
উল্টো দূরবিন: পর্ব ৯
‘একবার রেঙ্গুন থেকে দু’জন এল, ওদের কলকাতা দেখাতে নিয়ে যাওয়া হবে। কেন কে জানে, আমাকেও নিয়ে গেলেন। তখনও পিসেমশাইয়ের গাড়ি ছিল না। কোনওভাবে একটা গাড়ি জোগাড় করেছিলেন, কিম্বা ভাড়া নিয়েছিলেন।’

‘একবার রেঙ্গুন থেকে দু’জন এল, ওদের কলকাতা দেখাতে নিয়ে যাওয়া হবে। কেন কে জানে, আমাকেও নিয়ে গেলেন। তখনও পিসেমশাইয়ের গাড়ি ছিল না। কোনওভাবে একটা গাড়ি জোগাড় করেছিলেন, কিম্বা ভাড়া নিয়েছিলেন।’

‘কিন্তু অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সবসময়ে মশাল হয়ে ওঠে না। এ-সব টুকরো-টুকরো ছবি আর ভিডিও-র মেয়াদই বা কতদিন? অ্যালগরিদম-এর চোরাবালি তো অল্প সময়েই গিলে নেবে তাদের; এ-সব দিয়ে আর কতদিন আশা জিইয়ে রাখা যায়?’

‘সুজানা আনা মারিয়া ভেরকার্ক ছিলেন অষ্টাদশ শতকের এক ডাচ মহিলা, বাসস্থান ছিল চুঁচুড়ায়। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন পিটার ব্রুয়েস, হুগলিতে ডাচ বসতির সিনিয়র মার্চেন্ট ও প্রধান প্রশাসক।’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে ফাল্গুনী রায়, অরুণ বসু, কবিরুল ইসলাম।

‘অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে আমেরিকায় বাল্টিমোরের স্থান তৃতীয়। আর ড্রাগের খোলাবাজার, বিশেষ করে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার অভ্যেস এই শহরের নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

‘‘‘সবর বন্দা’ ছবিটি আলাদা তার শৈল্পিক গুণে। আনন্দ প্যাকেট খুলে ক্যাকটাস ফল দেখতে পায় আর হেসে । যত্ন করে কাঁটা ছাড়ানো লাল ফল। আনন্দের সকালে উঠতে দেরি হয় জেনে, তার বাল্যবন্ধু বালিয়া (সূরয সুমন) ‘সারপ্রাইজ’ বলে জিনিসটি রেখে গেছে। এই ক্যাকটাস ফল— মারাঠি ভাষায় যাকে সবর বন্দা বলে— তা আনন্দের শৈশব ও তারুণ্যের অভিজ্ঞান।’’

‘‘রিন্টুদা ছিল রোগা লম্বা, খাঁড়া নাক, বাঁটুল কার্টিং চুল। রিন্টুদা চিন্টুর জাঠতুতো দাদা। তখন দাদা-দিদিরা বেশ গাম্ভীর্যপূর্ণ হত, কেননা সিলেবাসে শরৎচন্দ্রের ‘মেজদা’ ছিল। সবাই মেজদা। রিন্টুদা আমাদের সঙ্গে কথা বলত না। আমরা ছোট, পুঁচকে, অর্বাচীন, গাধা, গরু, বলদ, নেংটি— আমাদের সঙ্গে কী কথা বলবে। ওই জাঠতুতো দাদা রিন্টুদা ছিল মহা গুলবাজ। পড়াশোনায় ভাল, কালীঘাটের কোনও দোষ পায়নি। কাগজে তামাক ভরে ঠোঁট বুলিয়ে বেশ কায়দা করে সিগারেট বানিয়ে খেত। তার আগে কাউকে অমনটি দেখিনি।’’

‘‘এই যে না-থাকা, তা কিন্তু শব্দটা ইংরেজি বলে নয়। জগতের কত ইংরেজি, ফার্সি, পর্তুগিজ শব্দই কালক্রমে বাংলা ভাষার আঁচলের তলায় মুখ গুঁজেছে। প্রায় সব আঞ্চলিক ভাষারই অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর ভাষা দ্বারা অবলুপ্তির ভয় আছে।’’

‘‘কথাটা এতক্ষণে পাওয়া গেল। ‘ভাষা-গণতন্ত্র’। বিশ্বজোড়া পাঠশালায় সে-জন্য প্রতিটি ভাষার সমানাধিকার। সে ছোট না বড়, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না কি দুর্বল, উপনিবেশ গড়েছে না গড়েনি, সংস্কৃতি চেনা না অচেনা, কামান-বন্দুক-গ্রেনেড আছে, না নেই— এইসব প্রশ্ন অবান্তর।’’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে বাসুদেব দাশগুপ্ত ও মৃদুল দাশগুপ্ত

‘লক্ষ করে দেখেছি, আমেরিকানরা হাইওয়ে আর গাড়ি— এই দুটো ব্যাপার নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ। নামকরা হাইওয়ে আর গাড়ির নম্বর-প্লেট লেখা ট্যাবলেট বিক্রি হয় স্যুভেনির শপে। লোকে সাজিয়ে রাখে বাড়িতে। কথাবার্তা বলে জেনেছি এর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে।’

‘এটা সিনেমার দোষ না। এটা মানুষের মনস্তত্ত্ব। তুমি নিজেই তো তোমার জীবনের ডিরেক্টর। মেমরি কি মন্তাজ নয়? তুমি নিজেই কাটছাঁট করো, ড্রামাটাইজ করো। তাহলে সিনেমাকে দোষ দিচ্ছ কেন?’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.