অচেনা নিউ ইয়র্ক
গ্রামের নাম রনকনকোমা। বেশ একটা ঝঙ্কার আছে নামটার মধ্যে। ‘আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা’ শুনলে যেমন মনে হয়। নিউ ইয়র্ক থেকে ট্রেনে ঘণ্টা দেড়েকের পথ। পেন স্টেশন থেকে যখন সাতসকালে লং আইল্যান্ডের এই স্টেশনের টিকিট কেটেছিলাম, ভাবিনি এমন নির্জন, ঘুমন্ত এক ছোট্ট হ্যামলেট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সত্যি বলতে কী, সাধ করে তো আর বেড়াতে আসিনি এমন আশ্চর্য নামের জায়গায়। এসেছি দায়ে পড়ে।
নিউ ইয়র্ক শহরে ছাপাখানা কোথায় পাব! এদিকে বঙ্গ সম্মেলনের তিনদিন তো ‘আজকাল’ স্পেশ্যাল নিউ ইয়র্ক এডিশন বেরোবে। এত দূর থেকে ভোরে কাগজ পৌঁছবে ম্যানহাটানে, সেটা নিশ্চিত করতেই আগের দিন টেনশনে ছুটে আসা। স্বচক্ষে প্রেস দেখে, ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তবে নিশ্চিন্তি!
ভোরে উঠে ট্রেন ধরার জন্য যেটুকু মেজাজ খারাপ ছিল, এক নিমেষে ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নিল রনকনকোমা। পুরনো ধাঁচের স্টেশনে একটি টিকিট কাউন্টার, একটি ক্যাফে ও দু’তিনটি বেঞ্চ। টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে ইতিউতি দু’চারজন রেনকোট গায়ে ছুট লাগাল। সামনে দাঁড়িয়ে ছিল একটিমাত্র ক্যাব, গায়ে তার লেখা ‘ভিলেজ ট্যাক্সি’। সত্যিই নাকি একটিমাত্র ট্যাক্সি সম্বল রনকনকোমার। সে অপেক্ষা করছিল বুকিং করা যাত্রীর। বাকিদের ভরসা হল্টন। আমাদের নিতে অবশ্য ছাপাখানা থেকে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন এক মহিলা। স্টেশন থেকেও চল্লিশ মিনিটের রাস্তা প্রেস। কিন্তু অসাধারণ সেই সবুজে ভরপুর পথ। জঙ্গলের মাঝখান চিরে চওড়া মসৃণ হাইওয়ে।
মহিলা বেশ গর্বের সঙ্গে জানালেন, বহু বিলিয়নেয়ারের ম্যানসন রয়েছে এই লং আইল্যান্ডে। নিউ ইয়র্কের এত কাছে, অথচ এমন নিরিবিলি বলেই তাঁদের পছন্দ। জানা গেল, রনকনকোমা নামে একটি দারুণ হ্রদ আছে, সেখান থেকেই নামটা এসেছে। শুনেই বোঝা যায় এটা ইংরেজি নাম না। সম্ভবত রেড ইন্ডিয়ানরা আর অন্য কিছু আদিবাসী একদা এই অঞ্চলের বাসিন্দা ছিল, তারাই এমন নাম রেখেছিল। মানে নাকি ‘মাছ ধরার হ্রদ’।
শ্যামবাজার না পারলেও, ‘ব্রডওয়ে’ নিজের থিয়েটার পাড়ার গর্ব ধরে রেখেছে! পড়ুন: ‘ডেটলাইন’: পর্ব ৩৮…
ছাপাখানা দেখে তাক লেগে গেল। ম্যানেজারকে দেখে আরও মন ভাল হয়ে গেল-হলিউড হিরোর মতো চেহারা। খুবই কনফিডেন্ট, সময়ের অঙ্কে যদি আমাদের তরফে গড়বড় না হয়, ঘড়ির কাঁটা ধরে কাগজ পৌঁছে যাবে ম্যানহাটানে হোটেলের লবিতে। সত্যিই, কথার কিন্তু নড়চড় হয়নি একদিনও। যত জটিলই হোক সেই কাগজ তৈরির পদ্ধতি, নিউ ইয়র্ক-কলকাতা-নিউ ইয়র্ক-লং আইল্যান্ড চেন ছিল পারফেক্ট। নিউ ইয়র্কে বসে লেখা হচ্ছে খবর, তোলা হচ্ছে ছবি, পাঠানো হচ্ছে কলকাতায় ‘আজকাল’ দপ্তরে লে আউটের জন্য, আট পাতার কাগজের পিডিএফ ই-মেলে আসছে নিউ ইয়র্ক, চেকিংয়ের পর যাচ্ছে লং আইল্যান্ডের প্রেসে। রাতে কাগজ ছাপা হয়ে, পরদিন ভোরে পৌঁছে যাচ্ছে নিউ ইয়র্কের হোটেলে। খেয়াল রাখতে হবে, জুলাই মাসে নিউ ইয়র্ক-কলকাতা সময়ের ফারাক সাড়ে ন’ঘণ্টা। সময়ের হিসেবে কোথাও গলতি হলেই, ভেঙে পড়বে গোটা ব্যবস্থা। আমেরিকার প্রেসে বারোটা মানে বারোটা, পাঁচমিনিট দেরি হলে হয় মেশিন শাট ডাউন নয়তো অন্য কোনও কাজ ঢুকে যাবে সেই স্লটে। ফলে হাজার-হাজার মাইল দূরত্বে ওয়্যারলেস টেনশন তরঙ্গ বেঁধে রাখত ‘টিম আজকাল’কে।
ঘড়িতে সবে বিকেল সাড়ে তিনটে। ঝকঝক করছে রোদ। পার্কের ভেতরে ফুড স্টলের লোকটি এমন হাঁই-হাঁই করে উঠল কেন? ‘এখন একদম যাওয়া চলবে না ব্রংস। পাঁচটা বেজে যাবে যেতে-যেতে। ইটস নট সেফ অ্যাট অল আফটার সানসেট।’ ঘাবড়ে গেলাম। নিউ ইয়র্কেরই একটা বরো ব্রংস, সেখানে সূর্যাস্তের পরে কী বাঘ বেরোয় নাকি! শুনেছি কালো মানুষদের বসবাস বেশি সেখানে, গরিব এলাকা, মাদার টেরিজার তৈরি স্যুপ কিচেন আছে। একটা ভারি সুন্দর ছবি বেরিয়েছিল কাগজে, ব্রংসে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ঐ স্যুপ কিচেনের সামনে ছোট্টখাট্ট মাদারের মুখোমুখি অনেকটা ঝুঁকে অভিবাদন জানাচ্ছেন দীর্ঘাঙ্গী যুবরাণী ডায়না।

১৯৯৭ সালের ছবি, দুজনেরই মৃত্যুর কয়েকমাস আগে। সেদিন যে জপমালাটি মাদার দিয়েছিলেন ডায়নাকে, সেটি গাড়ি দুর্ঘটনার সময়েও ডায়নার সঙ্গে ছিল। মার্কিন হিপ-হপ আর সালসার আঁতুড়ঘর এই ব্রংস। লাতিন আমেরিকার যে-কৃষ্ণাঙ্গ মানুষেরা উত্তর আমেরিকায় এসে বাসা বাঁধেন, তাঁদের সুর-তাল ঢেউ তুলেছে পৃথিবী জুড়ে। জেনিফার লোপেজ থেকে বিলি জোয়েল, ব্রংস তাঁদের শিকড়। এমন একটা রঙিন জায়গায় যেতে এত ভয়? অবশ্য নেট ঘাঁটলেই বোঝা যায় কারণটা। কালোদের ‘গুণপনা’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তার ওপর কিছুটা রং চড়িয়েছে শাদা চামড়ার কফিওয়ালা। বর্ণবিদ্বেষ তো মিশে আছেই প্রতিদিনের যাপনে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ব্রংসে ক্রাইম রেট সাত্যি চমকে ওঠার মতো। প্রতি হাজার জনে চল্লিশ জনেরও বেশি কোনও-না-কোনও অপরাধে যুক্ত। সেজন্যই সন্ধের পর সেখানে বিদেশিদের যাওয়ার ব্যাপারে এই সাবধানবাণী। দোনামনা করে মেনেই নিলাম তার কথা। পরদিন সকালেই নাহয় যাওয়া যাবে।
মনে হচ্ছিল ক্যারিবিয়ান কোনও শহরে এসেছি। গ্রাফিতির রঙে রঙিন গোটা জায়গাটা। অলিগলিতে গিটারে সুর তুলছে কালো ছেলেরা। কোথাও বেসবল খেলছে একদল কিশোর। বাচ্চাদের প্যামের মতো বাজারের ট্রলি ঠেলে রাস্তা পার হচ্ছেন মলিন জামা পরা বৃদ্ধা। সপ্তাহের ভরপুর কাজের দিনেও তেমন ব্যস্ততা নেই। এরা অনেকেই চাকরিবাকরির ধার ধারে না, সরকারি অনুদানে চলে।
দরিদ্রসেবার কারণেই ব্রংসকে বেছে নিয়েছিলেন মাদার টেরেসা। তাঁর তৈরি স্যুপ কিচেন আজও বহু গৃহহীন, গরিব মানুষের মুখে পুষ্টিকর খাবার জোগায়। এখানেই এসেছিলেন যুবরাণী ডায়না, সমাজসেবার কাজে মাদারের আশীর্বাদ নিতে। সেই দু’জনের শেষ দেখা। ব্রংস মানেই যে শুধু এইসব, তা কিন্তু নয়। চিড়িয়াখানা থেকে ইয়াস্কি স্টেডিয়াম, সিটি আইল্যান্ডের সৈকত রিসর্ট থেকে বিখ্যাত কবি এডগার অ্যালেন পোর বাড়ি, অনেক কিছুই দেখতে আসেন ট্যুরিস্টরা। কিন্তু আমার কাছে সবার সেরা হিউম্যান ওয়াচিং।
অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরতে এর থেকে বড় আর কিছু হয় না। এভাবেই আমার সঙ্গে কুইন্স-এর রাস্তায় আলাপ মেলানিয়ার। না, ট্রাম্প নন, অন্য কিছু পদবি তাঁর। বছর পঁয়ষট্টির ভারি চেহারার কৃষ্ণাঙ্গীর পরিবারে আটজন। কেউই কিছু করে না। স্বামী দীর্ঘকাল অসুস্থ, দুই ছেলের চেহারাই দেখলাম চোঁয়াড়ে। বেলা বারোটায় বাড়ির সামনে সিমেন্ট বাঁধানো বেঞ্চে বসে সিগ্রেট ফুঁকছিল। নাতিরা অবশ্য স্কুলে গেছে। মেলানিয়া একটা ভারি ব্যাগ টেনে নিয়ে আসছিলেন কোনওমতে। পাশে হাঁটতে-হাঁটতে বাড়ির সামনে পৌঁছে ছেলেদের দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি গ্রসারি আনতে গেছিলে কেন? ছেলেরা কী করছে?’ একটা গালাগালি দিয়ে বললেন, ‘ওরা গুড ফর নাথিং। সরকারি ডোলে বসে বসে খায়।’
যে খয়েরি রঙের একরকম দেখতে সার-সার সরকারি কোয়ার্টার, ওগুলোকে বলা যায় নিউ ইয়র্কের বস্তি। বারো ঘর এক উঠোনের ডেরায় সারাদিন ঝগড়া, চেঁচামেচি লেগেই থাকে। বাচ্চারা ফ্রি স্কুলে যায়, পুষ্টিকর খাবার খেতে পায়। এসব অঞ্চলে ড্রাগের নেশা আর ব্যবসা দুটোই চলে সমানতালে। বড় রাস্তার ধারে ফুটপাতে ছড়ানো আবর্জনা কেউ পরিষ্কার করে না। সেখানে বাতিল বই থেকে বেবিকট, আরও অনেক আশ্চর্য জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখেছিলাম। অন্তত ঐ অঞ্চলের হোটেলে থাকাকালীন দিন পাঁচেক ঐ দুর্গন্ধময় জায়গা নাকে রুমাল চেপে পার হয়েই গেছি সাবওয়ে ট্রেন (আমাদের মেট্রো) ধরতে। আর রাস্তা থেকে সাবওয়েতে নামার যে লিফট, তাতে ঢোকামাত্র অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসবে, এমন বোঁটকা গন্ধ।

ভাবাই যায় না, ভুবনবিখ্যাত নিউ ইয়র্কের একটা এলাকা এমন, প্রান্তিক শব্দটার মানে ভালভাবে বোঝা যায় কুইন্সে এলে। অথচ ইস্ট নদীর ধারটি কী চমৎকার। গাছ, বেঞ্চ দিয়ে সাজানো। একটু দূরেই কুইন্স ব্রিজ। একসময়ে এই ক্যান্টিলিভার ব্রিজ ছিল রীতিমতো দ্রষ্টব্য। আজকের দিনে প্রযুক্তির দৌলতে এত তাকলাগানো সেতু তৈরি হয়েছে নানা শহরে যে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেছে। তবে মানতেই হবে, কুইন্সবরো ব্রিজ দেখতে ভারি সুন্দর। বিশ্বাস হয় না, এখানে রাত হলে রাস্তায় হাঁটতে ভয় পায় ট্যুরিস্টরা, টাকাপয়সা, পাসপোর্ট, মোবাইল ছিনতাই হতে পারে যে-কোনও মুহূর্তে। তবে গরিব এলাকা বলেই খাবারদাবার বেশ সস্তা। পাড়ার রেস্তোরাঁগুলো একেবারেই সাজানো-গোছানো নয়, কিন্তু ভাল খাবার। বিশেষ করে চাইনিজ ফুড খুব অথেন্টিক। কারণ চিনেরা পৃথিবীর সব জায়গার মতো এখানেও চাউমিন-চিলি চিকেন দিয়ে আমজনতার পেট ভরানোর মহান ব্রত নিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ল ঠিক উলটো একটা ঘটনার কথা। নিউ ইয়র্কেরই টাইমস স্কোয়্যারে একটা খুব দামি থাই রেস্তরায় খেতে ঢুকেছি, কী অর্ডার করব ভেবেই পাচ্ছি না, কারণ মেনু কার্ডে কোনও নামই চেনা নয়। তাছাড়া বারবার ডানদিকে চোখ চলে যাচ্ছে আর আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছি। চোখের আর কী দোষ! সে তো পাতি মধ্যবিত্ত। এহেন অবস্থায় ওয়েটার ট্রেতে ছোট-ছোট প্লেটে তরমুজের টুকরো নিয়ে ঢুকল। এটা ফ্রি, ওয়েলকাম অ্যাপিটাইজার। এই তো পাওয়া গেছে চেনা কিছু। তরমুজের টুকরোর ওপর ব্রাউন চিনির মত গুঁড়ো ছড়ানো। ছোট্ট কাঁটায় বিঁধে একটুকরো মুখে দিয়েই গা গুলিয়ে উঠল। পচা মাছের গন্ধ কেন? ওয়েটারকে ডেকে জিগ্যেস করে জানা গেল, তাজা তরমুজের ওপর ছড়ানো শুঁটকি মাছের গুঁড়ো নাকি থাই ডেলিকেসি। বিনা পয়সার আনন্দ উবে গেল। এরপর অবশ্য আন্দাজে অর্ডার করে যেসব খাবার আমরা খেয়েছিলাম, সেগুলোর স্বাদ বেশ ভাল। বিশেষ করে শেষপাতে ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস। পাকা আমের টুকরো আর নারকোলের দুধের নীলরঙা পায়েস চমৎকার, শুধু পায়েসের গা ছুঁয়ে সাজানো অর্কিডের ফুলটা এত বড় যে, তাকে না পারা যায় ফেলতে, না পারা যায় রাখতে।

বাঙালি, আরও ভাল করে বলতে গেলে বাঙাল খাবারের জন্য যদি মন উচাটন হয়, চলে যান জ্যাকসন হাইটস কিংবা জামাইকা। কুইন্স-এরই আর একটা দিক। নিউ ইয়র্কের বুকে একটুকরো বাংলাদেশ। চারপাশে শাড়ি-কুর্তি-পাঞ্জাবির দোকান। খাঁটি মশলা থেকে বড়ি, রান্নার নানা উপকরণ পাবেন। পদ্মাপারের রেস্তোরাঁ তো ছড়াছড়ি। এমনকী বাংলা চ্যানেলের দপ্তর পর্যন্ত চলছে রমরম করে। আর প্রাণ খুলে বাংলায় কথা বলতে পারবেন। আমার তো চিরকালের অভ্যেস, মানুষের সঙ্গে যেচে আলাপ করা। জ্যাকসন হাইটসে ডানকিন ডোনাটস-এ খেতে ঢুকে এক বাংলাদেশি হিন্দু মহিলা অবশ্য নিজেই এগিয়ে এসে আলাপ জমালেন। সঙ্গে তাঁর দুই কিশোর ছেলে। আসলে আমাদের কলকাতাইয়া বাংলায় কথা বলতে শুনে উনি কৌতূহলী হয়েছিলেন। কলকাতা ওঁর স্বপ্নের শহর, আর কখনও হয়তো যাওয়া হবে না শুনে খারাপ লাগল। কিন্তু কেন যাওয়া হবে না, সেটা জিজ্ঞেস করাটা বাড়াবাড়ি হবে বলে করলাম না। কথায়-কথায় উনি নিজেই জানালেন, ওঁর স্বামী একা রয়ে গেছেন ঢাকায়। আর উনি ছেলেদের নিয়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে স্ট্রাগল করছেন। এবার আর প্রশ্ন না করে পারা গেল না। জবাব শুনে অবাক হলাম, উনি নাকি অ্যাসাইলাম চেয়েছেন আমেরিকার সরকারের কাছে। ঢাকায় কিছু কারণে ওঁদের প্রাণ বিপন্ন হওয়ার মত পরিস্থতি হয়েছিল। কিন্তু চাইলেই তো আর আশ্রয় দেয় না অন্য দেশের সরকার। তাই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বারবার প্রমাণ করতে হচ্ছে, ঢাকা ফিরে গেলে সত্যিই প্রাণ সংশয়। এধরনের মামলার উকিলদের ফি খুব বেশি। ওঁর স্বামী সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু হাল ছাড়তে রাজি নন ভদ্রমহিলা, একটাই কথা অনেকবার শুনলাম, ‘আমেরিকায় ছেলেদের পড়াব, মানুষ করব, এখানে সেটল করবে ওরা, এটা আমার স্বপ্ন।’ ভাবলাম, এই কারণে পরিবার ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, দেশ ছাড়া, খুব বেশি মূল্য দেওয়া নয়? আবার ভাবলাম, সবার মূল্যবোধ একরকম হয় না।



