
সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩২
১৯৮০-র ডিসেম্বরে আমরা যখন চম্বলে পৌঁছেছিলাম, তখন ঠাকুরদের গ্রামে গণধর্ষিতা ফুলন প্রতিহিংসার আগুনে দপদপ জ্বলছেন, বদলা নেওয়ার ছক কষছেন। আর অগুনতি খুনখারাপি সেরে মালখান সিংয়ের ক্রোধ নির্বাপিত হয়েছে, সারেন্ডারের উপায় খুঁজছেন।

১৯৮০-র ডিসেম্বরে আমরা যখন চম্বলে পৌঁছেছিলাম, তখন ঠাকুরদের গ্রামে গণধর্ষিতা ফুলন প্রতিহিংসার আগুনে দপদপ জ্বলছেন, বদলা নেওয়ার ছক কষছেন। আর অগুনতি খুনখারাপি সেরে মালখান সিংয়ের ক্রোধ নির্বাপিত হয়েছে, সারেন্ডারের উপায় খুঁজছেন।

এমন মারাত্মক একটা গাম্ভীর্য আছে ওয়াশিংটন ডিসির, একলহমায় বুঝিয়ে দেয়, হুঁ হুঁ বাওয়া, যেখানে সেখানে নয়, তুমি পা রেখেছ দুনিয়া শাসনের এপিসেন্টারে। ওদিকে হোয়াইট হাউস, তো এদিকে ক্যাপিটল, সেদিকে ন্যাশনাল মিউজিয়াম তো অন্যদিকে লিংকন মেমোরিয়াল। ভেতরে ঢোকার আগেই থমকে দাঁড়াতে হয়, সবই এত বিশাল।

আইনস্টাইনের আসবাব-প্রীতির গল্প কিন্তু সত্যি। নাৎজিদের চোখ এড়িয়ে একটা-দুটো নয়, পঁয়ষট্রিটা আসবাব তিনি চোরাপথে আনিয়েছিলেন জার্মানি থেকে প্রিন্সটনে। এর মধ্যে খুব প্রিয় আরামকেদারাটি দেখার সৌভাগ্য হল। হিস্টরিক্যাল সোসাইটি অফ প্রিন্সটন মাঝে-মাঝেই বিজ্ঞানীর আসবাবের প্রদর্শনী করে ‘আইনস্টাইন অ্যাট হোম’।

‘‘একজনকে চেনার জন্য তাঁর শৈশব ও কৈশোর যতটা গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কিছু সেভাবে নয় বোধহয়। জীবন কোন পথে চলবে, তার একটা রূপরেখা, অনেকটাই তৈরি হয়ে যায় ওই বয়সের মধ্যে। এই বইয়ের ‘আমার শেকড়-বাকড়’ অংশটি সেই কারণেই এত আকর্ষণীয়।’’

‘‘অট্টালিকার মাথায় ময়ূর, ঝূপড়ি ঘরের চালে ময়ূর। নীল-বেগনি ময়ূরের ইতিউতি সংখ্যায় অল্প গাঢ় খয়েরি, যেন হতশ্রী ময়ূরও দেখেছি। তবে ওই নীল বেগনির বর্ণময় ময়ূর, আহা কী সুন্দর! ‘ময়ূর, বুঝি-বা কোনও সূ্র্যাস্তে জন্মেছো।’’’

‘শেষ পর্যন্ত সবার পাত আলো করে পড়ে আছে ঐ বিচিত্র ডেলিকেসি। ভাগ্যিস আলো আঁধারিতে মালুম হচ্ছে না খাবার নষ্টের বহর! হোটেলে ফিরে চানাচুর খেতে-খেতে আমার বন্ধু বলেছিল, ’কী যে করে! এত দামী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল?’

‘এসব গেল পুরাণের কথা। আধুনিক ইতিহাসে, ছত্রপতি শিবাজি এসব অঞ্চলের ভেতর দিয়েই গুটিগুটি হামলা চালাতেন দিল্লি ও আশপাশের মোঘল সেনাশিবিরগুলিতে। ভারতে গেরিলা যুদ্ধের প্রবর্তক তিনি। শিবাজির বাহিনীর গেরিলারা সবাই কি মহারাষ্ট্রে ফিরেছিল? খেতিখামারিতে, প্যার-মোহব্বতে চম্বলের জনজীবনে মিশে যায়নি তো?’

‘একটা দেশ বা সমাজ যখন স্বার্থান্ধ আত্মাবমাননা-আত্মসমর্পণের গড্ডলিকা-প্রবাহে ক্রমশই পঙ্কে নিমজ্জিত হতে থাকে, তখন যেমন সেই ‘প্রতিক্ষণ’-এর জন্য নিষ্ফল বিলাপ করি, আর আত্মপ্রত্যয়ী বিবেকী বন্ধু স্বপ্নাকে শেষ নমস্কার জানাই।’

‘‘কাজের ক্ষেত্রে স্বপ্নাদি ছিলেন অত্যন্ত একনিষ্ঠ, যাকে বলে ‘সিরিয়াস’। মাঝে-মাঝেই চলে যেতেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বা বাংলাদেশে। কোনও একটি ঘটনা সামগ্রিকভাবে নিরীক্ষণ করে ফিরে এসে লিখতেন বিশ্লেষণাত্মক লেখা। সে-লেখার ধার ও ভার দুই-ই ছিল অবিস্মরণীয়।’’

‘দেখলাম, আমাদের বয়সি তরুণ কয়েজনের কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। হাসাহাসি করছে তারা, ফুর্তিতে গড়িয়ে পড়ছে। আর বাসের ভেতরে সিটগুলির মাথায় হিন্দিতে লেখা রয়েছে, ‘ভরা বন্দুক লেকড় ন বৈঠ’। অর্থাৎ (গুলি) ভরা বন্দুক নিয়ে (বাসে) বসো না।’

‘দফায়-দফায় চাঁদা তুলে মূর্তি তৈরি তো হল, ১৮৮৪ সালে প্যারিসে সেটি তুলেও দেওয়া হল মার্কিন প্রতিনিধির হাতে। কিন্তু মূর্তির বেদী তৈরি হয়নি তখনও, ফান্ডও নেই। রীতিমতো ক্রাউডফান্ডিং করে টাকা তোলা হল। ১৮৮৬-র ২৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ক্লিভল্যান্ড জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন স্ট্যাচু অফ লিবার্টি।’

‘ডাক্তার রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর মানবসেবা না করে, তারাপীঠের শ্মশানে মা মা করছেন, আমি এসব বলে জিজ্ঞেস করলাম, বিজ্ঞানে বিশ্বাস নেই আপনার?’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.