ধারাবাহিক

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ১১

‘গুরুর কলকাতা সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা সেখান থেকেই। কলকাতার সমস্ত অলি-গলি তার মুখস্থ। সেখানেই প্রথম নাচ শেখবার আগ্রহ হয়। তখন কলকাতায় সংস্কৃতি বলতে উদয়শঙ্করের নাচ, মোহনবাগান ক্লাবের ফুটবল খেলা আর নিউ থিয়েটার্সের সিনেমা।’ গুরু দত্ত আর কলকাতা।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ১০

‘সেই সন্ধেবেলা সেই ফাঁকা মাঠের মধ্যে ছোট একটা বাংলো বাড়ির ঘরের ভেতরে আমি গুরুর আর এক রূপ দেখলাম। পায়ে রবারের চটি, পরনে চেক লুঙ্গি, গায়ে হাত-কাটা গেঞ্জি। একমনে কাঠের জাফ্‌রির ওপর বুরুশ চালিয়ে যাচ্ছে।’ অন্য গুরু দত্ত।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৯

‘সেদিন ওরা চলে যাবার পর অনেকক্ষণ ধরে এটাই ভাবছিলাম। বোম্বাইতে এসে পর্যন্ত শুনে আসছি ওয়াহিদার কথা আর গুরুর কথা। সিনেমার জগতে যতরকম গুজবের সৃষ্টি হয়, সাহিত্যের জগতে সে গুজবের শতাংশের একাংশও হয় না।’ সম্পর্কের গুজব।

নীল কেটলি: পর্ব ৩

‘অনেক গাছপালা ছিল, নদী ছিল, সুড়কির রাস্তা ছিল, ধুলো ছিল, রেলব্রিজ ছিল, দিগন্ত ছিল। কিন্তু সুইৎজারল্যান্ড তো আর নয়। তবু আমার কাছে কেন যে আজও সেই ময়মনসিংহের অফুরান রূপ মায়াঞ্জনের মতো লেগে আছে!’ ময়মনসিংহের কথা।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৮

‘অনেক সময় গুরুকে দেখেছি জন্তু-জানোয়ার নিয়ে মাসের পর মাস মেতে থাকত। হঠাৎ, কোথাও কিছু নেই, একদিন গুরু বাড়িতে একটা কুকুর কোলে করে এসে হাজির। গীতাও অবাক, বাড়ির চাকর-ঝি দারোয়ানও অবাক।’ গুরু দত্তের খেয়াল।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৭

‘মনে আছে তখন দুপুরবেলা। দুটো কি তিনটে বেজেছে। হঠাৎ বড়-বড় করে আওয়াজ হল। বাইরে চেয়ে দেখি বৃষ্টি পড়ছে। গুরুও চেয়ে দেখল, হ্যাঁ বৃষ্টি পড়ছে। গুরুর চোখে মুখে ছেলেমানুষের মতো আনন্দ ফুটে উঠল।’ গুরু দত্তের ছেলেমানুষি।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৬

‘হয়তো কোনো ছুটির দিন সেটা। স্টুডিওতে কেউ নেই। ফাঁকা সব। কিন্তু আমরা দুজনে গিয়ে বসতাম সেই ঘরে। চারদিকে অসংখ্য বই আর ম্যাগাজিন। তখন গুরু আর আমি একাকার হয়ে যেতাম গল্পের জগতের মধ্যে!’ বন্ধুত্বের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৫

‘এখনও এক-একবার ভাবি লোনাভালায় সেই দেড় মাস কী আনন্দে কেটেছে। অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করার পর সবাই যখন বেলা দশটা-এগারোটা-বারোটা পর্যন্ত ঘুমোচ্ছে, আমি তখন আমার নিজের ঘরে বসে ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ লিখছি।’ লোনাভালার দিনযাপন।

তরুণ মজুমদার

ছবিদা— ছবি বিশ্বাস: পর্ব ৪

১৯৬২ সালের ১১ই জুন। গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ছবি বিশ্বাসের। কিন্তু ‘কাঁচের স্বর্গ’ থেকে শুরু করে ‘চাওয়া-পাওয়া’— এমনকী ‘স্মৃতিটুকু থাক’ ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন তিনি। এই লেখার শেষ পর্বে উঠে এল সেই সময়েরই কিছু টুকরো মুহূর্তের কোলাজ।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৪

‘গুরুর একটা ভালো গুণ ছিল— সে কখনও বেশি কথা বলত না। যখন অন্য লোক চুপ করে থাকত, সে-ও চুপ করে থাকত। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর হঠাৎ নিঃশব্দে কখন ঘর থেকে কাউকে না বলে চলে যেত।’ অন্য মেজাজের গুরু দত্ত।

তরুণ মজুমদার

ছবিদা— ছবি বিশ্বাস: পর্ব ৩

ভারিক্কি, জমকালো আর দোর্দণ্ডপ্রতাপ— এই তিনটি শব্দের বাংলায় একটি সমার্থক শব্দ আছে— ছবি বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে অনেক সিনেমা করেছেন পরিচালক তরুণ মজুমদার এবং সেই সব অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর আখ্যানই তিনি তুলে ধরছেন। কয়েক পর্বে।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩

‘গুরু বললে— আমাকে ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ছবিটা করতে সবাই বারণ করেছে। এমনকী আমার স্ত্রী পর্যন্ত বারণ করেছে। কিন্তু আমি এ ছবি করবোই। আমি ভীষণ একগুঁয়ে মানুষ।… আমি কারো কথা শুনবো না। আমার নিজের মতেই আমি চলি।’ গুরু দত্তর মনমেজাজ।