ধারাবাহিক

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩৫

‘…গুরুর কাছে এই মাদ্রাজ থেকে ডাক ছিল ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো। টাকা দরকার তার ছিল না, কিন্তু দরকার ছিল আর একটা জিনিসের। সেটাই ছিল তার বৈশিষ্ট্য! সে চাইতো পালাতে।’ সংসার যখন বিষ।

নীল কেটলি: পর্ব ৮

মজা হল, সব কাজকর্ম সেরে আমার মা যখন একটু বেলায় খেতে বসত, তখন আমিও আবার গিয়ে মায়ের সঙ্গে বসে পড়তাম। তখন আবার মায়ের পাতের মাছ-টাছ দিব্যি সাঁটিয়ে খেতাম। তখন পুঁইচচ্চড়ি বা বড়ির ঝালও খারাপ লাগত না। তখন মা আমার জীবনসর্বস্ব।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩৪

‘…আমি অনেকবার ভেবেছি মানুষের জীবনের সার্থকতা কিসে! অর্থে? খ্যাতিতে? স্বাস্থ্যে? শান্তিতে? অথচ তাও তো নয়। তা যদি হত তো কোথায় গেল সেই সব মানুষ, যারা সব কিছু পাওয়া সত্ত্বেও আজ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। নাকি চিরকাল প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকার মধ্যেও কোনও সার্থকতা নেই?’ নশ্বরতায় বিশ্বাসী গুরু দত্ত।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩৩

‘…আমি যে গুরুর সঙ্গে ওর মাকে নিয়ে কত আলোচনা করেছি, সে-কথা বললাম। শুধু মা কেন? প্রথম যেদিন বোম্বাই গিয়েছি সেদিনই গুরু তার মার সম্বন্ধে আমাকে বলেছে। মা-ও যে গল্প লেখেন, এটা বলতে গুরুর মুখে গর্বের চিহ্ন ফুটে উঠেছে।’ মায়ের অবদান।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩২

‘…জীবনে আমার পাঠকরা আমাকে অনেক দিয়েছে। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে যা দেয়, তার বেশি আমার দাবি নেই। তাই গুরুর কাছে আমি নিস্পৃহ হয়েই গিয়েছিলাম। বলতে গেলে দর্শক হয়ে। সাহিত্যের অন্দর-মহল থেকে সিনেমার দেউড়িতে।’ চলচ্চিত্র জগতের দৈনন্দিন জীবন।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩১

‘…তখন কি জানি যে একদিন আমাকেই আবার এ-কাহিনী লিখতে হবে, আর সে কাহিনী এত বড় হবে? তাহলে তো যা-যা দেখেছি, সব লিখে রাখতাম। আজকে গুরুরই তো বেঁচে থাকার কথা, আর আমার চলে যাওয়ার পালা… মনে যখন ভীষণ কষ্ট হয়, তখন কেবল প্রার্থনা করি, যেন আর দেখতে না হয় এত যন্ত্রণা, এত সংগ্রাম, এত দুঃখ।।’ গুরু দত্ত এবং গীতা দত্তের যন্ত্রণার সংসার।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ৩০

‘…আমি কলকাতার ধুলো-শব্দ-ধোঁয়া থেকে সেখানে যেতাম। আমার কাছে সে-বাড়ি তখন স্বর্গ মনে হত। বাগানের বিরাট-বিরাট গাছের তলায় আমার ঘরখানার বারান্দা। সেই বারান্দার ওপর ইজি-চেয়ারটা টেনে নিয়ে আমি কল্পনার পাখায় চড়ে স্বর্গ-মর্ত করতাম। গীতা যাকে বলত কবরখানা, আমার কাছে তাই-ই মনে হত স্বর্গ।’ বদলের সংসার।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২৯

‘…এ-সব ব্যাপারে গুরু ছিল শিশুর মতো। কেউ তাকে ভালোবাসলে সে গোলে যেত। কিন্তু তার এই শিশু স্বভাবটার কথা কজনই বা জানত। দুঃখ তো তার ছিল সেই জন্যেই। যারা তার কাছাকাছি আসবার সুযোগ পেত, তারা হয় খোশামোদ করতে আসত, কিংবা স্বার্থসিদ্ধি করতে আসত।’ মানুষ গুরু দত্ত।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২৮

‘…প্রত্যেক মহৎ শিল্পীর জীবনেই কোনও-না-কোনও সময়ে এই সমস্যা একদিন মুখব্যাদান করে দাঁড়ায়। তখনই সিদ্ধান্ত নেবার পালা। সেই সময়ে যে শিল্পী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাকেই লোকে বলে প্রকৃত শিল্পী। সেদিন গুরুকে দেখে আমার সেই সব কথাই মনে পড়ছিল।’ শিল্প ও ব্যবসা।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২৭

‘…দুদিন কেটে গেল। টেলিফোনে চারদিক থেকে বুকিং-এর রিপোর্ট আসছে। শেষের দিকে নাকি দর্শকরা উসখুস করছে। যেন ভালো লাগছে না তাদের। শেষটা যেন তাদের মনঃপুত হয়নি। তবে কি ছবি চলবে না? টিকিট বিক্রি কেমন এগোচ্ছে? হাউস ফুল চলছে। কিন্তু টান নেই তেমন।’ দর্শকের রায়।

বিমল মিত্র

বিনিদ্র: পর্ব ২৬

‘…গুরুর অবশ্য এ অভিজ্ঞতা প্রথম নয়, আগে আরো পাঁচ-ছখানা ছবি করেছে। প্রতিবার এমনি করে প্রিমিয়ারের দিন দুরু-দুরু বুক নিয়ে মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তারপর আসল রায় যা দেবার দিয়েছে জনসাধারণ। যে যত বড় মহাপুরুষই হোক, জনসাধারণের বিচারালয়ে তাকে দাঁড়াতেই হয় আসামী হয়ে। কেউ পায় ফুলের মালা, কেউ নিন্দের। জনসাধারণের প্রীতির ওপর যাদের প্রতিষ্ঠা নির্ভর করে, তাদের এমনি করেই দুরু-দুরু বুক নিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে হয।’ ছবির প্রিমিয়ার।

নীল কেটলি: পর্ব ৭

‘…আবার ময়মনসিংহ। আবার দাদু-ঠাকুমা, আবার সেই নদী! সব ঠিক, তবে এবার কী যেন নেই! হ্যাঁ, সঙ্গে আমার শান্ত, স্নিগ্ধ, ছায়ার মতো, তেষ্টার জলের মতো, শ্বাসবায়ুর মতো মা নেই। তাই তেমন করে মন আর আগের মতো নেচে উঠল না কিছুতেই।’ ছোটবেলার ময়মনসিংহ।