ভাগ্য-চাকার জলসাঘর
পড়তি অবস্থার জমিদার বাড়ি দেখেছেন কখনও? বোলচাল ষোলো আনা, এদিকে ভাঁড়ে মা ভবানী! নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটি অনেকটা সে-রকম। একসময়ে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের লাস ভেগাস হিসেবে বিখ্যাত ছিল। আসলটা বলা বাহুল্য, পশ্চিমে। ক্যাসিনো থেকে নাইট ক্লাব, তাক লাগানো হোটেল থেকে মিস আমেরিকার ভ্যেনু, কী না ছিল। ফুর্তিফার্তার যাবতীয় আয়োজন। কিন্তু ওই যে বললাম, অতীত ধুয়ে আজকের দিনে চলে না। তাই নিউ ইয়র্ক থেকে মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের ড্রাইভ হলেও, ছুটির ফাঁদে আগের মতো আর মানুষকে ফেলতে পারে না আটলান্টিক সিটি।
নিউ ইয়র্কে বেশ কয়েকদিন চুটিয়ে বেড়ানোর পর আটলান্টিক সিটি যাওয়ার আগ্রহ খুব একটা না থাকলেও যেতেই হল, কারণ সে-বছর বঙ্গ সম্মেলনের শহর সেটাই। আর আমাদের কাজও সেখানেই। যেদিন যাব, সেদিন সকালে ড্রাইভার ফোন করে সাবধান করলেন, ‘ম্যানহাটানে গাড়ি পার্ক করা যাবে না। আমি কিছুটা দূর থেকে ফোন করব, আপনারা নেমে ফুটপাতে দাঁড়াবেন। ততক্ষণে আমি চলে আসব।’ যথারীতি ওঁর ফোনের পর লটবহর নিয়ে এতগুলো লোকের নামতে দেরি হল। জানালেন, একটা চক্কর খেয়ে আবার আসছেন হোটেলের সামনে। এবার আমরা নেমে অপেক্ষা করছি, এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি। কোথায় গাড়ি? একটা মস্ত লিম্যুজিন দাঁড়িয়ে আছে। ওটা আমাদের নিতে এসেছে, এটা ভাবা বাড়াবাড়ি। ইস্, যদি সত্যি হত। বলাবলি করে হাসছিলাম আমরা। একটু পরে দেখি সাড়ে ছ’ফুট লম্বা কৃষ্ণাঙ্গ চালক নেমে এসে ফোন কানে দিলেন। আর আমার ফোনটাই বাজল। অধৈর্য স্বরে বললেন, ‘প্লিজ হারি আপ। দিস ইজ নো পার্কিং জোন, আই টোল্ড ইউ।’ বলে কী! ছয় দরজার সাদা লিম্যুজিন পাঠিয়েছে আমাদের নিতে!
আইনস্টাইনের আরামকেদারার অবমাননার প্রতিবাদ করেছিল বাঙালিরাই! পড়ুন: ‘ডেটলাইন’ পর্ব ৪১
জীবনে প্রথম লিম্যুজিন চড়ার উত্তেজনায়, গাদাগুচ্ছের মালপত্র নিয়ে উঠে পড়লাম। ভেতরটা একটা ছোটখাট লিভিং রুম। মিনি বার, ফ্রিজ, টিভি সব আছে। সে যাই হোক, তার থেকেও বেশি রোমাঞ্চকর গার্ডেন স্টেট পার্কওয়ে আমেরিকার নামকরা হাইওয়েগুলোর একটা। মাখন-মসৃণ চওড়া রাস্তা দিয়ে এত স্পিডে গাড়ি চলে যেন উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কোথাও-কোথাও বারো লেনের পর্যন্ত। সার্ভিস এরিয়াগুলো আবার নিউ জার্সির বিখ্যাত ভূমিপুত্রদের নামে। টয়লেট অথবা খাবার ব্রেক নিলে বন জোভি, ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে আপনার। সেলফি জোনও আছে কোথাও কোথাও। ভাবুন তো, আপনি বার্গারে কামড় দিচ্ছেন আর পাশের দেওয়াল থেকে নির্নিমেষে আপনার দিকে চেয়ে আছেন কলেজ-দিনের কমন রুমে গিটারের সঙ্গে সুর তোলা সেই তুলকালাম রোম্যান্টিক গানের স্রষ্টা— ‘স্ট্রবেরিজ চেরিজ অ্যানড অ্যান অ্যাঞ্জেলস কিস ইন স্প্রিং’, ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা! এই সফরে মন ভাল হয়ে যাবেই।
লক্ষ করে দেখেছি, আমেরিকানরা হাইওয়ে আর গাড়ি— এই দুটো ব্যাপার নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ। নামকরা হাইওয়ে আর গাড়ির নম্বর-প্লেট লেখা ট্যাবলেট বিক্রি হয় স্যুভেনির শপে। লোকে সাজিয়ে রাখে বাড়িতে। কথাবার্তা বলে জেনেছি এর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে। সুদূরের পিয়াসী তো মানুষমাত্রেই। এরা বলে ‘ওপেন রোড কালচার’। হাইওয়ে দিয়ে জোরে গাড়ি চালানোর মধ্যে আছে স্বতঃস্ফূর্ততা, আছে মুক্তি, আছে আত্মবিশ্বাসের স্বাদ। কেউ-কেউ বলে, গন্তব্যের থেকে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং পথ চলাটা; এই যে প্রকৃতির নানা রং, কত কিসিমের মোটেল, কী বিচিত্র খানাপিনা, কত অভিজ্ঞতা হয়। আসলে, আমাদের ভেতরে যে যাযাবরের বাস, যে বাধ্য হয়ে ঘুমিয়ে থাকে নানা চাপে, তার কথা বলে গেছেন রবি ঠাকুর আর গেয়ে গেছেন অর্ঘ্য সেন— ‘চিরদিন আমি পথের নেশায় পাথেয় করেছি হেলা।’

গরিব মানুষের জীবনে কীই-বা পথ আর কীই-বা পাথেয়। আটলান্টিক সিটির হোটেলে প্রথম সকালটা একটু দেরি করেই হল। তাও ঘুম ভাঙত, না যদি না কলিং বেল বাজত। ঘুমচোখে দরজা খুলে দেখলাম হাউজ কিপিং কর্মী। একটু বিরক্তই হলাম। ছোটখাট চেহারার মাঝবয়সি মহিলা। কালো না, বাদামি। ভাবলাম, হবে হয়তো কিউবা, ভেনেজুয়েলার লোক। কিন্তু পুরোপুরি চোখ খোলার পর দেখলাম, হাতে শাঁখা-পলা পরা। বাঙালি তো হানড্রেড পার্সেন্ট। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক তবু ভাবা যায়, কিন্তু এই সুদুর আটলান্টিক সিটির হোটেলে কাজ করে বাঙালি আটপৌরে মহিলা! জিজ্ঞেস না করে পারলাম না, ‘আপনি বাঙালি? কোথাকার?’ ঝলমল করে উঠল মুখটা, ‘বাংলাদেশের হিন্দু। কতদিন পর ঘরের বাইরে বাংলা কথা বললাম।’ পরের প্রশ্ন, ‘এলেন কী করে এই দূর দেশে?’ এরপর শুনলাম আসল গল্প, যেটা ভারতীয়দের কাছে একেবারে অচেনা।
উনি লটারির মাধ্যমে ভিসা পেয়ে এসেছিলেন আমেরিকাতে। সবাই জানে, আমেরিকার ভিসা পাওয়া চিরকালই যথেষ্ট কঠিন ব্যাপার। সেটা লটারিতে পাওয়া যায়? সত্যিই একসময়ে, মানে ২০১২ সালের আগে পর্যন্ত পেত আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু-কিছু দেশের মানুষ। তার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। এর নাম ছিল ডাইভারসিটি ভিসা। উদ্দেশ্য ছিল, অভিবাসী বৈচিত্র বাড়ানো। যাতে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ আমেরিকাতে এসে সমৃদ্ধ করে দেশকে। কিন্তু অচিরেই দেখা গেল, বছরে ৫০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ অভিবাসীর সীমারেখা পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তারপর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লটারিতে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা। তাছাড়া, এই লটারি নিয়ে নানা দুর্নীতিও ধরা পড়েছে। কিন্তু ২০১২-র আগেই শিকে ছিঁড়েছিল বাংলাদেশের নড়াইলের মিনতির ভাগ্যে।
র্যানডম লটারি, পরিবারের মধ্যে শুধু ওর নামই উঠেছিল। সবাই আফশোস করেছিল, লাক খারাপ, নষ্ট হল ভিসা। এর থেকে ওর স্বামীর নাম উঠলে ভাল হত। মিনতি কিন্তু প্রথম থেকে জেদ ধরেছিল, একাই যাবে। না বাপের বাড়ি, না শ্বশুর বাড়ি, কেউ রাজি ছিল না। কমবয়সি ঘরের বউ, তেমন পড়াশুনো জানে না, ঢাকা পর্যন্ত যায়নি কখনও, সে কিনা যাবে নিউ ইয়র্ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, শেষ পর্যন্ত গাঁয়ের বধূ একা বুক ঠুকে পাড়ি দিয়েছিল অজানার পথে। শুধু তাই নয়, খোদ নিউ ইয়র্ক, তারপর আটলান্টিক সিটির হোটেলে কাজ জোগাড় করে, কয়েক বছরের মধ্যে বর আর ছেলেমেয়েকে নিয়ে পর্যন্ত এসেছিল। তারা বহাল তবিয়তে করেকস্মে খাচ্ছে। একটু কুণ্ঠা নিয়েই বলল, ‘তোমাদের তো আর বাড়িতে ডাকতে পারি না। কাল রথ। যাবে আমার সঙ্গে বোর্ডওয়াকে? বিকেলে বিরাট রথযাত্রা বেরোয় ইসকনের।’ মিনতির কথা রাখতে গিয়েছিলাম আটলান্টিক সিটির বিখ্যাত বোর্ডওয়াকে।
সুদূরের পিয়াসী তো মানুষমাত্রেই। এরা বলে ‘ওপেন রোড কালচার’। হাইওয়ে দিয়ে জোরে গাড়ি চালানোর মধ্যে আছে স্বতঃস্ফূর্ততা, আছে মুক্তি, আছে আত্মবিশ্বাসের স্বাদ। কেউ-কেউ বলে, গন্তব্যের থেকে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং পথ চলাটা; এই যে প্রকৃতির নানা রং, কত কিসিমের মোটেল, কী বিচিত্র খানাপিনা, কত অভিজ্ঞতা হয়। আসলে, আমাদের ভেতরে যে যাযাবরের বাস, যে বাধ্য হয়ে ঘুমিয়ে থাকে নানা চাপে, তার কথা বলে গেছেন রবি ঠাকুর আর গেয়ে গেছেন অর্ঘ্য সেন— ‘চিরদিন আমি পথের নেশায় পাথেয় করেছি হেলা’।
আটলান্টিকের তীরে বিশ্বের দীর্ঘতম বোর্ডওয়াক, প্রায় নয় কিলোমিটার, সেদিন অন্য চেহারায়, জগন্নাথদেবের মহিমা বলে কথা। বিশাল রথ, কয়েক হাজার সাদা-কালো-বাদামি ভক্তের ভিড়ে জমজমাট। মুহুর্মুহু ধ্বনি উঠছে, ‘জয় জগন্নাথ’। সঙ্গে খোল করতাল। অন্য সময়ে যারা আলো করে থাকে সৈকত, সেই স্বল্পবসনা সুন্দরীদের ধারেপাশে কোথাও দেখা গেল না। নাইট ক্লাবগুলোও কি সংকোচে বন্ধ রেখেছে দরজা? মিনতি মহা উৎসাহে দৌড়োদৌড়ি করে লাড্ডু প্রসাদ জোগাড় করে আনল। কলা বেচতে গিয়ে রথ দেখা বোধহয় একেই বলে।

যতই নামডাক থাক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে সৈকত হিসেবে খুব একটা নম্বর পাবে না আটলান্টিক সিটি। অন্য যা কিছুর টানে একসময়ে মানুষ আসত এখানে, সেসবও কালে-কালে ‘ফাল্গুনের উৎসবরাতির/নিমন্ত্রণ লিখনপাতির/ছিন্ন অংশ তারা/অর্থহারা।’ খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৮০-৯০ সময়ে রমরম করে চলত ট্রাম্প প্লাজা, ট্রাম্প ক্যাসল, ট্রাম্প তাজ মহল। তার পরের দশ বছরে সেগুলো দেউলিয়া ঘোষণা করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
১৯২১ সালে এখানেই শুরু হয়েছিল মিস আমেরিকা প্রতিযোগিতা। এক-দুবছর নয়, টানা ৮৪ বছর এই মেগা ইভেন্ট আটলান্টিক সিটিতে টেনে আনত গোটা দেশকে। বছরে দুটো দিন সেরা সুন্দরীদের লাস্যে ঝলমল করত আটলান্টিক সিটির আকাশ বাতাস। পতনের পারদ অবশ্য নামতে শুরু করেছে তার ঢের আগে থেকেই। তাও ২০১৩ সালে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল মিস আমেরিকা ইভেন্ট। কিন্তু ২০১৮-র পর আর হয়নি। ততদিনে মার্কিনীদের মন উঠে গেছে বিগতযৌবনা আটলান্টিক সিটির ওপর থেকে। মায়ামি, বাহামা, সান্টা বারবারার হাতছানিতে মজেছে মন। রয়ে গিয়েছে হোটেলের লবিতে মিস আমেরিকা ক্রাউন পরা বিজয়িনীদের সার-সার ছবি আর আটলান্টিক সিটি কনভেনশন সেন্টারে বিখ্যাত সঞ্চালক বার্ট পার্কসের বিশাল একটা মূর্তি। হাতে ধরা ক্রাউনে মাথা গলালে আড়াল থেকে ভেসে আসে তাঁর গলা, ‘দেয়ার শি ইজ।’ একমুহূর্তের জন্য না হয় সেরা সুন্দরীর জুতোয় পা গলালেন!


অথচ এই আটলান্টিক সিটিকে বাঁচাতে কী না করেছেন এখানকার মানুষ। ক্যাসিনো থেকে স্পোর্টস বেটিং, রীতিমতো ভোট দিয়ে, আদালতে গিয়ে আইনি করা হয়েছে সবরকম জুয়া খেলাকে। একসময়ে এই শহরকে বলা হত ‘ওয়ার্লডস প্লেগ্রাউন্ড।’ তবু শেষরক্ষা হল না। একের-পর-এক বড়-বড় হোটেল ঝাঁপ ফেলল, নাইটক্লাবের দরজা বন্ধ হল, পাততাড়ি গুটোল ক্যাসিনো। এমনকী বোর্ডওয়াক-এর বড় আকর্ষণ ছিল যে— রিপ্লেস বিলিভ ইট অর নট-এর ট্যারাবাঁকা মজাদার বাড়িটা আর তার ভেতরের আজব সব জিনিসপত্র, সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে ২০২২ সালে। এখন আটলান্টিক সিটির মূল আকর্ষণ সস্তায় শপিং।

নামি ব্র্যান্ডগুলোর প্রায় সবার শোরুম আছে এখানে, জামা-জুতোয় সেলস ট্যাক্স লাগে না বলে দাম অনেক কম। অনেকেই নিউ ইয়র্ক বা ফিলাডেলফিয়া থেকে লং ড্রাইভে এসে গোটা দিন কাটান, সপরিবারে-সবান্ধবে হৈ-হৈ করেন, কেনাকাটা সারেন। কিন্তু, রাত বাড়লে নির্জন হয়ে আসে শহর, যে-শহর একসময়ে রাতের বিনোদনের জন্যই বিখ্যাত ছিল। ‘বিগ বয়েজ প্লে অ্যাট নাইট।’ আমার নিজের অভিজ্ঞতা, রাত বারোটায় কফি খেতে বেরিয়ে হোটেলের পাশের ফুটপাত ধরে একটু এগিয়ে এমন গা ছমছম করেছে যে প্রায় দৌড়ে ফিরে এসেছি। রাস্তায় একটিও লোক নেই, ওপারে স্টারবাক্স পর্যন্ত ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে, যেটা আমেরিকার বেশির ভাগ শহরে ভাবাই যায় না। বড়-বড় থামের নীচে হোমলেসদের ড্রাগের আখড়া। গাঁজা-চরসের গন্ধে বাতাস ভারি। অথচ সেই মুহূর্তে আটলান্টিক সিটির গোটা তিনেক তারকাখচিত হোটেল ঠাসা বঙ্গ সম্মেলনে আসা হাজার তিনেক বাঙালির ভিড়ে। তাঁরা রীতিমতো বাকবকি করলেন, ‘এটা কি নিউ ইয়র্ক পেয়েছ? মাঝরাতে বেরোলে ছিনতাই অনিবার্য। সঙ্গে স্ট্যাটুটারি ওয়ার্নিং মনে রেখো, আমেরিকার কোনও শহরে ব্যাক স্ট্রিটে ঢুকবে না, কার পার্কিং দিয়ে হাঁটবে না। বর্ণবিদ্বেষ থেকে যৌন হয়রানি, যা কিছু হতে পারে।’
বুঝলাম, আটলান্টিক সিটির জলসাঘরে আর সারেঙ্গি বাজে না, ঘুঙুরের বোল ওঠে না। ছবি বিশ্বাসের মত কেউ হয়তো রাতবিরেতে সুরার পাত্র তুলে ধরে একাই চিয়ার্স করেন— ‘টু ইউ মাই নোবল অ্যানসেস্টরস।’


