
উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৬
‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

বিষ নিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে বিচিত্র কিস্সা। রোমাঞ্চকর সেই সব বিষ খুঁজে পাওয়া (আবিষ্কারের) গল্প, সেই বিষ দিয়েই মানুষ হত্যার গল্পও কম রোমহর্ষক নয়। পাশাপাশি রয়েছে কিছু করুণ কাহিনিও। এ-নিয়েই ধারাবাহিক, বিষ-রূপ দর্শন। এই পর্বে আর্সেনিকের কথা।

‘আমার আত্মীয়-পরিজন আমার এই রূপান্তর দেখে মাঝে-মাঝে যখন অবাক হয়ে যায়, আমি তৎক্ষণাৎ কোভিডকে দায়ী করি। কোভিড ব্যাটাই আমার মাথার ঘিলুকে কিলাইকে কাঁঠাল পাকাইয়া দিয়া। কিন্তু এ-ব্যাপারে অভিজ্ঞ বয়স্ক মহিলারা অন্য এক ভিলেনকে দোষ দিচ্ছেন। সে হল: মাঝবয়স।’

‘তাঁর লেখার মধ্যে পাঠকেরা পেয়েছিলেন দার্শনিকের অন্তর্দৃষ্টি। লিও তলস্তয় বা ফিয়োদর দস্তভয়েস্কির লেখার পাশাপাশিই তাঁর লেখায় তাঁরা পেলেন নৈতিকতা, বিশ্বাস, আর মানুষের জীবনের অর্থের অনবরত সন্ধান।’

টম রিডল যখন বড় হয়ে লর্ড ভলডেমর্ট হচ্ছে, মা-বাবার ভালবাসাহীন এক অনাথ সেই ছেলেটি যখন সকলকে ঘৃণা করতে ও শাসনে রাখতে চাইছে, এবং হ্যারির মা-বাবাকে মেরে হ্যারিকেও নিধন করতে উদ্যত হচ্ছে, তখন হ্যারির মা লিলি পটারের ভালবাসা হ্যারিকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

নীলাঞ্জনা, সোহাগ, পূর্বা, শিউলি এরা একই জায়গার বিভিন্ন মধুশালার রাতপরী। একে-অন্যের কর্মজগতের প্রতিপক্ষ। কর্পোরেট জগতের মতো, সেক্টর ফাইভের ক্লান্ত বিকেলের মতো এরাও মাঝেমধ্যে একটু বিশ্রাম নিতে বাইরে আসে। সিগারেট-চা খেয়ে আবার কাজে ফেরে।

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

‘সে যাকগে, আমরা ফাটাকেষ্ট, হাতকাটা ছোটন, শ্মশান স্বপন, এসব নাম শুনে অভ্যস্ত। ওইসব সাহেবি অপরাধীদের নাম শুনিনি কস্মিনকালেও।’

‘৭ এপ্রিল আবারও রক্ত ঝরে মণিপুরে। রাতের অন্ধকারে মিসাইল হামলায় মৃত্যু হয় দুই শিশুর। তারপর থেকে ক্রমাগত বেড়ে চলা হিংসায় মৃত্যু হয়েছে সাত জনেরও বেশি সহ-নাগরিকের। হ্যাঁ সহ-নাগরিক। যাদের মৃত্যুতে আর বিচলিত হই না আমরা, নির্লজ্জ নির্লিপ্ততা গ্রাস করে আসমুদ্রহিমাচলকে।’

‘চিন্টুও এমন একটা কিছু খুঁজছিল— যাতে সে সত্যিকার হিরো হবে। এমনিতে যেখানে খেলা সংক্রান্ত যা গোলমাল হত, আমরা মার-ই খেতাম। কোথাও তেমনভাবে মার দিয়ে আসতে পারতাম না। কেউ আরও মারতে পারে ভেবে শরণাপন্ন হতাম বাঘাদার। পরে আমাদের অস্ত্র এল, টুকরে। আমাদের আর ভয় নেই।’

‘‘মরিচঝাঁপির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে ‘পরিবর্তন’ পত্রিকায় যোগ দিযেছি। এর বছরদেড়েক বাদে ১৯৮০-র শেষে আমি যখন চম্বল যাই, তখন রায়পুরে নেমে মানা-র শরণার্থী শিবিরে যাই, আশপাশের অঞ্চলেও দিনতিনেক ঘুরি, মরিচঝাঁপি থেকে উৎখাত হওয়া উদ্বাস্তুদের হাল দেখতে। মানা-র উদ্বাস্তু পল্লিতে আমি দেখেছি নবজাতক শিশু কোলে মা-কে।’’

“সত্যজিৎ তাঁর সাহিত্যে বারংবার এনে ফেলেছেন নানান গণৎকার ও জ্যোতিষী চরিত্রকে, বারবার সংঘাত ঘটিয়েছেন সেই বিজ্ঞান-যুক্তির ‘নির্দিষ্ট’ আর আবছায়া ‘অনির্দেশ্য’ জগতের। কখনও তারা ভণ্ড, ক্ষতিকর। যেমন ‘গোঁসাইপুর সরগরম’-এ আত্মারাম মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য।”
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.