
চোখ-কান খোলা: পর্ব ২৭
‘ন’মাসে-ছ’মাসে একটা করে গণআন্দোলনের ঢেউ উঠলে কর্পোরেট অফিসফেরত পাবে না গিয়ে অবস্থান বা অনশনে যাবে, গম্ভীর মুখে স্লোগানে গলা মেলাবে, ছুটির দিন বা রোববারে মিছিল হলে পা-ও মিলিয়ে নেবে। তারপর বসন্ত যাবে, কোকিলও যাবে।’

‘ন’মাসে-ছ’মাসে একটা করে গণআন্দোলনের ঢেউ উঠলে কর্পোরেট অফিসফেরত পাবে না গিয়ে অবস্থান বা অনশনে যাবে, গম্ভীর মুখে স্লোগানে গলা মেলাবে, ছুটির দিন বা রোববারে মিছিল হলে পা-ও মিলিয়ে নেবে। তারপর বসন্ত যাবে, কোকিলও যাবে।’

‘অনেকেই থাকেন গোঁজ প্রার্থী। সর্বভারতীয় দলে যদি হরগৌরী নস্কর প্রার্থী হয়ে থাকে, এর নাম হয় তো গৌরহরি লস্কর। ব্যস, খুঁজে পেতে প্রধান বিরোধী দল এঁকে ভোটে দাঁড় করাবে। ভোটকেন্দ্রে বিভ্রান্ত ভোটার যদি হরগৌরী আর গৌরহরি গুলিয়ে ফেলে, সেটাই লাভ।’

‘দক্ষিণ সুদানে কী ঘটছে বা নাইজিরিয়ায় কী নিগ্রহ চলছে, তা আমাদের খুব বিদ্ধ করে না। মানে, ভৌগোলিক অন্ধতাও আমাদের আছে। এমনিতে মূলস্রোতের খবরেই আমরা ভেসে বেড়াই, নিজের মতো বিশ্লেষণ করি বটে, কিন্তু খুব দলছুট ভাবে নয়।’

‘আমি বলছি, আমরা এখন সবকিছু অহেতুক জমাচ্ছি। হোর্ড করছি। ছবি জমাচ্ছি। আমার কাছে ৩০ জিবি ছবি আছে কিন্তু মনে তেমন কিছুই নেই! গান জমা করি। উফ! আমার কাছে ১০ টিবি গান আছে কিন্তু শুনি সেই ঘুরিয়ে ফিরয়ে পাঁচটা মতো!’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই ছিল অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডারের আজ শেষ পর্ব। এই পর্বে সৈয়দ মুজতবা আলী, মণীশ ঘটক, মৈত্রেয়ী দেবী ও অশোক মিত্র।

‘কুকুরটা তখন ঠিক এ-দিকটা ছিল না, ও-দিকে চড়তে গিয়েছিল। বলতে-বলতে সবাই হইহই করে উঠল— আসছে, আসছে। কুকুরটা টিউবওয়েলের সামনে এবার বেচাকাকার মুখোমুখি। বেচাকাকা ঘাবড়াল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। কুকুরটা এগিয়ে আসছে— এবার বেচাকাকাও এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘কী সৃষ্টিশীল জীবন! অপূর্ব এক ফ্রেমকাহিনি! কলকাতাকে চিনেছেন মনে-প্রাণে, একাগ্রভাবে। বহু বিখ্যাত মানুষ ওঁর সঙ্গে কলকাতা ঘুরেছেন, সে-কথা বহুল আলোচিত। স্ট্রিট-ফটোগ্রাফিতে তো ওঁর তুলনা নেই বললেই চলে।’

‘একথা মানতেই হবে, রঘু রাইয়ের খুব প্রিয় শহর ছিল কলকাতা। উনি কলকাতায় অসংখ্য ছবি তুলেছেন। নানা সময়ে, নানা পর্বে। কলকাতার যে বৈচিত্র্য, তা রঘু রাইকে মজিয়ে রেখেছিল। রঘু রাইয়ের সঙ্গে কলকাতা নিয়ে কত কথা যে হয়েছে!’

“রঘু রাই ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ দেখেছিলেন। তার সূত্রেই যোগাযোগ। তবে মজার ব্যাপার কী জানেন, কালা ঘোড়ায় ওঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে অবধি আমার ধারণাই ছিল না, লোকটাকে ঠিক কেমন দেখতে!” রঘু রাইয়ের স্মরণে একান্ত সাক্ষাৎকারে অনুরাগ কাশ্যপ…

‘যে-অঙ্কগুলি আমি পারি না, ভাল ছেলেদের কাছে সে-সব জলভাত। জ্যামিতির যে-এক্সট্রা গুলো স্যর করাচ্ছেন, সে-সব আমার আয়ত্তের বাইরে। আমি লজ্জা পেতে লাগলাম। আমি ব্যাকবেঞ্চার হতে-হতে, লাস্টবেঞ্চার হয়ে গেলাম।’

আমার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই তর্ক হত। আমাকে বলত, ‘এত রাজনৈতিক কাজ কোরো না। ঝামেলায় পড়ে যাবে। আলোকচিত্র নিয়ে থাকো!’ কিন্তু মজার বিষয়, রঘু তার কাজে অন্তঃসলিলা রেখেছিল রাজনীতিকে। ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভার যে ছবি, যেখানে পিছন থেকে দেখা যায় ইন্দিরা গান্ধীকে, সেই ছবিতে সত্যি সত্যিই শক্তি কার কাছে, এটা খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

প্রথম নির্বাচন তো হল পাঁচের দশকের গোড়ায়। আমার ওইটুকু বয়সের স্মৃতিতেও উজ্জ্বল, মানুষের মনে কত আনন্দ, কত উত্তেজনা! বাক্সে ব্যালটপেপার ফেলে, হাতে কালি নিয়ে, হাসিমুখে মানুষ বাড়ি ফিরছে। স্বাধীন দেশ, সেখানে মানুষ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মতামত ভাগ করে নিচ্ছে। তার আনন্দই তো অন্যরকম!
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.