
গির্জানগর: পর্ব ৫
‘ইহুদিরা কলকাতায় এসেছিলেন মূলত ব্যবসার সূত্রে। মনে করা হয়, কলকাতায় আসা প্রথম ইহুদির নাম, শালোম বেন অ্যারন বেন ওবাদিয়া হাকোহেন। তবে তার আগে লিয়ন প্রাগার নামে একজন ইহুদি বণিক কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা যায়।’

‘ইহুদিরা কলকাতায় এসেছিলেন মূলত ব্যবসার সূত্রে। মনে করা হয়, কলকাতায় আসা প্রথম ইহুদির নাম, শালোম বেন অ্যারন বেন ওবাদিয়া হাকোহেন। তবে তার আগে লিয়ন প্রাগার নামে একজন ইহুদি বণিক কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা যায়।’

‘‘প্রোটেস্ট্যান্টরা বাইবেলের অনুবাদ ও বাইবেল নির্ভর প্রচারের ওপর বিশ্বাস করতেন বেশি। কেরিও মনে করতেন যদি এ-দেশীয়দের হাতে নিজের ভাষায় বাইবেল তুলে দেওয়া যায়, তাহলে বাইবেলই তাঁদের পথ দেখাবে ও ‘অন্ধকার থেকে আলোর’ দিকে নিয়ে আসবে।’’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে দেবী রায় ও অরুনেশ ঘোষের চিঠি।

‘তখন সিনেমা হলের পাস ছিল। আর উজ্জ্বলার চানাচুর ছিল। এখন উজ্জ্বলা হল নেই, কিন্তু চানাচুর আছে। মন্টু বোস নেই, কিন্তু বসুশ্রী আছে। মন্টু বোসের মতো কোনও সিনেমার মালিকের এমন দেখনদারি ব্যক্তিত্ব ছিল না। ছোটখাট, গোলগাল, সাদা ধুতি আর গিলে-করা পাঞ্জাবি পরা মানুষটার সিগারেটে টান যারা দেখেছে, তাদের চোখে লেগে আছে।’

‘১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, সদর স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েসলেয়ান মেথডিস্টদের এই উপাসনালয়টি আগে ওয়েসলেয়ান মেথডিস্ট চার্চ নামে পরিচিত ছিল, তবে বর্তমানে এটির নাম সি.এন.আই ওয়েসলেয়ান চার্চ। এই চার্চ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশি উদবাস্তুদের পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।’

‘‘বাংলা বাইবেল-সংক্রান্ত প্রথম বিজ্ঞাপনটি আমারা পাই ১৭৮৩ সালের ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া গেজেট’ পত্রিকায়। বেশ রহস্যের ঢঙে লেখা সেই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলায় ধর্মগ্রন্থ (স্ক্রিপচার্স) অনুবাদে কেউ আগ্রহী এবং যোগ্য হলে, তাঁকে আর্থিক সাহায্য করা হবে।’’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে বিনয় মজুমদারের চিঠি।

‘আমার কালীঘাট শুরু হত পটুয়াপাড়া থেকে। পটুয়াপাড়া, তারপর ট্রামলাইন পেরিয়ে ডানদিকে রেডলাইট এরিয়া, বাঁয়ে ভদ্রপাড়া। তবে মাঝে দুটো জায়গার দুটো বাড়ি আবার গৃহস্থ নয়। টানা হেঁটে চললে কালীঘাট হাইস্কুল, কালীঘাট বাজার, মন্দির, উলটোদিকে গঙ্গার ঘাট, পাথরপট্টি পেরিয়ে শ্মশান। শুধু শ্মশান নয়, মহাশ্মশান। যেন পটুয়ার হাতে জন্ম হয়ে এক জীবন পেরিয়ে মহাশ্মশানে বিসর্জন!’

‘বিধান সরণিতে অবস্থিত কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গির্জা বা ক্রাইস্ট চার্চ তৈরির পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ‘অ-খ্রিস্টান’ নেটিভ এলাকায় খ্রিস্টধর্ম প্রচার। সে-কারণে গির্জা নির্মাণের জন্য, প্রথমে কলেজ স্কোয়ারে হিন্দু কলেজের কাছে কেনা হয়েছিল একখণ্ড জমি।’

‘হতদরিদ্র অসহায় কৃষ্ণ পালকে হুগলির জলে নিমজ্জন করা এক জিনিস, কিন্তু পরমাত্মাকে যেভাবে কেরি ডোবালেন, তাতে অনেকেই আঁতকে উঠেছিল। মনে রাখতে হবে যে, এই নিমজ্জনের মধ্যে দিয়ে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষার ব্যাপারটা ব্যাপ্টিস্টদের একটি জরুরি সাম্প্রদায়িক আচার হলেও, সবার কাছে নয়।’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে সুব্রত চক্রবর্তী, উদয়ন ঘোষ ও শম্ভু রক্ষিতের চিঠি।

“কলকাতা শহরে আগত তামিলরা শুধু ক্যাথলিক হননি, তাদের অনেকে প্রোটেস্ট্যান্ট বিশ্বাসে যিশুকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন, যেমনটি ধারণ করে আছে তাদের গির্জা “সেন্ট স্যাভিওর’স চার্চ” (১৮৪৯)। গির্জাটি তৈরি হয়েছিল ‘ইউনাইটেড সোসাইটি ফর দ্য প্রোপাগেশন অফ দ্য গসপেল’-এর সহায়তায়। তবে ১৯৩৮ সালের আগে অবধি এই গির্জার ভেতরে তারা প্রার্থনা করত না, ততদিন অবধি এই গির্জা বাঙালি মণ্ডলীর ছিল, তামিলরা প্রার্থনা করত গির্জার বাইরে প্যারিশ হলে।”
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.