ডাকবাংলা

এক ডাকে গোটা বিশ্ব

 
 
  

"For those who want to rediscover the sweetness of Bengali writing, Daakbangla.com is a homecoming. The range of articles is diverse, spanning European football on the one end and classical music on the other! There is curated content from some of the stalwarts of Bangla literature, but there is also content from other languages as well."

DaakBangla logo designed by Jogen Chowdhury

Website designed by Pinaki De

Icon illustrated by Partha Dasgupta

Footer illustration by Rupak Neogy

Mobile apps: Rebin Infotech

Web development: Pixel Poetics


This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.

© and ® by Daak Bangla, 2020-2025

 
 
  • ডেটলাইন : পর্ব ১৭

    তপশ্রী গুপ্ত (February 27, 2025)
     

    ভয়ংকর সুন্দরের কাছে

    এক সময়ে ‘আজকাল’-এর নিউজ ডেস্কে বসে কতবার যে ডেটলাইন লিখেছি সেন্ট কিটস! আট-নয় দশকে নিউজরুমে সারাদিন বিরাট মেশিন থেকে ঘরঘর করে বিভিন্ন সংবাদ এজেন্সির ক্রিড বেরোত। সেসব গুছিয়ে আলপিন দিয়ে আটকে (খবরের কাগজের পরিভাষায় ব্যাচ করা) সাব-এডিটরদের দিতেন শিফট ইন-চার্জ। সেগুলো থেকে সংবাদ লিখতে হত। সেন্ট কিটস সংবাদ শিরোনামে এসেছিল জনতা দল নেতা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং-এর দৌলতে। ১৯৮৯ সালে ‘আরব টাইমস’ নামে একটা কাগজ প্রথম রিপোর্ট করে, ক্যারিবিয়ান্সের সেন্ট কিউস দ্বীপের ব্যাঙ্কে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা রেখেছেন ভি পি সিং-এর ছেলে অজেয় প্রতাপ সিং। এবং সেই অ্যাকাউন্টের নমিনি ভি পি সিং। এতকাল ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সুইস ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্টের বিষয়টি খবরে এসেছে। কিন্তু সেন্ট কিটস পৃথিবীর কোন প্রান্তে, তা নিয়ে আমজনতার কোনও ধারণাই ছিল না। সুইজারল্যান্ড দেশটা নাহয় ম্যাপে সবার চেনাজানা, কিন্তু সেন্ট কিটস খায় না মাথায় দেয়! এই স্ক্যাম প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই ১৯৮৭ সালে রাজীব গান্ধী সরকারের মন্ত্রীপদ থেকে সরে গেছেন ভি পি সিং। ‘আরব টাইমস’-এর রিপোর্টে যদিও বলা হয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকাকালীন এই দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, কিন্তু খবরটা সামনে এল খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ১৯৮১ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে। ততদিনে বফর্স কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে রাজীব গান্ধীর এবং জনতা দল গড়েছেন ভি পি সিং। ভোটের ময়দানে তাঁরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজীবের মি. ক্লিন ইমেজে কালি লাগার এই সুযোগ হাতছাড়া করার মতো বুদ্ধিহীন ছিলেন না মন্ডার রাজা ভি পি। মিডিয়ার একাংশ তাঁকে মদত দেয় প্রমাণ করতে যে সেন্ট কিটস আসলে রাজনৈতিক চক্রান্ত। দেখা গেল, সত্যিই সেন্ট কিটস তেমন প্রভাব ফেলতে পারল না নির্বাচনে। ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০-এর নভেম্বর পর্যন্ত ৩৪৩ দিন প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন ভি পি সিং। তাঁর পতনের পিছনেও কিন্তু সেন্ট কিটসের কোনও অবদান ছিল না। বিজেপি সমর্থন তুলে নেওয়ায় অনাস্থা ভোটে হেরে যায় তাঁর ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকার।

    আরও পড়ুন: ‘তুমি ইন্ডিয়ান যখন, তখন তো নীনা গুপ্তকে চেনো, ওকে বোলো আমার কাছে আসতে’, বলেছিলেন ভিভ রিচার্ডসের মা! তপশ্রী গুপ্ত-র কলাম ডেটলাইন পর্ব ১৬…

    এইসব গরমাগরম খবর নিয়ে চর্চার পর কেটে গেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়। তবু যখন সেন্ট কিটসে পা রাখলাম, কেমন শিহরন জাগল। এই সেই ফাস্ট ট্রাস্ট কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক, যার সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি! দিল্লির একটিমাত্র মিডিয়া ছাড়া আর কেউ সেই সময়ে রিপোর্টার পাঠায়নি সরেজমিনে খবর করতে। এর সঙ্গে যদিও আমাদের এই ২০০৭ সালের ক্রিকেটীয় সফরের কোনও সম্পর্ক নেই, তবু আমি জেদ করে যাতায়াতের পথে ওই ব্যাঙ্কের সামনে পোজ দিয়ে ছবি তুললাম। এবং সঙ্গের নামী সাংবাদিকের বকুনি উপেক্ষা করে। একটু আগে অ্যান্টিগা থেকে উঠলাম প্লেনে আর মাত্র ৩০ মিনিট পরেই নেমে গেলাম সেন্ট কিটসে। এটা বেশ মজার ব্যাপার ক্যারিবিয়ান্সে। এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে এরকম ছোট-ছোট ফ্লাইট, তিরিশ-চল্লিশ মিনিটের উড়ান, সাগরের জল ছুঁয়ে নামা এয়ারপোর্টে। আলাদা দেশ, কিন্তু আলাদা ভিসা দরকার নেই এ-মুহূর্তে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটাই ভিসায় সব দ্বীপ ঘোরা যাবে। সেটার নাম ক্যারিকম ভিসা। ইমিগ্রেশনের সময়ে একটা ব্যান্ড বেঁধে দেয় কবজিতে, যেটা খোলা বারণ। ওটাই প্রমাণ যে, আপনি বৈধভাবে এদেশে ঢুকেছেন। হোটেলের পথে দূরে একটা রিসর্ট-জাতীয় কিছুর দিকে আঙুল দেখিয়ে খুব উত্তেজিতভাবে বললেন ক্যাব ড্রাইভার, ওখানে প্রিন্সেস ডায়না ছিলেন। আসলে ওটা নেভিস দ্বীপ। সেন্ট কিটস আর নেভিস মিলে একটাই দ্বীপরাষ্ট্র, মাঝখানে মাত্র মাইল দুয়েকের একটা জলধারা। ৪৫ মিনিটে ফেরি পার হয়ে একটা থেকে অন্যটায় চলে যাওয়া যায়। সত্যিই নেভিসে একবার এসেছিলেন ডায়না। দুই ছেলেকে নিয়ে সাঁতারও কেটেছিলেন। সৈকতে তাঁদের বন্দি করেছিল পাপারাৎজিদের লেন্স। ডায়নার আগুনে কমলা বিকিনি আর সানগ্লাস পাগল করে দিয়েছিল বিশ্বজোড়া ফ্যানেদের। মেঘপিওনের মতো ডায়নারও তো ছিল ‘ব্যাগের ভেতর মনখারাপের দিস্তা’। তিস্তার সন্ধান পাননি বলেই বোধহয় মন ব্যাকুল হলে প্রিন্সেস চলে আসতেন ক্যারিবিয়ান্সে এক বন্ধুর বিলাসভিলায়। সেটা অবশ্য এখানে নয়, নেকার দ্বীপে। নেভিসে যে-রিসর্টটি দেখালেন চালক, পরে সেখানে গেছিলাম আমরা। প্রাইভেট বিচ শুনেছি, কিন্তু এরকম এক্সক্লুসিভ বিচ দেখিনি আগে। মানে একেবারে ব্যালকনি থেকে র‍্যাম্প দিয়ে সোজা সমুদ্রে নামার ব্যবস্থা। হেঁটে, বসে, গড়িয়ে— যেমন করে খুশি। তবে এই রিসর্টের ট্যারিফ চার্ট দেখলে ভিরমি খেতে হয়। এখানে ডায়নার মতো অলীক মানুষ আর ধনকুবের ছাড়া আর কারই-বা পা পড়ে?

    ক্যারিবিয়ান্সের দ্বীপরাষ্ট্রগুলো এতই ছোট যে তাদের রাজধানী শহরের নামই আলাদা করে জানে না বাইরের মানুষ। সেন্ট কিটস-এর রাজধানী ব্যাসেতের বেশ সাহেবি কেতার। অনেক শহরের মতোই এর মাঝখানে গোল চত্বর, লন্ডনের পিকাডিলি সার্কাসের আদলে তৈরি। রয়েছে পেল্লায় ক্লক টাওয়ার। আসলে মাত্র ১৯৮৩ সালে ব্রিটিশের থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে সেন্ট কিটস। তাই কলোনিয়াল হ্যাং ওভার কাটাতে সময় লাগছে। এখনও ব্রিটেনের রাজার নিযুক্ত গভর্নর জেনারেল রয়ে গেছেন ক্যারিবিয়ান্সের বেশির ভাগ দেশে। ইংরেজি এদের সরকারি ভাষা। এতদিনের ঘোরাঘুরিতে খুব যে আইনশৃঙ্খলা সমস্যা চোখে পড়েছে, তা কিন্তু নয়। তবে মদ থেকে মাদক, নেশা ব্যাপারটা ছেয়ে আছে সমাজকে। যেজন্য চুরি-ছিনতাই হওয়ার ভয় রয়েছে। যেমন, আমি হোটেলের গেটের পাশে এটিএম থেকে টাকা তুলতে যাব শুনে ম্যানেজার লোক পাঠালেন আমার সঙ্গে। সে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকল, আবার আমাকে গার্ড দিয়ে নিয়ে এল ভেতরে। আমি বলেছিলাম, ‘এই তো গেটের বাইরে এটিএম, লোক লাগবে কেন?’ ম্যানেজার মাথা নেড়ে বললেন, ‘আপনি জানেন না ম্যাডাম, একটু দূর থেকে লক্ষ রাখবে, টাকা তুলে বেরোলেই কেড়ে নেবে। বিশেষ করে বিদেশিদের টার্গেট করে।’ সাবধানবাণী শুনে এসেছি অন্য শহরেও, মোবাইলে কথা বলতে-বলতে নাকি হাঁটা যাবে না রাস্তায়, যে-কোনও মুহূর্তে কানের গোড়ায় চড় মেরে ছিনতাই করে নেবে। মনটা খারাপ হয়ে গেল, এত সুন্দর ছবির মতো ছোট্ট-ছোট্ট সব দেশ, পাহাড় আর সাগরের যুগলবন্দিতে অমলিন প্রকৃতি, ছিমছাম সাজানো শহর, অলি-গলিতে গিটার বাজিয়ে গান গাইছে ছেলের দল, মেয়েরা রংচঙে ছোটখাট পোশাকে সাবলীল, চেনা-অচেনার বালাই নেই, মুখোমুখি হলেই এক গাল হাসি, পর্যটন থেকে ভালই আয় হয় সারা বছর, তবু এত দুর্নাম!

    টিমোথি হিল

    আমাদের ক্যাবচালক ত্রিনিদাদের লোক, ওঁর পূর্বপুরুষ শ-দেড়েক বছর আগে ভারত থেকে গিয়ে ওখানে সংসার পেতেছিলেন। ফলে জাতভাই হিসেবে আমাদের স্পেশাল খাতির। তার ওপরে উনি আবার গাভাসকারের ডাই হার্ড ফ্যান। আমি অতি-উৎসাহে বলে ফেলেছিলাম, ‘এই যে দেখছেন সঙ্গের নামী ক্রীড়া সাংবাদিক, উনি কিন্তু গাভাসকারের প্রায় ঘরের লোক, রোজ ফোনে কথা হয়।’ আর যায় কোথায়! খাতির তো দ্বিগুণ বাড়লই, সেই সঙ্গে বাড়ল খবরদারিও। যত বলি, আমরা এসেছি কাজে, আগে যাব স্টেডিয়াম, তত উনি আমাদের চাপাচাপি করতে থাকেন ট্যুরিস্ট স্পটগুলো দেখানোর জন্য। আরও মুশকিল, উনি একটু রোম্যান্টিক টাইপ। কথায়-কথায় শায়েরি-গজল চলে আসে ঠোঁটে। এখন বুঝলাম, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল যাওয়ার পথে কেন উনি সব ছেড়ে দূরে ডায়নার হোটেল দেখিয়েছিলেন। ওই যে মনখারাপের দিস্তায় বিশ্বহৃদয় ঘায়েল করেছিলেন প্রিন্সেস, সেই ঘোর ছেড়ে বেরোনো আর হল কই! যাই হোক, নরমে-গরমে চালককে বুঝিয়ে যাওয়া হল ওয়ার্নার পার্ক স্টেডিয়ামে। ২০০৭-এর বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তৈরি ক্যারিবিয়ান্সের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আগে উদ্বোধন হযেছিল এটির— ২০০৬ সালে। শুনলাম, টাকা দিয়েছে তাইওয়ান। বেশির ভাগ স্টেডিয়াম যেখানে চীন তৈরি করে দিয়েছে, সেখানে তাদের টপকে তাইওয়ানের সুযোগ পাওয়াটা বেশ আশ্চর্যের। ৮০০০ আসনের ওয়ার্নার পার্কের কতটা ভর্তি হয়েছিল ম্যাচের সময়ে জানি না। সেন্ট কিটসের লোকসংখ্যা শুনলাম মাত্র ৩৫,০০০।

    সত্যিই নেভিসে একবার এসেছিলেন ডায়না। দুই ছেলেকে নিয়ে সাঁতারও কেটেছিলেন। সৈকতে তাঁদের বন্দি করেছিল পাপারাৎজিদের লেন্স। ডায়নার আগুনে কমলা বিকিনি আর সানগ্লাস পাগল করে দিয়েছিল বিশ্বজোড়া ফ্যানেদের। মেঘপিওনের মতো ডায়নারও তো ছিল ‘ব্যাগের ভেতর মনখারাপের দিস্তা’। তিস্তার সন্ধান পাননি বলেই বোধহয় মন ব্যাকুল হলে প্রিন্সেস চলে আসতেন ক্যারিবিয়ান্সে এক বন্ধুর বিলাসভিলায়।

    স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে পিচের কোয়ালিটি, কিউরেটরের ইন্টারভিউ, প্র্যাকটিস করতে আসা তরুণ ক্রিকেটারদের বক্তব্য, পিস টু ক্যামেরা— এসব রেকর্ড করতে-করতে দুপুর গড়িয়ে গেল। এর মধ্যে জোর বকুনি খেয়েছি সিনিয়র সাংবাদিকের থেকে, অসাবধানে আমি নাকি পা দিয়ে ফেলেছিলাম বিশ্বকাপের জন্য বিশেষভাবে নির্মীয়মাণ পিচের ওপর। এবং সৌজনাবশত সেটা লক্ষ করেও কিছু বলেননি কিউরেটর। ‘তোর কোনও ধারণা আছে এই পিচে দু’দিন পর কী হতে পারে? সচিন সেঞ্চুরি করতে পারে। আর তুই কিনা তোর ওই ফালতু স্নিকার্সটা পায়ে হেঁটে গেলি?’ (এত নিরামিষ অবশ্য ছিল না সেই ভর্ৎসনা, বাছাই করা বিশেষণগুলো এডিট করে দিলাম)। আমি যারপরনাই লজ্জিত হলাম যখন দেখলাম আমার ‘পাপ’স্খালনে উনি নিজেই নীচু হয়ে পিচের ধুলো নিয়ে মাথায় ঠেকালেন। সত্যি কুর্নিশ করার মতো প্যাশন! আসলে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ক্যাব ড্রাইভারের মতো আমারও মন উচাটন এক অচেনার আনন্দের টানে। কখন থেকে উনি বলছেন আমাদের নিয়ে যাবেন এক আশ্চর্য সঙ্গমে। আটলান্টিক, প্যাসিফিক আর ক্যারিবিয়ান সাগর মিলেছে যেখানে। টেকনিক্যালি অবশ্য প্রশান্ত মহাসাগরের (প্যাসিফিক ওশান) সঙ্গে ক্যারিবিয়ান সাগরের সংযোগ ঘটেছে পানামা ক্যানালের মাধ্যমে। ফলে সত্যি বলতে ওই দুরন্ত স্পটটা আসলে আটলান্টিক, ক্যারিবিয়ান আর পানামা খালের সঙ্গম। তাতে কী যায় আসে! আমি হলফ করে বলতে পারি, এমন দম বন্ধ করা সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়িয়ে কোনও শুষ্কং কাষ্ঠৎ ভূগোলের দিদিমণিও এসব কূটকচালিতে যাবেন না। ভারী পাওয়ারের চশমা নাকের আগায় নামিয়ে তিনিও তাকাবেন আমাদেরই মতো মুগ্ধ চোখে। টিলার মাথায় দাঁড়িয়ে নীচে তিনটি আলাদা রঙের জল স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। জায়গাটার নাম টিমোথি হিল। সেন্ট কিটসের আরও দুটো জায়গা থেকেও দেখা যায় একই ছবি— ডিয়েপ বে আর সাউথ পেনিনসুলা।

    বিশাল কিছুর সামনে দাঁড়ালে কেমন তুচ্ছ মনে হয় না নিজেকে, চেনাজানা চারপাশকে, চাওয়া-পাওয়ার অঙ্কগুলোকে? সে পাহাড় হোক কি সমুদ্র, অরণ্য হোক কি মরু, মুহূর্তে খানখান করে ভেঙে দেয় সামনের প্রিয় আয়নাটাকে, যেখানে একটাই ছবি, আমি আর আমি! আবারও একবার মালুম হল এই সত্যিটা। যেমন গোধূলি চিনি আমরা, টিমোথি হিলে তেমন নয়। একে বলা যায় ধূসর গোধুলি। খানিক কুয়াশামাখা, খানিক কুহেলি ঢাকা, রহস্যময় এক সন্ধ্যাকাল। গা ছমছম করে। মনে হয় পৃথিবীর শেষপ্রান্ত বুঝি এটাই, যেখানে থমকে গেছে ঘড়ির কাঁটা, অর্থহীন সভ্যতা। সবাই হঠাৎ চুপ করে গেল কেন? এমনকী আমাদের অতি-উৎসাহী ক্যাব চালকও? জানি না, কতক্ষণ পরে, খানিকটা যেন জোর করেই মুখ ঘুরিয়ে ফেরা শুরু করলাম। ভয় পেয়েছিলাম বোধহয়, আমাদের এই কেজো জীবনের সব লেনদেন যদি সত্যিই ফুরিয়ে যায় ওই অতলে? তখন আর কি ফেরা হবে?

     
      পূর্ববর্তী লেখা
     

     

     



 

Rate us on Google Rate us on FaceBook