ধারাবাহিক

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

আক্রান্ত: পর্ব ৮

‘…অভিমন্যু বুঝতে পারছে, জীবনে এই প্রথম কাউকে ছেড়ে যেতে তার কষ্ট হচ্ছে। প্রথম বিদেশে পড়তে যাবার সময় দাদু-দিদানের জন্য, কলকাতায় ফেলে যাওয়া বন্ধুদের জন্য যেমন কষ্ট হয়েছিল— এটা ঠিক তেমন নয়। এই কষ্টটা বুকের অনেক বেশি ভিতর থেকে মুচড়ে মুচড়ে আসছে।’ সম্পর্কের সমাপ্তির গল্প।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২২

‘… অথচ দুজনের কত মধুর সম্পর্ক। একজনকে ছেড়ে আর একজন যে থাকতে পারে না, তার নজিরও পেয়েছি বহুবার। এমন আকর্ষণ সাধারণত স্বামী-স্ত্রীতে থাকে না। গীতা না থাকলে গুরু একলা অসহায় বোধ করে, তবু দুজনেই এটা মন খুলে বলতে পারে না। একজনের আড়ালে অন্যজন আমাকে পেয়ে তার দুঃখের কথাগুলো শোনাতো…’ সম্পর্কের টানাপড়েন।

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

আক্রান্ত: পর্ব ৭

‘বাইরে দরজা খোলার শব্দ হল কি? টেলিফোনটা হঠাৎ কি থেমে গেল? বাইরের ঘর থেকে কার উত্তেজিত গলা ভেসে আসছে। মিঠির গলা না? প্রায় ছুটে এসে মিঠি দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে এল। তিলক ও সুচেতনার অবিন্যস্ত চেহারার দিকে তাকাল একবার বজ্রাহতের মতো।’ আচমকা অস্বস্তির মুখোমুখি।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২১

‘…আমার নিজের জীবনেই তেমন ঘটনা ঘটেছে। কয়েক বছর ধরে যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে জীবন কেটেছে, তার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ নেই। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ঘটছে সবগুলো। প্রচুর অশান্তি আবার তার সঙ্গে প্রচুর টাকা। এত অশান্তিই বা দেয় কে? আবার এত টাকাই বা আসে কেন?’ গুরু দত্তের অন্তর্দ্বন্দ্ব।

নীল কেটলি: পর্ব ৬

‘বিয়েবাড়ির নেমন্তন্নে গেলে প্রথমেই ভাত এবং শাক বা ভাজা দেওয়া হত বটে, কিন্তু তারপরই পর পর তিন-চার রকমের ডাল দেওয়া হত পাতে। ডালের পর ডাল খেয়ে ছোটদের পেট এত ভরে যেত যে, পরে আর অন্য পদ দিয়ে খেতে পারত না। বলে রাখি তখন কিন্তু মাংসের চলন ছিল না।’ বাঙালবাড়ির বিয়ের খাওয়া।

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

আক্রান্ত: পর্ব ৬

‘…এই আবেগ মিথ্যে হতে পারে না, মিঠির মন বলছে। কী অদ্ভুত এক ফুট দূরত্বে বসে এই যুবকের কান্না। এ কথা সত্যি যে, অভিমন্যুকে অপছন্দ করে না ও। কিন্তু তিলক আসার পর মিঠির জগৎটাও বদলে গেছে চিরদিনের মতো। অভিমন্যুকে কি ও ভালবাসতে পারত? মিঠি বুঝতে পারছে না।’ দুই নায়ক, এক নায়িকার গল্প।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২০

‘…আমি গুরুর দিকে চেয়ে দেখলাম, গীতার দিকেও চেয়ে দেখলাম। দেখে মনে হল দুজনের সব মনোমালিন্য দূর হয়ে গেছে। আবার যেন দুজনে একাকার হয়ে গেছে। খুব আনন্দ হল দুজনের এই পরিবর্তন দেখে।’ সুখের ভ্রান্তি।

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

আক্রান্ত: পর্ব ৫

‘…বেশিক্ষণ মিঠিকে দেখার সুযোগ পায়ইনি অভিমন্যু। একনাগাড়ে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে ও যদি কিছু মনে করে? ওর বাবা-মাও খারাপ ভাবতে পারতেন। তাছাড়া নিজেকেই নিজে শাসন করছিল অভিমন্যু— ছিঃ! একজন মেয়ের সঙ্গে তোমার বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে।’ অদম্য আকর্ষণের গল্প।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ১৯

‘দু’তিনটে লোক সঙ্গে নিয়েছি। তারা জঙ্গলী-লোক, তারা আমার গাইড। তাদের মধ্যে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলে বন্দুক কেমন করে ছোঁড়ে। আমি তাকে বন্দুক ছোঁড়া দেখাচ্ছি, হঠাৎ একটা গুলি দুম করে বেরিয়ে গেল নল দিয়ে…’ গুরু দত্ত-র শিকার।

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

আক্রান্ত: পর্ব ৪

‘চল্লিশ বছরে পৌঁছে তিলকের চুলে বেশ পাক ধরেছে। উঠেও গেছে কিছু চুল… বিদেশবাসে তিলকের চেহারা আরও মসৃণ হয়েছে। বেড়েছে ত্বকের উজ্জ্বলতাও। ছাত্রজীবনেই হাই পাওয়ারের চশমা ছিল তিলকের। পুরু কাচের ভিতর দিয়ে উজ্জ্বল ঝকঝকে দুটি চোখ ঠিক আজও তেমনই রয়ে গেছে তিলকের। তিলক কি তার জীবনে পরিতৃপ্ত? সুখী?।’ দাম্পত্য সম্পর্কের গল্প।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ১৮

‘তারপর বলতে লাগল— বোধহয় শোনেননি, আমি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলুম— আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। বললাম— সে কি? বললে— হ্যাঁ, বড় কষ্ট পেয়েছি, অনেকদিন ভুগেছি। এখন একটু ভালো হয়েছি। কিন্তু সে যে কি কষ্ট, আপনাকে কী বলব…’ গুরু দত্তের আত্মহত্যা।

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

আক্রান্ত: পর্ব ৩

‘প্রভাত তাঁর আড্ডার ঠেকেও নিয়ে যেতে শুরু করেন জুঁইকে। সেখানে সবাই প্রভাতের সমবয়সি, জুঁই অনেক ছোট একটি তরুণী। এই অসমবয়সি প্রেমকে মেনে নিতে পারছিলেন না কেউই। ক্রমে বিভিন্ন লোকের মুখ ঘুরে খবর পৌঁছে যাচ্ছিল প্রভাতের বাড়িতেও।’ প্রেম আর সমাজ।