াটেদের ঝোলানো শাড়ির দুই প্রান্ত সরিয়ে মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া ছিল আমার খুব প্রিয় খেলা। একটু ভিজে, ঠান্ডা ঠান্ডা… এর মাঝখান দিয়ে পথ রচনা করে এগিয়ে যাওয়া।’

‘আমাদের পাড়ার অনেক মেয়ে বউ মুক্তাকে সন্দেহের চোখে দেখত। ওকে দেখলেই চোখ কুঁচকে তাকত। কিন্তু অনেকেই মুক্তাকে খুব পছন্দ করত। মুক্তা আসলে ছিল আমাদের অনেকের মা, দিদি ও পরিবারের মুশকিল আসান। ও তখন আমাদের সমবয়সি। কিন্তু মেয়ে বলে হয়তো চেহারায় গড়নে ও বেশ বড়-বড় মতো।’

‘আমিও ঢাকের কাঠি থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছি অনেকদিন হল। মনে-মনে কত কী বিসর্জন দিতে হল এই ক’বছরে, আর কানে-কানে শুনতে পেলাম সেই ম্লান ঢাকের বাদ্যি, সে আর বলার না। বিষণ্ণতা আসলে এক শেষ-না-হতে-চাওয়া পূজা পর্যায়, আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ আসলে হেমন্তকালের ডাক।’

‘ভাল মাঞ্জার জন্য যা যা সরঞ্জাম দরকার সব ওরাই কিনে আনত দোকান থেকে, কিন্তু আসল মন্ত্র ছিল কাচের গুড়ো। ওইটি ঠিকঠাকভাবে সুতোর গায়ে মাখিয়ে রাখতে পারলেই কেল্লা ফতে। এ-বাড়ি ও-বাড়ি থেকে বাতিল বোতল চেয়ে এনে বস্তায় পুরে শিলনোড়া দিয়ে সেসব কাচ ভাঙার কাজ চলত।’

আমাদের একটু অন্যরকম ইচ্ছে ছিল। এখন ভাবলে হয়তো ছেলেমানুষিই মনে হয়। তখন ক্লাস টেন হবে, সে-বয়সে হয়তো এমন হয়। আমাদের ইচ্ছে ছিল, আমরা একটু উল্টোদিকে উৎসব কাটাব। এমন জায়গায় যাব, যেখানে পুজোর চিহ্নমাত্র নেই। সেটা কোথায়? গ্রাম? না, তা মোটেই নয়। গ্রামের পুজোও তো দ্রষ্টব্য। আমরা কলকাতার মধ্যেই এমন জায়গায় যাব, যেখানে পুজোর নামগন্ধ থাকবে না।

‘জানা গেল মাটির তলা দিয়ে ট্রেন যাবে, তারই প্রস্তুতি শুরু হবে। বলে কী! আমার ছোট্ট ব্রেনে নানারকম প্রশ্ন উদিত হতে থাকল। দিব্যি মাটির ওপর দিয়ে লোকজন যাচ্ছে, বাস-ট্রাম দৌড়চ্ছে, বাবা অফিস যাচ্ছে সেইসব চড়ে, তা হলে খামখা মাটির তলা দিয়ে ট্রেন যাবে কেন? কী করেই-বা?’

‘একদিন মনে হল, ক’জন মিলে সেখানে একখানা লাইব্রেরি চালু করলে কেমন হয়? পাড়ায় বেশ বড়সড় লাইব্রেরি আছে, আজাদ হিন্দ পাঠাগার, কিন্তু সে তো সকলের জন্যে। এই লাইব্রেরি হবে কেবলই আমাদের। বইয়ের ওপর বেশ একরকম মৌরসিপাট্টা থাকবে, তবে না ব্যাপার?’
‘হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল’। পর্ব ৪৩…
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.