১২ বছর ধরে চলতে থাকা ‘সত্য’ থুড়ি ‘রাষ্ট্র আধারিত সত্যে’ হালফিলের বেশ কিছু ঘটনাক্রম একটি অতিকায় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। সৌজন্যে সামান্য একটি বই। অবশ্য সামান্য আর বলা যাবে কি? আদৌ এটি প্রকাশিত, না কি প্রকাশকের ঘরে পাণ্ডুলিপি আকারেই শায়িত, তাও স্পষ্ট জানা যায়নি। কিন্তু ৪০০ পাতার অধিক দু’মলাটের অভিঘাত পৌঁছেছে সংসদভবন অবধি। খানিক থতমত খেয়ে অস্বস্তিতে সরকার। অনাবশ্যক নিনাদে চুপ করানোর প্রয়াস বিরোধীদের। বক্তব্যে বাধাদান রাহুল গান্ধীকে, সাসপেন্ড হচ্ছেন সিপিআইএম সাংসদ। সব বিপত্তির মূলে প্রাক্তন আর্মি চিফ নারাভানের আত্মজীবনীমূলক বই ‘ফোর স্টারস্ অফ ডেস্টিনি’।
এমনিতে ২০১৪-র পর থেকে দেশ জুড়েই রাষ্ট্রপ্রীতির এক অদম্য গেরুয়া হাওয়া বিদ্যমান। অনেকেই মনে করেন, মোদীর মত শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা ভারতের মত দেশে বিরল। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে মুখ থুবড়ে পড়াই হোক, কিংবা ক্রমাগত নামতে থাকা জিডিপির গ্রাফ ও টাকার দাম, কোনওকিছুতেই সেই জনপ্রিয়তায় নূন্যতম ভাটা পড়তে দেখা যায়নি। পুলওয়ামা থেকে পহেলগাঁও, দেশবাসী বিশ্বাস রেখেছে বিশ্বগুরুর মহিমায়, চোখ বুঁজে বলেছে ‘সব চাঙ্গাসি’। কখনও সুড়সুড়ি ভোটারের ইমোশনে, কখনো প্রচার সিনেমার প্রমোশনে, ভারত এখন শত্রুপক্ষের ঘরে ঢুকে প্রত্যাঘাত হানে। আমরা বিশ্বাস করেছি, বিজেপি সরকার ভারতীয় সেনাকে ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিয়ে রেখেছে এবং মাথার উপর আছে লৌহসৌষ্ঠব মহামানব নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। কিন্তু প্রাক্তন আর্মি চিফ জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর আত্মকথামূলক বই ফোর স্টারস্ অফ ডেস্টিনিতে লাদাখে চিনা আগ্রসনের একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। নারাভানের বক্তব্যে, চিনের সঙ্গে সম্মুখসমর চলাকালীন সরকারি তরফে নির্দেশ আসতে গুরুতর গাফিলতির উল্লেখ পাওয়া যায়। এহেন অভিযোগের পরই ধেয়ে আসে একের-পর-এক প্রশ্নবাণ। প্রথম প্রশ্ন আসে বইটিকে নিয়ে।
চিনের রোবট আমাদের রোবট! পড়ুন: চোখ-কান খোলা পর্ব ২০…
পেঙ্গুইন পাবলিকেশনের এই বইটি আদতে এখনও ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ প্রকাশই হয়নি, দাবি প্রকাশকদের। যদিও রাহুল গান্ধী ২০২৩ সালের একটি টুইট তুলে এনে দাবি করেছেন, বইটির বিজ্ঞপ্তি লেখক এবং প্রকাশকের তরফে তখনই দেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা দপ্তরের রিভিউ কমিটির কাছে বইটির পাণ্ডুলিপি জমা পড়েছে, কিন্তু রিভিউ শেষ হয়ে ওঠেনি আজও। স্বাভাবিকভাবেই স্থগিত রয়েছে বইটির ‘অফিসিয়াল’ বা ‘আনুষ্ঠানিক’ প্রকাশ। সম্প্রতি বিখ্যাত ক্যারাভান পত্রিকায় বইটির কিছু অংশ তুলে ধরে সাংবাদিক সুশান্ত সিংহের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই প্রতিবেদনটির উল্লেখ সংসদে শাসকদল ও দেশবাসীর সামনে রাখলে, তাঁকে বিপুল বাধার মুখে পড়তে হয়।
সরকারের প্রথম সারির তিন মন্ত্রী অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও কিরণ রেজ্জু বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষণাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধামাচাপা দিতে অগ্রসর হয়। অমিত শাহ বলে দেন, ‘ম্যাগাজিনে নিজের পছন্দমত যা খুশি তাই লেখা যায়!’ কিছুক্ষণ বাদে স্পিকার ওম বিড়লা নিয়মের বেড়াজালের দোহাই দিয়ে রাহুল গান্ধীর দাবি প্রত্যাখ্যান করেন ও বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা আর অগ্রসর হয় না। কিন্তু বিতর্কের শুরু এখান থেকেই।
গণতন্ত্রের পীঠস্থান সংসদভবনেই একজন বিরোধী দলনেতার বাকস্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়টি আগামী দু’দিন সংসদের অন্দরে মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রতিবাদ চলাকালীন যথারীতি আটজন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। সাসপেনশনের পরে প্রতিবাদ ও জনমত দুটোই তীব্রতর হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সন্ধ্যায় নির্ধারিত ছিল। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেটি স্থগিত হতে দেখা যায়। প্রতিবাদের কারণে পার্লামেন্টের গরিমা খর্ব হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার দোহাই দিতে দেখা যায় স্বয়ং স্পিকার ওম বিড়লাকেও। তিনি এও বলেন, তাঁর কাছে নাকি খবর রয়েছে— কংগ্রেসের বেশ কিছু সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর উপর আক্রমণ করতে পারেন। অগত্যা বাতিল। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভার ভেতরে প্রবেশ করতেও নিষেধ করা হয়। অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা বিপুল অর্থে বানানো নতুন সংসদ ভবনে ‘নিরাপত্তাহীনতা’য় ভুগছেন। গণতন্ত্রের কী নির্মম পরিহাস!
যদিও নিন্দুকেরা বলতে শুরু করেছেন, নারাভানের বই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্ন এড়ানোর সুচারু পরিকল্পনা লুকিয়ে রয়েছে মেকি ‘নিরাপত্তাহীনতা’র বাহানায়। তাছাড়া এও শোনা যাচ্ছে, এই অপ্রকাশিত বইয়ের একটি ‘প্রকাশিত’ নমুনা প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। কিন্তু মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের চিনের সম্মুখসমরে মুখ আর মুখোশের ক্ষীণ পর্দার বিভাজনটুকু প্রকট করতে চায়নি বিজেপি। অর্থাৎ এটুকু জলবৎ তরলং স্বচ্ছ যে-বইয়ের অন্দরে এমন কিছু ছিল বা আছে; যা সরকারের জন্য চূড়ান্ত অস্বস্তিদায়ক! মোদী ও বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি দুর্বল করে এমন কিছু তারা জনতার দরবারে আনতে ঘোরতর অনিচ্ছুক। কিন্তু কী এমন আছে নারাভানের আত্মকথায়?

জেনারেল মনোজ নারাভানে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল অবধি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষ পদে আসীন ছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতার ভাল-মন্দ মিশিয়ে নানাদিক তিনি আলোকপাত করেছেন এই আত্মকথায়। বইটি লেখার পর তিনি পাণ্ডুলিপি জমা করেন, পেঙ্গুইন নামক প্রকাশনা সংস্থাটির কাছে। তৎকালীন সময়েই তাঁর বইয়ের বিভিন্ন অংশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক ছড়ালে প্রতিরক্ষামন্ত্রক তড়িঘড়ি প্রকাশনার কাজে স্থগিতাদেশ দিয়ে রিভিউয়ের জন্য বইটি চেয়ে পাঠায়। কিন্তু দু’বছর পরেও এই রিভিউ সম্পূর্ণ হয় না।
এই সেই সেনাবাহিনী, যার কৃতকর্মের প্রশংসা ভাঙিয়ে বিজেপি সরকার নির্বাচনী প্রচার সারে এবং প্রয়োজনে সেই সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষের মুখও দু’বছর ধরে বন্ধ রাখার প্রয়াস নিরন্তর থাকে। যে-কোনও কঠিন প্রশ্নের মুখে ভারত রাষ্ট্রের পদক্ষেপ বিগত কয়েকবছরে খানিক এমনই।
কিন্তু যাবতীয় মিডিয়াকে নিজের পোষ্যপুত্র বানিয়ে ফেললেও, কিছু মেরুদণ্ড ঋজু ও সুদৃঢ়ভাবে আজও রাষ্ট্রীয় বেয়নেটের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে কলম তুলে নেয়। ক্যারাভান এই বইটির একটি বিস্তারিত রিভিউ প্রকাশ করে, যেখানে বইটির বেশ কিছু অংশও উদ্ধৃত করা হয়। উঠে আসে ২০২০ সালের অগাস্টের বেশ কিছু ঘটনাও, যার উল্লেখ রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনায় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
এই সেই সেনাবাহিনী, যার কৃতকর্মের প্রশংসা ভাঙিয়ে বিজেপি সরকার নির্বাচনী প্রচার সারে এবং প্রয়োজনে সেই সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষের মুখও দু’বছর ধরে বন্ধ রাখার প্রয়াস নিরন্তর থাকে। যে-কোনও কঠিন প্রশ্নের মুখে ভারত রাষ্ট্রের পদক্ষেপ বিগত কয়েকবছরে খানিক এমনই।
নারাভানে বলেছেন, ওই বছর ৩১ অগাস্ট রাতে পূর্ব লাদাখের কৈলাশ পার্বত্য অঞ্চলে চিনা সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের আনাগোনা বাড়তে দেখা যায়। এটি গালওয়ানে হওয়া রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সমসাময়িক অর্থাৎ পরিস্থিতি জটিল। যুদ্ধের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রতিটা মিনিট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ভারতীয় সেনার কাছে। পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখে, জেনারেল নারাভানে দিল্লিতে যোগাযোগ করেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্দেশ এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন একটাই, ফায়ার করা হবে না কি এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ? ওঁর বইতে স্পষ্টত উল্লেখ রয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিষয়টি কোনও নির্দেশ না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথা বলেন। কিছু ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনও নির্দেশ আসে না। অন্যদিকে চিনা সৈন্য ও ট্যাঙ্ক ক্রমাগত আরও নিকটে আসতে থাকে। শিয়রে সংকট দেখে অধৈর্য সেনাপ্রধান আবারও যোগাযোগ করেন নির্দেশের জন্য। এবার উত্তর আসে, ‘যা আপনার ঠিক মনে হয়, তাই করুন।’ এটি শুনে মনে হতেই পারে, প্রধানমন্ত্রী আদতে ফ্রি-হ্যান্ড দিচ্ছেন সেনাকে। এই নাহলে ৫৬ ইঞ্চির মহিমা!
কিন্তু না, মনে রাখতে হবে গোটা বিশ্বে লকডাউন পরিস্থিতি। কোভিডের কারণে বিশ্ববাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানি যথেষ্ট বাধাপ্রাপ্ত ও অর্থনীতিতে মন্দার ছায়া। এহেন পরিস্থিতিতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের ফল হতে পারে ভয়াবহ। সাধারণভাবে যে-কোনও গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকার নির্ণয় করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। ফুলফ্লেজেড যুদ্ধ, না কি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সবটুকুরই রাশ থাকে নির্বাচিত সরকারের হাতে। ‘যা উচিত মনে হয়’ বলে দায় এড়ানো নয়; সঠিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এগিয়ে আসতে হয়। নাহলে প্রতিমুহূর্তে জনগণকে দেশদ্রোহী বলে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়, সেই সেনা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মতো গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর কোনও তফাৎ থাকে না।
কঠিন সময়ে নিজের দায়িত্ব থেকে পলায়ন ও রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রতিই দায়ভার ঠেলে দেওয়া আদতে রাষ্ট্রপ্রধানের অক্ষমতারই প্রতিচ্ছবি। নারাভানে লিখেছেন, যুদ্ধের মতো বিশাল পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত সেই সময়ে দেশের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্দ্বিধায় সেনাবাহিনীর কাঁধে স্থানান্তর করেন। অর্থাৎ, কোভিডকালীন দেশে যুদ্ধ শুরু হলে দায় সেনাবাহিনীর। রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখা শুরু করলে, নিজে থেকেই মাঝপথে থামিয়ে দেন রাজনাথ সিং। তাঁর মতে নারাভানের লেখা পুরোটাই ভিত্তিহীন। সে-কারণেই বইটির প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যে-বইতে আপনি নিজেই কাঠগড়ায় উঠতে চলেছেন সেই বইয়ের স্থগিতাদেশ খারিজ হয়ে প্রকাশ পথ সুগম হওয়া আপনি বা আপনার দপ্তর কেনই-বা বরদাস্ত করবেন? যদিও পরবর্তীতে অবস্থান বদল করে সরকার। সরকারের বয়ান, জেনারেল নারাভানে নিজের বক্তব্যের সত্যতা প্রমান করতে কোর্টে যেতে পারেন। প্রতিনিয়ত যে বিজেপি সেনাকে উচ্ছ্বসিত সম্মানে ভরিয়ে রাখে, তারাই প্রাক্তন সেনা অধ্যক্ষকে কোর্টের রাস্তা দেখাচ্ছেন। ভেবে দেখুন তো, একইভাবে যদি দেশের বিরোধী দল বা স্বাধীন চিন্তকরা কোনও প্রাক্তন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে সামান্যতম মিথ্যা বলার অভিযোগ আনতেন বা প্রয়োজনে কোর্টে যেতেন, তাহলে শাসকদলের প্রতিক্রিয়া কি একইরকম হত? আইটি সেল ও ট্রোলবাহিনী কি একবারও ‘নকশাল’ বা ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ আখ্যায় ভূষিত করত না?
তবে নারাভানে লেখেন, এক্ষেত্রে সরকার অনেক সকাতর অনুনয়ের পরিধি অতিক্রম করে, শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত সেনা ইউনিটগুলিতে পাল্টা ফায়ারিংয়ের নির্দেশ দেন। তাও শুধুমাত্র আত্মরক্ষার স্বার্থেই। তবে প্রাক্তন সেনাকর্তা শুধুমাত্র পূর্ব লাদাখের এই অস্থিরতার কথাই লেখেননি। উল্লেখ করেছেন, একাধিকবার ভারত-চিন সংঘাত নিয়ে কেন্দ্র-সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিরোধ হয়েছে। সেনা সবসময়েই চিনের সঙ্গে হওয়া প্রতিটা মিটিংয়ের অফিসিয়াল মিনিট্স সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে এসেছে। কিন্তু এই দাবি বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বিদেশমন্ত্রক কর্তৃক। নারাভানে লিখেছেন, চিন বহুক্ষেত্রে ভারতের থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নিয়েছে। যে-কারণে একসময়ে ভারতের উপর তাদের কর্তৃত্ব অনেকাংশে মজবুত হয়। আছে অগ্নিবীরের কথাও। যেখানে উল্লিখিত, সেনা সুস্পষ্টভাবে সর্বাধিক ২৫ শতাংশ অগ্নিবীর সৈনিকের বিষয়ে আবেদন করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংখ্যাটা পরিবর্তন করে করা হয় ৭৫ শতাংশ। এটি করতে নাকি খানিক অভ্যন্তরীণ জোরও খাটানো হয় ও কার্যত বাধ্য করা হয় সেনাবাহিনীকে। এটি কেন করা হয়, কার নির্দেশে করা হয় এবং কার মস্তিষ্ক প্রসূত, তা সম্বন্ধেও স্পষ্ট কোন বিবৃতি দেওয়া হয় না। ভারত শুধু জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে জানতে পারে, ‘গালওয়ানে কেউ কখনও ঢোকেনি, এখনও ঢুকে নেই’; অর্থাৎ সব চাঙ্গাসি!
তবুও মুখ ফস্কায় ইতিউতি। তাই জয়শঙ্করবাবু স্বীকার করেন, চিনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে আমরা কেনই-বা তুচ্ছ বিবাদে জড়াব! তাই বিগত বহু ঘটনার মতো একদিন ক’টা পৃষ্ঠার বিবরণও ধামাচাপার চেষ্টা চলবে। জেনারেল নারাভানের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়বে টুইট বেনামি এক্স হ্যান্ডেলগুলো থেকে। একসময়ে হয়তো আসবে, পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার দাওয়াইও। টিআরপি বাড়াবে নতুন কোনও দাঙ্গার খবর। কিন্তু দিন শেষে দেশ সুরক্ষিত রাখার অন্যতম অ্যাজেন্ডাটুকুও (অন্ততঃ দাবি তো তাই করা হয়) সুষ্ঠভাবে পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ তারা। তাই বাড়তে থাকে লাশ, পৌঁছে যায় ইউনিফর্ম। অশ্রুস্নাত লোকজনগুলো হাতড়ে বেড়ায় শেষ চিহ্নগুলো। লাশের ভিড় আর কান্নার কানাগলি যাত্রা সুগম করে। খানিক এগোলেই যে গন্তব্য। নির্বাচন আসছে, সঙ্গে ‘ধুরন্ধর ২’-ও। শত্রুর ঘরে প্রবেশের ক্ষণ ওই এল বলে!

