
প্রনাবি-র আসর
‘আত্মমর্যাদাজ্ঞান প্রখর ছিল প্রমথনাথের। প্রায় বদলে-যাওয়া নাটকের নবতর রূপটি ভাল করে পড়লেন প্রথমে, তারপর স্পষ্ট জানালেন, নিজের নামে এ-লেখা তিনি ছাপতে পাঠাতে পারবেন না। কারণ এতে আর তাঁর ‘নিজস্ব কিছু নেই’।’

‘আত্মমর্যাদাজ্ঞান প্রখর ছিল প্রমথনাথের। প্রায় বদলে-যাওয়া নাটকের নবতর রূপটি ভাল করে পড়লেন প্রথমে, তারপর স্পষ্ট জানালেন, নিজের নামে এ-লেখা তিনি ছাপতে পাঠাতে পারবেন না। কারণ এতে আর তাঁর ‘নিজস্ব কিছু নেই’।’

‘একদিন তিনি মেডিক্যাল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে, ট্রাকবোঝাই মৃতদেহ নামানো হচ্ছে, চোখে পড়ে যায় অপূর্ব সুন্দরী মধ্যবয়সি এক মহিলার নগ্ন মৃতদেহ ভূমিতে শোয়ানো। বুকের ওপর অস্ত্রের আঘাতে রক্তের দাগ তখনও জ্বলজ্বল করছে। গণেশ পাইন পরে বলেছিলেন, এ-নৃশংস বাস্তবতা ছবিতে আঁকা যায় না।’

‘সে-যুগের সিনেমায় ছবি বিশ্বাস, অন্তত তাঁর জীবনের একটু প্রৌঢ় সময়ে ছিলেন আভিজাত্যের অমোঘ প্রতীক— এ-কথা সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন। তিনি অভিজাত পরিবারেরই সন্তান, কিন্তু সেটা তো তখন অজস্র! বাঙালির আর্থিক সমৃদ্ধির যুগের শেষ আলোটুকু তখনও বেশ জোরালো।’

‘ইতিহাস বইতে, মানবসভ্যতায় রোববারের ভূমিকা জাতীয় কোনও অধ্যায়— থেকে থাকলেও, তা আমার অন্তত পড়া হয়নি। জানি না। কিন্তু এটা জানি যে, তারও আগে রোববার ছিল না! না মানে, রোববার ছিল অবশ্যই, কিন্তু সেটার সঙ্গে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর বিশেষ ফারাক ছিল না।’

‘‘মৃত্যুকে ক্ষতিপূরণের চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়, যেখানে আমাদের ভালবাসা ও শোক এখন পণ্যের বিক্রি বাড়ায়। গেটের সামনে মৃত্যু, পুঁজির নিরিখে নেহাত একটি ‘ভাইরাল ঘটনা’। এই ঘটনা সংক্রান্ত সমস্ত লেখাপত্র, ভিডিও, নিউজ বাইটের ফাঁকফোকর দিয়ে প্রকট হয়ে উঠবে ভিরুষ্কার মিউচুয়াল ফান্ডের বিজ্ঞাপন।’’

‘বর্তমান সময়ে ডোনাল্ড চরিত্রটি উচ্চারিত হচ্ছে কিছুটা রাজনীতির মোড়কে। আমেরিকার তিনবারের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ডোনাল্ড ডাকের মিল ও অমিল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও মিমের দুনিয়া সরগরম। রসিক আমেরিকানদের মতে, দু’জনেই উৎপত্তিগতভাবে ‘কার্টুন’।’

‘‘‘ঝিন্দের বন্দী’ সিনেমার শক্তি কেবল গল্প বলার ভঙ্গিতেই নয়, বরং তার চরিত্র নির্মাণে, দৃষ্টিভঙ্গির নাটকীয়তায়, এবং সর্বোপরি দুই তারকার অভিনয়-দ্বৈরথে নিহিত। উত্তমের ব্যক্তিত্ব ছিল নিঃসন্দেহে রাজকীয়— তাঁর গলার স্বর, শারীরিক ভঙ্গি, চোখের ভাষা, সবই যেন ক্যামেরার জন্য জন্ম নেওয়া।’’

‘সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে এদেশে এলেও তাঁর ভাষাবিদ ও অনুবাদক সত্তা ধর্মীয় কার্যকলাপকে অচিরেই ছাপিয়ে যায়। যে-‘বিধর্মী’দের উদ্ধারের জন্য তাঁর স্বদেশ ত্যাগ, সেই ‘হিদেন’দের সঙ্গে দীর্ঘ সহবাসের ফলে তাদের ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে কেরির মুগ্ধতা ও মমত্ব আমাদের চমকিত করে।’

‘‘নির্জন সৈকতে’ দেখে প্রথমবারই অবাক হয়েছিলাম। ১৯৬৩-তে এমন একটি ছবি তপন সিংহ বানিয়েছিলেন, যার কেন্দ্রে চার বিধবা মেয়ের নিজেরা নিজেরা তীর্থে বেরিয়ে পড়া।’

‘সুরের মধ্যে একটা পুনরাবৃত্তি আছে, যেমন মনখারাপের বাতাসে থাকে। সে বারে বারে একই পথে ফিরে এসে হানা দেয়, এ-গানের সুরও তাই। আর যখন বলা হচ্ছে, ‘আমাকেও সাথে নিও, নেবে তো আমায়…’, এইটুকুর মধ্যে আকুতি, অনুরোধ, আশঙ্কা আর অনির্দেশ একসঙ্গে ফুটে উঠছে, এমনই আশ্চর্য আর অব্যর্থ শব্দ-সুরের প্রয়োগ!’

‘বাংলা কবিতার ইতিহাসে পুরী আর সমুদ্রের এমন কেন্দ্রীয় স্থাপত্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সমুদ্র এই দু’টি বইয়ের আলোছায়া। ব্যক্তিগত এবং রমণীয়। তার সঙ্গে আরও কত প্রসঙ্গ ঢুকে পড়েছে। কখনও তারা সমুদ্রের স্পর্শক কখনও সমুদ্র তাদের।’

‘দেশলাই তো হল, তার ওই বাক্স কি কথা বলে? কথা শুধু নয়, বলে ইতিহাস। একটি নিতান্ত ক্ষুদ্র সামাজিক দলিল হিসাবে নিজেকে কালের কাছে হাজির করতে সদা সচেষ্ট সে নিজেই। শুধু নিত্যপ্রয়োজনেই নয়, বিজ্ঞাপনে, প্রচারেও এটি হয়ে উঠতে পারবে একটি হাতিয়ার। বাঙালি বেছে নিল এই সুযোগ।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.