পত্রিকা

চন্দ্রিল ভট্টাচার্য

এক শালিক : পর্ব ১০৮

আফগানিস্তানে তালিবান নতুন আইন আনছে— স্বামী স্ত্রীকে পেটাতে পারবে, যতক্ষণ না হাড় ভাঙছে বা খোলা ক্ষত দেখা যাচ্ছে। তার মানে, গার্হস্থ্য হিংসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হল। স্ত্রীকে স্বামীর সম্পত্তিই ঘোষণা করা হল। অন্য বড় দেশগুলো কিন্তু বিরাট তিরস্কার করছে না, বরং দিব্যি ব্যবসায়িক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে।

চন্দ্রিল ভট্টাচার্য

ছায়াবাজি : পর্ব ৪৫

ভিক্টর ও নোরা একইরকম, দু-জনেই শিল্পটা ভাল পারে, মানুষের সঙ্গে সংযোগটা পারে না। ভিক্টর যখন আগনেসকে বলে, তোর ছেলেকে আমার সিনেমায় একটা পার্ট দেব, আগনেস বলে, তোমার ছবিতে আমি যখন অভিনয় করেছিলাম, আমি ছিলাম তোমার সবচেয়ে যত্ন ও আদরের পাত্রী, মনে হত আমিই আছি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে। যেই ছবি শেষ হয়ে গেল, আর আমি তোমাকে বহুকাল দেখতেই পেলাম না। পরের ছবির লোকেরা হয়ে গেল তোমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ৯

‘‘রিন্টুদা ছিল রোগা লম্বা, খাঁড়া নাক, বাঁটুল কার্টিং চুল। রিন্টুদা চিন্টুর জাঠতুতো দাদা। তখন দাদা-দিদিরা বেশ গাম্ভীর্যপূর্ণ হত, কেননা সিলেবাসে শরৎচন্দ্রের ‘মেজদা’ ছিল। সবাই মেজদা। রিন্টুদা আমাদের সঙ্গে কথা বলত না। আমরা ছোট, পুঁচকে, অর্বাচীন, গাধা, গরু, বলদ, নেংটি— আমাদের সঙ্গে কী কথা বলবে। ওই জাঠতুতো দাদা রিন্টুদা ছিল মহা গুলবাজ। পড়াশোনায় ভাল, কালীঘাটের কোনও দোষ পায়নি। কাগজে তামাক ভরে ঠোঁট বুলিয়ে বেশ কায়দা করে সিগারেট বানিয়ে খেত। তার আগে কাউকে অমনটি দেখিনি।’’

Representative Image
শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

আমারই চেতনার রঙে

সাধারণভাবে দৃষ্টিহীনতা বা অন্ধত্ব তিন রকম; সকলেই যে জন্ম থেকে দেখতে পায় না (জন্মান্ধ), তা নয়। একদল ‘টোটাল ব্লাইন্ড’, একদল ‘পারসিয়াল’ এবং আরেকদল, ‘অ্যাডাল্ট ব্লাইন্ড’

বিশ্বজিৎ ঘোষ

ভাষাই রং চেনায়

দোল উৎসবের একটি সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিত রয়েছে। গানেরও সময় দোল। নরেন্দ্রপুরে আমরা যখন দোল পালন করেছি, তখন খোল-করতাল-সহ নানারকমের বাদ্যযন্ত্র সহযোগে গানবাজনা করেছি। দোল এলেই খোঁজ পড়ে যেত, কে খোল বাজাবে, কে তবলা বাজাবে।

আদিত্য ঘোষ

পরিচয়ের ঊর্ধ্বে

‘মেনকা গুরুস্বামীর ক্ষেত্রে– একজন দক্ষ আইনজীবী, একজন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ, একজন চিন্তাশীল নাগরিক, এই সমস্ত পরিচয়গুলো ধীরে ধীরে আড়ালে সরে গিয়ে সামনে চলে এসেছে শুধু তাঁর যৌন পরিচয়। আমরা হয়তো তাকে উদযাপন করি, তাকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করি, কিন্তু সেই উদযাপনের মধ্যেও তাকে একটি আলাদা খোপে বন্দি করে রাখি।’

Representative Image
সোমক  রায়চৌধুরী

সীমানা ছাড়িয়ে

জম্মু ও কাশ্মীর দলের রসায়নটা একবার দেখে নেওয়া যাক। এই টিমে ১৪ জন ক্রিকেটার জম্মুর, যার মধ‍্যে পাঁচজন মুসলিম; আর চারজন কাশ্মীর উপত‍্যকার। অধিনায়ক পরশ ডোগরা হিমাচলের, এছাড়া রয়েছেন উত্তরাখণ্ডের এক ক্রিকেটার। কিন্তু আকিব নবি, কামরান ইকবাল, শুভম পুন্দির, সাহিল লোটরাদের উঠে আসার দীর্ঘ পথে এই বিভাজন-তাসের উত্তাপের আঁচ ন‍্যূনতম পড়েনি!

তন্ময় ভট্টাচার্য

প্রিয় সুবিমল: পর্ব ১২

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও দ্রোণাচার্য ঘোষ।

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন : পর্ব ৬

‘বিছের কামড়ের জন্য নানাবিধ টোটকা প্রচলিত ছিল। যেমন পেঁয়াজের রসের প্রলেপ দেওয়া, হিং আর মধুর প্রলেপ দেওয়া ইত্যাদি। বড়দের কামড়ালে সরষে-পরিমাণ আফিম খাইয়ে দেওয়া হত। তখন আফিমের দোকান ছিল। অনেকে আফিমের নেশা করত।’

প্রিয়ক মিত্র

আগুনের ইতিকথা

ড্রাগ লর্ডদের বেশিরভাগই দারিদ্রের শেষ সীমা থেকে উঠে গিয়েছে বৈভবের, ভোগবাদী যাপনের শীর্ষে। আমেরিকায় মাদকের বিপুল চাহিদা ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রতি চূড়ান্ত অর্থনৈতিক নিষ্পেষণের নীতি নিয়ে নীরব থাকার কোনও পরিস্থিতি এক্ষেত্রে আছে কি আদৌ? এই অসাম্যই কি খাপখোলা অপরাধের নেপথ্য মঞ্চ তৈরি করে দেয়নি?

পৃথ্বী বসু

‘হাঁসজারু’ থেকে ‘স্ট্যান’

‘‘ফ্লেক্স’, ‘টি’, ‘ক্যাপ’, ‘ইয়াপ’— এই ধরনের একাধিক শব্দও রয়েছে জেন-জি শব্দভাণ্ডারে, যার অর্থ আগে থেকে আমাদের জানা; কিন্তু জেন-জি’দের কাছে তা অন্য অর্থ বহন করে। ফ্লেক্সের অর্থ সাফল্য দেখানো, টি বলতে গসিপ বা গোপন খবর, ক্যাপ হল মিথ্যা কথা এবং ইয়াপ মানে বাচাল। আরও অসংখ্য শব্দ রয়েছে, যার তালিকা দীর্ঘ।’’

ঋত্বিক মল্লিক

ভাষা ও প্রযুক্তি

‘‘যে ভাষার নমুনা বা ‘corpus’ ইন্টারনেটে যত বেশি, আজকের যুগে দাঁড়িয়ে, সেই ভাষাই কাজের নিরিখে তত সফল ভাষা। যে-ভাষাকে ইন্টারনেটে ব্যবহার করার জন্য যত বেশি কাজে লাগানো হয়, স্বাভাবিকভাবেই তার ভাষানমুনা বা ‘করপাস’ হবে তত বড় এবং যে ভাষার করপাস যত বড়, সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে তাকে আন্তর্জালিক মাধ্যমে তত সম্ভাবনাময়, সফল এবং শক্তিশালী ভাষা হিসেবে জায়গা দিতে হবে।’’