
শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫৬
‘তারাটি সেলাই করা আঁচলে, সে আকাশ পরেছে।/ রাত হলে জ্বলে ওঠে, সমগ্র শরীর ছায়াপথ…/ সুতো-কারিগর, সেও উল্কা থেকে ছোট চুমকি চেঁছে/ শেষবিন্দু ফোঁড় দেয়। আমাদের মৃত্যু। ভবিষ্যৎ!’

‘তারাটি সেলাই করা আঁচলে, সে আকাশ পরেছে।/ রাত হলে জ্বলে ওঠে, সমগ্র শরীর ছায়াপথ…/ সুতো-কারিগর, সেও উল্কা থেকে ছোট চুমকি চেঁছে/ শেষবিন্দু ফোঁড় দেয়। আমাদের মৃত্যু। ভবিষ্যৎ!’

‘‘ক্লাস এইট হবে, দাদু বলছেন, ‘একই শব্দ কিন্তু অবস্থাভেদে নানা অর্থ হয়। যেমন ধরো সৈন্ধব। এর অর্থ লবণও হয়, আবার ঘোড়াও হয়। জনৈক পণ্ডিত ভোজনে বইস্যা যদি কয়, ‘সৈন্ধব আনয়’, তখন কি তুমি একখান ঘোড়া হাজির করবা? আবার যুদ্ধে প্রস্তুত কোনও রাজা যদি একই হুকুম করে, তখন কি লবণের আচ্চি লইয়া আসবা?’’

বঙ্কিমচন্দ্র কিংবা বিবেকানন্দ যেভাবে অহরহ এবং একরৈখিকভাবে আত্তীকৃত হয়ে চলেছেন আজকের হিন্দুত্ববাদীদের মাধ্যমে, সেই সম্ভাবনা রাজনারায়ণের ক্ষেত্রেও প্রবলভাবে রয়েছে। কিন্তু আশার কথা, এমত সম্ভাবনার প্রতিরোধের উপায়ও হাজির তাঁরই লেখাপত্রে।

‘এক পুলিশ অফিসার দেখলেন, বন্ধ একটি দোকানঘরের সিঁড়িতে এক বৃদ্ধ বসে আছেন। ময়লা পোশাক-আশাকে উদাস দৃষ্টিতে যানবাহন চলাচল দেখছেন। বৃদ্ধের মুখটি দেখে ওই পুলিশ অফিসার গাড়ি থামিয়ে দিলেন। ঠিক চিনেছেন পুলিশ অফিসারটি। ওই বৃদ্ধ অজয় মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের চতুর্থ মুখ্যমন্ত্রী।’

২০০৮ সালে যে নাটোরে আমি গিয়েছিলাম ট্রাভেল শোয়ের শ্যুটিং-এ, তার সঙ্গে ২০২২ সালে ফের দেখা নাটোরের তফাত আকাশপাতাল বললেও কম বলা হয়। পরের বারের যাওয়াটা সরকারি আমন্ত্রণে, এপার বাংলার শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-সাহিত্যিক দলের সফরসঙ্গী হয়ে।

‘চুম্বনচিহ্নভর্তি গাড়ি নিয়ে এক পুরুষ বেশ গর্ব ও উল্লাস-সহ ঘুরে বেড়াচ্ছে, গাড়ির ভিডিয়ো প্রচুর ভিউ সংগ্রহ করছে। ফলে, এক যুগলের বেলাগাম আনন্দ, ফাজলামি, এবং ‘বেশ করেছি’ আস্ফালন স্পষ্ট। আপত্তিটা এইখানে। চুমু তুমি গোপনে খেতে পারো বটে, তা নিয়ে গোটা শহরের সামনে এমন জাঁক করার মানে কী?’

যখন প্রশ্ন ওঠে মানুষ, অন্য মানুষের দেহাংশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে কি না, সেখানে শুধুমাত্র নীতিগত নয়, তৈরি হয় এক গভীরতর দার্শনিক সংকটও! এই সংকট আরও গুরুতর রূপ নেয় যখন আমরা ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি মেলে ধরি।

সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজমের কিন্তু আরও ভিন্ন অর্থস্তর রয়েছে। ‘ক্যানিবালিজম’ অর্থ হল একটি শরীরকে ভোগ করা— ‘টু কনজিউম’। নারীবাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই ভোগ আক্ষরিক অর্থে ভক্ষণ না করেও তো করা যেতে পারে।

আমাদের আগের প্রজন্মও উত্তমকুমারে মজে ছিলেন, যাঁরা বাংলা সিনেমার সেই স্বর্ণযুগে সত্যিই ছিলেন, আমরাও তাঁকে ভুলতে পারি না। ছোটবেলা থেকে যেটুকু অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি, তা উত্তমকুমারের জন্যই।

স্তম্ভিত, স্তব্ধ হয়ে গেলাম খবরটা শুনে। যাঁকে নিয়ে এমন একটা চরিত্র ভাবলাম, এমন একটা ছবির সম্ভাবনা যাঁকে ঘিরে তৈরি হল, সেই উত্তমকুমারই চলে গেলেন। আমার প্রথম বাংলা ছবির নায়ক হতেন যিনি, সেই উত্তমকুমার!

এই বিপর্যয়ের দিকে শুধু মৃতের সংখ্যা দিয়ে তাকালে আসল গল্পটি ধরা পড়বে না। আরও বড় একটি গল্প রয়েছে বরফের নীচে, পাহাড়ের ঢালে, নদীর স্রোতে এবং আমাদের উন্নয়নের চিন্তায়। নেপালে বিপর্যয় নতুন নয়।

দক্ষিণী ছবির ক্ষেত্রে সমাজের নিচু স্তর থেকে উঠে আসা নায়ক, যারা সমাজে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে, আর তার জন্য শারীরিক নির্যাতন থেকে খুনোখুনি করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া— কোনওকিছুরই সীমা রাখছে না, তারাই এখন সিনেমার কালো ঘোড়া।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.