যে কোনও বাঙালিকে অস্কার নিয়ে লিখতে বললে ঠিক যে ‘পুরনো সেই দিনের কথা’-টি দিয়ে লেখা শুরু করবেন, আমিও আজ তা-ই করব। ১৯৯২ সালের সেই দিনটার কথাই আর-একবার লিখব, যেদিন লোডশেডিং, সাদা-কালো টিভি আর প্রসার ভারতীর মধ্যবিত্ত ছাপোষা বাঙালি পাড়ায় এসে পড়েছিল সোনার পাতে মোড়া, হাতের সোর্ড স্যালুটের ভঙ্গিতে নামানো এক নাইট— তার ডাকনাম অস্কার, ভাল নাম, অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। কাকে স্যালুট জানাচ্ছে এই নাইট? না, কোনও রাজা-রাজড়া, শাসককে নয়— তার শ্রদ্ধা নিবেদন চলচ্চিত্র বা মোশন পিকচার্স-এর পাঁচ স্তম্ভকে— অভিনেতা, লেখক, পরিচালক, প্রযোজক এবং কারিগরি শিল্পী বা টেকনিশিয়ান (শব্দগুলি লিঙ্গ-নির্দিষ্ট নয়, ঠিক যেমন ডাক্তার বা উকিল, ডাক্তার বা উকিলই। ডাক্তারনি বা উকিলনি না, বিশেষত যখন জেন্ডারের প্রেক্ষিত নারী-পুরুষের বাইনারি ছাপিয়ে গিয়েছে)।
’৯২-এর সেই রাতে, পাড়ার ক্লাব, পণ্ডিতিয়া সন্ধ্যা সংঘ-র সাদা-কালো ছোট্ট টিভিটির সামনে ভিড় জমেছিল, বাড়িতে বাড়িতে পুরো পরিবার জড়ো হয়েছিল তাদের বাক্স-টিভি বা রেডিওটির সামনে, কারণ নাইট হাতের তলোয়ার নামিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল আমাদের সত্যজিৎ রায়কে। তখন সত্যজিৎ রায় হাসপাতালে, এর কিছু সময় পরেই চলে যাবেন তিনি, শরীর ভেঙে গেছে, গলাটি তবু গমগমে, অস্কার হাতে নিয়ে বললেন, এই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান… সিনেমা নিয়ে তাঁর সবটুকু শেখাই আমেরিকার সিনেমার থেকে। বহু, বহু বছর ধরে তিনি আমেরিকার সিনেমার ভক্ত। আমেরিকার সিনেমা যেভাবে গল্প বলে, মনোরঞ্জন করে— তা যেমন তাঁকে মুগ্ধ করেছে, পরবর্তী সময়ে আমেরিকার সিনেমা যেভাবে সিনেমা বানানোর শিক্ষা দেয়, তাও তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
রাতারাতি কলকাতা, তথা পশ্চিমবাংলা-য় এই নাইট-টির আদর হু-হু করে বেড়ে যায়। কারও কারও অবশ্য এ-ও মনে হয়েছে যে, ‘অস্কার’, যা একটি আদ্যোপান্ত বাণিজ্যিক ছবির ‘হলিউডি’ পুরস্কার, তা নিয়ে সত্যজিৎ-এর এই ‘উচ্ছাস’ কাঙ্ক্ষিত নয়, বিশেষ করে তাঁর ঝুলিতে যখন রয়েছে, সিনেমা-সংস্কৃতির খোদ জায়গা, ফ্রান্স-এর উচ্চতম সম্মান, ‘কমান্ডার অফ দ্য লিজিওন অফ অনার’। তবুও অস্কার, অস্কারই। ‘বিগ ব্রাদার’ আমেরিকার সবচেয়ে সফল ‘প্রোজেক্ট’-গুলির একটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। আর কে না জানে, বিশ্ববাজারে রাজত্ব করার ক্ষমতা এই দেশটির পুরোমাত্রায় আছে। সিনেমার জগতে, সারা পৃথিবীতে, তাকে ঘিরে উন্মাদনা ধুপ-ধাপ করে বেড়েছে। এই একটি বাজার কবজা করতে ডাহা ফেল এমনকী, চীনও।
তবুও, অস্কার-জ্বরে আক্রান্ত আমরা যদি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস-এর ঝকমকে বইটির পাতা ওলটাই, তাহলে দেখব, সোনার পাতে মোড়া অস্কার-এর এই ‘মহত্ব’-র আড়ালে, ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের ইতিহাস। আছে আরোপ, অন্যায় আর গড়ে ওঠা প্রতিবাদের অধ্যায়।
বহু, বহু বছর অস্কারের মনোনয়নই পাননি, পুরস্কার তো দূর অস্ত, কোনও কৃষ্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র কর্মী, কোনও নারী (মহিলা অভিনেতা বা সহ-অভিনেতার বিভাগটি ছাড়া), কোনও নেটিভ আমেরিকান, ইহুদি এবং এশীয়রাও। এছাড়াও অস্কার সব সময়েই স্বীকৃত করেছে বড় প্রযোজনার বড় স্কেলের মূলধারার ছবিকে। অনেক সময়েই প্রশ্ন উঠেছে, অস্কার কি সিনেমার গুণগত মান বিচার করে দেওয়া হয়, না কি সিনেমার জাঁকজমক আর আড়ম্বরকেই তারা মান দেয় সবচেয়ে বেশি?
স্বাধীন, মৌলিক ছবির জায়গা অস্কারে নেই, তার জন্য ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রয়েছে। অনেকদিন ধরেই সিনেমাকে ঘিরে একটা কথা চালু রয়েছে— আর্ট ফিল্ম বা কমার্শিয়াল ফিল্ম বলে কিছু হয় না, সিনেমা শুধু ভাল হয় বা খারাপ। এহেন মতামতের মাথায় এক বালতি জল ঢেলে দেয় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের অবস্থান। এই অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্যিক ছবির অ্যাওয়ার্ড– বড় প্রযোজক সংস্থা, বড় তারকা, বড় বাজেট! সচেতনভাবেই তারা ‘অত্যুর’ ছবিকে আলাদা করে রেখেছে। ‘নাইট’ রাজাকে নয়, সম্মান জানিয়েছে শুধুমাত্র হাতের মুঠোয় এঁটে যাওয়া হলিউডি সিনেমার ব্রাহ্মণ্যবাদকে।
২০২৫-এ, ৯৭ বছরে পা দিল অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। নিঃসন্দেহে, ১৯২৯ থেকে আজ অবধি ক্রমান্বয়ে বেড়েছে তার রমরমা। কিন্তু অস্কারের এই পথচলাটি খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, মূলধারায় সামাজিক চেতনার সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলি। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের কয়েকটি ছকভাঙা গল্পই এই লেখার বিষয়। ব্যাপারটির গুরুত্ব আছে, কারণ, মেনস্ট্রিম বা প্রতিষ্ঠান যখন প্রথা ভাঙে, আগের ভ্রান্ত নিয়মগুলি পাল্টাতে থাকে, তখন একটি নতুন সিসটেমও গড়ে ওঠে– যার দরকার রয়েছে।
আটের দশকের মাঝামাঝি থেকে একটু একটু করে প্রথা পাল্টানোর হাওয়া লাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের তাসের দেশে। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস শুরু হওয়ার ষাট বছর পর, ১৯৮৯ সালে প্রথম এশীয়, যিনি অস্কারের জীবন-কৃতি পুরস্কারটি পান, তিনি আকিরা কুরোসাওয়া। ১৯৯০-এ সোফিয়া লোরেন সেই প্রথম নারী, যিনি অস্কার জীবন-কৃতি পান, এবং তারপর ১৯৯২-এ সত্যজিৎ। এক-চোখো, সাদা, পুরুষসর্বস্ব হলিউডি দোকানে, একটি-দু’টি ভিন্নতা আসে।
১৯৯২ সালে সত্যজিৎ রায়ের স্পিচটি পরিষ্কার মনে আছে। এমনকী, ওই বয়সে শুনেও, গর্বের মুহূর্ত, ছাতি ফুলে ওঠার মুহূর্ত। কিন্তু শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে চোখ ভিজে গিয়েছিল হ্যালে বেরি-র অস্কার পাওয়া। ২০০২ সালে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেতা হিসেবে অস্কার জেতে হ্যালে। ঘোষণা হওয়ার পর নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনি সে। বাচ্চা মেয়ের মতো ভ্যাঁ-ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে স্টেজে উঠে দেখে, সারা কোডাক থিয়েটার তার সম্মানে উঠে দাঁড়িয়েছে। কালো মানুষের লড়াইয়ের ইতিহাস আমাদের অজানা নয়। যদি সে আবার মেয়ে হয়, লড়াই বেড়ে যায় বহুগুণ।
হ্যালের সেই কান্নার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল আরও অনেক মেয়ের কান্না, আরও অনেক ‘কালো’ মানুষের কান্না— যাদের ভবিতব্যই ছিল মাটিতে মিশে যাওয়া। যাদের যুদ্ধ শেষ অবধি শুধু যুদ্ধই থেকে যায়, জেতা আর হয়ে ওঠে না। অস্কারের ব্রাহ্মণ্যবাদ ভেঙে নাইট-এর তলোয়ার সেদিন শুধু হ্যালে বেরি-র জন্য নামেনি, নেমেছিল হাল না ছেড়ে স্বাধিকারের লড়াই লড়ে যাওয়া তাবড় সব অভিনেতাদের জন্য, যাদের গায়ের রং ‘কালো’। হ্যালে বলেন, তার অস্কার ‘সেই সব নামগোত্রহীন, অবয়ব ও পরিচয়হীন ভিন্নবর্ণা মেয়েদের জন্য (উইমেন অফ কালার) একটা দরজা খুলে দিল, যাতে তারা তাদের প্রাপ্য সম্মান বুঝে নেওয়ার সুযোগ পায়।’
সেই বছরই ডেনজেল ওয়াশিংটনও শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জেতেন আর একই বছর জীবন-কৃতি পুরস্কারটি জিতে নেন কিংবদন্তি আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেতা সিডনি পইটার। সিডনি পইটার প্রথম ‘কালো’ পুরুষ অভিনেতা, যিনি অস্কার জয় করেন ১৯৬৪ সালে। তারও আগে, ১৯৪০ সালে, হ্যাটি ম্যক ড্যনিয়ল, প্রথম ‘কৃষ্ণাঙ্গ’ নারীর অস্কারটি যখন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেতার বিভাগে জিতে নেন, তাঁর এবং অন্যান্য ‘কালো’ অভিনেতাদের বসার জায়গাটি ছিল শ্বেতাঙ্গ সহ-অভিনেতাদের থেকে আলাদা। এই বছর সিডনি পইটারের স্পিচ তাই অস্কারের ইতিহাসে মনে রাখার মতো স্পিচগুলির অন্যতম। সিডনি বলেছিলেন, ‘আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, ১৯৪৯-এ (যখন সিডনি হলিউড-এ পা রাখেন) তা ছিল যাবতীয় ভাবনার বাইরে, অকল্পনীয় এক ঘটনা… সেই সব আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেতাদের মনে করে আমি এই পুরস্কার নিচ্ছি, যাঁরা আমার আগের ভীষণ কঠিন এক সময়ে কাজ করে গেছেন, যারা ছিলেন বলে আজ এই অ্যাওয়ার্ড আমার হাতে উঠে এসেছে।’
২০০৯-এ ড্যানি বয়েল-এর ‘স্লামডগ মিলিওনিয়র’-এর জন্য অস্কার জিতে নেন তিন ভারতীয় চলচ্চিত্র করিগর— গুলজার, এ. আর রহমান আর রেসুল পোকুট্টি। কারিগরি বিভাগে সারা এশিয়ায় এই প্রথম এঁদের জন্য নাইট তলোয়ার নামায়।
অস্কার নেওয়ার স্পিচ অ্যগনেস শেষ করেছিলেন এভাবে, ‘আজকের দিনটি হয়তো অনেক ভারী, কিংবা অনেক হালকা— আমি হালকা বোধ করাই বেছে নিলাম। ষাট বছরের ওপর আমি সিনেমা বানাচ্ছি, এখন অবশেষে হালকা লাগার সময়, এতই হালকা যে, আমার নাচতে ইচ্ছে করছে, তোমরাও নাচো না আমার সঙ্গে, সিনেমার জন্য (the dance of cinema)।’
২০২৩-এ ‘আরআরআর’ সিনেমার ‘নাটু নাটু’ গানটি আবার একটি নাইট এনে দেয় আমাদের দেশকে। আমেরিকার শ্বেতাঙ্গদের সেই গান ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখে বোঝা যায়, সেখানেও অন্যান্য সংস্কৃতি ঘিরে ভাললাগা, শ্রদ্ধা বাড়ছে, বাড়ছে আপন করে নেওয়াও।
২০১৭-তে প্রথম মহিলা চিত্র পরিচালক হিসেবে অস্কার জীবন-কৃতি পুরস্কার পান অ্যাগনেস ভারদা। ফরাসি মায়েস্ত্রো-র বয়েস তখন ৮৯। এক বছরের মধ্যে, নব্বই বছর বয়সে মারা যান অ্যাগনেস। অস্কার নেওয়ার স্পিচ অ্যগনেস শেষ করেছিলেন এভাবে, ‘আজকের দিনটি হয়তো অনেক ভারী, কিংবা অনেক হালকা— আমি হালকা বোধ করাই বেছে নিলাম। ষাট বছরের ওপর আমি সিনেমা বানাচ্ছি, এখন অবশেষে হালকা লাগার সময়, এতই হালকা যে, আমার নাচতে ইচ্ছে করছে, তোমরাও নাচো না আমার সঙ্গে, সিনেমার জন্য (the dance of cinema)।’ স্পিচ শেষ করে মনের আনন্দে নেচে উঠলেন অ্যগনেস আর তার সঙ্গে নেচে উঠলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, যিনি অস্কারটি তুলে দিয়েছিলেন অ্যাগনেসের হাতে।
এই সময় থেকে আস্তে আস্তে উদার হতে থাকে প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যবাদ, নারীবাদী স্বর, সাম্যবাদের স্বর, পৃথিবী জুড়ে আস্তে আস্তে জোরালো হয়ে ওঠে প্রান্তিক মানুষের অধিকার আর সম্মান বুঝে নেওয়ার স্বর। অ্যাকাডেমি কমিটিতে যুক্ত হন সারা পৃথিবীর সিনেমাকৃতি বিশেষ মানুষরা। শুরু হয় অ্যাকাডেমি মিউজিয়াম-এর কাজও। ভারত থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আর আদুর গোপালকৃষ্ণণ-এর কাজ আরকাইভ করা, লাইভ হিস্ট্রি রেকর্ড করা দিয়ে শুরু হয় এদের কাজ। ২০১০-এ প্রথম এক মহিলা পরিচালকের হাতে উঠে আসে নাইট, ক্যাথেরিন বিগলো। অস্কারের ইতিহাসে যোগ হয় আর-এক মাইলফলক। আর ২০১৯, প্রথম হলিউডের বাইরে কোনও ছবি জিতে নেয় শ্রেষ্ঠ ছবির অস্কারটি– কোরিয়ান ছবি ‘প্যারাসাইট’, পরিচালক, বং জুন হো। সেই বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবেও শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পেয়েছিল ‘প্যারাসাইট’, ছবির ক্ষেত্রেও অ্যাকাডেমির আদ্যিকালের নাক-উঁচুপনা খসে পড়তে শুরু করেছে এই ঘটনার সময় থেকেই। ‘নোম্যাডল্যান্ড’-এর জন্য প্রথম এশিয়ান মহিলা পরিচালক, ক্লোয়ে ঝাও (চায়না) ২০২১-এ অস্কার পান। ক্লোয়ে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন প্রত্যেক মানুষ অপরিসীম ভালত্ব নিয়েই এই পৃথিবীতে জন্মায়, তাঁর অস্কার ক্লোয়ে সেইসব মানুষদের উৎসর্গ করেন, যারা কোনওভাবেই এই ভালত্বকে ছেড়ে যাননি আজীবন।
২০২৫-এ, সাতানব্বইতম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস আবার কিছু মাইলফলক তৈরি করল ইতিহাসের পাতায়। ‘অ্যানোরা’ এইবার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের অস্কারটি জেতে। ছবিটি অস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বাজেটে বানানো, শ্রেষ্ঠ ছবি জেতা সিনেমা। ইন্ডি সিনেমা বলতে যা বোঝায়। শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেতার অস্কার জিতে নেন জো সালদানা। ‘এমিলিয়া পেরেজ’ কান, গোল্ডেন গ্লোব থেকে অস্কার— সব পুরস্কারই প্রায় ঝেঁটিয়ে নিজের ঝুলিতে ভরেছে আর সালদানা তাঁর নিজস্ব নাইটটিকে হাতে নিয়ে বলেছেন, ‘আমার ঠাকুমা আমেরিকায় পা রাখে ১৯৬০ সালে, আমি উদ্বাস্তু ভিটে-মাটি ছাড়া বাপ-মায়ের মেয়ে, তারা স্বপ্ন দেখা, আত্মসম্মানসম্পন্ন, পরিশ্রমী মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ আর তার জন্য আমি গর্বিত। আমি ডমিনিকান অরিজিন-এর প্রথম আমেরিকান, যে অস্কার পেলাম, তবে আমি জানি আমি শেষ মানুষটি নই।’
সালদানা তার নাইটটি উৎসর্গ করে সেই ১৯৬০-এ মাটির খোঁজে, জীবনের খোঁজে আমেরিকায় এসে পড়া ইমিগ্র্যান্ট ঠাকুমাকে, তাঁর লড়াইকে।
নাইট আবার তার সোর্ডটি নামায়।